জাতীয়

বস্তাবন্দি লাশের সঙ্গে পাওয়া প্লাস্টিকের সুতার সূত্র ধরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শিমুকে হত্যা করেন নোবেল। অথচ আগের দিনই কলাবাগান থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিনেত্রী শিমুর বাসায় গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এ সময়ই একটি প্লাস্টিকের সুতার সূত্র ধরে উদঘাটিত হয় হত্যার মূল রহস্য।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, লাশ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতারই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়িটি ধোয়া ছিল এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

( শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ )

যেভাবে হত্যা করা হয় শিমুকে

শিমুর স্বামী নোবেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে হত্যা করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন।

পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান।

লাশ নিয়ে আবার বাসায় ফিরেন নোবেল
প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। রোববার সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান তারা।

অভিনেত্রী শিমু সপরিবারে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় থাকতেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমুকে (৩৫) হত্যা করেছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল। এরপর শিমুর লাশ টুকরো করে বস্তায় ভরে গুম করতে সহায়তা করেছেন নোবেলের বন্ধু ফরহাদ। ঘটনাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মডেল শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেফতার দুজনই মাদকাসক্ত ও বেকার বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নোবেল ও ফরহাদকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

জাতীয়

গাজীপুরের কাশেমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের হাউজিং প্রকল্পের ভেতর নিজের বাড়ির কাজ দেখতে পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা খালেক। বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতে গিয়ে ‘রাজমিস্ত্রির হাতে’ প্রাণ গেছে তার।

প্রতিদিন সকালে অধ্যাপক সাইদা খালেক তার একটি বিদেশি কুকুর সঙ্গে নিয়ে হাউজিংয়ে ভেতরে গিয়ে নিজের বাড়ির কাজ দেখাশোনা করতেন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টাকা দিয়ে সন্ধ্যার দিকে আবার ভাড়া বাসায় আসতেন।

এভাবেই অধ্যাপক সাইদা খালেকের প্রতিদিনের রুটিন কাজ চলছিল বলে জানিয়েছেন হাউজিংটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশেমপুর থানার পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাউজিং প্রকল্পে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বাংলানিউজকে বলেন, বাড়ির কাজ দেখার জন্য পাশেই ‘ভাই ভাই ভিলা’ নামের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অধ্যাপক সাইদা খালেক একটি বিদেশি কুকুর নিয়ে প্রতিদিন সকালে এসে বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতেন। তার সঙ্গে এখানে কেউ থাকতেন না। প্রায় সময় তার নাতি আসত, এছাড়া আর কেউ না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই হাউজিংয়ে প্রায় পাঁচটি বাড়ি আছে। আমরা ৯ জন সিকিউরিটি এই হাউজিংয়ের দেখাশোনা করি। একেক সিফটে তিনজন করে ডিউটি করি। সেদিনের কিছু আমি বলতে পারব না। তবে আজ সকালে পুলিশ আসে অধ্যাপক সাইদা খালেকের বাড়ি দেখতে। পরে হাউজিংয়ের ভেতরে একটি রাস্তার পাশে তার মরদেহ দেখতে পায়। তার গলায় একটা ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে পুলিশ তার মরদেহ নিয়ে যায়।

হাউজিংটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে তাকে মেরে ফেলে রাখা হয়। সেই স্থানে পুলিশ চিহ্ন করে রেখেছে। তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন বাড়িটির সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ‘ভাই ভাই ভিলা’ বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন মৃধা বাংলানিউজকে বলেন, অধ্যাপক সাইদা খালেকের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের দুজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন ঢাকায় থাকেন। একমাত্র ছেলে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি করেন। আট-নয় মাস আগে আমার বাসায় তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তার ছেলের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। আমি আজ শুনি তিনি মারা গেছেন। তার সব কিছু এখানেই আছে।

কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর রয় শুক্রবার গাইবান্ধা থেকে ওই বাড়ির নির্মাণশ্রমিক (রাজমিস্ত্রি) আনোয়ারুল ইসলামকে আটক করেছে।

দীপঙ্কর রয় বাংলানিউজকে বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) কাশেমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। জিডি সূত্র ধরে আনোয়ারুলকে গাইবান্ধা গিয়ে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাসে তিনি মরদেহের তথ্য দেন। সেই তথ্যে আমাদের অন্য দল সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আটক আনোয়ারুলকে নিয়ে তিনি ঢাকায় আসছেন।

টাকার জন্য অধ্যাপক সাইদা খালেককে হত্যা করা হয় বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কাশেমপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহবুব এ খোদা বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনায় আনোয়ারুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে আনা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো মামলা হয়নি। আসামিকে নিয়ে আসার পর মামলা রুজু করা হবে।

রাজনীতি

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জনগণের প্রাপ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও জনগণের সেবক হিসেবে বিসিএস কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে তাদের ভূমিকা সর্বাগ্রে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ  কর্মকর্তাদের নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানান  স্পিকার।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে ‘যোগদানের ৯ম বর্ষপূর্তি ও ১০ম বর্ষে পদার্পন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় স্পিকার ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রচিত ‘দ্যা পলিটিশিয়ান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্পিকার বলেন, চব্বিশ বছরের সুদীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম এবং বারবার কারাবরণ করে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে সকলে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে কাজ করতে পারা কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করছেন। দেশের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিসিএস কর্মকর্তাগণ অগ্রভাগে কাজ করে থাকেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অগ্রগতি এবং কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে বিসিএস কর্মকর্তাদের কাজ করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।

