অর্থনীতি

দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর ফের কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের (বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও) শুল্ক স্টেশন দিয়ে।

শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সেই সঙ্গে চরম দুর্ভোগের শিকার হয় ২০ হাজার শ্রমিক ও পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী।

বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বড়ছড়া এলসি পয়েন্ট দিয়ে আমদানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলখাছ উদ্দিন খন্দকার।

এসময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার লিটন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের, কোষাধ্যক্ষ জাহের আলী, সচিব রাজেস চক্রবর্তী, সদস্য হাসান মেম্বার, ব্যবসায়ী শংকর দাসসহ বিজিবি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এসময় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়।
২০১৪ সালে ভারতের মেঘালয়ের একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশগত ক্ষতির কথা বিবেচনা করে কয়লা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটির ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। পরে টানা প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকে কয়লা আমদানি।

এরপর পুনরায় আমদানি শুরু হলেও তা আর নিয়মিত হয়নি। চলতি বছরের মার্চ থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। গত প্রায় ১০ মাস ধরে আমদানি বন্ধ থাকায় অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। সরকার ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

কয়লা আমদানি শুরুর সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের জানান, বছরে তিন-চার মাস চলে আমদানি আর আট-নয় মাস বন্ধ থাকে।

অন্যদিকে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকায় প্রায় ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেছেন। গত দশ মাস বন্ধ থাকায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় ভালো লাগছে।

তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলখাছ উদ্দিন খন্দকার বলেন, শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে এবং শুল্ক স্টেশনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন জীবিকার কথা বিবেচনা করে বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি সারা বছর চালু থাকে তার জন্য সরকার যেন গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় সেই দাবি জানাই।

রাজস্ব কর্মকর্তা বড়ছড়া আবুল হাসেম ভূঁইয়া জানান, এলসির মাধ্যমে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে।

অর্থনীতি

দেশের ১৪১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ড দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেরা করদাতাদের উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ তালিকায় রয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের ৬ জন তারকা।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিভিন্ন শ্রেণিতে এ বছরের সেরা করদাতাদের তালিকা প্রকাশ করে।

এ বছর সংগীতশিল্পী বিভাগে সেরা করদাতা হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন তাহসান খান, এস ডি রুবেল ও কুমার বিশ্বজিৎ।

অন্যদিকে অভিনেতা-অভিনেত্রী বিভাগে সেরা হয়েছেন মাহফুজ আহমেদ, মেহজাবীন চৌধুরী ও পীযুষ ব্যানার্জি।

ছয় তারকার মধ্যে কেবল মেহজাবীন চৌধুরীর নাম প্রথমবার সেরা করদাতার তালিকায় এসেছে। অন্যরা এর আগেও একাধিকবার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন।

সেরা করদাতা হিসেবে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা পাবেন। এই কার্ডের মেয়াদ থাকবে এক বছর।

ট্যাক্স কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ, তারকা হোটেলসহ সব আবাসিক হোটেল বুকিংয়ে অগ্রাধিকার। পাশাপাশি কর কার্ডধারী নিজে ও তার স্ত্রী বা স্বামী, নির্ভরশীল সন্তানের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার পাবেন। থাকবে আকাশ, রেল ও জলপথে সরকারি যানবাহনে টিকিট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং জাতীয় অনুষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ।

অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় প্রচলিত সহায়তার অতিরিক্ত হিসাবে আরও ৪৪ হাজার কোটি ডলার ঋণ দেবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এ ঋণ দেওয়া হবে।

সদস্য দেশগুলো বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঋণের অর্থ ব্যয় করতে পারবে। সোমবার প্রকাশিত আইএমএফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এসব পণ্য আমদানিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে মাত্রাতিরিক্তভাবে।

এছাড়া উন্নত দেশগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় তারা সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করে। এতে ওইসব দেশে ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়। ফলে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়ে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে। এতেও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রায় চাপ পড়ে। সার্বিকভাবে তাদের রিজার্ভ কমে যায়।

বৈদেশিক মুদ্রার ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতি দেখা দেয়, যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোতেও মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়।

এ অবস্থায় উন্নত দেশগুলো সুদের হার বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা সামাল দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো এখনো পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেনি। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইউরোপের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এদিকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বেশির ভাগেরই রপ্তানির বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক না হলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর রপ্তানি বাজার চাঙ্গা করা কঠিন হবে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও ওইসব দেশ নির্ভরশীল। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও বিভিন্ন দেশ থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহ রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে।

