রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লেখা এক চিঠিতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের দুঃখজনক মৃত্যুতে গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

‘আমরা বিদেহী আত্মার চির শান্তির জন্য প্রার্থনা করি,’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থনা এবং চিন্তাভাবনাও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে রয়েছে এবং তারা তাদের অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন আমরা সেই প্রার্থনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে এই শোকের সময়ে চীনের সরকার ও দেশটির বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে আছি।’

চিঠিতে শেখ হাসিনা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশ ও চীন সময়ের পরীক্ষিত উন্নয়ন অংশীদার এবং ‘সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে।

তিনি স্মরণ করেন যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিনের আমলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ব্যাপকভাবে শক্তিশালী হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তার আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হবে।

রাজনীতি

লাঠি ও আগুন নিয়ে মাঠে নামলে বিএনপির খবর আছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলের মুখে মধু আর অন্তরে বিষ। তারা ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশের অনুমতি চেয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। নতুন নতুন নাটক করে যাচ্ছেন।

কাদের বলেন, আমরা কাউকে সমাবেশ করতে বাধা দেব না। প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে কোনো পরিবহণ ধর্মঘট থাকবে না। এরপরও যদি লাঠি ও আগুন নিয়ে মাঠে নামে তাহলে খবর আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করে সরকার হটানো যাবে না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। জনগণের ভোটে যারা বিজয়ী হবে, তারাই সরকার গঠন করবে। নির্বাচন ছাড়া সরকার বদলে তাদের স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না।

তিনি বলেন, তারেক রহমান কোনো দিন রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে গিয়ে বাংলাদেশ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। দেশ থেকে অর্থপাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। কত টাকা পাচার করেছে- তা উদ্ধার করা হবে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে পৌরপার্কে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস রহমান এমপি, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান।

রাজনীতি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি নেতারা। রাজনৈতিক নিপীড়নমূলক বেআইনি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা বন্ধ এবং দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণে আইজিপিকে চিঠিও দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির প্রতিনিধি দল মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ চিঠি দেয়। প্রতিনিধি দলটি মামলা, গ্রেফতারসহ ঢাকার গণসমাবেশের স্থান নিয়েও আইজিপির সঙ্গে কথা বলেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, আইজিপি গায়েবি মামলা হলে তা খতিয়ে দেখবেন বলে বিএনপি নেতাদের জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ করার অনুমতি দিতে অনুরোধ জানালে এ নিয়ে তিনি কোনো ইতিবাচক আশ্বাস দেননি। বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে আইজিপি বিএনপি নেতাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই গণসমাবেশ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির প্রতিনিধি দলের এক নেতা বলেন, ‘৮ বিভাগীয় গণসমাবেশের উদাহরণ টেনে আমরা বলেছি, সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেছি। বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়নি। উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে, ক্ষমতাসীন দল নানাভাবে বাধা দিয়ে গণসমাবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা করেছে। কিন্ত আমরা সে পথে হাঁটিনি। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বহু সমাবেশ হয়েছে। সেখানে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। পুলিশও তা বলতে পারবে না। তাহলে কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত নয়াপল্টনে গণসমাবেশ করার। আমরা কথা দিচ্ছি, নয়াপল্টনে কোনো বিশৃঙ্খলা হবে না। সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ করতে বিএনপির শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন। এজন্য বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা চায়।’

বেলা ১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন- যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠকের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বরকত উল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে গায়েবি মামলা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের লোকজন বোমা ফাটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে, গ্রেফতার করছে। এর তথ্যসহ একটি চিঠি মহাসচিবের পক্ষ থেকে আমরা আইজিপিকে দিয়েছি। উনি (আইজিপি) আমাদের প্রতিনিধি দলের সবার বক্তব্য শুনেছেন। বিভিন্ন জায়গায় গায়েবি মামলা করা হচ্ছে, নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে, গ্রেফতার করছে, বাড়ি তল্লাশি করছে। আমরা এর প্রতিকার চেয়েছি। আইজিপি বলেছেন এগুলো খতিয়ে দেখবেন।

ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে স্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে বুলু বলেন, আমরা বলেছি নয়াপল্টনে করতে চাই। সমাবেশের স্থানের বিষয়ে আমরা দুইটা চিঠি দিয়েছি। দুইটা চিঠিতে আমরা নয়াপল্টনের স্থান চেয়েছি। আমরা কোনো দ্বিতীয় স্থান চাইনি। উনারা বলেছেন যে, আপনারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করেন, আমরা সব সহযোগিতা করব। আমরা বলেছি এটা আমাদের আজকের বিষয় না। আমরা যে বিষয়টি নিয়ে এসেছি তার সঙ্গে সমাবেশের স্থান নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট না। এটা আমাদের স্থায়ী কমিটি, মহাসচিব আছেন তারা সিদ্ধান্ত দেবেন। এটা আমাদের এখতিয়ারে নেই।

বিএনপি মহাসচিব স্বাক্ষরিত আইজিপিকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়- ‘সম্প্রতি পুলিশ কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মিথ্যা মামলা দায়ের এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন চরমতম পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ একটি পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, ‘ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিস্তারিত তথ্যসহ তালিকা প্রস্তুত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।’

রাজনীতি

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা, দলীয়কারণ ও দুর্নীতির ফলে দেশ আজ ভয়াবহ সংকটের দিকে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও অর্জনগুলো দেশের কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ ও স্বার্থন্বেষী মহলের জন্য আজ বিসর্জন হতে চলছে।

বৃহস্পতিবার গণফোরামের উদ্যোগে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে দলীয়করণের সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ যারা আত্মসাৎ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই। আর্থিক খাতে এসব দুর্নীতিগ্রস্থদের বিচারহীনতা ক্রমাগত অর্থপাচার, লুটপাট আজ মহামারি আকার ধারণ করছে।

দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবেই সরকার বিদেশে অর্থ পাচার করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে সরকার দেশের কথা একদমই মনে না রেখে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। দেশের প্রতি তাদের আস্থা নেই। তারা নিজেরাও বাইরে চলে যাবে।

ড. কামাল হোসেন এ সময় বলেন, টাকা পাচারের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ করতে হবে। সবাইকে সংগঠিত করে জাতীয় অর্থনীতিকে রক্ষায় পাহারা দিতে হবে। ব্যাংক থেকে কোথায় টাকা যাচ্ছে, কিভাবে যাচ্ছে— এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রয়োজনে এসব অনিয়ম বন্ধ করতে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে যেখানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সেখানে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দুর্নীতি ও লুটপাটের রিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। ড. কামাল হোসেন বলেন, অবিলম্বে এসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে দেশে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য গুরুত্ব না দিলে জাতীয় অর্থনীতিকে বাঁচানো যাবে না উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়লে বেকারত্ব বাড়বে, আয় কমে যাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অর্থাৎ সার্বিকভাবে সবার ক্ষতি হবে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব নেতিবাচক ও সমাজবিরোধী কাজ, বিশেষ করে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একটি সমৃদ্ধ ও অগ্রসরমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মিজানুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল, এসএম আলতাফ হোসেন, মোশতাক আহমদ, শাহ নূরুজ্জামান, শফিউর রহমান খান, মো. ইয়াসিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের দায়ে ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত এসেছে, তাদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি), ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের এসআই রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এ তথ্য জানিয়ে বলেন, অভিযুক্ত এই ১৩৪ জনের বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ আইন অনুসারে বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দিতে পারবে স্ব স্ব নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য সংস্থা বা বিভাগ থেকে নির্বাচনে দায়িত্বে আসা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্ব স্ব নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এক মাসের মধ্যে ইসিকে অবহিত করতে হবে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের লিখিত সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সিইসি।