স্পিকার বলেন, মিশরীয় লেখক মোহসেন আল আরিশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের উত্থান নিয়ে ‘হাসিনাঃ হাকাইক ওয়া আসাতির’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন যা অত্যন্ত  বাস্তবধর্মী।

বাঙালি না হয়েও বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি মিশরীয় লেখক মোহসেন আল আরিশির যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি গভীর গবেষণালব্ধ ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনার জন্য লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দে সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব হোসাইন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মিশরীয় গবেষক, লেখক ও সাংবাদিক এবং ‘হাসিনাঃ হাকাইক ওয়া আসাতির’ গ্রন্থের লেখক মোহসেন আল আরিশি প্রধান আলোচক এবং ‘শেখ হাসিনাঃ যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ গ্রন্থের অনুবাদক ইসফানদিয়র আরিওন বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাগণ ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বাংলাদেশ তাদের ব্যবহার করবে।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে এটিকে আমরা তদবির বলি। যেখানে দরকার হবে, সেখানে আমরা তদবির চালাব।

মন্ত্রী বলেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা এসেছে, কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে এবং স্বীকার করেছে যে র‌্যাব সন্ত্রাস অনেকটা কমিয়েছে। তারা সেগুলো চিন্তাভাবনা করবে। তাদের যে লক্ষ্য, সন্ত্রাস কমানোসহ অন্যান্য কাজ, র‌্যাব সেগুলোই করছে এবং সফলভাবে করছে। এ কারণে র‌্যাব বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমার মনে হয়, সবাই এটা বুঝবে এবং তখন অবস্থার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, আমরা আইনের দেশ। এ দেশের সৃষ্টিই হয়েছিল গণতান্ত্রিকভাবে। আমেরিকাও গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্রে অনেক ধাক্কা আসে। সব গণতন্ত্রতেই অপূর্ণতা আছে। আমরা দিনে দিনে পরিপক্কতা অর্জন করেছি। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক নিয়মে চলছি। এর মধ্যে যদি কোনো ধাক্কা আসে, আমরা সেটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।

এর আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) অডিটোরিয়ামে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলিয়ার পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, বিলিয়ার চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যরিস্টার এম আমির-উল ইসলাম, বিলিয়ার আজীবন সদস্য মুহাম্মদ জামিরসহ অনেকে। এসময় দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন অতিথি অনলাইনে যুক্ত হন।

খেলাধুলা

কোভিড মহামারিকালের প্রথম বিপিএলে থাকছে না ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়াতেই ডিআরএস রাখা যাচ্ছে না বলে দাবি বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের। ধারাভাষ্যকারদের ক্ষেত্রেও বেশি ‘ফোকাস’ রাখা হচ্ছে স্থানীয়দের দিকেই।

আগামী শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিপিএলের অষ্টম আসর। ২০১৯ সালের আসরে ডিআরএস থাকলেও শুরুতে ছিল না আল্ট্রাএজ প্রযুক্তি। প্রবল সমালোচনার পরে তা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার গোটা ডিআরএসই নেই। বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এই চিত্র অকল্পনীয়।

বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বললেন, পরিস্থিতির কাছে তারা অসহায়।

“কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা রাখতে পারছি না ডিআরএস। এখন ওরা (টেকনিশিয়ানরা) কেউ ফ্লাই করতে পারছে না। ওদের দুইটা টিম এখন দুই দেশে আছে, সেখান থেকে এই অবস্থায় বাংলাদেশে আসতে পারবে না।”

“ডিআরএসের সোর্স সারাবিশ্বে একটাই (হক-আই কোম্পানি)। ওরাই দেয় সব জায়গায়। ওমিক্রনের কারণে কেউ আসতে চাচ্ছে না। বিপিএলের পর আফগানিস্তান সিরিজ। সেটিতেও রাখতে পারব কিনা, সেটাও কথা বলতে হচ্ছে।”

শেষ নয় এখানেই, বিসিবির এই পরিচালক শোনালেন আরেকটি বড় আশঙ্কার কথাও।

“আমাদের বিদেশি আম্পায়ার ঠিক করা ছিল ইংল্যান্ডের, সেও জানিয়ে দিয়েছে যে আসতে পারবে না। এখন আমরা আবার বিকল্প খুঁজছি। হয়তো শ্রীলঙ্কা বা ভারত থেকে দুইজনকে নেব।”

ডিআরএস না থাকা মানে নিশ্চিতভাবেই বিতর্কের অবকাশ রেখে দেওয়া। বিদেশি আম্পায়ার কিংবা মানসম্পন্ন বিদেশি আম্পায়ার না পাওয়া গেলে সেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে, সংশয় নেই। বিপিএলের মতো আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খরচ প্রচুর। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলকে ভুগতে হলে তা মেনে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ডিআরএস ও ভালো বিদেশি আম্পায়ার না থাকা মানে তাই বিতর্ককেই ডেকে আনা।

