রাজনীতি

‘বাংলাদেশ গত এক দশকে কৃষি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন শস্য ও শাক-সবজি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে।’

নেদারল্যান্ডসের হ্যাগে অনুষ্ঠিত ৬ মাসব্যাপি ‘ফ্লোরিয়াডে এক্সপো ২০২২’তে যোগদান করতে গিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশ ভবনে গবেষণা বিষয়ক ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. সুকে হিমোভারার সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি রূপান্তর বিষয়ে আলোচনাকালে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এ কথা জানান।

শনিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওয়াগেনিংগেন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ কৃষি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কৃষিপণ্যের জাত উন্নয়ন ও উন্নততর কৃষি-প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিয়মিতভাবে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলাদেশের কৃষি গবেষণামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণামূলক প্রকল্প চালুর বিষয়টি উত্থাপন করলে ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

কৃষিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যানের কৃষি ক্ষেত্রকে বৃহত্তর অবস্থানে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ড. সুকেকে ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানান কৃষিমন্ত্রী।

ড. রাজ্জাক বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন শস্য ও পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, শস্য বহুমুখীকরণ, কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণ ও আধুনিক উপায়ে বাজারজাতকরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিযোজন সংক্রান্ত প্রায়োগিক গবেষণার বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাজনীতি

তথ্যও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কপর্দকহীন এবং উদভ্রান্তের মতো কথা বলা বিএনপির মজ্জাগত স্বভাব হয়ে গেছে। পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় সারাদেশের মানুষ যখন উল্লসিত এবং পদ্মা সেতু নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদেরকে মানুষ ধিক্কার দিচ্ছে, তখন তারা খেই হারিয়ে নানা ধরনের উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে।

মন্ত্রী আজ দুপুরে তার চট্টগ্রাম নগরীর বাসায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পদ্মা সেতু নিয়ে সংসদে গান করার পরিবর্তে বন্যায় দুর্গত মানুষের সহায়তায় যেন আওয়ামী লীগ ঝাঁপিয়ে পড়ে – বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ড. হাছান বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবার পর রিজভী সাহেব কয়েকদিন নিখোঁজ ছিলেন, হঠাৎ বের হয়ে তিনি এখন নানা ধরনের কথা বলছেন। বন্যা হবার পর সেখানে বিএনপির কেউ যায়নি এবং বিএনপি কপর্দকহীনের মতো বলেছে, ত্রাণ দেয়া তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য নয় । আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ দুর্বিপাকে সবসময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের নেত্রী ছুটে গেছেন, কিন্তু তারা এবার যায়নি। তাছাড়া, সংসদে এমপি মমতাজ বেগম তার বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা হারুনুর রশীদের অনুরোধেই আরেকটি গান গেয়েছিলেন। সেটি মনে হয় রিজভী সাহেব জানেন না।’

বাংলাদেশে থেকে যারা পদ্মাসেতুর বিরোধিতা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা এ প্রশ্নে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি রায়ে পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। রায়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কি করা যায় সরকার বিবেচনা করবে।’

আওয়ামী লীগের গাফিলতিতে দেশে করোনা বাড়ছে, বিএনপির খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এ বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, ‘সারা পৃথিবীতে তাহলে করোনা কি জন্য বাড়ছে? ভারতে বিজেপি’র কারণে বাড়ছে কি না? বন্যা হবার পরও বিএনপি বলেছে, সরকারের কারণে বন্যা হয়েছে তবে কি আসাম এবং মেঘালয়ে দুই হাজার এবং সিলেটে একদিনে হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিও আওয়ামী লীগের কারণে হয়েছে ? ১২২ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে জন্যই বন্যা এবং বন্যার শুরু থেকে আমাদের সরকার ও দল সর্বাগ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, বন্যার পানিতে ডুবে এবং সাপের কামড়ে কয়েকজন মারা গেছে সেটা সত্য, কিন্তু অনাহারে কোন মানুষ মারা যায়নি।’

