খেলাধুলা

ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছেন তামিল নাড়ুর সাবেক ব্যাটসম্যান রাজাগোপাল সতিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো বানি আনান্দ নামের একজনের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের ২৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আপনারা যে বিশাল কাজগুলো করছেন তার মধ্যে কিছু সমস্যার বিষয়ে আপনাদের ফোকাস করার আহ্বান জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে যাওয়ায় দায়িত্ব বেড়ে গেছে। সরকারি সেবা নিতে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দুই বছর পর ডিসি সম্মেলন আয়োজনে সক্ষম হওয়ায় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।

কোভিড-১৯ এর নতুন প্রকোপের কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন মন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলন শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বক্তব্য দেন।

সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের জন্য যে ২৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো-

(১) করোনাভাইরাস জনিত সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

(২) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

(৪) সরকারি অফিসগুলো সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।

(৫) এসডিজি স্থানীয় করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

(৬) গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

(৭) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

(৮) কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকে- তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে এবং নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

(৯) শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীলতার চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

(১০) নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

(১১) পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

(১২) জনসাধারণের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধকল্পে উদ্যোগ নিতে হবে।

(১৩) বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখার লক্ষে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

(১৪) মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।

(১৫) নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ রোধকল্পে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে।

(১৬) বাজারে পণ্যের সরবরাহ মসৃণ রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধকল্পে ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

(১৭) সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে; পরিকল্পিত নগরায়ন ও বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

(১৮) পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

(১৯) জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যগুলোর প্রচার ও বিপণনে উদ্যোগী হতে হবে।

(২০) জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমগুলো যথাযথভাবে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে পৌঁছাতে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

(২১) জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে, উপজেলা, জেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যেন যত্রতত্র না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

(২২) সমাজে অনগ্রসর শ্রেণিভেদ, জেলে, কৃষক, হিজড়া, হরিজন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ যারা একেবারেই সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি তাদের সার্বিক উন্নয়ন, বাসস্থান এবং তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে।

(২৩) মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যার শিকার পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা জানা এবং তাদের যথাযথ সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

(২৪) গণকবর সংরক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এর ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

রাজনীতি

সরকারের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিন দিনব্যাপী জেলাপ্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে (ভার্চ্যুয়াল) এ কথা বলেন তিনি।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে মাদকের অপব্যবহার যুবসমাজকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকদ্রব্য যাতে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় সে দিকেও আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ’

মাঠ প্রশাসনে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ’

ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। দায়িত্ব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। কিন্তু ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয়, তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি। তাই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব ও ক্ষমতার পার্থক্য সচেতনভাবে বজায় রাখবেন। ’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেবেন। আমরা আপনারা জনগণের সেবক। তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবেন। মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায়ই আমাদের সংসার চলে। তাই জনগণকে সেবাদান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা বদান্যতার বিষয় নয়। সেবা পাওয়াটা জনগণের অধিকার। ’

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের নেওয়া কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত দরিদ্ররা পায় তা নিশ্চিত করতে বলেন রাষ্ট্রপ্রধান।

ভূমি বিষয়ক অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘ভূমি রেকর্ডের সময় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী স্থানীয় প্রভাবশালী দালালচক্রের সহযোগিতায় অনেক অনিয়ম করছে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে। তাই এসব ব্যাপারে আপনাদের কঠোর হতে হবে এবং যে কোনো অনিয়ম বন্ধ করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ’

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক বনায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন, জলাভূমির উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের চলমান কর্মসূচির বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা সদরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসব দেখার কেউ নেই। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বন, নদী ও পাহাড় রক্ষা করতে কঠোর হতে হবে। এটা করতে পারলেই উন্নয়ন সুষম ও জনমুখী হবে। ’

বিনোদন

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেন এই গায়িকা নিজেই।

তিনি জানান, রোববার (১৬ জানুয়ারি) রাত থেকে অসুস্থ অনুভব করছিলেন। এরপর সোমবার (১৭ জানুয়ারি) করোনা টেস্ট করান এই শিল্পী। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) তার করোনা টেস্টের ফল পজিটিভ আসে।

ন্যানসির স্বামী মহসীন, মেয়ে রোদেলা, ছোট ভাই সানি ও গৃহকর্মী এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়নি। তাদের মধ্যে করোনার কোনও উপসর্গ নাই। তবে উপসর্গ দেখা দিলে তাদেরও করোনা টেস্ট করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সম্প্রতি তৃতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ন্যানসি। এর আগে ২০২১ বছরের আগস্টে গীতিকার মহসীন মেহেদীকে বিয়ে করেন ন্যান্সি। এটি হতে যাচ্ছে ন্যান্সির তৃতীয় সন্তান। এর আগেও দুই সন্তানের মা হন ন্যান্সি। তাদের নাম রোদেলা ও নায়লা।