ইসমাইল হায়দার মল্লিক তবু চেষ্টা করলেন ক্রিকেটীয় বাস্তবতার কথা তুলে ধরতে।

“ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তো আসলে আলোচনার কিছু নেই। ডিআরএস পাইনি, তাদেরকে জানিয়ে দেব। আর শুধু বিপিএলে তো নয়, আন্তর্জাতিক সিরিজেও ভুল সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আম্পায়াররা আমাদের ৪-৫টা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটা গোটা বিশ্বেই হয়। সবাইকে তা বুঝতে হবে।”

“একপাশে বিদেশি আম্পায়ার থাকবে, আরেকপাশে দেশি। আমার মনে হয় না, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকবে।”

বিপিএল নিয়ে আরেকটি বড় অভিযোগের জায়গা বরাবরই থাকে নিম্নমানের টিভি সম্প্রচার ও ভালো মানের ধারাভাষ্যকার দল না রাখা। প্রতিবারই সম্প্রচারের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিখ্যাত ধারাভাষ্যকারদেরও আনা হয়নি এই টুর্নামেন্টে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব বললেন, ডিআরএস ছাড়া সস্প্রচারের বাকি সবকিছু মানসম্পন্নই থাকবে।

“প্রোডাকশন ভালো করার চেষ্টা করা হবে। প্রতিবারই ২৬-২৭টি ক্যামেরা থাকে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চেয়ে বেশি থাকে, এবারও থাকবে। অতীতে গ্রাফিক্স নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এবার সতর্ক থাকার চেষ্টা করা হবে।”

“ওভারঅল প্রোডাকশন লেভেল ভালো হবে আশা করি। ডিআরএস না থাকলে তো বড় ঘাটতি থাকেই। তবে অন্যান্য সব প্রযুক্তি, ড্রোন বা যা থাকে, সব থাকবে।”

ধারাভাষ্যকার নিয়ে ইসমাইল হায়দার মল্লিকের দাবি, তারা ইচ্ছে করেই দেশের ধারাভাষ্যকারদের ওপর জোর দেন। বিদেশিদের ক্ষেত্রে যথারীতি বললেন কোভিড পরিস্থিতির কথা।

“আমরা তো স্থানীয়দের ওপর ফোকাস বেশি করতে চাই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তো বটেই, বিপিএলেও। এখন আমরা স্থানীয় তরুণ কিছু ধারাভাষ্যকারকে প্রমোট করার চেষ্টা করছি। অন্তত ৫০ ভাগ ধারাভাষ্যকার আমরা স্থানীয় রাখতে চাই। এটা আমাদের চাওয়া, পুরোটাই বিদেশি ভালো ধারাভাষ্যকার রাখার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা চাই স্থানীয়দের স্লট যেন অর্ধেক থাকে।”

“কোভিড পরিস্থিতিতে লোক (ধারাভাষ্যকার) পাওয়াই কঠিন। তারপরও খারাপ থাকার কথা নয়। মোটামুটি ভালো মানেরই আসার কথা। তবে ওমিক্রন পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছু সম্ভব হচ্ছে না।”

মজার ব্যাপার হলো, বিপিএলের এক সপ্তাহ পর শুরু হবে যে টুর্নামেন্ট, সেই পাকিস্তান সুপার লিগে প্রযুক্তি পুরোপুরি সব থাকছে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ধারাভাষ্যকার হিসেবে ড্যানি মরিসন, ম্যাথু হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথ, অ্যালান উইলকিন্স, কেপলার ওয়েসেলস, জন্টি রোডসরা থাকবেন বলে জানা গেছে। বিপিএল পিছিয়ে পড়েছে অনেক পরে সবকিছুর প্রক্রিয়া শুরু করাতেই।

ইসমাইল হায়দার মল্লিক সেই অভিযোগ কিছুটা মেনে নিলেন। সঙ্গে আবারও বললেন মহামারির কথা।

“আমাদের তো যোগাযোগ একটু পরেই করতে হয়েছে। কারণ সময়টা তো আমরা আগে ঠিক করতে পারিনি যে কখন হবে টুর্নামেন্ট। দেরিতেই সবকিছু শুরু করতে হয়েছে। এটা একটা কারণ তো অবশ্যই। তবে ওমিক্রন না থাকলে তো ঝামেলা হতো না।”

“ডিআরএস না থাকলে টুর্নামেন্ট অবশ্যই আবেদন হারায়। কিন্তু কিছু করার নেই। দর্শকের ক্ষেত্রেও যেমন, আমরা চেয়েছিলাম এবার পূর্ণ গ্যালারি রাখতে। সরকার থেকে অনুমতিও পেয়েছিলাম। কিন্তু সব বদলে গেল ওমিক্রনের কারণে।”

বিনোদন

দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরেণ্য অভিনেতা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। কখনও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি, আবার কখনও অবনতি হয়।

তবে হাল ছাড়াননি পরিবারের সদস্যরা। অনেক ব্যয়বহুল হলেও পরিবার থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা।

এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে প্রায় পনেরো কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছে ফারুকের পরিবার। বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও শূন্য। ধার-দেনা করতে হয়েছে স্বজনদের কাছ থেকে। এমনটিই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এ অভিনেতার স্ত্রী ফারহানা ফারুক।