এছাড়াও এদিন দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসি’র তৃতীয় সম্প্রচার সম্মেলনে অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো টিভি চ্যানেল একসাথে একাধিক বিদেশি সিরিয়াল সম্প্রচার করতে পারবে না। দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য -সংস্কৃতি- কৃষ্টি রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকা প্রান্তে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

বিজেসির অন্যতম ট্রাস্টি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনা করেন বিজেসি সভাপতি রেজওয়ানুল হক রাজা, সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ, পরিচালকদের মধ্যে রাশেদ আহমেদ, নূর উস-সাফা জুলহাজ, বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডিইউজে সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু প্রমুখ।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গণমাধ্যম দেশের অন্যতম পথপ্রদর্শক, যা কোনভাবেই মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষায় ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়। একইসাথে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইনের পরিবর্তন-পরিবর্ধনে সাংবাদিকদের সাথে সরকার একমত এবং সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনের লিখিত প্রস্তাবনার অপেক্ষায় রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। হাছান মাহমুদ এসময় দেশের গণমাধ্যমকে সমৃদ্ধতর করতে বিজেসির ভূমিকা জোরদারে গুরুত্ব দেন। তথ্যসচিব এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সম্প্রচার সম্মেলনের সাফল্য কামনা করেন।

রাজনীতি

থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছয় মাস পর দেশে ফেরা বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ তার দল জাতীয় পার্টির নেতাদের নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, অসুস্থতার এই সময়ে দলীয় নেতাদের কেউ তার খবর নেননি। আর প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর দলটিও এলোমেলো হয়ে পড়েছে।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এখন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষকের পদে আছেন। দলটির চেয়ারম্যানের পদে আছেন জি এম কাদের, তিনি সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা।

তিন বছর আগে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের মৃত্যুর পর দলে কর্তৃত্ব নিয়ে দেবর-ভাবি কাদের ও রওশনের বিরোধ দেখা দিয়েছিল, পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে সমঝোতা হয়।

ফুসফুসের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) টানা ৮৪ দিন থাকার পর গত বছর থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন ৮০ বছর বয়সী রওশন।

দেশে ফিরেছেন রওশন

ছয় মাস পর দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর শনিবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আসেন তিনি।

এই সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ দলের শীর্ষ নেতাদের কেউ ছিল না।

রওশন বলেন, “দীর্ঘ ছয় মাস আমি থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পার্টির কেউ খোঁজ নেয়নি আমার। আমি সবার খোঁজ নিয়েছি।”

তবে হালে দল থেকে যারা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তারা খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

“যাদেরকে দল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তারাই আমার নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন। মসজিদ, মাজারসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছে।”

দল পরিচালনায় স্বামী এরশাদের অনুপস্থিতির অভাবে অনুভব করছেন বলে জানান রওশন।

“আজ পল্লীবন্ধু এরশাদ নেই। উনি থাকলে পার্টি অন্যরকম হতো। উনি নেই, তাই জাতীয় পার্টি আজ এলোমেলো হয়ে গেছে।”

দেশে ফেরার পর ছেলের সঙ্গে রওশন এরশাদ।দেশে ফেরার পর ছেলের সঙ্গে রওশন এরশাদ।

দলছাড়া যারা হয়েছেন, তাদের ফেরত আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। যারা চলে গেছে, তাদেরকেও ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুবা আমরা অনেক পিছিয়ে যাব।”

“নতুন প্রজন্মকে দলে আনতে হবে। দলকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমকক্ষ বানাতে হবে। নতুবা রাজনীতির টিকে থাকতে পারব না।”

এই বয়সেও দলকে সময় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রওশন বলেন, “পার্টি শক্তিশালী করার প্রয়োজনে যা যা করার দরকার তাই করব। এরশাদ তিলে তিলে এই দলটা গড়েছেন। সকলকে নিয়েই কাজ করতে হবে।

“বিমানবন্দরে আমি আসার দিন এত মানুষ আমাকে যে অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তা দেখে আমার দু’চোখে জল এসে এসে গেছে।”

মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও এরশাদ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, “আমাদের আজ খুব দুঃসময় চলছে। আপনি (রওশন) যখন অসুস্থ, তখন আপনার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল করলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। আপনি যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় থাইল্যান্ড যান, তারপরের দিন তারা কক্সবাজারে দলবেঁধে আমোদ ফুর্তি করেছে।”

রওশন এরশাদের জীবদ্দশায় তার ছেলে সাদ এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান করার দাবি জানান মামুন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মিলন,দেলোয়ার হোসেন খান, জিয়াউল হক মৃধা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন রাজু।

রাহগীর আল মাহি (সাদ এরশাদ), রওশন এরশাদের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ, জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হবি, হাবিবুল্লাহ বেলালী, সভাপতমিণ্ডলীর সাবেক সদস্য এমএ সাত্তার সভায় উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে মহাসাগর, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ১৪ এর সকল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, “অবৈধ, অনবহিত এবং অনিয়ন্ত্রিত (আইইউইউ) মাছ ধরা বন্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মোট প্রায় ৮.৮% এলাকাকে সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং ২০১৯ সালে জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার লিসবনে দ্বিতীয় জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশের বিবৃতি প্রদানের সময় এ মন্তব্য করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম, পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান ও প্রতিনিধি দলের অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

মোমেন বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় বাংলাদেশ প্রতিবেশী উভয় দেশের সাথে সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান করেছে এবং যৌথভাবে সম্পদ কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখা, বিশ্বের সামুদ্রিক পরিবেশ ও সম্পদ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দূষণ সম্পর্কে পূর্বাভাস প্রদান ও পদক্ষেপ গ্রহন এবং মহাসাগর ও সাগরের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্র বিজ্ঞানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার ‘বাংলাদেশ শিপ রিসাইকেল অ্যাক্ট ২০১৮’ সংশোধন করেছে এবং ২০২৩ সাল থেকে হংকং কনভেনশন মেনে চলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে নিরাপদে জাহাজ রিসাইক্লিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপেরও ঘোষণা দিয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশই  প্রথম একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক শপিং ব্যাগ উৎপাদন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মহাসাগরের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং মানব সম্পদের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার বৈষম্যগুলি অবশ্যই দূর করতে হবে।

তিনি বলেন, সাগর আইনের বিষয়ে জাতিসংঘ কনভেনশনের চতুর্দশ অধ্যায়ের বিধান অনুসারে বাংলাদেশ ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত শর্তে সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে ইচ্ছুক উন্নত দেশগুলির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তার সক্ষমতা অনুযায়ী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিসবনের একটি পাবলিক পার্কে স্থাপন করা স্থায়ী শহীদ মিনার পরিদর্শন করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ড. মোমেন সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পর্তুগালে দুই দিনের সফরে বৃহস্পতিবার লিসবনে পৌঁছেছেন।

রাজনীতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তাদের বর্জন করতে হবে।

নগরীর প্রবর্তক মোড়ে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এর উদ্যোগে আজ বিকালে আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে লালন-পালন করে,সাম্প্রদায়িকতাকে নিয়ে রাজনীতি করে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে যারা দেশে গন্ডগোল পাকায়, যারা এই অসাম্প্রদায়িক দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, অতীতে করেছিল, তাদেরকে আপনারা চেনেন, তাদেরকে বর্জন করুন।’

ইসকন প্রবর্ত্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ দাশ ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন ও ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী।

চট্টগ্রামে রথযাত্রা উৎসবের গৌরবোজ্জ্বল অতীত তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রথযাত্রা চট্টগ্রামে একটি বড় উৎসব।

