রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহুল প্রতীক্ষিত তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধনকালে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের ২৪টি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আপনারা যে বিশাল কাজগুলো করছেন তার মধ্যে কিছু সমস্যার বিষয়ে আপনাদের ফোকাস করার আহ্বান জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছে যাওয়ায় দায়িত্ব বেড়ে গেছে। সরকারি সেবা নিতে সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দুই বছর পর ডিসি সম্মেলন আয়োজনে সক্ষম হওয়ায় তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান।

কোভিড-১৯ এর নতুন প্রকোপের কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন মন্ত্রী ও সচিবের উপস্থিতিতে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলন শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বক্তব্য দেন।

সেবার মনোভাব নিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডিসিদের জন্য যে ২৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো-

(১) করোনাভাইরাস জনিত সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

(২) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত উন্নয়ন ও সেবামূলক কার্যক্রমগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

(৪) সরকারি অফিসগুলো সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত।

(৫) এসডিজি স্থানীয় করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে।

(৬) গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

(৭) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় অনলাইনে বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান কার্যক্রম যেন অব্যাহত থাকে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

(৮) কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো যেন কার্যকর থাকে- তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে এবং নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে হবে।

(৯) শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীলতার চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

(১০) নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।

(১১) পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে।

(১২) জনসাধারণের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধকল্পে উদ্যোগ নিতে হবে।

(১৩) বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখার লক্ষে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

(১৪) মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করতে হবে।

(১৫) নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাল্যবিয়ে, যৌন হয়রানি, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ রোধকল্পে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে হবে।

(১৬) বাজারে পণ্যের সরবরাহ মসৃণ রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধকল্পে ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

(১৭) সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে; পরিকল্পিত নগরায়ন ও বনায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

(১৮) পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে।

(১৯) জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যগুলোর প্রচার ও বিপণনে উদ্যোগী হতে হবে।

(২০) জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমগুলো যথাযথভাবে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের কাতারে পৌঁছাতে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

(২১) জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে, উপজেলা, জেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং অন্যান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সমন্বয় করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যেন যত্রতত্র না হয় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

(২২) সমাজে অনগ্রসর শ্রেণিভেদ, জেলে, কৃষক, হিজড়া, হরিজন ও পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ যারা একেবারেই সমাজের অনগ্রসর শ্রেণি তাদের সার্বিক উন্নয়ন, বাসস্থান এবং তাদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে।

(২৩) মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে গণহত্যার শিকার পরিবারগুলোর বর্তমান অবস্থা জানা এবং তাদের যথাযথ সম্মানজনক জীবন যাত্রার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

(২৪) গণকবর সংরক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এর ইতিহাস জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

রাজনীতি

সরকারের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিন দিনব্যাপী জেলাপ্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের প্রথম দিন মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে (ভার্চ্যুয়াল) এ কথা বলেন তিনি।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে মাদকের অপব্যবহার যুবসমাজকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকদ্রব্য যাতে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় সে দিকেও আপনাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ’

মাঠ প্রশাসনে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ’

ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। দায়িত্ব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। কিন্তু ক্ষমতার যাতে অপপ্রয়োগ না হয়, তা নিশ্চিত করা আরও বেশি জরুরি। তাই কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব ও ক্ষমতার পার্থক্য সচেতনভাবে বজায় রাখবেন। ’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে স্থান দেবেন। আমরা আপনারা জনগণের সেবক। তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেবেন। মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায়ই আমাদের সংসার চলে। তাই জনগণকে সেবাদান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা বদান্যতার বিষয় নয়। সেবা পাওয়াটা জনগণের অধিকার। ’

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের নেওয়া কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত দরিদ্ররা পায় তা নিশ্চিত করতে বলেন রাষ্ট্রপ্রধান।

ভূমি বিষয়ক অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, ‘ভূমি রেকর্ডের সময় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী স্থানীয় প্রভাবশালী দালালচক্রের সহযোগিতায় অনেক অনিয়ম করছে এবং অবৈধ সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে। তাই এসব ব্যাপারে আপনাদের কঠোর হতে হবে এবং যে কোনো অনিয়ম বন্ধ করতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ’

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সামাজিক বনায়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন, জলাভূমির উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের চলমান কর্মসূচির বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে বলেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা সদরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে জলাশয় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসব দেখার কেউ নেই। অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বন, নদী ও পাহাড় রক্ষা করতে কঠোর হতে হবে। এটা করতে পারলেই উন্নয়ন সুষম ও জনমুখী হবে। ’

রাজনীতি

ভোটে দাঁড়ানোর পর বিএনপির পদ হারিয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’; বহিষ্কৃত হওয়ার পরও একই প্রতিক্রিয়া জানালেন তিনি।

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার পর গত ৩ জানুয়ারি তৈমুরকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ এবং নারায়ণগঞ্জ মহগানগর বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তার প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল।

সে সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় তৈমুর বলেছিলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।

“আমি মনে করি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটা সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আমাকে জনগণের জন্য মুক্ত করে দিয়েছেন। এখন আমি গণমানুষের তৈমুর, গণমানুষের কাছে ফিরে যাব।”

