অর্থনীতি

সঠিক পরিচয়পত্র না থাকা ভারতীয় ট্রাকচালক ও ট্রান্সপোর্ট কর্মচারীদের ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ঢুকতে দিচ্ছে না বিএসএফ।

এদিকে হঠাৎ করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এমন অভিযানের প্রতিবাদে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি- রপ্তানি বন্ধ রেখেছে ভারতীয় ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাংক বিষয়ক সম্পাদক হায়দার আলী জানান, দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে বলে ভারতের বনগাঁ গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন তাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে। তাদের আভ্যন্তরীণ কোন্দল না মেটা পর্যন্ত আমদানি-েরপ্তানি বন্ধ থাকবে।

এদিকে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় দুই দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ’ পণ্যবাহী ট্রাক। বাণিজ্য সচলের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক চলছে বলেও তিনি জানান।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, দ্রুত বাণিজ্য চালু না হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) সঞ্জয় বাড়ৈ জানান, দ্রুত বাণিজ্য চালু করতে বিভিন্নভাবে ভারতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অর্থনীতি

দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ফ্লাইটে যেতে হলে দিনের বেলায় যেতে হয়। আবার ফিরতে হলে দিনেই ফিরতে হয়। কারণ রাতে কোনো ফ্লাইট নেই। তবে এবার সেই অপেক্ষার অবশান হতে যাচ্চে। আগামী মাসেই (ফেব্রুয়ারি) রাতেও ফ্লাইট চলাচল করবে কক্সবাজার বিমানবন্দরে।

অবকাঠামোর সংকটে বর্তমানে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে। তবে সংকট আর বেশী দিন থাকছে না, ফেব্রুয়ারি থেকে রাতেও চালু রাখা যাবে বিমানবন্দর। করবে ফ্লাইট ওঠানামা। ইতোমধ্যেই বিমানবন্দরের সংস্কার কাজের ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকিটাও খুব দ্রুত শেষ হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংস্কার পুরোপুরি শেষ হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পর কক্সবাজার হবে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার বিমানবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ পরিদর্শন করেছেন। পরে দুপুরে সাংবাদিকদের তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ড. আব্দুস শহীদ বলেন, কক্সবাজারের এই বিমানবন্দর ঘিরে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব তৈরি হবে। সমুদ্র ছুঁয়ে নামবে বিমান। এটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হলে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিভিল এভিয়েশনের প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন বলেন, করোনার কারণে বিদেশি টেকনিক্যাল পরিদর্শকরা আসতে না পারায় রাতে ফ্লাইট চলাচল পিছিয়েছে। এই বিমানবন্দর এখন দিনে-রাতে ফ্লাইট চলাচলের উপযোগী। ফেব্রুয়ারিতেই রাতে ফ্লাইট চলাচল করবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে পুরোদমে সংস্কার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ। করোনার কারণে কিছুটা বাড়তি সময় লাগলেও নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

অর্থনীতি

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে রাতেও বিমান ওঠা-নামা করতে পারবে বলে সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছেন।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব কমিটির প্রতিনিধি দল কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মফিদুর বলেন, “কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা কাজ শুরু করার পর রাতে বিমান চলাচলের জন্য যে ধরনের লাইটিং সিস্টেম দরকার তা ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে।”

ভবিষ্যতে এই বন্দরে নির্মাণধীন রানওয়েটির পশ্চিম পাশে আরও একটি রানওয়ে নির্মাণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, তার আগে নির্মাণাধীন রানওয়েটি ব্যবহৃত হবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য।

এর আগে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানবন্দরের চলমান আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের কাজ পরিদর্শন করেন। তারা নির্মাণাধীন টার্মিনাল ভবনসহ উন্নয়ন কাজ ঘুরে ঘুরে দেখেন।

জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব কমিটির সভাপতি আবদুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ সুদৃঢ় করতে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই কক্সবাজার মিবানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মান রূপান্তরের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।”
আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের পুরো কাজ ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অর্থনীতি

বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও ২৫০ সাব-এজেন্ট মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি করতে পারবে। এর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে না।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘মালয়েশিয়াকিনি এক খবরে এই তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, এসব এজেন্সি ও সাব-এজেন্টের নামের তালিকা ও চুক্তির খসড়া তাদের হাতে রয়েছে।