যুগ যুগ ধরে এই রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। হাজার হাজার মানুষ এই রথযাত্রায় অংশ নেন। নগরীতে এই উৎসব প্রতিটি মানুষ উদযাপন করেন। প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নানাবিধ অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। এই রথযাত্রাও আমাদের সংস্কৃতির অংশ। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্যই বাংলাদেশের অভ্যুদয়। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে এসে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার জন্যই বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেউ স্বীকার করুক আর না করুক ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। হিন্দুদের জন্য একটি রাষ্ট্র আর মুসলিমদের জন্য আরেকটি রাষ্ট্র। কিন্তু বিভাজনের পর আমরা বাঙালিরা অনুধাবন করেছি, এই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা আমাদের জন্য নয়। কারণ আমাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমরা বাঙালি, বাংলায় কথা বলি, বাংলায় গান গাই। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পাকিস্তানে সেই সংস্কৃতি এবং পরিচয় যখন হুমকির মুখে পড়লো তখন জাতির পিতার নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ রচিত হলো।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন,‘ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে চেতনার ভিত্তিতে, যে অসম্প্রদায়িক চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের পূর্বসুরীরা দেশ রচনা করেছিলেন, লাল-সবুজ পতাকার জন্ম হয়েছিল, সেই চেতনার মূলে আঘাত হানা হলো। রাষ্ট্রের পরিচয় বদলে দেয়া হলো। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা হলো, অনেক ক্ষেত্রে তারা সফলও হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর যেই চেতনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র রচিত হয়েছিল রাষ্ট্রে সেই মূল চরিত্র ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়েছেন।’ গত সাড়ে ১৩ বছর ধরে দেশ পরিচালনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রের যে পরিচয় নষ্ট করা হয়েছিল সেটি আবার পুনরুদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব মানুষের সমান অধিকার, সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছে।

ড. হাছান বলেন, আমাদের এই দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাঝেমধ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং সাপের মতো ছোবল মারার চেষ্টা করে। বিভিন্ন সময় সেই অপচেষ্টা হয়েছে। আমাদের সরকার সেগুলোকে কঠোর হস্তে দমন করেছে। আমরা যেকোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর। এই রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সেজন্য দুর্গাপূজার সময় যেভাবে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করেছিল, তড়িৎ গতিতে সেগুলোকে দমন করা হয়েছিল। সরকারের পক্ষে দ্রুত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন,‘ কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই দেশে যারা সাম্প্রদায়িকতাকে নিয়ে রাজনীতি করে, তাদের রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতা এবং ভারত বিরোধিতা। যখন নির্বাচন আসে তখন তারা সাম্প্রদায়িকতাকে নির্বাচনের মাঠে নিয়ে আসে। বলতে শুরু করে আওয়ামী লীগ হচ্ছে হিন্দুদের দল, আওয়ামী লীগ হচ্ছে ভারতের চর। যদিও এই সমস্ত ট্যাবলেট আগের মতো কাজ করে না।’

হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন অতি সন্নিকটে। তারা আবারও একই স্লোগান নিয়ে হাজির হবে। আমাদের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অনেক কাজ করেছে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর একটি আইন করা হয়েছিল পাকিস্তান আমলে, শত্রু সম্পত্তি আইন। দেশের তিন কোটি মানুষকে শত্রু আখ্যা দিয়ে কোনো আইন হতে পারে না। সে কারণে আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই আইন পাল্টে দিয়েছেন। সেই আইনের সুযোগ নিয়ে যে সম্পত্তিগুলো বেহাত হয়েছিল সেগুলো ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। যেমন পূজার সময়ের বরাদ্দ এই সরকারের সময়ে কতটুকু এবং আগের সরকারের সময়ে কতটুকু ছিল, তা দেখলেই বোঝা যায়। এখন চাকুরির ক্ষেত্রেও সচিবালয় থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, প্রশাসন দেখলে বোঝা যায়, সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হার এখন কতটুকু, আগে কতটুকু ছিল। এই বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায়, আমাদের সরকার সবার অধিকার নিশ্চিতের জন্য কি কাজ করছে। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সনাতন সম্প্রদায়ের পুলিশ কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যেটা আগে কখনো ছিল না। দেশের প্রধান বিচারপতিও সনাতন সম্প্রদায়ের একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যেটি আমাদের সরকার করেছিল।’