অর্থনীতি

সঠিক পরিচয়পত্র না থাকা ভারতীয় ট্রাকচালক ও ট্রান্সপোর্ট কর্মচারীদের ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে দিচ্ছে না বিএসএফ।

এদিকে হঠাৎ করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এমন অভিযানের প্রতিবাদে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি- রপ্তানি বন্ধ রেখেছে ভারতীয় ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাংক বিষয়ক সম্পাদক হায়দার আলী জানান, দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে বলে ভারতের বনগাঁ গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। তাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল না মেটা পর্যন্ত আমদানি-েরপ্তানি বন্ধ থাকবে।

এদিকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় দুই দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ’ পণ্যবাহী ট্রাক। বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক চলছে বলেও তিনি জানান।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দ্রুত বাণিজ্য চালু না হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) সঞ্জয় বাড়ৈ জানান, দ্রুত বাণিজ্য চালু করতে বিভিন্নভাবে ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

জাতীয়

বাংলাদেশে পাঁচ মাস পরে আবার সর্বোচ্চ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের অগাস্ট মাসের মাঝামাঝিতে সর্বশেষ একদিনে এতো বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ৮ হাজার ৪০৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৩.৯৮ শতাংশ রোগী কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে শুধুমাত্র রাজবাড়ী জেলা ছাড়া বাকি ৬৩টি জেলাতেই কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এই সময়ে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৭৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ অগাস্টের ১৩ তারিখে বাংলাদেশে ৮ হাজার ৪৬৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এই বছরের চৌঠা জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৫ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৬৪ জনের।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সিকোয়েন্সিং রিসার্চ প্রজেক্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমানে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। তবে হাসপাতালে যারা ভর্তি হচ্ছেন, তাদের সবাই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

বাংলাদেশে গত দুই বছর এপ্রিল থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাস থেকেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

সোমবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে সার্বিক অবস্থা জানাতে যেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেশে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আইডিসিআরের যে তথ্য আছে তাতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরে অমিক্রণের হার বেশি। অন্য শহরে কম। এখন পর্যন্ত সামগ্রিক বিচারে ডেল্টা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা ৮০ শতাংশের উপরে।”

সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়াকে “একটা অশুভ ইঙ্গিত” বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মি. আলম বলেন, অমিক্রনের সংক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে বেশি। ঢাকার বাইরে অমিক্রনের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। তবে ঢাকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি প্রাধান্য বিস্তার করছে।

সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে তেরই জানুয়ারি থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশের সরকার।

আন্তর্জাতিক

বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে তার পেছনে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছে বিএনপি। আর প্রায় একই সময় থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত জনসংযোগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৮ লাখ ডলার দিয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার।

‘বিএনপি-জামায়াত বিদেশি লবিস্ট নিয়োগে ৮টি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে তিনটি চুক্তি করেছে বিএনপি। এই তিন চুক্তিতে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিএনপি অফিসের ঠিকানাও চুক্তির কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া নেই। তবে চুক্তির কপিতে তাদের নাম রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে।’

মঙ্গলবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম।

আন্তর্জাতিক লবি ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে তার মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ৮টি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে। বিএনপির ৩টি চুক্তি পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে বিএনপি পায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছে। এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের (বিচার বিভাগের) ওয়েবসাইটে পরিষ্কারভাবে দেওয়া আছে।’

তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এর বাইরেও লবিস্ট নিয়োগে বিএনপি-জামায়াতের আরও অর্থ খরচের ধারণা করছেন।

লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংলাপ, সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও মানবাধিকার সংলাপ করতে লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। আরেক জায়গায় রয়েছে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানো। আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল আনানো নিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়, এগুলো ছিল জামায়াতে ইসলামীর চুক্তির অংশ। ‍২০১৯ সালে বিএনপির মহাসচিব অনেকগুলো চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশকে মার্কিন সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ করার মতো কথা বলা হয়েছে।’

২০১৫ সালে বিজিআর গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স এলএলসি নামের একটি মার্কিন লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওই চুক্তি লবিস্ট নিয়োগ নয় বলে দাবি করেছেন শাহরিয়ার আলম। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘পিআর বা জনসংযোগের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হলে তার প্রতিবাদ অথবা তার বিরুদ্ধে আরেকটি লেখা যায়, তার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা, এসডিজি অর্জন, মধ্যম আয়ের দেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্য অর্জনগুলো নিয়ে লেখা ছাপাতে ওই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির মিডিয়া লবিস্ট বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন মেয়াদে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি।’

বিজিআর কি তাহলে লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নয়- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, ‘বিজিআর তদবির ও জনসংযোগসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। আমরা তাদের সঙ্গে শুধু জনসংযোগের জন্য চুক্তি করেছি। তাদের সঙ্গে তদবির সেবার জন্য কোনো চুক্তি হয়নি।’