নারায়ণগঞ্জে ভোটে দাঁড়ানো তৈমুর বিএনপি থেকে পদচ্যুত

দলীয় পদ হারিয়ে তৈমুর বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’

এরপর হাতি প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচনে ভোটের লড়াইয়ে থাকেন তৈমুর। তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল।

গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ৬৬ হাজার ভোটে হারেন তৈমুর।

এর দুদিন পর মঙ্গলবার রাতে তৈমুর ও কামাল দুজনকেই বহিষ্কারাদেশের আলাদা চিঠি তাদের কাছে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে তাদের বহিষ্কারের কারণ হিসেবে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত’ থাকার কথা বলা হয়েছে।

রিজভী বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।”

তৈমুরকে এবার বহিষ্কার, কামালও বহিষ্কৃত

এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তৈমুর বলেছেন, “এখনও চিঠি পাইনি। তবে আমি যতটুকু শুনছি ঘটনা সত্য। আলহামদুলিল্লাহ।

“দলের একজন নিবেদিত কর্মী হয়ে এমন পুরস্কার পেতে হবে এটা জাতি বিবেচনা করবে। দেশের রাজনীতিতে যে মহামারী চলছে, এটাই তার নমুনা। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে শুধু হাতির পক্ষে সারা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে এমনটি হয়েছে তা নয়। নৌকার বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছে শুনছি সেখানে এরকম আদেশ হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় রাজনীতিতে মহামারী চলছে।”

কামালও চিঠি এখনও পাননি জানিয়ে বলেন, “আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। সেই আদর্শ থেকে কেউ সরাতে পারবে না। এতদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে রাজপথে ছিলাম, এখন সাধারণ সমর্থক হিসেবে থাকবে। আমৃত্যু দলের জন্য কাজ করে যাব।”

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমুর। পরে দলের নির্দেশে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

আইনজীবী তৈমুর দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে বিটিআরসির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনের পর তৈমুরকে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

গত রোববার ভোট শেষে তৈমুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “তৈমুর আলমের খন্দকারের পদ-পদবি লাগে না। বিএনপি রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এটা নিয়ে মরতে চাই।”

তার দুদিন পরই বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেন তিনি।

রাজনীতি

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জনগণের প্রাপ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও জনগণের সেবক হিসেবে বিসিএস কর্মকর্তাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিতে তাদের ভূমিকা সর্বাগ্রে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ  কর্মকর্তাদের নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানান  স্পিকার।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে ‘যোগদানের ৯ম বর্ষপূর্তি ও ১০ম বর্ষে পদার্পন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় স্পিকার ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের উদ্যোগে রচিত ‘দ্যা পলিটিশিয়ান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

স্পিকার বলেন, চব্বিশ বছরের সুদীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম এবং বারবার কারাবরণ করে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। আজ স্বাধীন বাংলাদেশে সকলে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। স্বাধীন দেশে সাধারণ মানুষের ভাগ্যন্নোয়নে কাজ করতে পারা কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করছেন। দেশের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বিসিএস কর্মকর্তাগণ অগ্রভাগে কাজ করে থাকেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অগ্রগতি এবং কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে বিসিএস কর্মকর্তাদের কাজ করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি।

স্পিকার বলেন, মিশরীয় লেখক মোহসেন আল আরিশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের উত্থান নিয়ে ‘হাসিনাঃ হাকাইক ওয়া আসাতির’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন যা অত্যন্ত  বাস্তবধর্মী।

বাঙালি না হয়েও বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি মিশরীয় লেখক মোহসেন আল আরিশির যে সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি গভীর গবেষণালব্ধ ও জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনার জন্য লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান স্পিকার।

৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হাদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দে সজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান মোঃ সোহরাব হোসাইন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে মিশরীয় গবেষক, লেখক ও সাংবাদিক এবং ‘হাসিনাঃ হাকাইক ওয়া আসাতির’ গ্রন্থের লেখক মোহসেন আল আরিশি প্রধান আলোচক এবং ‘শেখ হাসিনাঃ যে রূপকথা শুধু রূপকথা নয়’ গ্রন্থের অনুবাদক ইসফানদিয়র আরিওন বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাগণ ও গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে বাংলাদেশ তাদের ব্যবহার করবে।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের দেশে এটিকে আমরা তদবির বলি। যেখানে দরকার হবে, সেখানে আমরা তদবির চালাব।

মন্ত্রী বলেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা এসেছে, কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে এবং স্বীকার করেছে যে র‌্যাব সন্ত্রাস অনেকটা কমিয়েছে। তারা সেগুলো চিন্তাভাবনা করবে। তাদের যে লক্ষ্য, সন্ত্রাস কমানোসহ অন্যান্য কাজ, র‌্যাব সেগুলোই করছে এবং সফলভাবে করছে। এ কারণে র‌্যাব বাংলাদেশের জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমার মনে হয়, সবাই এটা বুঝবে এবং তখন অবস্থার পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, আমরা আইনের দেশ। এ দেশের সৃষ্টিই হয়েছিল গণতান্ত্রিকভাবে। আমেরিকাও গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্রে অনেক ধাক্কা আসে। সব গণতন্ত্রতেই অপূর্ণতা আছে। আমরা দিনে দিনে পরিপক্কতা অর্জন করেছি। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক নিয়মে চলছি। এর মধ্যে যদি কোনো ধাক্কা আসে, আমরা সেটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।