ফারুকের সবশেষ অবস্থার বিষয়ে তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। একটু একটু করে তিনি (ফারুক) সুস্থ হয়ে উঠছেন। পাঁচ মাস আগে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এখন নিজের পছন্দের সব ধরনের খাবার খেতে পারছেন। রক্তচাপ ও মস্তিস্কে যে সমস্যা ছিল, তাও এখন নিয়ন্ত্রণে। স্নায়ুতন্ত্রে নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা আগে ছিল না। এর চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি।

ফারহানা ফারুক বলেন, সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথে চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল, এ জন্য সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। সন্তানরা দেশে থেকে তার বাবার জন্য টাকা পাঠাচ্ছে। সহায়-সম্পত্তি সব চলে গেলেও আফসোস নেই। শুধু ফারুক সুস্থ হয়ে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। তার রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

২০২১ সালের মার্চে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুরে যান ফারুক। এরপর থেকেই অসুস্থতা অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এরপর থেকে হাসপাতালটিতে ভর্তি রয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের প্রধান সতর্ক করে দিয়েছে বলেছেন, লাখ লাখ আফগান নাগরিক ‘মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে’।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের ৫ বিলিয়ন ডলারের মানবিক তহবিলের জন্য অর্থায়ন, আফগানিস্তানের আটকে দেওয়া সম্পদ মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পতন এড়াতে তার ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০ বছর পর মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যদের বিশৃঙ্খল প্রস্থানের মধ্যে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে। ফলে দেশটির সহায়তানির্ভর অর্থনীতি ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত অবস্থায় চলে গেছে।

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন দেশ আফগানিস্তানের সম্পদ ফ্রিজ করে দেয়, অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেয় এবং তালেবানের সঙ্গে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

জাতিসংঘ বলেছে, প্রায় ৯০ লাখ আফগান অনাহারের দ্বারপ্রান্তে। আফগান অর্থনীতিতে দ্রুত তারল্য প্রবেশ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ আর্থিক ব্যবস্থা ডলারে কাজ করে। আমেরিকা আফগান বৈদেশিক মজুদের ৭ বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করে দিয়েছে।

জাতিসংঘ প্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চিকিৎসক, স্যানিটেশন কর্মী, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদানের পাশাপাশি আফগান প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানে সহায়তা করতে হবে।

জাতীয়

কোভিডে আক্রান্ত হলে মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে তোলে এমন একটি জিন খুঁজে পেয়েছেন পোল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তা আগে থেকে বুঝতে এই গবেষণা নতুন পথ দেখাবে বলে তারা আশা করছেন।

মধ্য ও পূর্ব এশিয়ায় কোভিডে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের একটি কারণ হল টিকা নিতে অনিহা বা দ্বিধা। গবেষকরা আশা করছেন, যাদের শরীরে ওই জিন থাকবে, তাদের ঝুঁকির বিষয়টি বুঝিয়ে হয়ত টিকা নিতে উৎসাহ যোগানো যাবে। তাছাড়া আক্রান্ত হলে তাদের আরও নিবিড় চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হবে।

পোল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডাম নিডজিয়েলস্কি বলেছেন, “দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর (করোনাভাইরাসে) গুরুতর অসুস্থ হওয়ার জন্য দায়ী একটি জিন চিহ্নিত করা গেছে।

“এর ফলে কোভিডে মারাত্মকভাবে ভোগার প্রবণতা যাদের রয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পারব।”

‘মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব বিয়ালস্টক’ এর গবেষকরা জানিয়েছেন, কোভিডে একজন মানুষ কতোটা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগবেন তা নির্ধারণে বয়স, ওজন এবং লিঙ্গের পর চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এই জিন।

গবেষণা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মার্সিন মনিউসকো বলেন, পোল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের মধ্যে এই জিন রয়েছে,যা পুরো ইউরোপে ৮ থেকে ৯ শতাংশ এবং ভারতে রয়েছে ২৭ শতাংশের মধ্যে।

কোভিড-১৯ কতোটা গুরুতর হয়ে উঠবে তা বুঝে ওঠার জন্য অন্যান্য গবেষণাতেও জিনগত নিয়ামকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর জানিয়েছেন, কোভিড- ১৯ আক্রান্তদের ফুসফুসকে অকার্যকর করার ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে জিনের এমন একটি সংস্করণকে তারা চিহ্নিত করেছেন।

রাজনীতি

জমজমাট প্রচার শেষে ভোটের অপেক্ষায় এখন নারায়ণগঞ্জবাসী; ঢাকার লাগোয়া এ মহানগরে রোববারের এই ভোট বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিদায়বেলায় ‘ইমেজ’ বাঁচানোরও নির্বাচন।

এ মওসুমে শীত যতটা থাকে, এবার ততটা নেই। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির বিপদ আছে। তার মধ্যেই মেয়র পদের প্রধান দুই প্রার্থীর কথার লড়াই ভোটের হাঁড়িতে তাপ যোগাচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ কিছু থাকলেও বড় কোনো গোলযোগের ঘটনা নারায়ণগঞ্জে এখনও ঘটেনি। রোববার ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোটের মধ্য দিয়েই সব কিছুর ‘সুন্দর’ সমাপ্তির আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