ওইসব দেশেও মন্দার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারা মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে মুদ্রার প্রবাহ কমিয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, মুদ্রার মান ধরে রাখা। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কবলে পড়ে তারা মুদ্রার মান ধরে রাখতে পারছে না। এতে ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতিতেও চাপ বাড়ছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অনেক দেশের মূল্যস্ফীতির হার দুই ডিজিটে চলে গেছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশগুলো কঠিন শর্তের কম সুদের ঋণ না নিয়ে চড়া সুদের কম শর্তেও বাণিজ্যিক ঋণ নিয়েছে বেশি। ওইসব ঋণ স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় এগুলো পরিশোধে এখন রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। ওইসব ঋণ এখন তারা পরিশোধ না করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছে।

এতেও ঋণের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে, যা আগামীতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যে কারণে আইএমএফ আরও ৪৪ হাজার কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব ঋণে অনেক শর্ত থাকবে। যেসব শর্ত বাস্তবায়নের ফলে ওইসব দেশের অর্থনীতি সঠিক ধারায় ফিরে আসবে।

এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফের কাছে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে। ওইসব ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে আইএমএফ বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। ওইসব শর্ত নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে।

অর্থনীতি

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর জন্য পৌনে তিন কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে খরচ হবে ৫১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত লটের তুলনায় নতুন লটে দাম বেশ খানিকটা বেড়েছে। একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কানাডা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনলাইনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে তিনটি পৃথক লটে ২ কোটি ৭৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

প্রতি লিটার ১৮৪ টাকা ৮৪ পয়সা দরে প্রথম লটে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন সরবরাহ করবে সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড। প্রতি লিটার ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে দ্বিতীয় লটে ৫৫ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করবে সুমসিং এডিবল অয়েল।এছাড়া তৃতীয় লটে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সরবরাহ করবে সুপার পাওয়ার রিফাইনারি লিমিটেড।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তখন প্রতি লিটার তেলের দাম ধরা হয়েছিল ১৫৬ টাকা ৯৮ পয়সা। সে হিসেবে নতুন সয়াবিনের দাম কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া ও এমপিও সার ক্রয়ের তিনটি পৃথক প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সাঈদ মাহমুদ খান জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডা কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে দশম লটে ৫০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগের লটের চেয়ে সার কেনার খরচ কমেছে। প্রতি টন ৫১৮ দশমিক ৩৩ ডলার দরে এ সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ৩৪৪ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৫ টাকা।

এর আগের লটে সার কেনা হয়েছিল প্রতি টন ৫৫৩ দশমিক ৩৩ ডলার দরে। আরও একটি প্রস্তাবে একই দেশের একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি টন ৬৫৫ দশমিক শূন্য ৩ ডলার দরে এ সার ক্রয়ে ব্যয় হবে ৩৪৪ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৫ টাকা।

এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়য়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৩০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১৬৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৯৬৯ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিসিআইসি কর্তৃক চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের (টিএসপিসিএল) জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড চীনের গুইঝো চানেন কেমিক্যাল কর্পোরেশন থেকে ৭৩ কোটি ৮৫ হাজার ৪০০ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ্-আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ দুই প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৭ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ টাকা। এর মধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৬৪৯ কোটি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯১ টাকা। আর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৩০ কোটি ৫ লাখ ১ হাজার ১১৬ টাকা।

অর্থনীতি

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রাণ খুলে, মন খুলে বলেছে, বাংলাদেশের অর্জন অসামান্য। কয়েক দিন আগে আইএমএফের প্রতিনিধিদল দেশের অর্থনীতি কোথায় আছে তা দেখতে এসে এই কথা বলেছে।

শনিবার রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে জাতীয় ভ্যাট দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

অনুষ্ঠানে এ বছরের ভ্যাট সম্মাননাপ্রাপ্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীদের হাতে সম্মাননাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যে অর্জন তা সরকারের একক অর্জন নয়। এক হাতে এটি হয়নি। দেশের সব মানুষের সম্পৃক্ততায় এই অর্জন এসেছে। সরকার করদাতাদের কাছে ঋণী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১৪ বছরে অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরে মুস্তফা কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন আমাদের অর্থনীতির আকার ছিল ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো। সেটি বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আর ৬০০ ডলারের মাথাপিছু আয় বেড়ে হয়েছে ২৮৬৪ ডলার।