এর আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) অডিটোরিয়ামে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলিয়ার পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, বিলিয়ার চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যরিস্টার এম আমির-উল ইসলাম, বিলিয়ার আজীবন সদস্য মুহাম্মদ জামিরসহ অনেকে। এসময় দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন অতিথি অনলাইনে যুক্ত হন।

রাজনীতি

জমজমাট প্রচার শেষে ভোটের অপেক্ষায় এখন নারায়ণগঞ্জবাসী; ঢাকার লাগোয়া এ মহানগরে রোববারের এই ভোট বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিদায়বেলায় ‘ইমেজ’ বাঁচানোরও নির্বাচন।

এ মওসুমে শীত যতটা থাকে, এবার ততটা নেই। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির বিপদ আছে। তার মধ্যেই মেয়র পদের প্রধান দুই প্রার্থীর কথার লড়াই ভোটের হাঁড়িতে তাপ যোগাচ্ছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ কিছু থাকলেও বড় কোনো গোলযোগের ঘটনা নারায়ণগঞ্জে এখনও ঘটেনি। রোববার ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোটের মধ্য দিয়েই সব কিছুর ‘সুন্দর’ সমাপ্তির আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

এবারই প্রথম নারায়ণগঞ্জ সিটির সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে। ৫ লাখ ১৭ হাজারের বেশি ভোটার রায় দেবেন মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর (নারী) বাছাইয়ে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার রয়েছেন মেয়র পদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাদের ছাড়াও মেয়র পদে লড়াইয়ে আছেন আরও পাঁচ প্রার্থী।

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রার্থীরা নেমে পড়েছিলেন প্রচারের মাঠে। তাদের সেই আনুষ্ঠানিক প্রচারের সময় শেষ হল শুক্রবার মধ্যরাতে।

জমজমাট প্রচারের শেষ দিনে নানা অভিযোগ করেছেন প্রধান দুই প্রার্থী। ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা বলে আবার নিজেদের জয়ের আশাও প্রকাশ করেছেন জোরেসোরে। ২৬টি ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন বলছে, ঢালাও অভিযোগ করে লাভ নেই। ভোটে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। কোনো অনিয়মে শৈথিল্য দেখানো হবে না। উৎসবমুখর ভোটের আয়োজন রয়েছে। সুন্দর ভোট করতে ‘সব ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে।

আর পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে সহিংসতার রেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদায়ী ইসির শেষ সময়ে এ বড় নির্বাচন ভালো করতে পারলে নিজেদের জন্য সুখকর হবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ঘিরে বন্দর নগরীর পুরো এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ভোট তথ্য

>> নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের এবারের ভোটে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩২ জন লড়ছেন।

>> নারায়ণগঞ্জে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার।

>> তার সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মতিয়ুর রহমান, উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, আব্দুল কাদির, আফরোজা খাতুন, মো. ইউসুফ-উর-রহমান, মোসা. মাহফুজা আক্তার, সুলতানা এলিন, মো. আ. আজিজ ও আল-আমিন।

>> প্রতি কেন্দ্রে থাকছেন একজন করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা; ১৩৩৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৬৬৬ জন পোলিং কর্মকর্তা।

>> ১৯২ কেন্দ্রের ১৩৩৩টি কক্ষে রায় জানাবেন ভোটাররা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হওয়ার পর দশ বছর ধরে মেয়রের পদে আছেন আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী, তার আগে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র।

গত দুটি নির্বাচনে উত্তাপ ছিল আরও বেশি, তবে প্রতিবারই বেশ ভালোভাবে উৎরে গেছেন গেছেন আইভী, এবারও তার ওপরই ভরসা রেখেছে আওয়ামী লীগ।

ভোটের প্রচারের শেষ দিন সকালে ফতুল্লার দেওভোগে নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন নৌকার প্রার্থী। তিনি বলেন, “এখানে কিন্তু আইভীকে পরাজিত করার জন্য অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে গেছে। … কীভাবে আমাকে পরাজিত করা যায়, কীভাবে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ভোটকে ঝামেলা করানো যায়। কিন্তু সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।”

সহিংসতার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেন ক্ষমতাসীন দলের এই প্রার্থী।

“আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে কেউ যদি সহিংতা করে, তাহলে আমার মনে হয় সেটা ঠিক হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব, এই ব্যাপারে যেন সজাগ থাকে তারা।”

নারী ও তরুণ ভোটাররা ‘আওয়ামী লীগের পক্ষেই ভোট দেবে’ বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে বরাবরই বলে আসছি যে, ভোটের দিন যাতে উৎসবমুখর থাকে। আমার নারী ভোটাররা যেন আসতে পারে। আমার ইয়াং ভোটাররা যেন আসতে পারে। কারণ আমি জানি এই ভোটগুলো আমার। আমি নির্বাচনে জিতবই ইনশাল্লাহ।”

সংবাদ সম্মেলনে আইভি বলেন, ভোটের প্রচারে নেমে তার গলা ভেঙেছে, শরীরটাও ভালো নেই। তবে তিনি বসে থাকেননি।