ইসির ১০ সিদ্ধান্ত

১. তদন্তে প্রমাণিত যে ১২৫টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন, সেসব কর্মকর্তার নামের তালিকা সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ অনুযায়ী তাদের স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণকারী/নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবে। নিয়ন্ত্রণকারী/নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে অবহেলা তথা অসদাচরণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে এক মাসের মধ্যে অবহিত করবে।

২. কেন্দ্র নম্বর ৯৪ এর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, প্রভাষক উদয়ন ডিগ্রি কলেজকে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫(৩) অনুযায়ী চাকরি থেকে ২ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে। সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক মাসের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করবে মর্মে পত্র দেবে।

৩. একইভাবে সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কেন্দ্র নম্বর ২ (তরুণ কুমার, এসআই. গোবিন্দগঞ্জ থানা), কেন্দ্র নম্বর ৫৪ (মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, এসআই গোবিন্দগঞ্জ থানা), কেন্দ্র নম্বর ৫৯ (মো. আনিছুর রহমান, এসআই গোবিন্দগঞ্জ থানা), কেন্দ্র নম্বর ৬২ (কনক রঞ্জন বর্মন, এসআই সাদুল্যাপুর থানা) ও কেন্দ্র নম্বর ১০৫ (মো. দুলাল হোসেন, এএসআই, আটোয়ারী থানা, পঞ্চগড়)-এর পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে -দায়িত্ব পালনে অবহেলা তথা অসদাচরণের কারণে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে পত্র দেবে। কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে কমিশনকে এক মাসের মধ্যে অবহিত করবে।

৪. অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুশান্ত কুমার সাহার বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ অনুসারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অসদাচরণের জন্য ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে এক মাসের মধ্যে অবহিত করার জন্য সচিব নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কর্তৃক পত্র দিতে হবে।

৫. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সহকারী কমিশনারের নাম জেনে (তদন্ত প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ করা হয়নি) তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবৈধ আদেশ পালনের জন্য ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে পত্র প্রদান করবে।

৬. রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজশাহী) বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৫ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য তার বিরুদ্ধে সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

৭. এক মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত না করলে কমিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৬ (২) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৮. সব কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচনী এজেন্টদের তালিকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কর্তৃক সিল কৃত ব্যাগে রয়েছে, যেহেতু নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ের ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই তাই যেসব কেন্দ্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে সেসব কেন্দ্রের ব্যাগ খুলে দায়ী এজেন্টদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, গাইবান্ধা এই তালিকা করবেন। দোষী নির্বাচনী এজেন্টদের পরবর্তী নির্বাচনে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না।

৯. ভবিষ্যতে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোরতম ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১০. গাইবান্ধা-৫ আসনের পুনঃনির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ইস্যুতে সতর্ক থাকাসহ সচিব সভায় ১১টি নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভা ও সচিব সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই সভাতেই সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে করণীয়, আমদানি ইস্যুতে ব্যয় সংকোচন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি ঠিকভাবে করা, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি, তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আয়, রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ, জঙ্গি ইস্যুতে সতর্ক থাকা, বাজার দর নিয়ন্ত্রণ, ভূমির ই-রেজিট্রেশন ইস্যু এবং সুশাসনের ওপর জোর দিতে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক সচিব সভায় সূচনা বক্তব্যে করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দীর্ঘায়িত বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশকে যাতে কখনই দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে না হয় সেজন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটি আমার কথা নয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বলা হচ্ছে যে, বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। দুর্ভিক্ষ আমাদের দেশকে কখনই যেন ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য এখন থেকেই আমাদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়া, অগ্রাধিকার ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি চাষের অধীনে নিয়ে আসার জন্য জনগণকে সচেতন করা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া।

রাজনীতি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের খোয়াব দেখছেন। কিন্তু বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আর নির্বাচন হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

রোববার পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আয়োজিত সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করে। গ্রেনেড হামলা করে তাকে হত্যাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। আগুন সন্ত্রাস ও বোমাবাজি করে তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের হত্যার রাজনীতি শুরু হয়। সেই রক্তের দাগ এখনো এ দেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু। বক্তা ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, শিল্প ও বাণিজ্যিকবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য আনিসুর রহমান ও গোলাম কবীর রাব্বানী চিনু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক প্রমুখ।

সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএমএ আউয়াল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এমএ হাকিম হাওলাদার। সম্মেলন সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় দুপুর ১২টায়।

আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনা ’৭১-এর রাজাকারদের বিচারের আওতায় এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে এ দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। এখন আবার তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করব।

রাজনীতি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই জনস্বার্থের কোনো দাবি বা অধিকারকে পরোয়া করে না। সরকার তাদের কৃতকর্মের জন্য এখন পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন। তবে শত বাধা ও জুলুম-নির্যাতন চালিয়েও বর্তমান সরকার জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে পারবে না। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। সরকারের পতন অনিবার্য।’

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ৩৭ জন কৃষকের নামে দায়েরকৃত মামলায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।’

‘এছাড়া নেত্রকোনা জেলাধীন বারহাট্টা উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে কৃষক দলের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বোরো ধানের বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পৈশাচিক হামলা চালিয়েছে।এতে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল আলমসহ কৃষক দলের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন’- এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিরোধী দলহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘকাল ভোগ করার বাসনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাগামহীনভাবে বাধা দিচ্ছে। সরকারের মদদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা, গুরুতর আহত, বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ পণ্ড করাকে নিত্যদিনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য করছে। গণধিকৃত আওয়ামী সরকার জনবিস্ফোরণ দেখে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নিঃশব্দ পরিবেশ সৃষ্টি করতেই নিশিরাতের সরকার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে স্তব্ধ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর সেজন্যই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে বিএনপি এবং বিরোধী দলগুলোর সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবিক কর্মসূচির ওপর বেপরোয়া হামলা শুরু করেছে।’

রাজনীতি

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, জনগণ উন্নতি ও শান্তির জন্য পরিবর্তন চায়। জাতীয় পার্টিই সেই শান্তি দিতে পারে বিএনপি একটি অত্যাচারী দল, বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই ওঠে না। আজ রোববার দুপুরে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে পাঁচ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি এ সব কথা বলেন।

রওশন এরশাদকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন এরশাদপুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ ও পুত্রবধূ মাহিমা সাদ, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদের মুখপ্রাপ্ত কাজী মামুনুর রশিদ, দলটির সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও মসিউর রহমান রাঁঙ্গা, গোলাম মসীহ, ইকবাল হোসেন রাজু প্রমুখ।

বিএনপির অধীনে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে রওশন এরশাদ আরো বলেন, ‘বিএনপির শাসামলে জাতীয় পার্টি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শত শত নেতা-কর্মী জেল খেটেছে। আমাদের জনসভা করতে দেয়নি। আমাদের সমাবেশে হামলা করা হয়েছে। তাছাড়া আমরা তাদের শাসনামলে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অপতৎপরতা দেখেছি। তিনি বলেন, রংপুরে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমরা যোগ্য প্রার্থী দেবো। এই আসনে জাতীয় পার্টিকে জয়ী হতে হবে। জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে কিছু ষড়যন্ত্র হতে পারে। ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে শিগগির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরতে পারবো। আমরা সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করবো এবং ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী জাতীয় পার্টি গড়ে তুলবো। ভুল বোঝাবুঝি দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে শিগগির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ফিরতে পারবো। জাতীয় পার্টি ঐক্য চায় মন্তব্য করে রওশন এরশাদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য রওশন এরশাদ বলেন, ‘পার্টিকে বিভক্ত করতে চাই না। আমি ঐক্য চাই, যারা দলের পেছনে গত ৩২ বছর সময় দিয়ে জাতীয় পার্টির জন্য কষ্ট করেছেন, জেল খেটেছেন এবং জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সবার নিকট আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি আস্থা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দুর্নীতি, অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মতো কিছু ক্রটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে অবগত আছেন। রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের দেশেও। তাই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত এবং সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত।

বোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রওশন এরশাদকে বহনকারী থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩২১) বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রয়েছে এবং রিজার্ভ জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার সরকার জনগণের কল্যাণে সম্ভাব্য সবকিছু করবে, কাউকে ভোগান্তি পোহাতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক যে আমাদের রিজার্ভ থেকে (দেশবাসীর কল্যাণে) খরচ করতে হবে। আমাদের কাছে এত পরিমাণ রিজার্ভ মানি আছে তা দিয়ে আমরা পাঁচ মাসের জন্য খাদ্য আমদানি করতে পারি। যদিও যে কোনো দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে তিন মাসের খাদ্য আমদানির রিজার্ভ থাকতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ৫ম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

চাল, গম, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল এবং ভ্যাকসিন আমদানিসহ জনগণের কল্যাণে এই রিজার্ভ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ রিজার্ভের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছে এবং তারা চা-স্টলে ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় রিজার্ভ নিয়ে আলোচনা করছে। কোভিড-১৯, ভর্তুকি দেওয়া, কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং বিদেশি ঋণ পরিশোধ করায় এই টাকা ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যে রিজার্ভ রেখে গিয়েছিলেন তা থেকে আওয়ামী লীগ ২০০৮ এ নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করে তখন সেই রিজার্ভ ছিল ৫ বিলিয়নের কিছু ওপরে। করোনাকালে যেহেতু আমদানি বন্ধ ছিল, রেমিট্যান্স সরকারিভাবে এসেছে, কোনো হুন্ডি ব্যবসা ছিল না, কোনো রকম খরচ ছিল না তাই আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। তবে, বাংলাদেশ তাদের সব ঋণ সব সময় সঠিকভাবে পরিশোধ করে এসেছে এবং একবারের জন্যও ঋণখেলাপি হয়নি।

সরকারের যত সমস্যা হোক এই অবস্থাটা তার সরকার ধরে রাখতে পেরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। দেশের কাজ বেড়েছে তাছাড়া ভ্যাকসিন ক্রয় এবং করোনা মোকাবিলার আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে- এগুলোর জন্য টাকা খরচ হয়েছে। পানির মতো টাকা খরচ করতে হয়েছে। তারপরে এখন আমাদের খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে। তার জন্য অধিক দামে আমদানিতে অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, যতই দাম বাড়–ক সরকার ইউক্রেন-রাশিয়া, কানাডা থেকে এই যুদ্ধকালীন সময়ে গম কিনে আনছে। এজন্য ২শ ডলারের গম ৬শ ডলারে কিনতে হচ্ছে। ভোজ্যতেল সেই ব্রাজিল থেকে শুরু করে পৃথিবীর যে দেশে পাওয়া যায় আমরা নিয়ে আসছি। মানুষের ভোগ্যপণ্য প্রাপ্তিতে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।

‘রিজার্ভ শুধু আমাদের দেশে নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার সরকার শ্রীলংকাকে কিছু সহযোগিতা করেছে এবং আরও অনেক দেশ বাংলাদেশের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। তিনি সেসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, ‘এখন যেটুকু রিজার্ভ সেটা আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন, সেটা আমাদের রাখতে হবে।’

সরকার প্রধান এর ব্যাখ্যায় বলেন, রিজার্ভ রাখা লাগে কেননা যদি কোনো দৈব দুর্বিপাক হয় সে সময় ৩ সাসের খাবার যেন আমদানি করা যায়। আর সেজন্য আমাদের খাদ্যপণ্য যাতে মোটেই আমদানি করতে না হয় তার জন্য তিনি দেশবাসীকে যার যেখানে যতটুকু জমি আছে তাতে ফসল ফলিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এক ইঞ্চি জমি ফেলে রাখবেন না। যে যা পারেন উৎপাদন করেন। নিজেরা সাশ্রয় করেন। নিজের খাদ্য নিজে জোগান দিন।