তিনি দেশকে উচ্চ মধ্যম আয় ও উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে দেশবাসীকে সঠিকভাবে কর প্রদানের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তোরণের পর রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আমার মনে হয়-সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। তিনি বলেন, মূল্য সংযোজন হয় এমন পণ্যের পাশাপাশি বহুমূখী পণ্য উৎপাদন করা গেলে রপ্তানি বাড়বে। একইসাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের প্রসার ঘটাতে পারলে রাজস্ব আয় বাড়ানো যাবে। এসবের উপযুক্ত নীতি সহায়তা এনবিআরে পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, করদাতার যেন স্বতস্ফূর্তভাবে কর প্রদানের পরিবেশ পায়, সেই লক্ষ্যে অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে। দক্ষ জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট অফিস বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন নিয়মিত যাঁরা ভ্যাট দেন, তাঁদের হয়রানি না করা এবং কর ব্যবস্থায় আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান। তিনি করহার হ্রাস করে কর জাল বাড়ানোর সুপারিশ করেন।

এবার জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পাওয়ার তালিকায় উৎপাদন খাতে আছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ ও এসএমসি এন্টারপ্রাইজ, ব্যবসায় শ্রেণিতে গাজীপুরের ওয়ালটন প্লাজা, আগোরা লিমিটেড ও ইউনিমার্ট লিমিটেড, সেবা শ্রেণিতে বিকাশ লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক ও নগদ লিমিটেড।

অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য জাকিয়া সুলতানা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অর্থনীতি

২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

সংস্থাটির নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে রতন তার সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন। এরপরও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান-পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ আটকে আছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে দুদক। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে তলবি নোটিশ দেয় সংস্থাটি। দুদকে হাজির হলে তাকে টানা ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদকের তৎকালীন জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই প্রকৌশলীর বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য আছে দুদকের কাছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর নির্মাণসহ ৫টি প্রকল্পের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ফলে ওইসব প্রকল্প ও তার ব্যক্তিগত সব নথি তলব করা হয়েছে। এ অবস্থায় ৩৩ মাস পার হয়েছে। অনুসন্ধান এখনো চলছেই।

সংসদ-সদস্য রতন ও প্রকৌশলী হাবিবের মতো শতাধিক রাঘববোয়ালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জন অভিযোগের অনুসন্ধান ঝুলে আছে বছরের পর বছর। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কারও বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়নি মামলা। অভিযোগ আছে, ছোট ছোট দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত কাজ নিজস্ব গতিতে চললেও

‘রাঘববোয়াল’দের বেলায় তদবিরে স্থবির দুদক। এ অবস্থায় আজ ৯ ডিসেম্বর অনাড়ম্বরভাবে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন করেছে দুদক। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য-‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব’। ২০১৭ সাল থেকে দুদক দিবসটি পালন করে আসছে। এ উপলক্ষ্যে দুর্নীতিবিরোধী প্রচার-প্রচারণা, আলোচনা সভা, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি নিয়েছে দুদক।

ঢাকঢোল পিটিয়ে দিবস পালন করলেও নির্ধারিত সময়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষ করতে পারছে না সংস্থার কর্মকর্তারা। এই ব্যর্থতায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের সরিয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটাও করা হয়নি। উলটো সাহসের সঙ্গে অনুসন্ধানে সত্য উদঘাটন করে ফেঁসে গেছেন কোনো কোনো কর্মকর্তা।

খোদ হাইকোর্ট দুদকের কাজের ধীরগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, দুদক আইন অনুযায়ী কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা। সর্বশেষ বেসিক ব্যাংকের ৫৬ মামলার তদন্ত শেষ করতে ৩ মাস সময় বেঁধে দিয়েছে হাইকোর্ট।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘বড় মাছ ধরতে বড় জাল বা হাতিয়ার লাগে। আমাদের দেশে যারা বড় বড় জালিয়াতিতে জড়িত তাদের অনেক লম্বা ও অদৃশ্য হাত থাকে। তাদের ধরতে হলে আমাদেরও আটঘাট বেঁধেই নামতে হয়। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কোনো ধরনের গাফিলতি নেই। কোভিডের কারণে দুই বছর কাজ অনেক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এখন সেই অবস্থার উত্তরণ ঘটেছে। তবে সব মিলিয়ে আমরা প্রত্যাশার কাছাকাছি যেতে পারিনি। আমরা এ সংক্রান্ত আলোচনা, সমালোচনা ও মন্তব্য বিবেচনায় রাখছি এবং কাজের গতি বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন. ‘আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই কেউ কেউ হয়তো ক্লিনচিট পেয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে অনেকেরই নাম আসে। তদন্তে যদি সঠিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া না যায় তাহলে তাদের আটকানো যাবে না-সেটাই স্বাভাবিক।’