বিকালে নারায়ণগঞ্জ রেলগেইট এলাকার বঙ্গবন্ধু সড়কে জমকালো শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হয় নৌকার মেয়রপ্রার্থীর ভোটের প্রচার। আইভী সেখানে বলেন, বিজয় ‘সুনিশ্চিত’।

“দুষিত, কলঙ্কিত নারায়ণগঞ্জ সিটিতে মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করতে আমি এসেছি। টানা দশ বছর ধরে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত আছি। আপনারা আমাকে চেনেন। ২০১১ সালে আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, ২০১৬ সালেও আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।

“আবারও অন্যায়, অবিচার, খুনি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শান্তির বার্তা নিয়ে লড়তে এসেছি। আমাকে কেউ ফিরিয়ে দেবেন না। নৌকাকে ঠেকানোর কেউ নেই।”

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তৈমুর

শুক্রবার সকালে সাক্ষাতকার নিতে গেলে তৈমুর আলম খন্দকার বললেন, “গলা তো ভাইঙা গ্যাছে, কথা কইতে পারি না।”

এরপরও দিনভর প্রচার চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী, ভোটে দাঁড়ানোর কারণে যাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি।

প্রচার সভাগুলোতে ঘুরে-ফিরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার নারায়ণগঞ্জে অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাতি প্রতীকের প্রার্থী তৈমুর। কেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা সরিয়ে নেওয়া এবং পুলিশি হয়রানিরও অভিযোগ করেছেন তিনি।

সকালে তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় তার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। যুক্তরাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সম্মেলনে তিনি দাওয়াত পাননি, এটাতো আমাদের জন্য অপমানকর।”

সারাদিন চা-কফির ওপরেই আছেন তৈমুর আলম খন্দকার।

বিএনপির সব পর্যায়ের নেতারা যখন নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের কড়া সমালোচনা করছে, তৈমুর কেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে?

উত্তরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “এদেশের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি হচ্ছে পদোন্নতি-পদায়ন যার হাতে সকল ক্ষমতা তার হাতে। প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তারা সেটাই করবেন। আমি মনে করি নারায়ণগঞ্জ আন্দোলনের সূতিকাগার, তিনি নিশ্চয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হতে দেবেন। তার দল এখানে স্পষ্ট দ্বিধা বিভক্ত।”

নৌকার প্রার্থীর লোকজনও বলছেন যে তৈমুর এবার নির্বাচন করছেন ‘আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানের প্রার্থী’ হিসেবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি প্রশ্ন করলে তৈমুর বলেন, “শামীম ওসমানের পাও দিয়া হাঁটার কোনো প্রয়োজন আমার নাই। আমি যখন নারায়ণগঞ্জের বড় নেতা, তখন শামীম ছাত্র। আমি এখনো হকার, ঠেলাগাড়ি চালক, হোটেল-রেস্তোঁরা শ্রমিক সংগঠনের নেতা।”

তাহলে ওই কথা এল কেন- এই প্রশ্নে তৈমুরের উত্তর: “আরে ভাই এটা একটা অপপ্রচার। এই শামীম ওসমানের অফিসে বোমা হামলা চালিয়ে যখন ২২ জনকে হত্যা করা হল, তখন তিনি আমাকে প্রধান আসামি করলেন। এখানে আমার চেম্বার জ্বালানো হয়েছে, বাড়ি-ঘর জ্বালানো হয়েছে। কতো প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে এখানে আছি। গত ৫০ বছরে আমি কখনো গণবিরোধী ভূমিকায় ছিলাম না। কখনো জনগণের পক্ষে আন্দোলন থেকে পিছপা হয়েছি এরকম রেকর্ড নাই।”

দল থেকে পদচ্যুত হওয়ার বিষয়ে তৈমুরের ভাষ্য, এটা করে বিএনপি তার ‘উপকার’ করেছেন।

“আমার সঙ্গে আলাপ করেই তো তারা এটা করছে। নৌকার যারা সমর্থক তারা তো ধানের শীষে ভোট দেবে না। এখন তাদের হাতি মার্কায় ভোট দেওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন তো চারদিক থেকে আমার ভোট আসবে।”

বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা তাহলে ভোটের মাঠে নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তৈমুর আলম খন্দকারের চেয়ে প্রভাবশালী বিএনপির আর কে আছে নারায়ণগঞ্জে বলেন! জেলার কনভেনরকে ধইরা ফেলছে, সাবেক এক এমপি গিয়াসউদ্দীনকে দুদকের মামলা দিয়া এলাকাছাড়া করছে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরও তিনি আসতে পারেননি। কালাম সাহেব তার নিজের ছেলের জন্যই ভোট চাইতে পারেননি।”

তৈমুরের শেষ কথা, “আমি হারব না। হারার কোনো সুযোগই নেই।”

কেন মানুষ এবার হাতিতে ভোট দেবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “বিগত ৫০ বছরে আমার কর্ম আর ১৮ বছরে আইভীর ব্যর্থতা। ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, পানির দাম সবই বাড়িয়েছেন। কিন্তু সার্ভিস দিতে পারেননি।”

ভোটের প্রচারের অংশ হিসেবে সকালে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন তৈমুর। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট ‘প্রভাবিত’ করতে বাইরের জেলা থেকে ‘সরকারি দলের লোকজনকে’ নারায়ণগঞ্জে আনা হচ্ছে।

