অর্থনীতি

দেশের সর্ববৃহৎ স্থাপনা পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। একদিনে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে।

শুক্রবার এই টোল আদায় করা হয়। ২৬ জুন পদ্মা সেতুতে যান চলাচল চালুর পর এটাই টোল আদায়ের রেকর্ড। এদিন সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার করেছে ২৬ হাজার ৩৯৮টি।

এর আগে ২৬ জুন চালুর পর ১ দিনে ৬১ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করেছিল। আর টোল আদায় হয়েছিল প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। তবে ওই দিন পার হওয়া যানবাহনের ৭৫ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল। ২৭ জুন থেকে সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে শুক্রবার থেকে টোল আদায় শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, প্রথম দিনে ৬৯ লাখ ৮১ হাজার ৮৮০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন পারাপার করেছে মোট ৪১ হাজার ৭১৪টি।

এর মধ্য ধলেশ্বরী সেতুর কাছের টোল প্লাজা দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৬ হাজার ৬৪। টোল আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৪০ টাকা। আর ভাঙা দিয়ে যানবাহন পারাপার করেছে ১৫ হাজার ৬৫০টি। টোল আদায় করা হয়েছে ২৪ লাখ ৪ হাজার ৬৪০ টাকা।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৩ হাজার ৮০১টি। টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা। জাজিরা দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১২ হাজার ৫৯৭টি। টোল আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ১০০ টাকা।

অর্থনীতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে বাজারে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়াতে অগ্রাধিকার নির্ধারণে জোর এবং উচ্চ ব্যয়ের কিছু দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অর্থ খরচে ‘সংযত’ হতে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কোভিড মহামারীর সংক্রমণ কমলে অর্থনীতিতে দ্রুত চাহিদা তৈরির সময়কালে ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও তেলসহ আন্তর্জাতিক পণ্য বাজার চড়তে থাকে; যাতে বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি ভোগান্তি তৈরি করছে বাংলাদেশের জনজীবনেও।

অর্থনীতির এ সংকটের মধ্যে চাহিদার তুলনায় ডলার সরবরাহ কমে গেলে দেশের মুদ্রাবাজারে প্রধান এ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়েও অস্থিরতা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান দ্রুত কমছে। এ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা দুশ্চিন্তার কথাই বলছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের চলমান সংকট সামাল দিতে কৌশল নির্ধারণে সরকারকে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ’ নিয়ে এপ্রিলের মাসওয়ারি এ প্রতিবেদন গত ২৬ জুন প্রকাশ করা হয়।

এতে ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারের ব্যাংক ঋণ বাড়ায় অর্থনীতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও বিশ্লেষণ করা হয়।

এতে বলা হয়, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া বেড়ে যাওয়া মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হলেও তা সামনের দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও ‘ব্যাংক ‍ঋণের সুদহার’’ বাড়ানোর প্রবণতাকে উসকে দিতে পারে। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার অনেক বেড়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ‘সংকোচনমুখী’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে অর্থের জোগান আরও কমানো এবং রেপো (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদহার আরও এক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেও সরকারকে রাজস্ব নীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ‘সমাধান খোঁজার’ পরামর্শ দিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত।

তিনি বলেন, ‘‘আমদানি পর্যায়ে শুল্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে, অর্থের প্রবাহ ঠিক রাখতে ঋণের বিশেষ স্কিম গঠন করা যেতে পারে। এদিকেই বেশি নজর দেওয়া দরকার।’’

অপরদিকে প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারিশের বিষয়ে আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। গত ১৭ মে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণে নির্দেশনা দেন।

ফাইল ছবিফাইল ছবিওই দিনের বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “কোন প্রকল্প দেশ এবং জনগণের জন্য আগে প্রয়োজন, সেটা আগে আনতে বলেছেন। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, ‘বাড়াবাড়ি করবেন না, ঘরে বাইরে, সরকারের ভিতরে অপচয় বন্ধ করতে হবে’।”
প্রধানমন্ত্রী এখনই জরুরি নয় এমন প্রকল্প কিছুটা ধীর গতিতে বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক এ মন্দার সময়ে’ বেছে বেছে প্রকল্প নিতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের ব্যয় বুঝে শুনে করা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংক যে আশঙ্কা করে সরকারি প্রকল্পের ব্যয়ে সংযত হওয়ার কথা বলছে, তার কিছু উদ্যোগ সরকার ইতোমধ্যেই নিয়েছে।