অনুসন্ধান ও তদন্তে দুদক আইনের বিধান মানতে পারছে না কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে গিয়েই অনুসন্ধান ও তদন্ত বিলম্বিত হয়।’

প্রসঙ্গত, কমিশন আইনের ২০(ক) ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারবে দুদক। আর ২০০৭ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালার ৭ বিধিতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করতে বলা হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করতে না পারলে যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও ৩০ দিন সময় নিতে পারবেন। ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রে দুদককে বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশন ব্যর্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে নজির সৃষ্টি না করায় তদন্ত ও অনুসন্ধানে কেউই বেঁধে দেওয়া সময়ের বিধান মানছেন না।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও ব্যক্তি পর্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯-র সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শেষে পর্যায়ক্রমে ২১ সংসদ সদস্যসহ ১১৮ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, প্রশান্ত কুমার হালদার, বজ গোপাল সরকার, ওমানে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী নাদিম, প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান মুন্সী, আবদুল হাই, মোহামেডান ক্লাবের পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, সংসদ-সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন, সংসদ-সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, সাবেক যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী, আনিসুর রহমান, কলাবাগান ক্লাবের সভাপতি, কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ, সাবেক কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোল্লা আবু কাওসার, প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, উৎপল কুমার দে, ফজলুল হক মধু, শওকত উল্লাহ, ফজলুল হক, রোকন উদ্দিন, আব্দুল কাদের, আফসার উদ্দিন, আব্দুল মোমেন চৌধুরী, ইলিয়াস আহমেদ, স্বপন চাকমা, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিল মঈনুল হক মঞ্জু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলম সিদ্দিকী, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন প্রমুখ।

জানা গেছে, জিকে শামীম, প্রশান্ত কুমার হালদার, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ হাতেগোনা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের করা হলেও বাকিরা এখনো অধরা। তাদের অনেকেই তদবিরের মাধ্যমে অনুসন্ধান নথি ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। আবার কেউ কেউ ‘ক্লিনচিট’ নিয়েছেন।

২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ-সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম বাবুর অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও তলব করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের মাধ্যমে দুদক তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের ফিরিস্তি সংগ্রহও করে। নির্বাচনি হলফনামায়ও তার সম্পদের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন প্রকাশ পেয়েছে।

এরপরও ২০১৮ সালের ৫ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় কমিশন কর্তৃক তা পরিসমাপ্ত করা হয়েছে।’ একই প্রক্রিয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের যেসব প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল তাদের প্রায় সবাইকে ‘ক্লিনচিট’ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, খাসজমি ইজারায় দুর্নীতিসহ অন্তত ২০ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির একটি অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। সেটি যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। কিন্তু তিন বছর হতে চললেও অনুসন্ধান প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।

ঠিকাদারি কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ আসনের এমপি ও স্থানীয় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান করছে দুদক। সংস্থাটি তার সম্পদ খতিয়ে দেখতে দরকারি নথিপত্র তলব করে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান-পরবর্তী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এছাড়া শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হক, পিরোজপুরের সাবেক এমপি এমএ আউয়াল, নরসিংদী-২ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন, ময়মনসিংহের নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি শামসুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে বছরের পর বছর ধরে। এ তালিকায় পুরান ঢাকার আলোচিত এমপি হাজী মো.সেলিমের নামও আছে। এদের মধ্যে অনুসন্ধান শেষে সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

জানতে চাইলে এমএ আউয়াল বলেন, ‘সরকার দলের একজন মন্ত্রীর ইন্ধনে দুদক আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এটা ওপেন সিক্রেট। যেসব অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাতে আমার কোনো দায় নেই।’

সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল আশরাফ খান টেন বলেন, ‘নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে একটি মহল তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে দিয়েছে।’

সংসদ-সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সেগুলো সত্য নয়। দুদকও কিছু পায়নি। অভিযোগ নিষ্পত্তিও হয়নি।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল সেটা নিষ্পত্তি করে দুদক আমাকে চিঠি দিয়েছে। এখন আর আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান নেই।