প্রশাসনের উদ্দেশে এই স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, “নির্বাচনের দিন যাতে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে না পারে, বিভিন্ন জেলা থেকে যে লোকজন আনা হচ্ছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য, তারা যেন নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যায়- এ ব্যাপারে আপনারা একটি নির্দেশনা জারি করুন।“

তৈমুর কয়েকদিন ধরেই অভিযোগ করছিলেন, তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশি তল্লাশি ও হয়রানি করা হচ্ছে; মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ডিসি-এসপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠকে জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের জনগণ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”

দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোকেও তিনি ভোটের দিন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।

প্রচারের শেষ সময়ে এসে রাত ১০টার দিকে আবার সংবাদ সম্মেলন করে ভোট নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা বলেন তৈমুর।  ভোটের দিন যেন বহিরাগতরা নারায়ণগঞ্জে থাকতে না পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা

প্রার্থী

দল

প্রতীক

সেলিনা হায়াৎ আইভী

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

নৌকা

তৈমুর আলম খন্দকার

স্বতন্ত্র (বিএনপি)

হাতি

এবিএম সিরাজুল মামুন

খেলাফত মজলিস

দেওয়াল ঘড়ি

মো. মাছুম বিল্লাহ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

হাতপাখা

মো. কামরুল ইসলাম

স্বতন্ত্র

ঘোড়া

মো. জসীম উদ্দিন

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন

বটগাছ

মো. রাশেদ ফেরদৌস

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি

হাতঘড়ি

 প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছেসহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, “আমরা ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছি। মক ভোটিং শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় তিনটি ভেন্যু থেকে নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।”

কারো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেনি বলে জানান তিনি।

“আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সব সদস্য মাঠে রয়েছেন; নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছে। প্রচারণাও শেষ হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। এখন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটের অপেক্ষা। আমরা সে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

তিনি জানান, এ নির্বাচনে ইভিএমে সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবেন কারিগরি কর্মী। নির্বাচনী এলাকায় নয়টি কারিগরি টিম থাকছে।

নজর নারায়ণগঞ্জে, ‘ইমেজ রক্ষায়’ ভালোর প্রত্যাশা

এবার নারায়ণঞ্জের ভোট পর্যবেক্ষণে থাকছে নয়টি সংস্থা। এর একটি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, “নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনটি এবার খুবই গরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ইসির বিদায়ের সময়ের সবচেয়ে বড় নির্বাচন এটি। শেষ ভালো যার, সব ভালো তার- এ কমিশনও বিদায় বেলায় ভালো নির্বাচন করলে তাদের জন্যও বিদায়টা সুখকর হবে।”

কলিমুল্লাহ বলেন, ঢাকার লাগোয়া এ সিটির নির্বাচন ঘিরে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সবার নজর রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের সহিংসতা যেমন ‘ভালো কোনো বার্তা দেয়নি’, এর মধ্যে সিটি নির্বাচনে যদি কোনো সহিংসতা হয় তাতে ‘ইমেজ নষ্ট’ হবে বিদায়ী ইসির।

“এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ বেশ ভালো। কোনো ধরনের অনিয়ম, সহিংসতা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে টান টান নজরদারি রাখতে হবে। কোনো শৈথিল্য দেখানো যানে না। এটা ইমেজ রক্ষারও নির্বাচন বর্তমান ইসির। নতুন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে খারাপ নির্বাচন হলে আগামীতেও এর নেতিবাচকও ইমেজ তৈরি করবে।”

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শুক্রবার প্রচারের শেষ দিনে ভিন্ন বেশে প্রচার চালান প্রার্থীদের কর্মীরা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

‘সুন্দর’ নির্বাচনের প্রত্যাশা

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ‘সুষ্ঠু ও ভালোভাবে’ করার ‘সব ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ‘অভিযোগ নেই’ নির্বাচন নিয়ে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োজিত থাকছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অন্তত ২২ জন করে নিরাপত্তা সদস্য রয়েছে।

“ভোটের প্রচারে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বা শঙ্কা নিয়ে যেসব কথা বলছে, তা ঢালাও কথা। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ খুব সুন্দর, ভালো নির্বাচন হবে এখানে।”

রোববার নারায়ণগঞ্জের পাশাপাশি টাঙ্গাইল-৭ আসনে উপ-নির্বাচন এবং পাঁচ পৌরসভায় ভোট রয়েছে।

ইসির অতিক্তি সচিব বলেন, ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের স্বার্থে টাঙ্গাইল ও নোয়াখালীতে দুই ওসিকে বদলি করা হয়েছে।

“আমরা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছি না। কোনো শৈথিল্যও প্রদর্শন করা হচ্ছে না। আশা করি, সুন্দর ভোট হবে। ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটার উপস্থিতিও তুলনামুলক ভালো হতে পারে।”

সব নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণইসি রফিক

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে। এ মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ইতোমধ্যে পাঁচ ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষ করেছে ইসি। এ ভোটে সহিংতায় বেশ সমালোচনার মুখেও রয়েছে সংস্থাটি। রোববারের ভোটের পর তাদের অধীনে ৩১ জানুয়ারি ও ৭ ফেব্রুয়ারি ভোট রয়েছে ইউপির।

এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণঞ্জের ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে প্রতিটি নির্বাচনই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করার জন্য সব আয়োজন করা হয়। এর পরেও দুয়েক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, প্রার্থী ও ভোটারের মানসিকতা না বদলালে এ গোলযোগ বন্ধ করা অসম্ভব। নারায়ণগঞ্জেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না আশা করি।”

তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম যেন না ঘটে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

“আমরা কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাইনি। ভালো নির্বাচন করার চেষ্টা আমাদের। ওই প্রার্থী জিতলে ভালো নির্বাচন হয়েছে, ওই দল হারলে ভালো নির্বাচন হয়- এমন মানসিকতাও পাল্টাতে হবে। ভোটকেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী বা ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় কাজ করা পরিহার করতে হবে।”

নিজেদের বিদায়ের শেষ সময়ে শুধু নয়, নিজেদের মেয়াদে সবসময় ‘ভালো নির্বাচন’ করেছেন বলে দাবি করেন এ নির্বাচন কমিশনার।

রাজনীতি

বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশে পরিণত করার মাধ্যমে দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই তাঁর লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বিদ্যমান অগ্রগতি ধরে রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা, দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আজকের দিনে সে প্রত্যয়ই ব্যক্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘ইনশাল্লাহ যতটুকু পারি জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশের দু:খী মানুষের ভাগ্যটা পরিবর্তন করে দিয়ে যাব এবং দেশবাসীকেও আমি সে আহ্বানই জানাই- আজকের যে অগ্রগতিটা হয়েছে সেটা ধরে রেখে আমরা যেন আরো এগিয়ে যেতে পারি সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ অপরাহ্নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘মুক্ত স্বদেশে জাতির পিতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর রামপুরাস্থ বাংলাদেশ টেলিভিশন সেন্টারের (বিটিভি) শহীদ মনিরুল আলম মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর হাতে সময় পেয়ে জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে একেবারে তৃণমূলের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষমতায়ন করতে চেয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই জাতির পিতা সাধারণ মানুষ তথা তৃণমূলের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য পদক্ষেপ নিলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিলেন তখনই কিন্তু ১৫ আগস্টের আঘাতটা এল। এই আঘাতটা শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যা নয়, এই আঘাত ছিল একটি স্বাধীন দেশের আদর্শ ও চেতনাকে হত্যা করা।

কেননা ১৫ আগষ্টের পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা সেভাবেই রাষ্ট্রটা চালিয়েছিল। ১৫ আগস্টের খুনীরা স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারি-তারাই ক্ষমতায় বসেছিল। আর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কোন চেষ্টাই তারা করেনি। কাজেই যে মানুষগুলোর জন্য তিনি (জাতির পিতা) নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, আজীবন জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছেন সেই মানুষগুলোর ভাগ্য গড়াটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি ভোট দিয়ে বারবার নির্বাচিত করায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, তাঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, বার বার আমি ক্ষমতায় এসে দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এবং সব থেকে বড় কথা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরে আসার স্মরণে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি পালন করতে পারছি।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী স্বাগত ভাষণ দেন।

ছোট ছেলে-মেয়েদের অংশগ্রহনে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপরই এতে মুজিববর্ষের থিম সং- ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, হৃদয়ের বাতিঘর’ সমবেত কন্ঠে পরিবেশিত হয়।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে জাতির পিতার স্বদেশে ফিরে আসার ওপর একটি ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার তাঁর বাবাকে লিয়ে লেখা ‘বাবা’ এবং মা’কে নিয়ে লেখা ‘রেনু আমার মা’ কবিতা দুটি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করে শোনান বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর।

জাতির পিতার ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দেয়া ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ ও অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়।

বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে ২৯০ দিন বন্দী থাকার পর ১৯৭২ সালের এই দিনে (১০ জানুয়ারি) লন্ডন ও নয়াদিল্লি হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে ফিরে আসেন।

এরপর থেকে জাতি দিনটিকে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ।

জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে ফিরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে যে ভাষণ প্রদান করেছিলেন সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভাষণটা ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তাঁর এই ভাষণে আমরা পেয়েছি। স্বাধীন বাংলাদেশ কি আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠবে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় তিনি (বঙ্গবন্ধু) ব্যক্ত করেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিনি তাঁর ভাষণে এটাও বলেছিলেন যখন তাকে ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয় একটি দাবি তিনি শুধু করেছিলেন যে, আমাকে তোমরা মেরে ফেলতে পারো, কিন্তু আমার লাশটা আমার বাঙালির কাছে পৌঁছে দিও। আমার বাংলার মাটিতে পৌঁছে দিও এবং তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন সেই ভাষণে- আমি মুসলমান, মুসলমান একবার মরে, বারবার মরে না।

মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি, তিনি জয় করেছিলেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পাকিস্তানি কারাগারে জাতির পিতার ওপর যে নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছিল তা কেউ কখনো জানতে পারেনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ছোট বোন শেখ রেহানাকে দিয়ে তাঁরা বার বার বিষয়টি জানতে চাইলে জাতির পিতা শুধু একটা কথাই বলতেন- ‘এটা আমি বলতে চাইনা, তোরা সহ্য করতে পারবিনা।’