তিনি বলেন, আপনারা ভাল করে জানেন এবং বুঝেন কারা এই দেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। আর দুর্যোগ দুর্বিপাকে প্রয়োজনের সময় কারা আপনাদের পাশে থাকে, সেই কথাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

রাজনীতি

শ্রদ্ধা ভালোবাসায় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা।

শুক্রবার সকালে নির্মলের কফিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে দলের পক্ষ থেকেও ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দেন।

নির্মল রঞ্জন গুহকে দলের জন্য ‘সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমাদের পার্টির জন্য একটা অ্যাসেট। তার মৃত্যুতে আমরা একটা অ্যাসেট হারালাম। তার কমিটমেন্ট, তার মত ডেডিকেটেড নেতা এই পার্টিতে দুষ্কর।
“বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মহামারী আর বন্যার সময় নির্মল গুহ সারা দেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাকে হারানো, এই কম বয়সে আমাদের জন্য সত্যি কষ্টকর। সে বেঁচে থাকলে আমাদের দলের জন্য, মানুষের জন্য আরও অনেক কিছু করে যেতে পারত।”

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবু-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল আওয়াল শামীম, শাহাবউদ্দিন ফরাজী, উপ দপ্তর মম্পাদক সায়েম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল হক সাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক আফজাল বাবুর নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এসেছিলেন নির্মল গুহর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রয়াত এই নেতার প্রতি। শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগে নেতারাও।

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত শোক র‍্যালি করেন।
শহীদ মিনার থেকে নির্মল রঞ্জনের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার দোহারে।

বুধবার সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৫৮ বছর বয়সী নির্মল রঞ্জন গুহ। তিনি হৃদরোগ আর উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন।

রাজনীতি

পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘দুর্নীতি হওয়ায়’ আওয়ামী লীগ সরকারকে ধন্যবাদ দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ধন্যবাদ জানালে আমরা ছোটো হইতাম না? ধন্যবাদ জানাইতে পারতাম যদি এই সেতু প্রতিষ্ঠার সাথে বা নির্মাণের সাথে ওদের (সরকার) দুর্নীতি নামক শব্দটা সম্পৃক্ত না থাকত, যদি এটা দুর্নীতিবিহীন স্বচ্ছতার সাথে সেতুটা নির্মাণ হত, অবশ্যই আমরা ধন্যবাদ জানাতে পারতাম।

“কিন্তু এখন সেতুর জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমরা তো তারে এখান থেকে গচ্ছিত টাকাটাকে হালাল করতে পারি না। সেই কারণে দুঃখিত, যে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে, সেই প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ দিতে পারি না।”

পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পিছু হটেছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের পথে এগিয়ে যায়। ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার নির্মিত সেই সেতু চালু হয় গত সপ্তাহে।

বিশ্ব ব্যাংক দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলেছিল, তারা তা প্রমাণ করতে পারেনি। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলাও হয়েছিল, কিন্তু তা টেকেনি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণব্যয় জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, “জনগণের পক্ষ থেকে ডাইরেক্ট অনুরোধ- আপনারা শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন। কত টাকা ব্যয় হলে, কেনো হল- এখানে যে টাকা আত্মসাৎ বা লুটপাট হয় নাই- তা আপনারা প্রমাণ করেন। যেদিন প্রমাণ করতে পারবেন, সেদিন ধন্যবাদ জানাব।”

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তা প্রত্যাখান করে বিএনপি।

গয়েশ্বরের কথায়, “পদ্মা সেতু… কেউ কেউ বলেন যে, খালেদা জিয়া তারে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ধন্যবাদ দিতে পারত। খালেদা জিয়া বন্দি। আইনমন্ত্রী বললেন, যেতে বাধা নেই। যেতে যদি বাধা না থাকে, দাওয়াত দিতে বাধা থাকল ক্যান?