সংসদ-সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘দুদক আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে। কোনো অঙ্গতি পেলে আমার কাছে কিছু জানতে চাইলে আমি জবাব দেব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কিছু না চাইলে আমি আগ বাড়িয়ে জানাতে যাব কেন।’

সংসদ-সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শাওনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তুহিন কল রিসিভ করেননি।

বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন লালমনিরহাট-৩ আসনের আসাদুল হাবিব দুলু, নোয়াখালী-৪ আসনের মো. শাহজাহান, বগুড়া-৩ আসনের আব্দুল মোমিন তালুকদার ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি মো. শহিদুজ্জামান বেল্টু। এছাড়া মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবং পটুয়াখালী-১ আসনের সাবেক এমপি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুদক।

তবে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাবেক নারী সংসদ-সদস্য সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের আরও দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দ্রুত অনুসন্ধান শেষে মামলা করেছে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার ও সাজা হওয়ার পরই দুদকের অনুসন্ধানে গতি পায় বলে জানা গেছে। তবে পাপুলের অর্থ পাচারের সহযোগী হিসাবে সন্দেহের তালিকায় থাকা এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি তমাল পারভেজ ও পরিচালক আদনান ইমামের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ রহস্যজনক কারণে থেমে আছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে তাদের দুদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অনুসন্ধানে আর গতি নেই।

জানা গেছে, শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই নয়, অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও আমলাদের দুর্নীতির তদন্তও এগোচ্ছে না। ২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে তলব করা হয়। এর আগে তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। এখন পর্যন্ত সন্ধান অব্যাহত।

এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন. তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় দুদকের প্রতি মানুষের আস্থার সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযোগের তালিকায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা আছেন বলে দুদক প্রভাবিত হচ্ছে-এমন প্রশ্নও উঠতে পারে। তাই আইনি কাঠামোর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা দরকার। বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও কঠিন হয়।

অর্থনীতি

রপ্তানি ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদ হার পাঁচ শতাংশ।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এই তহবিল থেকে যোগ্য গ্রাহকরা মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধ পরবর্তী অর্থায়নের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে পুণঃঅর্থায়নের মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় এ ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের মেয়াদকাল হবে পাঁচ থেকে ১০ বছর।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, আর্দ্রকরণে পানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবহারের দক্ষতা ও পুনর্ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি দক্ষতা, তাপ ও তাপমাত্রার ব্যবস্থাপনা, বায়ু চলাচল ও প্রবাহ দক্ষতা, কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং সময়মতো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য ক্ষেত্রে রপ্তানি এবং উৎপাদনশীল শিল্প খাতে সবুজ পরিবশেবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশ আমদানি বা কেনা সহজ করতে এই ঋণ দেওয়া হবে।

ঋণ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট বিভাগের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংককে চুক্তি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ বাণিজ্যিক ব্যাংককে ১ শতাংশ সুদ হারে পুনঃঅর্থায়ন করবে। বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহক পর্যায়ে দেবে ৫ শতাংশ হারে। একক গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে এক বছর।

সব রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে ১০ শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ আছে, এমন দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকও এই পুনঃঅর্থায়ন নিতে চুক্তি করতে পারবে। খেলাপি ঋণ গ্রহীতারা এই ঋণ সুবিধা পাবে না। এ তহবিল থেকে ঋণ নিতে গ্রাহককে দিতে হবে মোট মূলধনের ৩০ শতাংশ। ৭০ শতাংশ দেবে ব্যাংক। পরপর দুটি রপ্তানি বিল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ব্যর্থ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানও এই ঋণের সুবিধা পাবে না।

অর্থনীতি

অর্থ সংকটের কারণে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও অনুদানসামগ্রী বন্দর থেকে খালাস অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এতে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খোদ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরে কাস্টম শুল্ক পরিশোধের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে।

অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি অবহিত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অঙ্কটি যাচাই-বাছাই করা হবে।

প্রকৃত অর্থে যে টাকা দরকার, তা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে চিঠি দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ চাওয়া হয়েছে।

এর আগে কাস্টম শুল্ক পরিশোধের জন্য ২৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু হিসাব করে দেখা গেছে প্রয়োজন ২৫ লাখ টাকা। এ কারণেই এবারও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপান সরকারের দেওয়া ৭৭ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে।