গত ১০ ডিসেম্বর মালয়েশিয়া বাংলাদেশিদের জন্য তাদের শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ওই দিন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সেরি এম সারাভানান এক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বৃক্ষরোপণ, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, সেবা খাত, খনিজ উত্তোলন, নির্মাণ, গৃহকর্ম ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হবে।

সারাভান আরও জানান, দেশটির সব খাতেই বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ব্যাপারে মালয়েশিয়ার মন্ত্রিপরিষদ সম্মত হয়েছে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো বৃক্ষরোপণ খাতে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অর্থনীতি

গুলশানের ‘র ক্যানভাস বার এন্ড রেস্টুরেন্টের’ বিরুদ্ধে গুলশানের ‘র ক্যানভাস‘ বারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা হয়েছে।

অর্থনীতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বঙ্গোপসাগরে মিথেন গ্যাসের (গ্যাস হাইড্রেট) সন্ধান মিলেছে। সমুদ্রে এক গবেষণা সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস হাইড্রেট এবং সামুদ্রিক জেনেটিক সম্পদের ওপর গবেষণার ফলাফল নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইস অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) মোহাম্মাদ খুরশেদ আলম।

অর্থনীতি

করোনা ও ওমিক্রন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন বছরের অর্থনীতির গতি পর্যালোচনা করে দেখছেন রাষ্ট্রের আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকরা। সেখানে আর্থিক অবস্থার দুধরনের চিত্র দেখতে পান তারা। একদিকে করোনায় আয়-রোজগার কমা, বেকার ও ছাঁটাই হওয়া মানুষগুলো খরচ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এরসঙ্গে চোখ রাঙাচ্ছে বাজারদর।

জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা মূল্যস্ফীতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে। রেমিট্যান্স নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে- সরকারের রাজস্ব আয় ভালোই হচ্ছে। বাড়ছে ব্যাংক ঋণের অঙ্ক। রপ্তানি ও আমদানিতে ইতিবাচক ধারা বইছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পুরোদমে শুরু হয়েছে। কৃষি উৎপাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটা স্পষ্ট যে অর্থনীতি করোনার ধাক্কা যথেষ্ট মাত্রায় কাটিয়ে উঠছে। গেল সপ্তাহে আর্থিক খাতের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে ‘আর্থিক মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ সভায় বসেছিলেন অর্থমন্ত্রী নিজেই। ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন-বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তারা।

কাউন্সিলের সদস্যরা মনে করছেন, টিকার কারণে অর্থনীতিতে গতি বাড়ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন অর্থনীতির জন্য হুমকি মনে করছেন না। কারণ বুস্টার ডোজ ইতোমধ্যে চলে আসছে। মার্চ পর্যন্ত দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় চলে আসবেন। করপোরেট খাত অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ও আমদানিতে রের্কড সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হারও। রাজস্ব আয়ে আশার সঞ্চার তৈরি হয়েছে। এসব কারণে নতুন বছরের অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে বলে আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবকিছু ঠিক থাকলে গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সংকোচের তুলনায় চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ অর্জন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অর্থ বিভাগ। শুধু তাই নয়, পরের অর্থবছরেও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে এমনটি ধরেই হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

তবে অর্থনীতির আকাশে কিছু ঘন কালো মেঘও দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, শঙ্কা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী। রেমিট্যান্স প্রভাব নিুমুখী ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খোলা বাজারে ডলারের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বমুখী ভাবিয়ে তুলছে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী পণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। যে কারণে দেশে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে। এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে পণ্য ও সেবা খাতে। এ বছর মূল্যস্ফীতি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। যে কোনো মূল্যে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এটি সম্ভব না হলে মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তার মতে, বিশ্ব অর্থনীতির সবকিছু খুলে দিয়েছে। বাংলাদেশেও অন্যান্য সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ও বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। এখন নজর মূল্যস্ফীতির দিকে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও সঞ্চয় দুটোর পরিমাণই বাড়ছে। আমদানির চাহিদা অনেক বেড়েছে। রপ্তানিও বাড়ছে। তবে রেমিট্যান্স কমছে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বেড়েছে। এটি কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এটির কারণেই মুদ্রা বিনিময় হারে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ডলারের মূল্য বেড়েছে। তবে খোলা বাজার ও ব্যাংকিং এর মধ্যে ডলারের মূল্য ব্যবধান অনেক বেশি। সেটি আরও কমিয়ে আনতে হবে। না হলে ইনফরমাল চ্যানেলে বেশি টাকা চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আগীম বছরে পদ্মাসহ আরও কিছু বড় প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। মেট্রোরেল আংশিক হয়ে যাবে। এর প্রভাব ২০২২ সালের অর্থনীতিতে পড়বে। এসব দিক বিবেচনায় নতুন বছরের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় যাবে। তবে কিছু পুরোনো চ্যালেঞ্জ আছে। এরমধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাসের প্রভাব। সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা কমছে। কারণ রাজস্ব আহরণ সেভাবে বাড়ছে না। সেদিকে নজর দিতে হবে।