“বেশ কিছু প্রকল্পের বেলায় দেখা গিয়েছে। এখন বিকল্প হিসেবে বৈদেশিক উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে তা ব্যবহারে আরও যত্নবান হওয়া উচিত সরকারের।’’

ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে কত ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেয় ৩৪ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা; যা জাতীয় বাজেটে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে গত ২৬ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। অর্থাৎ পর্যবেক্ষণটি দেওয়ার পরও আরও সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়েছে সরকার।

সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘‘মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দিক দিয়ে কাঙিক্ষত নয়। আর এটি সুদহারকে বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার অনেক বেড়েছে।’’

ফাইল ছবিফাইল ছবিএ প্রতিবেদন তৈরির মাস এপ্রিলে দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। পরের মাস অর্থাৎ মে মাসে তা ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে উঠেছে, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে তা ৫ দশমিক ৩ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য ঠিক করেছিল সরকার।

বিদায়ী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে সরকারের লক্ষ্য ব্যাংক থেকে ৮৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া। আর ব্যাংক বর্হিভূত খাত থেকে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা; এর মধ্যে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি ৩২ হাজার কোটি টাকা।

গত এপ্রিল পর্যন্ত সরকার নিট সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নিয়েছে ১৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্য মাত্রার ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ হিসাবে এপ্রিল শেষে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস মোট ঋণ নিয়েছে ৫৫ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের এসময়ে (জুলাই-এপ্রিল) মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল।

করোনাভাইরাস পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে অর্থনীতিতে ঋণ চাহিদা বাড়ার ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে মূলত সরকারি ঋণ বাড়তে থাকে। অর্থবছরের শেষের দিকে তা আরও বেড়ে যায়। এপ্রিল শেষে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মে মাসে যা ছিল ২৭ দশমিক ২০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয় ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ‍দুই মিলে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সরকারের এ ব্যাংক ঋণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আগের চেয়ে গতি বাড়বে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এতে অর্থবছর শেষে জিডিপিতে কাঙিক্ষত উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। তবে সামষ্টিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক।

এরকম পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণে এমন কৌশল নেওয়া প্রয়োজন যাতে আবশ্যকীয় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বল্প সময়ের মধ্যে বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্পের খরচ ‘মেপে মেপে’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন পর্যবেক্ষণের সঙ্গে একমত পোষণ করে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান  বলেন, ‘‘বৈশ্বিক কারণ ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেড়ে যাওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের উপরে রয়েছে।

‘‘ব্যাংকের সুদহার তো এখন বাস্তবিকভাবে মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় ঋণাত্বক হয়ে গিয়েছে অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির চেয়ে সুদহার কম। মানুষের সঞ্চয়ের প্রবণতা কমে যাচ্ছে। সেখানেও তো বিবেচনার বিষয় আছে। সঞ্চয় না পেলে ব্যাংকগুলো ঋণ দিবে কিভাবে?’’

অর্থনীতি

পদ্মা সেতু প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরলসভাবে যুক্ত একমাত্র দেশীয় প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড।
ঐতিহাসিক এই যাত্রায় জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের গর্বিত অংশীদার।

পুরো প্রকল্পে সেতুর গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে জার্মানি থেকে দুটি মেশিন নিয়ে আসার পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতেও আব্দুল মোনেম লিমিটেড বিনিয়োগ করেছে। পদ্মা সেতুর ৫টি প্রকল্পের ৩টিই করেছে তারা। পদ্মা প্রকল্পে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে গিয়ে তারা তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আরও একবার নিশ্চিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশের আরও যেকোনো বড় প্রকল্পে আরও দক্ষতার সঙ্গে অবদান রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা। তাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য এবং জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের গর্বিত অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

প্রসঙ্গত, ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী সেতু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার উন্নয়নের সঙ্গে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অর্থনীতি

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকে বাংলাদেশের জন্য ‘বিশাল অর্জন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন।

শনিবার সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার। আমরা এই সেতুর গুরুত্ব বুঝতে পারি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ ‍ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