“তিনি আমাদেরকে ঠিকই দাওয়াত দিলেন, আর দাওয়াত দিলেন না আমাদের নেত্রীকে। খেয়াল কইরেন; আমরা যদি উনার দাওয়াত কবুল করতাম, তাহলে আমরা কি রাস্তায় দাঁড়াতে পারতাম? সুতরাং নেত্রীকেও দাওয়াত দেয় নাই, মানে কাউকে দাওয়াত দেন নাই।”

বিএনপির আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণে ‘গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজ’ সম্পন্ন হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার সরকারে ২০০৫ সালের এই সেতুর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষা হয়েছিল, মাটি পরীক্ষা হয়েছিল, সাইট সিলেকশন হয়েছিল, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল। সতুরাং সেতু নির্মাণ করে যেতে পারেননি, আরেকজন করবেন- এটাই তো নিয়ম।

“সরকার তো অস্থায়ী, কিন্তু কর্মগুলো তো চলমান। সেই কর্মগুলো শেষ করতে হবে। পদ্মা সেতুর যখন সব পিলার উঠে গেছে- কোনো সরকার এসে সেই সেতু করবে না- এটা গাঁজাখুরি স্বপ্ন, গাঁজাখুরি কথাবার্তা।”

বানভাসিদের জন্য সরকারের ‘অপ্রতুল ত্রাণ’, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অর্থপাচার নিয়ে মামলা এবং বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে বাজেটে বিশেষ সুবিধার কঠোর সমালোচনা করেন গয়েশ্বর।

তৃণমূল নাগরিক আন্দোলনের উদ্যোগে ‘বন্যা দুর্গত মানুষের আর্তনাদ সরকারের লোক দেখানো ত্রাণ তৎপরতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের সভাপতি মফিজুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের রহমাতুল্লাহ, বিলকিছ ইসলাম, কাজী মনিরুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, কাদের সিদ্দিকী, আবদুল্লাহ আল নাঈম, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির আহসান উল্লাহ শামীম, জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চের ইসমাইল হোসেন তালুকদার খোকন।

রাজনীতি

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের নামাপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান সবেক উর্ধতন সরকারী কর্মকর্তা মোঃ করম আলী বার্ধক্যজনিত ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২:৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে ওনার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর, তিনি এক ছেলে দুই মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সোমবার বিকেল ৩:২০ মিনিটে উনার প্রতিষ্ঠিত বড়চাপা বহুমুখী ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। দাফনান্তে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযার নামাজ পড়ান  মবহুমের প্রতিষ্ঠিত বড়চাপা বহুমুখী ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসাব প্রিন্সিপাল মোশারফ হোসেন।

মরহুম মোঃ করম আলী ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী প্রকৃতির মানুষ, এই কৃতী সন্তানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এই কৃতী সন্তান জীবদ্দশায় নরসিংদী ও নিজ গ্রামের সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অসংখ্য কাজ করে গেছেন, উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উনার প্রতিষ্ঠিত বড়চাপা বহুমুখী ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠাতা বড়চাপা দারুল ইসলামএতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা , প্রতিষ্ঠাতা, বড়চাপা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় , ১০৫ নং বড়চাপা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বড়চাপা ডিগ্রী কলেজের জমি দাতা , নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রেসিডেন্ট, প্রতিষ্ঠাতা নিউ কম্পিউটার জগৎ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার, প্রতিষ্ঠাতা   ফার্মগেট কমাশিয়াল ইনষ্টিটিউট এন্ড ট্রেনিং সেন্টার,  আল-ইনসাফ কর্পোরেশন লিঃ-এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, ঢাকা ফার্মগেট হলিকর্নার মার্কেটের আজীবন সভাপতি ।

তাছাড়া তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসক।

মরহুমের সুযোগ্য সন্তান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্হাপনা পরিচালক- সোনারবাংলা টিভি , সম্পাদক- জিজিএন২৪.কম-  মোহাম্মদ  লুৎফুর রহমান জানাজায় উপস্থিত সকলের কাছে বাবার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