এদিকে করোনা ধকল কাটিয়ে দেশের শিল্পকারখানা উৎপাদন শুরু করেছে। ফলে আমদানিতে রের্কড সৃষ্টি হয়েছে। অক্টোবরে ৭১১ কোটি ডলারের আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেশি ২৭৪ কোটি ডলার বা ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ। জুলাই-অক্টোবরে মোট ২ হাজার ৫৮৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৭০৬ কোটি ডলার। আমদানি বেশি হয়েছে ৮৭৭ কোটি ডলার বা ৫১ দশমিক ৩৯ শতাংশ

এদিকে জুলাই-নভেম্বরে রপ্তানি বাণিজ্য থেকে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এ সময় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবছর একই সময়ে আয় হয় ১ হাজার ৫৯২ কোটি ডলার।

অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৪ হাজার ৬১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৮ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। পরিকল্পনা বিভাগ মনে করছে করোনার ধাক্কা সামলে গতি ফিরছে উন্নয়ন কার্যক্রমে। এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় রাজস্ব খাতেও আদায়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বছরে অর্থনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দ্রুত ব্যালেন্স অব পেমেন্টকে স্থিতিশীল করা। প্রয়োজনে টাকার অবমূল্যায়ন করে হলেও করতে হবে। তা না হলে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বেড়ে গেলে গরিব মানুষের ওপর বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আর ধনী মানুষকে আরও ধনী করবে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে সঞ্চয়ের সুদ হার ৬ থেকে ৭ শতাংশ করতে হবে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশে রাখা সম্ভব হবে না। ফলে শিল্পসহ উৎপাদনশীল খাত ধ্বংস হয়ে যাবে।

জানা গেছে, চলতি বাজেটে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ বিভাগ হিসাব করে দেখছে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশে জ্বালানি তেল, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভর্তুকি বেড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও আগামীতে দেশের ভেতর এ মূল্য কমানোর সম্ভাবনা নেই। ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনতে নতুন করে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়তে পারে।

অর্থনীতি

বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৫ সালে বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বণিক বার্তার দ্বিতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২১ এ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় এসব কথা বলেন তিনি।

মুল প্রবন্ধে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, গত পাঁচ দশকের অর্থনীতির উন্নয়ণে বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে বড় ভূমিকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল কাজ হলো মুদ্রানীতি প্রণয়ন, রিজার্ভ সংরক্ষণ করা।

তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ৪১তম বড় অর্থনীতির দেশের মধ্য বাংলাদেশ রয়েছে। দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সামনের দিনগুলোত আমাদের অর্থনীতিতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং করোনা ভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা পালন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, নতুন করে দারিদ্রসীমা বেড়েছে। তবে আশার দিক হলো করেনায় বিশ্বের অন্যসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি তেমন একটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েনি। কোভিডের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অর্থনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ড. ফজলে কবির বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়ছে। দেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র মাঝারিখাতকে অর্থনীতির প্রাণ। অথচ মোট ঋণের ২০ শতাংশ যায় এমএসএমএফ খাতে। যা ২০২৪ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে উন্নিত করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরমধ্যে ১০ শতাংশ ঋণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিটি শাখা থেকে কমপক্ষে ৩ জন নারী উদ্যোক্তাকে ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. আতিউর রহমান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার। অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। দি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এ সম্মেলন শুরু হয়।