কাস্টম শুল্কের টাকা সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বরাদ্দ না থাকায় ৫ মাস ধরে খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে এক্সরে যন্ত্র, রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মনিটর, সিটি স্ক্যানার, ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি বা ইসিজি যন্ত্র, ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইজার ও অক্সিজেন জেনারেটর বাংলদেশকে দিয়েছে জাপান।

পণ্যসামগ্রীর তালিকায় আরও রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। সব মিলিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংখ্যা ৩১৩।

এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস করতে কাস্টম শুল্ক বাবদ প্রয়োজন ২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই অর্থ চেয়ে আরও একটি চিঠি দেওয়া হয় অর্থ বিভাগকে।

এদিকে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগকে লেখা চিঠিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, শুল্কায়নের মাধ্যমে বন্দর থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদানের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম খালাস করা হয়।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে কোনো টাকা বরাদ্দ নেই। যে কারণে মালামাল খালাস করতে বিলম্ব হয়। সেখানে আরও বলা হয়, বন্দরে খালাসের জন্য মালামাল পড়ে থাকলে এর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়, এদিকে শিগগিরই দেশে এসে পৌঁছবে বিদায়ি ২০২১-২২ অর্থবছরে ক্রয়কৃত পণ্য।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট আর্থিক কোডে আগ থেকে বরাদ্দ না থাকলে পণ্য ছাড় বিলম্ব হবে। এতে পোর্টের জরিমানাও বাড়বে। বিগত বছরে এ ধরনের জটিলতার কারণে পোর্টের জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ওই অর্থবছরে দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর অনুদানের স্বাস্থ্য সরঞ্জাম গ্রহণ করতে কাস্টম শুল্ক বাবদ ব্যয় হয় ১৭০ কোটি টাকা।

তবে অর্থ পরিশোধ বিলম্বের কারণে পোর্ট ডেমারেজ ৫ কোটি টাকা গুনতে হয়েছে। ফলে আগে অভিজ্ঞতার আলোকে চলতি অর্থবছরের চাহিদা পূরণের জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হলো।

এ খাতে দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ক্রয়কৃত ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া স্বাস্থ্যসামগ্রী দ্রুত খালাস করা যাবে। এতে রোগীদের কল্যাণে এসব পণ্য ব্যবহার সম্ভব হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারকে চিঠি দিয়েছে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)।

এতে কাস্টম শুল্ক খাতে দ্রুত অর্থ বরাদ্দের বিষয় উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, জাপানের দেওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম বন্দরে ফেলে রাখায় দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

ভবিষ্যতে জাপানের কাছে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা চাইলে তারা নাও দিতে পারে। প্রসঙ্গত, প্রচলিত রাজস্ব আইন অনুযায়ী সরকারের নির্ধারিত কিছু খাত ছাড়া সব পণ্যেই শুল্ককর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।

অনুদানের সরঞ্জামে শুল্ক ছাড় দিতে হলে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। ওদিকে বন্দরের মাসুল মওকুফ করার ক্ষমতা রয়েছে শুধু নৌ প্রতিমন্ত্রীর।

অর্থনীতি

নভেম্বরে ১৫৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ হাজার ৬৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাবে)। এর আগের মাসে এসেছিল ১৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ আগের মাসের তুলনায় নভেম্বরে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।

রেমিট্যান্সের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে ব্যাংকগুলোকে রেমিট্যান্স কেনার জন্য দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। বর্তমানে ১০৭ টাকায় রেমিট্যান্স ও ১০০ টাকায় রপ্তানি বিলের মাধ্যমে আসা ডলার সংগ্রহ করছে ব্যাংক। এতেও গত মাসগুলোতে কোনো কাজ হচ্ছিল না। তবে সর্বশেষ নভেম্বর মাসে আগের তুলনায় রেমিট্যান্সের অংক সামান্য বেড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নভেম্বরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৮ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ লাখ ডলার এবং বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩ কোটি ২১ লাখ ডলার।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) টানা ২ বিলিয়ন ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কমে যাওয়ায় আগের দুই মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমে যায় সেপ্টেম্বরে। অক্টোবর মাসে আরও কমে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে।

অর্থপাচার ও কালো টাকা না কমলে বৈধ পথে রেমিট্যান্সও বাড়বে না। বিভিন্ন মহলের এমন বার্তার পর হুন্ডি প্রতিরোধের নতুন কৌশলে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠন করা হয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি হুন্ডির মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্সের ২৩০ জন বেনিফিশিয়ারির হিসাবে সাময়িকভাবে উত্তোলন স্থগিত করে বিএফআইইউ।