জানাজায় আরো সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপাধ্যক্ষ এম সুলতান উদ্দিন, মনোহরদী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডাঃ আবু তাহের, মনোহরদী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ্যাডভোকেট  শাহ মাসুদুর রহমান , এ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ালী, বড়চাপা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্যাহ আহ্ছান, বড়চাপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক,  শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক শওকত আলী, বড়চাপা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান তৌহিদ, বড়চাপা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শহীদুল্লাহ আকন্দ,  বড়চাপা বহুমুখী ইসলামিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মোশারফ হোসেন, ১০৫ নং বড়চাপা মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম পলাশ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মরহুম মোঃ করম আলীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিল্পমন্ত্রী স্হানীয় সাংসদ নৃরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ন , মনোহরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান বীরু , সাবেক সাংসদ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, মানবাধিকার সংগঠক সাবেক আইজিপি আব্দুর রহীম খান পিপিএম , (ডিইউজে) ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদ্যসাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ সহ দেশ বরেন্য ব্যক্তিত্বরা ।

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সারাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করছে, কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত ও নতুন নতুন রেলপথ স্থাপন এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলো খনন করছি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে এবং বাণিজ্য ও ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কতৃর্ক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে এ কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুদান গ্রহণ করেন।

সমগ্র বাংলাদেশেই তাঁর সরকার, ব্রীজ এবং উন্নত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলে যোগাযোগের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসবের পাশাপাশি নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথ ও আমরা সচল করেছি। আমাদের পূববর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায়ই বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা সেটা আবার নতুন করে চালুর পাশাপাশি নতুন নতুন রেল লাইনও করে দিচ্ছি। যার ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আমরা আরো গতিশীল করার জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছি।

নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের সাফল্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশেরই এক ব্যক্তির প্ররোচণায় বিশ্ব ব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগিরাও সরে দাঁড়ায়, তখন আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। তখন দেশের জনগণের পাশাপাশি আপনারাও অনেকে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে সবধরনের সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে জন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

দেশের জনগণই তাঁর ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সাহস এবং সহযোগিতা এবং তারা পাশে থাকাতে আমরা আমাদের নিজস্ব টাকায় এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল অঞ্চল যেটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল সেখানে এখন শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের আর্থিক উন্নতি হবে। সেখানেও আপনাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাত করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে এবং এই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে।

প্রথমবার সরকারের আসার পর তাঁর সরকার যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু নির্মাণ করেছিল যেখানে বিদ্যুৎ, রেল এবং গ্যাস সংযোগও প্রদান করা হয়। পদ্মা সেতুটাও সেভাবেই করা হয়েছে, মাল্টিপারপাস। সেখানেও গ্যাস, বিদ্যুৎ, রেল সংযোগের সঙ্গে অত্যাধুনিক ওয়াইফাই সু্ুিবধাও থাকবে।

৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মোট ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করে।

এগুলো হচ্ছে-সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিডিবিএল, ইডকল, বিআইএফএফএল, এক্সিম ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ইষ্টার্ন ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, যমুনা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোসাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট বিভাগে পর পর তিনবার বন্যা হলো। সেখানে যেমন ফসলের ক্ষতি হয়েছে তেমনি ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটের ও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তেমনি পানি যখন নেমে আসছে তখন নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

তিনি এ দেশের যে কোন দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় এবং মাসুষের পাশে দাঁড়ানোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন এবং এদেশে শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলেই আজকে নিজেরাই আমাদের শিক্ষা-দীক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারছি।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের প্রচেষ্টাই হচ্ছে দেশের জনগণের দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই সাথে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলা। যাতে বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে চলতে পারি।

তিনি দেশে ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আমাদের উন্নয়নও করতে হবে আবার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য যততত্র শিল্প যাতে গড়ে না ওঠে এবং কৃষিজমি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এলএনজি আমদানী করে শিল্প কলকারকানা চলমান রাখারও উদ্যোগ নিয়েছে।