অর্থনীতি

দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল। দুই দেশের মধ্যে রোববার এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরে স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় এ স্মারক সই হয়। নতুন চুক্তির ফলে শ্রমিকদের দেশটিতে যাওয়ার খরচ আগের চেয়ে অনেক কমবে। বাংলাদেশের পক্ষে স্মারকে সই করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও মালয়েশিয়ার পক্ষে দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়া প্রান্তের সব খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন। যেমন রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া, তাদের আবাসন, কর্মে নিয়োজিত করা এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। নিয়োগকর্তা নিজ খরচে মালয়েশিয়ান রিক্রুটিং এজেন্ট নিযুক্ত করতে পারবেন। মালয়েশিয়ায় আসার পর বাংলাদেশি কর্মীর ইমিগ্রেশন ফি, ভিসা ফি, স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ, ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত খরচ, করোনা পরীক্ষার খরচ, কোয়ারেন্টিন সংক্রান্ত খরচসহ সব ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগকর্তা কর্মীর মানসম্মত আবাসন, বিমা, চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করবেন। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন খরচ অনেক কমে যাবে।

২০১৮ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া সরকার। পরে নতুন করে কর্মী নিয়োগ শুরুর লক্ষ্যে উভয় দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সভা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পরামর্শ এবং কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেয়। এই সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং প্রত্যাবাসনের আদর্শ কাঠামো প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। চুক্তির সময়ে দুই দেশের মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. গোলাম সারোয়ার এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতু মুহাম্মদ খাইর আজমান বিন মোহামেদ আনুয়ার, বিএমইটির মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলমসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অর্থনীতি

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও খুলে দেওয়ার সুখবরের মধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলতি অর্থবছরে আট লাখ লোকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যের কথা বলছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর হিসাব তুলে ধরে এমন আশার কথা বলেন সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অন্যান্য খাতের মত বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের চেষ্টার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সচিব বলেন, সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের  প্রথম চার মাসেই আড়াই লক্ষাধিক কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে ১ লক্ষ ২ হাজার ৮৬৩ জন কর্মী বিদেশে গেছেন।

“আমাদের প্রত্যাশা, বিদেশ গমনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে এ অর্থবছরে সাত থেকে আট  লাখ লোকের বিদেশে কর্মসংস্থান হবে।”

দীর্ঘ তিন বছর পর মালয়েশিয়া আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মন্ত্রীর নেতৃত্বে, আমাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে শ্রমবাজারটি পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আমরা আশা করছি।”

এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে বহু বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আবারও শ্রমিক নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

মালয়েশিয়া সরকার তাদের পাঁচটি খাতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে রাজি হওয়ার পর ২০১৬ সালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

পাঁচ বছর মেয়াদী এই চুক্তির আওতায় লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সিকে।

কিন্তু প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র ওই ১০ এজেন্সিকে নিয়ে সিন্ডিকেট করে শ্রমিকদের কাছ থেকে দুই বছরে ২০০ কোটি রিঙ্গিত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের আর ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। তবে আগে যারা ভিসা পেয়েছিলেন, তারা পরেও মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পান।

সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, সম্প্রতি মাননীয় মন্ত্রী গ্রিসের সঙ্গে একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষর করেছেন। একইভাবে আলবেনিয়া, মাল্টা ও বসনিয়ার সঙ্গেও কর্মী পাঠানোর জন্য চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন শ্রমবাজার হিসেবে কম্বোডিয়া, উজবেকিস্তান, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়াসহ আফ্রিকা মহাদেশের কয়েকটি দেশ এবং জাপান, সেনেগাল, বুরুন্ডি, সেশেলস, মালয়েশিয়ার সারওয়াকে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়। ‘শতবর্ষে জাতির পিতা, সুবর্ণে স্বাধীনতা/ অভিবাসনে আনব মর্যাদা ও নৈতিকতা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এদিন দেশেও নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের মূল ও জাতীয় অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন প্রধান অতিথি থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ অতিমারী ও ভূ-রাজনৈতিক নানা কারণে অভিবাসনের কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, “অভিবাসীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন, কনভেনশন ও সনদসমূহে বর্ণিত বিধানাবলির যথাযথ প্রতিপালন আবশ্যক।

“অভিবাসী শ্রমিকরা যেন কোনো রূপ শোষণ, বঞ্চনা ও হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলে সচেষ্ট থাকবেন- এ প্রত্যাশা করি।”

‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২১’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে বলেছেন, “৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা ৫ মিলিয়ন নতুন বৈদেশিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।

“এজন্য উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিশ্ব চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোর্স চালু, আন্তর্জাতিক সনদায়নের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

যুবসমাজকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত অর্থবহ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।