তবে, তারা একটা গুজব ছড়াচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই, ব্যাংকে টাকা পাওয়া যাবে না, আর সবাই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ঘরে রাখছে। আসলে ঘরে টাকা রাখা মানে চোরকে সুযোগ করে দেওয়া। কাজেই চোরকে সুযোগ করে দেবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এই বিশ্ব মন্দার মাঝেও উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতিও রয়েছে তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বাচিপ’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বক্তৃতা করেন।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে তিনি স্বাচিপ’র স্থায়ী কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন করেন।

পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া এবং জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা অন্তত তারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিল বলেই জাতির পিতা হত্যার বিচার করতে পেরেছি। কিন্তু এখনো কিছু খুনি রয়ে গেছে। আমেরিকায় এক খুনি রয়ে গেছে, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা বারবার চেষ্টা করছি, যেহেতু তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আমেরিকা সেই খুনিকে লালন-পালন করছে, অবশ্য আমেরিকার কারবারই এরকম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর যেখানেই থাক যেভাবেই হোক এদের ধরে এনে সাজা অবশ্যই আমরা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ। সেটাই আমি চাই।’

তিনি বলেন, খুনিদের একজন কানাডায়, একজন আছে আমেরিকায়, আর দুজন পাকিস্তানে। আরেকজনের খবর পাওয়া যাচ্ছে না কখনো ইন্ডিয়াতে কখনো জার্মানিতে বিভিন্ন জায়গায় মোসলেহ উদ্দিন অবস্থান করেছে। তারপরও আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এদের ধরে আনার।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩২টি øাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২২টি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, সংক্রামক-অসংক্রামক ব্যাধি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ এবং সংরক্ষণ করার জন্য ডিজিটাল ‘হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম’ স্থাপন করেছি, যেন দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দুর্যোগের আগেই প্রেরণ করা যায়।

তিনি বলেন, সরকার ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ চালু করেছে- এর আওতায় দরিদ্র-হতদরিদ্র মায়েদের প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন এবং প্রসব পরবর্তী যাবতীয় সেবা, যাতায়াত খরচ এবং পুষ্টিকর খাবারের অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কমিউনিটি স্কিলড বার্থ অ্যাটেন্ডেন্ট (সি.এস.বি.এ) প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সদের ৬ মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করার পাশাপাশি ৩০০০ মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টি করে মিডওয়াইফদের পদায়ন করেছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ছিল সরকারি ৫৮৯টি এবং বেসরকারি ২ হাজার ২৭১টি যা ২০২২ সালে সরকারি ৬৮ হাজার ৩৪৫টি এবং বেসরকারি ১ লাখ ৫ হাজার ১৬৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি ডাক্তার ছিল ১২ হাজার ৩৮২ জন যা ৩০ হাজার ১৫২ জনে উন্নীত করা হয়েছে। নার্সের সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ৩৭৭ জন যা ৪৩ হাজার ১৫ জনে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য রোল মডেল, এ পর্যন্ত ১৪ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯ জনকে প্রথম ডোজ, ১২ কোটি ৫১ লাখ ৯ হাজার ৬২৯ জনকে ২য় ডোজ, এবং ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার ২৭৫ জনকে বুস্টার ডোজ প্রদান করা হয়েছে। তিনি সবাইকে বিশেষ করে চিকিৎসকদেরকেও বুস্টার ডোজ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, ‘কোভিড-১৯ রিকভারি সূচকে’ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবার উপরে এবং বিশ্বের যে দেশগুলো সবচেয়ে ভালো করছে সেই তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

তার সরকার ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা’ এবং ‘গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা চায়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে থেকে যেবার শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে এবং সেবারই প্রথম দেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং এই ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আর আমাদের দেশের মানুষেরও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না, কেননা ইউক্রেন এবং রাশিয়া থেকেও আমরা আমদানি শুরু করেছি। যদিও স্যাংশনের কারণে ডলারে পেমেন্টে অসুবিধা হচ্ছে তারপরেও বিকল্প কি ব্যবস্থা করা যায় আমরা সে পদক্ষেপও নিচ্ছি।