“পদ্মা সেতুর ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভ্রমণের সময় কমে আসবে। কম সময়ে কৃষক তার খামারে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ করতে পারবেন। সবমিলে পদ্মা সেতু এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, দারিদ্র্যও কমিয়ে আনবে।”

পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পিছু হটেছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের পথে এগিয়ে যায়। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার নির্মিত সেই সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে শনিবার।

বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলেছিল, তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলাও হয়েছিল, কিন্তু তা টেকেনি।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিদের আসনে বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধিকে হাস্যোজ্জ্বল দেখাচ্ছিল।

বাংলাদেশ এই সেতু থেকে লাভবান হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা খুবই খুশি, এই সেতুর নির্মাণ শেষে উদ্বোধন করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের উন্নয়নের বন্ধু হিসেবে আমরা উচ্ছ্বসিত।”

অর্থনীতি

আগামী ২৫ জুন পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পদ্মা সেতু সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। এটি কোনো বিদেশি তহবিলে নির্মিত হয়নি।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে পদ্মা বহুমুখী সেতু বিদেশি তহবিল ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের একটি অংশ হিসেবে নির্মিত হয়েছে বলে কোনো কোনো মহল দেখানোর চেষ্টা করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্টভাবে দাবি করে, পদ্মা বহুমুখী সেতু সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। এটি অন্য কোনো বিদেশি দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক তহবিল সংস্থা নির্মাণে আর্থিকভাবে অবদান রাখেনি। তবে বাংলাদেশি ও বিদেশি উভয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নিয়োজিত ছিল।

এ সেতু হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি জেলাকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করার দীর্ঘকালের লালিত স্বপ্ন পূরণ হল। এতে করে বাংলাদেশের সামষ্টিক সমৃদ্ধি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে আশা করে, বাংলাদেশের সব বন্ধুরা এ যুগান্তকারী প্রকল্পের সমাপ্তি উদযাপনে হাত মেলাবে। এর বিশেষ কারণ হলো- এটি সম্পূর্ণরূপে বাংলাদেশ সরকারের অবদানে সম্পন্ন হয়েছে।

অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেটে কোভিড-১৯ এর প্রভাব ও রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও ঝুকি থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অধিক গুরুত্ব পাবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’ সরকারি ক্রয় কমিটি সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট পেশ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমনের পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাশিয়া – ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে এবং সকলেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে এই অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি সুযোগও সৃষ্টি করবে।

জাতীয় বাজেটের মূল খাত সম্পর্কে কিছু বলতে অস্বীকার করলেও সাংবাদিকদেও তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হলে সব জানতে পারবেন।’ অবশ্য আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাত অধিক গুরুত্ব পাবার ইঙ্গিত দেন তিনি।

অর্থনীতি

ডলারের উচ্চ মূল্য ও সংকটের মধ্যে মাসের প্রথম দিকে ইতিবাচক ধারা থাকলেও মে মাস শেষে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে সুখবর মেলেনি; আগের বছরের একই মাসের চেয়ে কম এসেছে ১৩ শতাংশ।

আগের মাস এপ্রিলের চেয়েও ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ কমেছে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রবাসীরা মোট ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। ২০২১ সালের একই সময়ে যা ছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

দেশে ডলারের দামে রেকর্ড হলে আগের চেয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে বেশি টাকা পাচ্ছিলেন প্রবাসীদের স্বজনরা। এরপরও রেমিটেন্সের ঋণাত্মক ধারা কাটেনি। শতকরা হারে গত মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স কম এসেছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

আগের মাসে রোজা ও ঈদকে ঘিরে প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর কারণে এবং ডলারের দাম আগের মাসের চেয়ে আরও বেড়ে যাওয়ায় মে মাসে রেমিটেন্সে গতি আসবে বলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি, প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে ধাক্কা লেগেছে।

এপ্রিলে রেমিটেন্স এসেছিল ২০১ কোটি ১০ লাখ ডলার। এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বা ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

মে মাসে আসা প্রবাসী আয়সহ চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট রেমিটেন্স এসেছে ১ হাজার ৯১৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের এ সময়ে এসেছিল ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এ হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ (৩৬৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার) কম এসেছে রেমিটেন্স।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে রেমিটেন্স এসেছিল দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।