এবারই প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটির সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি ভোটার রায় দেবেন মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর (নারী) বাছাইয়ে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার রয়েছেন মেয়র পদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাদের ছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন আরও পাঁচ প্রার্থী।

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা নেমে পড়েছিলেন প্রচারের মাঠে। তাদের সেই আনুষ্ঠানিক প্রচারের সময় শেষ হল শুক্রবার মধ্যরাতে।

জমজমাট প্রচারের শেষ দিনে নানা অভিযোগ করেছেন প্রধান দুই প্রার্থী। ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা বলে আবার নিজেদের জয়ের আশাও প্রকাশ করেছেন জোরেসোরে। ২৬টি ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন বলছে, ঢালাও অভিযোগ করে লাভ নেই। ভোটে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। কোনো অনিয়মে শৈথিল্য দেখানো হবে না। উৎসবমুখর ভোটের আয়োজন রয়েছে। সুন্দর ভোট করতে ‘সব ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।

আর পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে সহিংসতার রেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ী ইসির শেষ সময়ে এ বড় নির্বাচন ভালো করতে পারলে নিজেদের জন্য সুখকর হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ঘিরে বন্দর নগরীর পুরো এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ভোট তথ্য

>> নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এবারের ভোটে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩২ জন লড়ছেন।

>> নারায়ণগঞ্জে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার।

>> তার সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান, উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, আব্দুল কাদির, আফরোজা খাতুন, মো. ইউসুফ-উর-রহমান, মোসা. মাহফুজা আক্তার, সুলতানা এলিন, মো. আ. আজিজ ও আল-আমিন।

>> প্রতি কেন্দ্রে থাকছেন একজন করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা; ১৩৩৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৬৬৬ জন পোলিং কর্মকর্তা।

>> ১৯২ কেন্দ্রের ১৩৩৩টি কক্ষে রায় জানাবেন ভোটাররা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর দশ বছর ধরে মেয়রের পদে আছেন আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী, তার আগে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র।

গত দুটি নির্বাচনে উত্তাপ ছিল আরও বেশি, তবে প্রতিবারই বেশ ভালোভাবে উৎরে গেছেন গেছেন আইভী, এবারও তার ওপরই ভরসা রেখেছে আওয়ামী লীগ।

ভোটের প্রচারের শেষ দিন সকালে ফতুল্লার দেওভোগে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন নৌকার প্রার্থী। তিনি বলেন, “এখানে কিন্তু আইভীকে পরাজিত করার জন্য অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে গেছে। … কীভাবে আমাকে পরাজিত করা যায়, কীভাবে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ভোটকে ঝামেলা করানো যায়। কিন্তু সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।”

সহিংসতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী।

“আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে কেউ যদি সহিংতা করে, তাহলে আমার মনে হয় সেটা ঠিক হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব, এই ব্যাপারে যেন সজাগ থাকে তারা।”

নারী ও তরুণ ভোটাররা ‘আওয়ামী লীগের পক্ষেই ভোট দেবে’ বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে বরাবরই বলে আসছি যে, ভোটের দিন যাতে উৎসবমুখর থাকে। আমার নারী ভোটাররা যেন আসতে পারে। আমার ইয়াং ভোটাররা যেন আসতে পারে। কারণ আমি জানি এই ভোটগুলো আমার। আমি নির্বাচনে জিতবই ইনশাল্লাহ।”

সংবাদ সম্মেলনে আইভি বলেন, ভোটের প্রচারে নেমে তার গলা ভেঙেছে, শরীরটাও ভালো নেই। তবে তিনি বসে থাকেননি।

বিকালে নারায়ণগঞ্জ রেলগেইট এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কে জমকালো শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয় নৌকার মেয়রপ্রার্থীর ভোটের প্রচার। আইভী সেখানে বলেন, বিজয় ‘সুনিশ্চিত’।

“দুষিত, কলঙ্কিত নারায়ণগঞ্জ সিটিতে মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করতে আমি এসেছি। টানা দশ বছর ধরে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। আপনারা আমাকে চেনেন। ২০১১ সালে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, ২০১৬ সালেও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।

“আবারও অন্যায়, অবিচার, খুনি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে লড়তে এসেছি। আমাকে কেউ ফিরিয়ে দেবেন না। নৌকাকে ঠেকানোর কেউ নেই।”

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তৈমুর

শুক্রবার সকালে সাক্ষাতকার নিতে গেলে তৈমুর আলম খন্দকার বললেন, “গলা তো ভাইঙা গ্যাছে, কথা কইতে পারি না।”

এরপরও দিনভর প্রচার চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী, ভোটে দাঁড়ানোর কারণে যাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি।

প্রচার সভাগুলোতে ঘুরে-ফিরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার নারায়ণগঞ্জে অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমুর। কেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা সরিয়ে নেওয়া এবং পুলিশি হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সকালে তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় তার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সম্মেলনে তিনি দাওয়াত পাননি, এটাতো আমাদের জন্য অপমানকর।”

সারাদিন চা-কফির ওপরেই আছেন তৈমুর আলম খন্দকার।

বিএনপির সব পর্যায়ের নেতারা যখন নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের কড়া সমালোচনা করছে, তৈমুর কেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে?