২০১৫ সালের শেষ নাগাদ থেকে ২০২২ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার চুক্তি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিদেশে লবিস্ট রাজনীতিতে বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ হেরে গেল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রীর জবাব, ‘নিরীহ কূটনীতি, কালো টাকার লবিস্টের কাছে হেরে যাওয়া বলে মনে করি না। ’

‘এখানে অনেক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছি।’ এ সময় র‌্যাব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো লবিস্ট নিয়োগ না করে সরাসরি যুক্ত হয়ে ফলাফল আনার কথা জানান শাহরিয়ার।

রাজনীতি

ভোটে দাঁড়ানোর পর বিএনপির পদ হারিয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’; বহিষ্কৃত হওয়ার পরও একই প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার পর গত ৩ জানুয়ারি তৈমুরকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ এবং নারায়ণগঞ্জ মহগানগর বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তার প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল।

সে সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তৈমুর বলেছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।

“আমি মনে করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি গণমানুষের তৈমুর, গণমানুষের কাছে ফিরে যাব।”

নারায়ণগঞ্জে ভোটে দাঁড়ানো তৈমুর বিএনপি থেকে পদচ্যুত

দলীয় পদ হারিয়ে তৈমুর বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

এরপর হাতি প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে থাকেন তৈমুর। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৬ হাজার ভোটে হারেন তৈমুর।

এর দুদিন পর মঙ্গলবার রাতে তৈমুর ও কামাল দুজনকেই বহিষ্কারাদেশের আলাদা চিঠি তাদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে তাদের বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত’ থাকার কথা বলা হয়েছে।

রিজভী বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।”

তৈমুরকে এবার বহিষ্কার, কামালও বহিষ্কৃত

এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তৈমুর বলেছেন, “এখনও চিঠি পাইনি। তবে আমি যতটুকু শুনছি ঘটনা সত্য। আলহামদুলিল্লাহ।

“দলের একজন নিবেদিত কর্মী হয়ে এমন পুরস্কার পেতে হবে এটা জাতি বিবেচনা করবে। দেশের রাজনীতিতে যে মহামারী চলছে, এটাই তার নমুনা। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে শুধু হাতির পক্ষে সারা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমনটি হয়েছে তা নয়। নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে শুনছি সেখানে এরকম আদেশ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় রাজনীতিতে মহামারী চলছে।”

কামালও চিঠি এখনও পাননি জানিয়ে বলেন, “আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। সেই আদর্শ থেকে কেউ সরাতে পারবে না। এতদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে রাজপথে ছিলাম, এখন সাধারণ সমর্থক হিসেবে থাকবে। আমৃত্যু দলের জন্য কাজ করে যাব।”

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। পরে দলের নির্দেশে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

আইনজীবী তৈমুর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে বিটিআরসির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের পর তৈমুরকে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

গত রোববার ভোট শেষে তৈমুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তৈমুর আলমের খন্দকারের পদ-পদবি লাগে না। বিএনপি রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এটা নিয়ে মরতে চাই।”

তার দুদিন পরই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন তিনি।

খেলাধুলা

তিনশ ছাড়ানো রান তাড়ায় ৬৩ রানে নেই ৪ উইকেট। চাপের মধ্যে দুর্দান্ত এক ইনিংসে আশা জাগালেন দাসুন শানাকা। কিন্তু যথেষ্ট হলো না শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের প্রচেষ্টা। ব্যাটসম্যানদের এনে দেওয়া বড় পুঁজির পর বোলারদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ে পেল দারুণ জয়।

আন্তর্জাতিক

গত এক বছরে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ‘দ্বিগুণ বেড়েছে’ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মঙ্গলবার মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথম বারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

“দুই দেশের এই বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এজন্য দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছি।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্য বাণিজ্য বেড়েছে ২৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে বছর ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। দেশটি থেকে এসেছে ৮৫৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ ওই বছর ভারতের সঙ্গে ৭৩১ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দুটি দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। ভারতে ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হয় ৫৭৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য। সেবছর বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৬৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার।

এফবিসিসিআই’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটো মোবাইল ও পোশাকখাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চায় বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাই কমিশনার।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এফবিসিসিআইর প্রধান লক্ষ্য। এখাতের উন্নয়নে সরকারকে ১২ বছরব্যাপী পরিকল্পনা জমা দিতে কাজ করছে এফবিসিসিআই।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এলডিসি পরবর্তী সময়ে পোশাক শিল্পে সুতা ও তুলার বড় যোগানদাতা হতে পারে ভারত।

“বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে। তাই বাংলাদেশে অন্যান্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ গত নভেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পায়। উত্তরণের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর প্রস্তুতির সময় পাবে বাংলাদেশ।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, “ভারতীয় বন্দরের সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগির আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে বলে জানান ভারতীয় হাই কমিশনার।

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, তার সরকার দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে আগ্রহী। এজন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সমস্যা দূর করতে ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ফোরাম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান ভারতীয় হাই কমিশনার।