বলা হয়, ভবিষ্যতে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলে হিসাবগুলো খুলে দেওয়া হবে। হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রতিরোধে নতুন কৌশল নিয়েছে বিএফআইইউ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবরে ১৫২ কোটি ডলার পাঠান প্রবাসীরা। এই অংক গত ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৪৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে; যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

অর্থনীতি

ডলারের উত্তাপে নিত্যপণ্যের বাজারও গরম হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক মাস ধরে পণ্যের দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে কমছে না। বরং ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এ অজুহাতে সর্বশেষ চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম ফের বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার পর থেকে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছিল সেগুলো দেশে আসতে শুরু করেছে। যেখানে এগুলোর দাম কমার কথা, সেখানে ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

অন্যদিকে দাম বাড়ায় ক্রেতার কষ্ট বেড়েছে। নানা অজুহাতে প্রায় সব ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। অথচ এসব ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কোনো বিশ্লেষণ হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি সেভাবে তদারকি হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতিসংঘের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল অরগানাইজেশনের (এফএও) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর এই ৪ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম ১২ শতাংশ, সয়াবিনের দাম ১৮ শতাংশ, চিনির দাম ২২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ডালের দাম ৬ শতাংশ, ডিমের দাম ৮ শতাংশ কমেছে। তবে এক বছরের হিসাবে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও গড়ে ১২ শতাংশ বেশি রয়েছে।

জুনে আমদানির জন্য ডলারের দাম ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। বর্তমানে প্রতি ডলার ১০৭ টাকা। ওই সময়ে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ১৩ টাকা ৫৫ পয়সা। অর্থাৎ টাকার মান কমেছে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

করোনার পর খাদ্যপণ্যের দাম এক দফা বেড়েছে। এর ধকল কাটিয়ে উঠার আগেই ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে মার্চ থেকে খাদ্যপণ্যের দাম আরও লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। ফলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে থাকে।

এলসি খোলার পর ওই পণ্য দেশে আসতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। ওইসব পণ্য দেশীয় কারখানায় পরিশোধন হয়ে বাজারে আসতে আরও ১ মাস পার হয়। এ হিসাবে আমদানি পণ্য বাজারে আসতে ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগে। তবে তৈরি পণ্য হলে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে বাজারে আসে। বাড়তি দামে মার্চে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো বাজারে এসেছে জুন-জুলাইয়ে। সেগুলো পরিশোধ হয়ে বাজারে এসেছে জুলাই-আগস্টে। কিন্তু পণ্যের দাম বেড়েছে এপ্রিল থেকেই।

জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমতে শুরু করে। আগস্টে এসে বেশ কমে যায়। কম দামে জুলাইয়ে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাজারে এসেছে। কিন্তু দাম তেমন একটা কমেনি। বরং কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়লে আমদানি পণ্যের খরচ বেশি পড়ে। তবে কত বেশি পড়ে সেটি নির্ধারণ করতে গবেষণা হওয়া উচিত। এর একটি স্থায়ী পলিসি দরকার। ডলারের দাম কত বাড়লে কেজিতে কত বাড়বে। বর্তমানে এ ধরনের কোনো পলিসি নেই। দেখা যাচ্ছে সেপ্টেম্বরের তুলনায় এখন ডলারের দাম কমেছে। কিন্তু পণ্যের দাম ডলারের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের হলে ভোক্তার সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ হবে না। ডলারের মূল্য যেহেতু অস্থির, সে কারণে আগেই একটি পলিসি করা দরকার ছিল। আগে যেহেতু হয়নি, দ্রুত করা উচিত। ভোক্তার স্বার্থে এটি প্রয়োগ করাও জরুরি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়বে। কারণ অনেক পণ্য আছে যা আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। তবে বিশ্ববাজারে কিছু পণ্যের দাম কমছে। তার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েনি। এর একটা কারণ হতে পারে, ডলার সংকট ও মূল্য বৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের দাম বেশি হওয়ায় দেশীয় ব্যবসায়ীদের বেশি দরেই কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে। তারা অতি মুনাফা করতে পণ্যের দাম কমলেও বেশি দরে বিক্রি করে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সঙ্গে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে জুনে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা। ২১ জুলাই তা বেড়ে হয় ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা। ৮ আগস্ট আরও বেড়ে ৯৫ টাকা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর এক লাফে বেড়ে হয় ১০৮ টাকা। ৩১ অক্টোবর তা আরও কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১০৩ টাকা। এখন ব্যাংক ভেদে ১০১ থেকে ১০৭ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলো বর্তমানে আমদানির এলসি বেশি খুলছে। এসব ব্যাংকে প্রতি ডলার ১০৫ থেকে ১০৭ টাকা।