এবার চলতি অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে সরকার বাজেটে ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও ১১ মাসে শেষে ঋণাত্মক ধারা থেকে বের হতে পারেনি। বাকি এক মাসে সে সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমান ধারা বিশ্লেষণের পর গত এপ্রিলে সরকার প্রবৃদ্ধির এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১ শতাংশ করে; এটি অর্জন করাও দূরূহ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বরাবরের মত এবারও রেমিটেন্স বেশি এসেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

মে মাসে মোট ১৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এসেছে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে, যা গত মাসের মোট রেমিটেন্সের ৮৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

আর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, যা মে মাসের মোট রেমিটেন্সের ১৫ শতাংশ।

আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার চাপে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। দেশের আমদানি দায়ের বড় একটি অংশ পূরণ করে থাকে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই এ খাতে ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি রয়েছে।

ডলারের সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগের এ সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে ইতোমধ্যে নীতিমালাতেও কিছু ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে বৈধ উপায়ে দেশে রেমিটেন্স পাঠানো উৎসাহিত করতে সরকার নগদ প্রণোদনার হার ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছিল। এরপরও নেতিবাচক ধারা রয়েই গেছে।

গত ২৫ মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিলো ৪২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে বর্তমান আমদানির ধারা অনুযায়ী ৬ মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত ২৩ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিটেন্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অর্থের উৎস জানতে চাওয়া হবে না।

কাগজপত্রের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় সামনের দিনগুলোতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্সের প্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।

অর্থনীতি

ডলার বাঁচাতে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম সুইফটের বাইরে নতুন কোনো ‘পেমেন্ট সিস্টেমে’ যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

অর্থনীতি

বাংলাদেশ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। কর অবকাশ থেকে শুরু করে ব্যাংক ঋণ, প্রণোদনা, অবকাঠামোগত সুবিধার ছড়াছড়ি। তার পরও প্রত্যাশিত হারে সাম্প্রতিক সময়ে এফডিআই বাড়ছে না।

বিদেশ থেকে দেশে এফডিআই না বাড়লেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের হার বেড়েই চলেছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বিদেশে দেশের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ছয় কোটি ২৭ লাখ ডলার বেড়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে শুধু উপস্থান করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে দেশি উদ্যোক্তাদের বৈধভাবে নেওয়া বিনিয়োগের তথ্য। এর বাইরে অবৈধভাবে বা পাচারের মাধ্যমে আরও অনেক পুঁজি নেওয়া হয়েছে যেগুলো বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈধভাবে দেশ থেকে পুঁজি নেওয়ার চেয়ে পাচারের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা দেশে আনা হয়েছে খুবই কম। বরং নেওয়া হচ্ছে বেশি।

এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি নীতিমালা জারি করে দেশের সচ্ছল রপ্তানিকারকদের বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেকে বিদেশে বিনিয়োগের আবেদনও করেছে। এগুলো এখন পর্যালোচনাধীন রয়েছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হু হু করে বাড়ছিল।

গত অক্টোবরে তা বেড়ে চার হাজার ৭০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। যা দিয়ে ওই সময়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল। অথচ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। রিজার্ভকে অনেক বেশি উদ্বৃত্ত মনে করে দেশ থেকে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই নীতিমালার আওতায় এখনো বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ শুর্নু হয়নি।

তারপর্ ির্থাৎ নীতিমালা জারির এক মাস পরই গত মার্চ থেকে বাজারে ডলার সংকট বাড়তে থাকে। এ মাসের শুরুতে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এখন রিজার্ভ রক্ষায় বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসী পণ্য আমদানি, অন্য পণ্য আমদানিতে লাগাম টানা হয়েছে। দেশ থেকে বিদেশে ডলার নিয়ে বিনিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রিজার্ভ হচ্ছে বিপদে ব্যবহারের জন্য। সুসময়ে ব্যবহারের জন্য নয়। কিন্তু রিজার্ভকে সুসময়ে ব্যবহার করেই যত বিপত্তি লেগেছে। রিজার্ভ থেকে ডলার নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক একটু ধকল এখন সহ্য করা যাচ্ছে না। অর্থনীতিকে প্রচণ্ড চাপে ফেলেছে।

মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এফডিআই বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এর বিপরীতে একই সময়ে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের স্থিতি বেড়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ার চেয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ ৬ দশমকি ২ শতাংশ বেশি বেড়েছে।

বিনিয়োগের এই চিত্রকে অর্থনীতিবিদরা মোটেই স্বস্তিদায়ক মনে করেন না। তাদের মতে, দেশের চেয়ে বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এখনো পৌঁছেনি। এখন দেশেই বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় স্থানীয় উদ্যোক্তারাও দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দরিদ্রতা কমবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হবে। দেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের বিষয়ে বিদেশমুখী না করে দেশমুখী করাটা জরুরি। এ জন্য সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে ভুলের মাশুল দিতে হবে দেশের মানুষকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দেশে এফডিআইয়ের স্থিতি ছিল ৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার বা দুই হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালে এ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ডলার। যা স্থানীয় মুদ্রায় তিন হাজার ৪৩২ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে ছয় কোটি ২৭ লাখ ডলার বা ৫৫২ কোটি টাকা। আলোচ্য বিনিয়োগ থেকে ২০২০ সালে দেশে মুনাফা হিসাবে এসেছে এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২১ সালে এসেছে ২৯ লাখ ১৭ হাজার ডলার। করোনার কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ায় মুনাফা আসার হার বেশ কমেছে। ২০২০ সালে দেশি উদ্যোক্তারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছিলেন তিন কোটি ১১ লাখ ডলার। ২০২১ সালে করেছেন ৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ওই সময়ে বিনিয়োগ বেড়েছে ছয় কোটি ৩৬ লাখ ডলার। মোট বিনিয়োগের স্থিতির মধ্যে গত বছর মূলধন হিসাবে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ডলার, আয় থেকে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে দুই কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং এক কোম্পানি অন্য কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছে ছয় কোটি ২৬ লাখ ডলার।

২০২১ সালে দেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্যে চার কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এর পরেই গেছে হংকংয়ে দুই কোটি ডলার, নেপালে এক কোটি ১৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া ভারতে ৬৬ লাখ ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ২১ লাখ ডলার, ইতালিতে ১১ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুরে ৯ লাখ ডলার, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাত লাখ ডলার, কেনিয়া ও শ্রীলংকায় পাঁচ লাখ ডলার করে বিনিয়োগ গেছে। এ ছাড়া ওমান, মালয়েশিয়া, চীন, গ্রিস ও পাকিস্তানেও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ রয়েছে।

দেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে ২০০০ সাল থেকে। ওই বছরে স্থিতি ছিল ছয় কোটি ৭৯ লাখ ডলার, ২০০১ সালে আট কোটি ৫২ লাখ, ২০০২ সালে আট কোটি ৮২ লাখ, ২০০৩ সালে ৯ কোটি ৫১ লাখ, ২০০৪ সালে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার স্থিতি ছিল। ২০০৬ সালে তা বেড়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।

২০১১ সাল থেকে টানা বাড়তে থাকে। মধ্যে শুধু ২০১৮ সালে ২০১৭ সালের চেয়ে সামান্য কমেছিল। ২০১০ সালে স্থিতি ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১০ কোটি ৬২ লাখ, ২০১২ সালে ১০ কোটি ৭২ লাখ, ২০১৩ সালে ১৪ কোটি ২৫ লাখ ও ২০১৪ সালে ১৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৫ সালে তা আরও বেড়ে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, ২০১৬ সালে ২১ কোটি ২৯ লাখ, ২০১৭ সালে ৩৩ কোটি ১০ লাখ, ২০১৮ সালে ৩১ কোটি পাঁচ লাখ ও ২০১৯ সালে ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার স্থিতি ছিল।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করলে দেশের ব্র্যান্ডিং হবে। কিন্তু দেখতে হবে বিদেশে বিনিয়োগের সক্ষমতা আছে কিনা? বর্তমানে ডলারের বাজারে যে সংকট, তা তো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সক্ষমতা দেশের নেই। আগে অর্জন করতে হবে। ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য রিজার্ভ থাকতে হবে। তা না করে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়াটাও যুক্তিযুক্ত নয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে কোনো পুঁজি নেওয়ার সুযোগ নেই। বৈধভাবে যারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে করেছেন। রিজার্ভ বাড়ায় বিদেশে বিনিয়োগের সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া প্রবাসীরাও বিদেশে বিনিয়োগ করেছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ বেড়েছে। বৈশ্বিক কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ও রেমিট্যান্স কমায় এখন আবার কমছে। রিজার্ভ বাড়ার কারণে সরকার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে কেন্দ ীয় ব্যাংক থেকেও বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য ২০১৫ সাল থেকে অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়। এর আগে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা, এক্সচেঞ্জ ও সীমিত কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষক আউয়াল সরকারের এক গবেষণায় বলা হয়, দেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১১০ থেকে ২২০ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তদন্তে আর্থিক খাতের বহুল আলোচিত জালিয়াত পিকে হালদারের ভারত ও কানাডায় বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপ দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছে। তারা অর্থ পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করেছে।