উত্তরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “এদেশের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি হচ্ছে পদোন্নতি-পদায়ন যার হাতে সকল ক্ষমতা তার হাতে। প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তারা সেটাই করবেন। আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জ আন্দোলনের সূতিকাগার, তিনি নিশ্চয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে দেবেন। তার দল এখানে স্পষ্ট দ্বিধা বিভক্ত।”

নৌকার প্রার্থীর লোকজনও বলছেন যে তৈমুর এবার নির্বাচন করছেন ‘আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানের প্রার্থী’ হিসেবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি প্রশ্ন করলে তৈমুর বলেন, “শামীম ওসমানের পাও দিয়া হাঁটার কোনো প্রয়োজন আমার নাই। আমি যখন নারায়ণগঞ্জের বড় নেতা, তখন শামীম ছাত্র। আমি এখনো হকার, ঠেলাগাড়ি চালক, হোটেল-রেস্তোঁরা শ্রমিক সংগঠনের নেতা।”

তাহলে ওই কথা এল কেন- এই প্রশ্নে তৈমুরের উত্তর: “আরে ভাই এটা একটা অপপ্রচার। এই শামীম ওসমানের অফিসে বোমা হামলা চালিয়ে যখন ২২ জনকে হত্যা করা হল, তখন তিনি আমাকে প্রধান আসামি করলেন। এখানে আমার চেম্বার জ্বালানো হয়েছে, বাড়ি-ঘর জ্বালানো হয়েছে। কতো প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে এখানে আছি। গত ৫০ বছরে আমি কখনো গণবিরোধী ভূমিকায় ছিলাম না। কখনো জনগণের পক্ষে আন্দোলন থেকে পিছপা হয়েছি এরকম রেকর্ড নাই।”

দল থেকে পদচ্যুত হওয়ার বিষয়ে তৈমুরের ভাষ্য, এটা করে বিএনপি তার ‘উপকার’ করেছেন।

“আমার সঙ্গে আলাপ করেই তো তারা এটা করছে। নৌকার যারা সমর্থক তারা তো ধানের শীষে ভোট দেবে না। এখন তাদের হাতি মার্কায় ভোট দেওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন তো চারদিক থেকে আমার ভোট আসবে।”

বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা তাহলে ভোটের মাঠে নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তৈমুর আলম খন্দকারের চেয়ে প্রভাবশালী বিএনপির আর কে আছে নারায়ণগঞ্জে বলেন! জেলার কনভেনরকে ধইরা ফেলছে, সাবেক এক এমপি গিয়াসউদ্দীনকে দুদকের মামলা দিয়া এলাকাছাড়া করছে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরও তিনি আসতে পারেননি। কালাম সাহেব তার নিজের ছেলের জন্যই ভোট চাইতে পারেননি।”

তৈমুরের শেষ কথা, “আমি হারব না। হারার কোনো সুযোগই নেই।”

কেন মানুষ এবার হাতিতে ভোট দেবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বিগত ৫০ বছরে আমার কর্ম আর ১৮ বছরে আইভীর ব্যর্থতা। ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, পানির দাম সবই বাড়িয়েছেন। কিন্তু সার্ভিস দিতে পারেননি।”

ভোটের প্রচারের অংশ হিসেবে সকালে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন তৈমুর। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট ‘প্রভাবিত’ করতে বাইরের জেলা থেকে ‘সরকারি দলের লোকজনকে’ নারায়ণগঞ্জে আনা হচ্ছে।

প্রশাসনের উদ্দেশে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “নির্বাচনের দিন যাতে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে না পারে, বিভিন্ন জেলা থেকে যে লোকজন আনা হচ্ছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য, তারা যেন নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যায়- এ ব্যাপারে আপনারা একটি নির্দেশনা জারি করুন।“

তৈমুর কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ করছিলেন, তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানি করা হচ্ছে; মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ডিসি-এসপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোকেও তিনি ভোটের দিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

প্রচারের শেষ সময়ে এসে রাত ১০টার দিকে আবার সংবাদ সম্মেলন করে ভোট নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা বলেন তৈমুর।  ভোটের দিন যেন বহিরাগতরা নারায়ণগঞ্জে থাকতে না পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা

প্রার্থী

দল

প্রতীক

সেলিনা হায়াৎ আইভী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নৌকা

তৈমুর আলম খন্দকার

স্বতন্ত্র (বিএনপি)

হাতি

এবিএম সিরাজুল মামুন

খেলাফত মজলিস

দেওয়াল ঘড়ি

মো. মাছুম বিল্লাহ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

হাতপাখা

মো. কামরুল ইসলাম

স্বতন্ত্র

ঘোড়া

মো. জসীম উদ্দিন

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন

বটগাছ

মো. রাশেদ ফেরদৌস

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

হাতঘড়ি

 প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছেসহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, “আমরা ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছি। মক ভোটিং শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় তিনটি ভেন্যু থেকে নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।”

কারো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেনি বলে জানান তিনি।

“আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য মাঠে রয়েছেন; নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছে। প্রচারণাও শেষ হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের অপেক্ষা। আমরা সে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