বাড়তি দামে ডলার কিনে এলসি খুললেও পণ্যের দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়ার কথা নয়। বাড়তি দামে ডলার কিনে এলসি খুলে পণ্য দেশে আসার পর বাড়ার কথা। কিন্তু তার আগেই পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম ১০০ টাকার উপরে উঠেছে সেপ্টেম্বরে। ওই সময়ে যেসব পণ্যের এলসি খোলা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই এখনও দেশে আসেনি। দেশে আসার পর এগুলো পরিশোধন হয়ে বাজারে যেতে সময় লাগবে আরও এক মাস। এ হিসাবে ডলারের দাম বাড়ার প্রভাব ডিসেম্বরে পড়ার কথা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও চিনির দাম যখন কমেছে তখন ১৭ নভেম্বর শুধু ডলারের দাম ১০০ টাকার উপরে চলে গেছে এই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। ওই দিন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১২ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা এবং চিনির দাম কেজিতে ১৩ টাকা বেড়ে ১০৮ টাকা করা হয়েছে। অথচ এই দামেও বাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। যা এক মাস আগে (অক্টোবর) ছিল ১০৫ টাকা। সেপ্টেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা, আগস্টে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। অথচ অক্টোবরের তুলনায় এখন ডলারের দাম কমেছে। তাহলে এখন যেসব পণ্যের এলসি খোলা হচ্ছে সেগুলোর দাম কি ৩-৪ মাস পর কমবে। উত্তর সহজ-কমবে না। তখন অন্য অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলবে।

আন্তর্জাতিক দাম কমার কারণে যেখানে দেশেও কমতির দিকে থাকার কথা, সেখানে চার মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনি কিনতে একজন ক্রেতাকে ২৫ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কমতির মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ৮৪ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৬ অক্টোবর প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ছয় টাকা বাড়িয়ে ৯০ ও প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা করা হয়। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। নতুন মূল্য হচ্ছে প্রতি কেজি ১০২ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ১০৮ টাকা।

২৬ জুন প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৮০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। মে থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম কমেছে। কিন্তু দেশের বাজারে ২৮ আগস্ট এক দফা মূল্য কমিয়ে প্রতি লিটার খোলা ১৭৫ ও বোতলজাত সয়াবিন ১৯২ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। বিশ্ববাজারে দাম আরও কমার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর লুজ সয়াবিনের লিটার ১৫৮ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য ১৭৮ টাকায় নামানো হয়।

তবে কিছু দিন বাজারে সরকার ঘোষিত মূল্য কার্যকর থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে বিক্রেতারা কারসাজি করে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭০ ও বোতলজাত ১৮০ টাকায় বিক্রি করে। সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর নতুনভাবে দাম বাড়ানো হয় ভোজ্যতেলের। এক লাফে লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়িয়ে খোলা সয়াবিনের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৭২ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতিলিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯০ টাকা।

তবে বাজার পরিস্থিতি পর্যালচনা করে দেখা গেছে-শুক্রবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকা। এক মাস আগে (অক্টোবর) বিক্রি হয়েছে ১৬৬ টাকা। এছাড়া বোতল সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা। যা এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকা।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মার্কিন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব ধরনের আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়েছে। সেই প্রভাব দেশেও পড়ছে। তবে কেউ দাম নিয়ে অসাধুতা বা কারসাজি করতে না পারে সেদিকে তদারকি করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ৬২ টাকা। যা এক মাস আগে (অক্টোবর) ছিল ৫৮ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে কমায় সেপ্টেম্বরে কমে ৫৫ ও আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৫২ টাকায়। তিন মাস ২৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটা খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা ময়দা প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা।

যা এক মাস আগে (অক্টোবর) বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা। মাসের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ৬২ টাকা, আগস্টে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি। সেক্ষেত্রে ৩ মাস ২৫ দিনের ব্যববধানে প্রতি কেজি খোলা ময়দা কিনতে একজন ক্রেতাকে ১৫ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারে গমের দাম কমেছে। মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি এখন ১৪০ টাকা। এক মাস আগে ছিল ১৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুধু ডলারের দাম ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে চার মাসে ডালের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।