অর্থনীতি

আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) আকার সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে; যার ৩০ শতাংশ বরাদ্দ থাকছে একক খাত পরিবহন ও যোগাযোগে।

দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন এডিপির প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, “আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপির এই আকার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।“

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে ১১ মে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়; যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার এডিপির প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।

বরাদ্দের এ পরিমাণ চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির বরাদ্দের চেয়ে ২০ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করা হয়।

আর নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৩৮ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা বা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। বরাবরের মত বাস্তবায়নের মাঝপথে চলতি অর্থবছরের এডিপি সংশোধন করে এর আকার কমিয়ে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা করা হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত এডিপির অর্থায়নে দেশি সম্পদ থেকে যোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশ। আর ৯৩ হাজার কোটি টাকা প্রায় ৩৮ শতাংশ বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বরাদ্দের শীর্ষে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত

একক খাতে বরাদ্দের বেলায় গত কয়েক বছরের মত এবারও এডিপিতে সর্বোচ্চ প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। বিপুল এ অর্থ সড়ক, রেল, আকাশ পথসহ যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে ব্যয় করা হবে।

আগামী অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ শতাংশের হিসেবে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বরাদ্দের প্রায় ৩০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। সে হিসাবে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ ২১ শতাংশ বেশি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান খন্দকার আহসান হোসেন বলেন, “সরকার পরের অর্থবছরের জন্য অগ্রাধিকার খাত ও বরাদ্দের নকশা তৈরি করে আমাদের কাছে পাঠান; সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বরাদ্দ সাজাই।

“প্রত্যেক বছর অর্থ মন্ত্রণালয় এডিপির আকার ও খাতভিত্তিক বরাদ্দের একটা সিলিং আমাদের কাছে পাঠান। সেই সিলিং অনুযায়ী খাতভিত্তিক বরাদ্দগুলো আমরা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক প্রকল্পগুলোতে ভাগ করে দেই।”
পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে ভ্রমণ সময় কমে আসবে। মানুষের কর্মঘণ্টা বাড়বে এবং দেশে বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।

সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার ইতিমধ্যেই আমদানি নির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যয় করে বাস্তবায়ন করা যাবে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।

“এই কৌশলে যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা রয়েছে সেগুলোর জন্য আমদানি করতে হলেও সমস্যা নেই। কারণ সেই আমদানি বিল বৈদেশিক সহায়তা দিয়েই পরিশোধ করা যাবে।”

এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সঠিক’।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষ করে রাস্তা ঘাট তৈরিতে প্রায় সবকিছুই এখন দেশি পণ্য দিয়ে হচ্ছে। তাই সামষ্টিক অর্থনীতি বিশেষ করে রিজার্ভ ঠিক রাখতে সরকারের এ পদক্ষেপ সঠিক, যোগ করেন তিনি।

খাতওয়ারী সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব

>> পরিবহন ও যোগাযোগ; সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ।

>> বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ১৬ শতাংশ।

>> শিক্ষা; তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা ৩৮ লাখ টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ১২ শতাংশ।

>> গৃহায়ণ ও গণপূর্ত; ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ১০ শতাংশ।

>> স্বাস্থ্য; প্রায় ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের প্রায় ৮ শতাংশ।

>> স্থানীয় সরকার; ১৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

>> কৃষি; ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ১২

শতাংশ।

>> পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ; ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি

টাকা; মোট বরাদ্দের ৪ শতাংশ।

>> শিল্প; ৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ২ দশমিক ২০ শতাংশ। >> বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি; ৪ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা; মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।