এই একটি কথা থেকে আমরা বুঝতে পারি পাকিস্তানের কারাগারে কি দু:সহ ষন্ত্রনার মধ্যে তাঁকে থাকতে থাকতে হয়েছে। পাকিস্তানের কারাগারে থাকাকালিন জাতির পিতার বিরুদ্ধে মামলা ও ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়, সেলের কাছে কবর খোঁড়া হয়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা হয়তো জাতির পিতা সশরীরে আমাদের মাঝে ছিলেন না, কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, তাঁদের হৃদয়ে যে প্রেরণা তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যদিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন সেটা ধারণ করে এবং তাঁর আজীবন লড়াই-সংগ্রামের ফসলই ধারণ করেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করি। কেননা শরণার্থীদের পাশ^বর্তী দেশে আশ্রয় গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাই জাতির পিতা করে যান, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যে ঘোষণা তৎকালিন ইপিআর এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং সাথে সাথে পাকিস্তানী বাহিনী ধানমন্ডী ৩২ নম্বরের বাড়ি আক্রমন করে জাতির পিতাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আর পরদিন সেই বাড়ি আবার আক্রমন করে তাঁর মা ও রাসেল সহ অন্যদের গ্রেফতার করে ধানমন্ডীর একটি বাড়িতে আটকে রাখে।

দেশ ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হলেও তাঁরা ১৭ ডিসেম্বর ধানমন্ডীর সেই বাড়ির পাকিস্তানী বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং তখনও জানতেন না তাঁর বাবার ভাগ্যে কি ঘটেছে। এরপর ৮ তারিখে পিতার প্রথম কোন সংবাদ জানতে পেরে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১০ জানুয়ারি তিনি (বঙ্গবন্ধু) প্রিয় স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর ফিরে আসাটা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ এই বাংলাদেশ তিনি স্বাধীন করেছিলেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে তিনি উন্নত, সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবেন এবং পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে ফিরে পরিবারের কাছে না এসে তিনি আগে তাঁর জনগণের কাছে চলে গিয়েছিলেন।

রাজনীতি

গরিবের সুন্দরী বউ যেমন সবার ভাবি হয়, আমার সেই দশা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। সোমবার নারায়ণগঞ্জে পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তৈমূর আলম খন্দকারকে ‘গডফাদারের প্রার্থী’ বলে অভিহিত করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। সে প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে শামীম ওসমান বলেন, আমাকে ব্রাদার, ফাদার, গড ফাদার- যা কিছু ইচ্ছে বলেন। কিন্তু গডমাদার বইলেন না। আই অ্যাম আ ম্যান।

তিনি আরও বলেন, মাত্র সোয়া পাঁচ লাখ ভোটারের একটা নির্বাচন এটি। আর এই নির্বাচন এলেই যেন কীসব হয়ে যায়! গরীবের সুন্দরী বউ যেমন সবার ভাবি হয়, আমার হয়েছে সে দশা। সবাই আমাকে একে অপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি সত্য কথা বলতে পছন্দ করি। আমি এ কদিন চুপ ছিলাম, কারণ এ নিয়ে কথা বলা আমার কাজ না। তবে এই চুপ থাকায় আমার দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন চুপ করে গেলে অসত্য করা হবে।

রাজনীতি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসি গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

সোমবার বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “নির্বাচন এখন যে পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, নির্বাচন কমিশন খুব বেশি একটা গুরুত্ব বহন করে না।”

কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় নতুন ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সাদ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে বঙ্গভবনে সংলাপে যান ইসিতে নিবন্ধিত দল জেপির চেয়ারম্যান মঞ্জু।

তার সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, এ এইচ সালাউদ্দিন মাহমুদ, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, নাজমুন নাহার বেবি।

মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, অনেক বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা হলেও ঘুরে-ফিরে এসেছে নির্বাচন।

“কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়, কীভাবে বড় বড় দলগুলোকে নির্বাচনে আনা যায়। এই বিষয়গুলো আমাদের আলাপ-আলোচনায় প্রচ্ছন্নভাবে ছিল।”

মঞ্জু বলেন, “আমরা বরঞ্চ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বলেছি, সার্চ কমিটি আসলো কোথা থেকে? তা তো সংবিধানে নাই। আমরা আমাদের আলাপ-আলোচনায় যেটাই বেশি জোর দিয়েছি সেটা হল- সংবিধানে যা আছে, সেই মাফিক চলেন।”

রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশন আইন করার প্রস্তাব দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দেখেন আইনটা হয়নি ৫০ বছরেও। আইন করতে আর কতক্ষণ লাগে? আমাদের দেশ যখন স্বাধীন হল, সেখানে উদ্দেশ্য-আদর্শ কী ছিল… হতাশ হলে তো চলবে না।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মঞ্জু বলেন, “আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বাংলাদেশকে ট্র্যাকে আনা, রাজনৈতিকভাবে… অধৈর্য হলে হবে না। কারণ এই দেশটা সৃষ্টি হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। যেটা ভারত বিভক্তির মতো নয়।”

সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “তারা (জেপি) সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করেন।

“তারা আমলানির্ভর না হয়ে সমাজের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন।”