তিনি জানান, এ নির্বাচনে ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন কারিগরি কর্মী। নির্বাচনী এলাকায় নয়টি কারিগরি টিম থাকছে।

নজর নারায়ণগঞ্জে, ‘ইমেজ রক্ষায়’ ভালোর প্রত্যাশা

এবার নারায়ণঞ্জের ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছে নয়টি সংস্থা। এর একটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, “নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনটি এবার খুবই গরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ইসির বিদায়ের সময়ের সবচেয়ে বড় নির্বাচন এটি। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার- এ কমিশনও বিদায় বেলায় ভালো নির্বাচন করলে তাদের জন্যও বিদায়টা সুখকর হবে।”

কলিমুল্লাহ বলেন, ঢাকার লাগোয়া এ সিটির নির্বাচন ঘিরে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সবার নজর রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের সহিংসতা যেমন ‘ভালো কোনো বার্তা দেয়নি’, এর মধ্যে সিটি নির্বাচনে যদি কোনো সহিংসতা হয় তাতে ‘ইমেজ নষ্ট’ হবে বিদায়ী ইসির।

“এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ বেশ ভালো। কোনো ধরনের অনিয়ম, সহিংসতা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে টান টান নজরদারি রাখতে হবে। কোনো শৈথিল্য দেখানো যানে না। এটা ইমেজ রক্ষারও নির্বাচন বর্তমান ইসির। নতুন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে খারাপ নির্বাচন হলে আগামীতেও এর নেতিবাচকও ইমেজ তৈরি করবে।”

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুক্রবার প্রচারের শেষ দিনে ভিন্ন বেশে প্রচার চালান প্রার্থীদের কর্মীরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

‘সুন্দর’ নির্বাচনের প্রত্যাশা

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও ভালোভাবে’ করার ‘সব ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ‘অভিযোগ নেই’ নির্বাচন নিয়ে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োজিত থাকছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অন্তত ২২ জন করে নিরাপত্তা সদস্য রয়েছে।

“ভোটের প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বা শঙ্কা নিয়ে যেসব কথা বলছে, তা ঢালাও কথা। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ খুব সুন্দর, ভালো নির্বাচন হবে এখানে।”

রোববার নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি টাঙ্গাইল-৭ আসনে উপ-নির্বাচন এবং পাঁচ পৌরসভায় ভোট রয়েছে।

ইসির অতিক্তি সচিব বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের স্বার্থে টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীতে দুই ওসিকে বদলি করা হয়েছে।

“আমরা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছি না। কোনো শৈথিল্যও প্রদর্শন করা হচ্ছে না। আশা করি, সুন্দর ভোট হবে। ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটার উপস্থিতিও তুলনামুলক ভালো হতে পারে।”

সব নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণইসি রফিক

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। এ মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ইতোমধ্যে পাঁচ ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ করেছে ইসি। এ ভোটে সহিংতায় বেশ সমালোচনার মুখেও রয়েছে সংস্থাটি। রোববারের ভোটের পর তাদের অধীনে ৩১ জানুয়ারি ও ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট রয়েছে ইউপির।

এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণঞ্জের ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিটি নির্বাচনই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য সব আয়োজন করা হয়। এর পরেও দুয়েক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, প্রার্থী ও ভোটারের মানসিকতা না বদলালে এ গোলযোগ বন্ধ করা অসম্ভব। নারায়ণগঞ্জেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না আশা করি।”

তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম যেন না ঘটে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

“আমরা কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাইনি। ভালো নির্বাচন করার চেষ্টা আমাদের। ওই প্রার্থী জিতলে ভালো নির্বাচন হয়েছে, ওই দল হারলে ভালো নির্বাচন হয়- এমন মানসিকতাও পাল্টাতে হবে। ভোটকেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী বা ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় কাজ করা পরিহার করতে হবে।”

নিজেদের বিদায়ের শেষ সময়ে শুধু নয়, নিজেদের মেয়াদে সবসময় ‘ভালো নির্বাচন’ করেছেন বলে দাবি করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নিপীড়নের মামলায় বিচারের মুখে পড়া ব্রিটিশ রানির ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার সামরিক ও রাজকীয় খেতাব হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ জানিয়েছে, “রানির অনুমোদন ও সম্মতিতে ডিউক অব ইয়র্কের সামরিক সংযুক্তি ও রাজকীয় সম্মান ফেরত নেওয়া হয়েছে।”

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুকে (৬১) এখন থেকে আর আনুষ্ঠানিক কেতায় ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ বলা হবে না।

যৌন হয়রানির মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

নিউ ইয়র্কে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগটি আনেন ভার্জিনিয়া জোফ্রে নামের এক নারী। ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু।

তার ঘনিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অভিযোগ থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ওই সূত্রর যুক্তি, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মাত্র, সেটি বাদীর অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে কোনো রায় নয়।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে করা মামলায় ভার্জিনিয়া জোফ্রে দাবি করেছেন, ২০০১ সালে তাকে যৌনকর্মে বাধ্য করেছিলেন ডিউক অব ইয়র্ক।

বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ জানিয়েছে, ডিউক অব ইয়র্ক কোনো ধরনের রাজকীয় দায়িত্বে থাকতে পারবেন না এবং এই মামলা তাকে একজন সাধারণ নাগরিকের মতই লড়তে হবে।

অ্যান্ড্রু রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের তৃতীয় সন্তান এবং দুই ছেলের মধ্যে কনিষ্ঠ। ব্রিটিশ রাজমুকুটের উত্তারিধীকারীদের তালিকার নয় নম্বরে তার অবস্থান।

বিবিসি লিখেছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু যেসব রাজকীয় দায়িত্বের অধিকারী ছিলেন, সেসব রানীর অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। সেসব দায়িত্ব রাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

প্রিন্সেস ডায়ানার ছেলে হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের মতই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামের আগে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আগের মত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বহন করবে না বলে জানিয়েছে রাজপ্রাসাদ।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ডিউকের সামরিক খেতাব রানীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। এটা রাজপ্রাসাদের নিজস্ব বিষয়।

বৃহস্পতিবার রাজতন্ত্র-বিরোধী গোষ্ঠী ‘রিপাবলিক’ একটি চিঠি প্রকাশ করে। রাজকীয় নৌ, বিমান ও সেনা বাহিনীর ১৫০ জন সাবেক সৈনিক ওই চিঠিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আটটি সামরিক খেতাব ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য রানির কাছে আহ্বান জানান।

প্রথম রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করা সাবেক লেফটেন্যান্ট স্টুয়ার্ট হান্ট, যিনি ওই চিঠিতে সই করেছেন, প্রিন্সের সামরিক খেতাব ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন যে বিষয়টি আরও আগেই মীমাংসা করা দরকার ছিল।

ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ বাহিনীতে ২২ বছর নিয়োজিত ছিলেন অ্যান্ড্রু, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড যুদ্ধে একজন পাইলট হিসেবে হেলিকপ্টার নিয়ে তিনি অংশ নেন।

বাকিংহাম প্রাসাদের সবশেষ ঘোষণার অর্থ হল, প্রিন্স তার প্রায় সবগুলো সামরিক খেতাব হারিয়েছেন, যার মধ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ পদাতিক রেজিমেন্ট গ্রেনাডিয়ার গার্ডসের কর্নেল খেতাবও রয়েছে।

এছাড়া কানাডা, নিউ জিল্যান্ডসহ প্রবাসে ডিউক যেসব সম্মানসূচক খেতাব ব্যবহার করে আসছিলেন, সেগুলোও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সামরিক পদবী ভাইস-অ্যাডমিরাল অক্ষুণ্ন থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে রাজপ্রাসাদ।

২০১৫ সালে ৫৫-তম জন্মবার্ষিকীতে তার সমসাময়িক যেসব সামরিক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যান্ড্রুকেও নৌ বাহিনীর ভাইস-অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়।

বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনও প্রিন্সের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অবশ্য এরপরেও বিভিন্ন নামী গলফ ক্লাব, বিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক ট্রাস্টসহ ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানে তার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকের পদ বহাল আছে।

ভার্জিনিয়া জোফ্রের আইনজীবী ডেভিড বোয়িস বিবিসিকে বলেছিলেন, শুধু আর্থিক সমঝোতা তার মক্কেলের জন্য যথেষ্ট নয়- তিনি ন্যয়বিচার চান।

প্রিন্সের আইনজীবীরা এই মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেহেতু ২০০৯ সালে বাদী যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে সই করেছিলেন।

তবে ৪৬-পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক লুইস এ কাপলান প্রিন্স অ্যান্ড্রুর পক্ষে দেওয়া যুক্তি খারিজ করেছেন, যেখানে আসামি পক্ষ দাবি করেছে যে অ্যন্ড্রুর বিরুদ্ধে এই মামলাটি ‘আইনিভাবে যথাযথ নয়’ এবং ভবিষ্যৎ শুনানির জন্য এগিয়ে নেওয়া যায় না।

২০২১ সালের অগাস্টে ভার্জিনিয়া জোফ্রে (৩৮) নিউ ইয়র্কে ওই রাজ্যের চাইল্ড ভিকটিম অ্যাক্টের অধীনে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই আইনে শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদের বিচার চাওয়ার সুযোগ দেওয়া আছে।

জোফ্রের অভিযোগ, দুই দশকের বেশি সময় আগে এপস্টিনের বান্ধবী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের লন্ডনের বাড়িতে অ্যান্ড্রু তাকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছিলেন। এপস্টিনের মালিকানাধীন দুটি জায়গায় ব্রিটিশ প্রিন্স তার ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, অ্যান্ড্রু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মোট তিনবার নিপীড়ন করেন জোফ্রেকে, তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর – যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তিনি তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

২০১৯ সালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে রানির ছেলে অ্যান্ড্রু বলেছিলেন ভার্জিনিয়া জোফ্রের সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কোনো ‘স্মৃতি তার নেই’, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তার সঙ্গে যৌনকর্মের ‘কোনো ঘটনাই কখনো ঘটেনি’।

কিশোরীদের যৌননিগ্রহে সহায়তায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত মাসে এপস্টিনের বান্ধবী ম্যাক্সওয়েলকেও দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।