করোনাকালিন তাঁর সরকার যেমন সকল জনগণের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে তেমনি চলমান বিশ্ব মন্দার মধ্যে শিল্প কলকারখানা চলমান রাখতে নানারকম আর্থিক প্রণোদণাও প্রদান করেছে। কোনভাবেই যাতে অর্থনীতির গতি ব্যহত না হয়ে পড়ে সে জন্য কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষসহ সকলকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যেই আবার ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাবটাও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। আবার এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা।

তিনি বলেন, সমস্যা আসবে এবং সেই সমস্যা মোকাবিলা করেই আমাদের পথ চলতে হবে। আজকে আপনারা বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। আর আপনারা যখন মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন আর আমাদের চিন্তা থাকেনা। আমরা মনে করি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো এবং বিশ^ দরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবো। এ ব্যাপারে সকলেই সচেতন থাকবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি এ সময় পণ্য রপ্তানীর পরিমান বৃদ্ধি এবং রপ্তানীর পণ্য সম্ভারে নতুন নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। কেবল রপ্তানী নয় দেশের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির জন্য তাঁর সরকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড একেবারে তৃণমুল পর্যায় থেকে পরিচালিত করছে।

তিনি বলেন, ’৭১ এ মহান বিজয়ের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ যে ভাবমূতি অর্জন করেছিল তা ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর নষ্ট হয় এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গতিও থেমে যায়।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই তহবিল থেকে কেবল বন্যা দুর্গত জনগণই নয়, পীড়িত ও দুঃস্থ জনগণকেও এখান থেকে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যেখানে তাঁদের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনার প্রাদুর্ভাব পুনরায় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সকলকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলার এবং মাস্ক ব্যবহারের আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাজনীতি

গত সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এখন বিএনপিকে রাজনৈতিক দলই মনে করছেন না।

তিনি রোববার সংসদে বলেছেন, “বিএনপি হচ্ছে নো পার্টি, এটা একটি প্ল্যাটফর্ম। তাদের কোনো রাজনৈতিক দর্শন নেই।

“তাদের দর্শন হচ্ছে সরকার, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলা। তাদের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কীভাবে পাকিস্তানের বন্ধুদের খুশি রাখার ভূমিকা রাখা যায়। সেটি হলো এই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য। কিন্তু সেটা এই দেশে কোন দিন ফলবে না।”

রোববার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনার জন্য দাঁড়িয়ে একথা বলেন তিনি।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে দলে অপাঙক্তেয় হয়ে পড়েন।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেনের গণফোরামে নাম লিখিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ওই নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, আর এই জোটভুক্ত দলগুলোর অধিকাংশ নেতা বিএনপির প্রতীকেই প্রার্থী হয়েছিলেন।

শপথ নেওয়ার পর সুলতান মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার

রোববার উল্টো সুর তোলা সুলতান মনসুর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “এই দলের কোনো নেতৃত্ব নেই। বাছুররা এই দেশে আসতেও পারবে না, তাদের হাতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।”

বন্যায় সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না- বিএনপির এই সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “সরকারের সক্রিয়তা না থাকলে সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনযন্ত্র কীভাবে মানুষের সেবায় কাজ করল?

“শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়। ভারত বিরোধিতা করে, শেখ হাসিনাকে বিরোধিতা করে, সরকার বিরোধিতা করে রাজনীতি কোনো দিন হতে পারে না।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুলতান মনসুর বলেন, “পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তোমার আমার ঠিকানা- এই স্লোগানকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জীবন শুরু করেছিলাম। সেই পদ্মায় শনিবার সেতু উদ্বোধন করেছেন। বিশ্বর মধ্যে প্রথম খরস্রোতা নদীর মধ্যে পদ্মা সেতু।

“এই সংসদে বলেছিলাম, জাতির পিতাকে যারা মেনে নেবে, তারাই শুধু রাজনীতি করতে পারবে, ক্ষমতায় যাওয়া সুযোগ থাকবে। তাছাড়া কোনো সুযোগ থাকবে না।”