রাজনীতি

ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছাত্র রাজনীতি থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। খেয়াল রাখবে লোভের বশবর্তী হয়ে পা পিছলে পড়ে যেও না।

বুধবার (০৫ জানুয়ারি) ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতা হিসেবে যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাও তাদের আদর্শ নিয়ে সততার সঙ্গে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি থেকেই তো রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। সেটাও মাথায় রাখতে হবে। কাজেই নিজেদের নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে গেলে সেভাবেই কাজ করতে হবে। তোমরা সেভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে আদর্শবান কর্মী হিসেবে। খেয়াল রাখবে কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে পা পিছলে পড়ে যেও না। ’

‘নিজেকে শক্ত করে সততার পথে থেকে এগিয়ে যাবে, সংগঠনকে শক্তিশালী করবে, জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে কাজ করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করবে। সেভাবেই নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। ’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে সবসময় আমি এটাই বলবো যে, ছাত্রলীগকে সবসময় আর্দশ নিয়েই গড়ে তুলতে হবে। ক্ষমতার লোভ-লালসা, এগুলোর ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের আর্দশবান কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতার আদর্শটা যদি একবার ধারণ করা যায় তবে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া কঠিন কাজ নয়। ’

ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা নেতা-কর্মীকে শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের মূলমন্ত্রই হচ্ছে শিক্ষা। প্রতিটি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এই শিক্ষা সেই শিক্ষা নয় যে, কোনোমতে পয়সা বানানোর শিক্ষা না, শিক্ষাটা অন্তর থেকে অনুধাবন করতে হবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ’

‘ছাত্রলীগের আরেকটি মূলমন্ত্র হচ্ছে শান্তি—কাজেই ছাত্রলীগকে সেটা মনে রাখতে হবে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি এ সমস্ত কিছু থেকে দূরে থাকতে হবে। কখনো যেন কোনো ছাত্র বা যুবসমাজ এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘করোনা একটা শিক্ষা দিয়ে গেছে মানুষকে, ধন সম্পদ কোনো কিছু কাজে লাগে না। অর্থসম্পদ কোনো কিছু কাজে লাগে না। মানুষকে যেমন হঠাৎ করে মরতে হয় আবার সম্পদ বানালেও যে সেগুলো কোনো কাজেই লাগে না, করোনা কিন্তু সেই শিক্ষা দিয়ে গেছে সবাইকে। কাজেই অহেতুক অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের জন্য কাজ করা একজন রাজনৈতিক নেতার কাজ। সেটাই মাথায় রাখতে হবে। ’

উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জাতিকে যদি দারিদ্র্যমুক্ত করতে হয়, শিক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষায় যে অর্থ ব্যয় সেটা হচ্ছে বিনিয়োগ। সেই অর্থটা কাজে লাগে। শিক্ষিত জাতি ছাড়া কখনো একটা উন্নত জাতি হওয়া সম্ভব না। শিক্ষার ওপর আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। শিক্ষা বহুমুখী করা সেই ব্যবস্থাটাও আমরা নিয়েছি। ’

অশিক্ষিত নেতৃত্ব একটি দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি কারো নাম বলবো না, একটু বলতে চাই শুধু—অল্প শিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত বা অশিক্ষিত নেতৃত্ব একটা দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আজকে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। ’

শিক্ষিত তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়ে টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, ‘একজন শিক্ষিত ছেলে-পেলে বেকার থাকতে পারে না। সাথে সাথে আমাদের যুবসমাজ, তরুণ প্রজন্ম তাদের আমরা বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিচ্ছি যে, নিজে চাকরির পেছনে ঘুরে না বেড়িয়ে নিজেদের উদ্যোক্তা হতে হবে। চাকরি দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তার জন্য যা যা সুযোগ আমরা তা সৃষ্টি করে দিয়েছি। ’

ছাত্রলীগকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা কথা আমি ছাত্রলীগকে বলবো, সংগঠনটা গড়তে হবে। কারণ এই সংগঠনেই থাকে শক্তি। আমি ’৮১ সালে এসে হাতে নিয়েছিলাম যে, প্রত্যেকটা সহযোগী সংগঠনকে গড়ে তোলা। আর নিজের দলকে আগে গড়ে তোলা। ক্ষমতায় যাওয়া তখনই যখন আমি মনে করবো যে, হ্যাঁ আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করবার শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় যেতে পারছি তখনই। ’

‘তার আগে যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা কখনো করিনি, করবোও না। আমার লক্ষ্যই ছিল, আমার ক্ষমতায় যাওয়া দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। সেভাবেই ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়েছি এবং কাজও করেছি। ’

একটি মহল দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা তো দেশের মানুষের ভাগ্যের কথা চিন্তা করে না। কাজেই তারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকে। কিন্তু নীতি আদর্শ নিয়ে চললে আর সৎ পথে চললে পরে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা যায়। সেটা প্রমাণ করেছি আমরা। ’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কিছু মানুষ সবসময়, সেই দেশ সৃষ্টির পর থেকে কোনো একটা প্রভু খুঁজে নিয়ে তাদের পদলেহন করতে ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো আত্মমর্যাদাবোধ নাই, তাদের নিজের প্রতি কোনো আত্মবিশ্বাস নাই। এদের দিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ হয় না। ’

কৃষিবিদ মিলনায়তন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।