আন্তর্জাতিক

ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি দেশের কৃষকদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবেন না, এমনকি যদি তাকে এর জন্য চড়া মূল্যও দিতে হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দিল্লিতে এক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন মোদি। খবর এনডিটিভির।

ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থ আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারত তার কৃষক, পশুপালক এবং জেলেদের স্বার্থের সঙ্গে কখনও আপস করবে না। আমি জানি যে এর জন্য আমাকে ব্যক্তিগতভাবে বিশাল মূল্য দিতে হবে, তবে আমি প্রস্তুত। ভারত দেশের কৃষক, জেলে এবং পশুপালকদের স্বার্থে প্রস্তুত।’

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কিছুক্ষণ পর প্রধানমন্ত্রী মোদি এসব কথা বলেন।

ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ধরনের কৃষি পণ্য রপ্তানি করে এবং ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যেসব ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে কৃষি একটি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার নয়াদিল্লির রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য জরিমানা হিসেবে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। এর আগে ২০ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল।

এ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা যেকোনো মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ শুল্কের মধ্যে একটি।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে ভারতকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ‘অন্যায়’, ও ‘অযৌক্তিক’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘আমরা ইতোমধ্যেই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, আমাদের আমদানি বাজারের কারণগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভারতের ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তাই এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা বেছে নিয়েছে।’

এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশ ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। গত বছরের ৩১ মে’র মধ্যে যারা যেতে পারেননি, তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত কর্মীদের এবার কনস্ট্রাকশন এবং ট্যুরিজম সেক্টরে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

শুক্রবার (১ আগস্ট) কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে হাইকমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আনায়নের লক্ষ্যে ডিমান্ড লেটার বা চাহিদাপত্র সত্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এজন্য ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) অনলাইন পোর্টালে চেকলিস্ট অনুযায়ী নির্ধারিত সব তথ্যাদি দাখিল করতে হবে।

দাখিলকৃত ডকুমেন্টেসের মধ্যে রয়েছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুমোদনপত্র, যা ম্যানেজার পর্যায়ের বা তদূর্ধ্ব কোনো কর্মকর্তার হতে হবে; বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমাকৃত সত্যায়ন ফি-এর মূল ব্যাংক স্লিপ; ৪-৫ জন কর্মীর সর্বশেষ বেতন স্লিপ; এবং কোম্পানির প্রোফাইল, যার মধ্যে কোম্পানির প্রোফাইল, বর্তমান কর্মীর সংখ্যা (স্থানীয় ও বিদেশি), প্রয়োজনে ২/৩ জন বাংলাদেশি কর্মীর মোবাইল নম্বর এবং বিগত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকতে হবে। এবং ব্যাংক ব্যালান্সও যথাযথ হতে হবে—যেমন ১০০ জন কর্মীর জন্য ন্যূনতম দুই লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত ব্যালান্স থাকা প্রয়োজন।

এছাড়া, ফরেন ওয়ার্কার্স কম্পেনসেশন স্কিম (সকসো) এবং ফরেন ওয়ার্কার্স হাসপাতালাইজেশন ও সার্জিকাল স্কিমের নমুনা দলিল, কর্মীদের আবাসন সংক্রান্ত জেটিকে সার্টিফিকেট, নির্মাণ চুক্তিপত্র, অঙ্গীকারনামা বা গ্যারান্টি লেটার, ডিরেক্টরের স্বাক্ষরিত ডিমান্ড লেটার, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি, নিয়োগপত্র, বোয়েসেল ও নিয়োগকারীর মধ্যে চুক্তিপত্র এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোটার অনুমোদনপত্রও দাখিল করতে হবে।

পাশাপাশি, অনলাইনে দাখিলকৃত তথ্যাদির মূল কপি এবং এক সেট ফটোকপি বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এদিকে, দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার পর মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার আভাস মিলেছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নির্ধারিত কোটা, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়োগ পদ্ধতি স্বচ্ছ রাখার শর্তে কর্মী পাঠানো আবারও শুরু হতে পারে।

সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া সরকার ‘সিলেক্টভি রিক্রুটমেন্ট’ মডেল চালু করতে চায়, যেখানে কেবল নিবন্ধিত এবং সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত এজেন্সির মাধ্যমেই কর্মী পাঠানো যাবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, যাতে বাংলাদেশ সরকার কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করেছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)-এর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ‘আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন হোক, যেখানে দালাল চক্রের কোনো সুযোগ থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মী প্রতি সর্বোচ্চ খরচ নির্ধারণ, মেডিকেল ও ভিসা প্রসেসিং সময় নির্ধারণ এবং নিয়োগকারী কোম্পানির বাস্তব যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বাংলাদেশ দিয়েছে। ‘

বাংলাদেশ সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক তার শ্রমিকদের শোষণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। দু’সপ্তাহ আগে বাংলাদেশি সরকার এবং মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের মধ্যে কুয়ালালামপুরে একটি বৈঠকের সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে হলে শুধু চুক্তি নয়, বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নানা অনিয়ম ও কোটা বাণিজ্যের অভিযোগে তা মাঝপথেই স্থগিত হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাশং থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছেন। এরপরই আজ ১ আগস্ট ভারতীয় টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। গার্মেন্টস খাতে ভারতের প্রধান প্রতিযোগী বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে চলে গেল।

বাংলাদেশ আগে থেকেই তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানির অন্যতম বড় দেশ। নতুন এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার পরপরই ভারতীয় টেক্সটাইল খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ার দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। আপস্টকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেপিআর মিলসের শেয়ার ৫ শতাংশ, ওয়েলসপুন লিভিংয়ের শেয়ার ২ শতাংশ, অলোক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ০ দশমিক ৮ শতাংশ, পিয়ার্ল গ্লোবালের শেয়ার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, গোকূলদাস এক্সপোর্টের শেয়ার ২ দশমিক ৬ শতাংশ, কিটেক্স গার্মেন্টসের শেয়ার ৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং বর্ধমান টেক্সটাইলের শেয়ার ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রকাশিত আমদানি শুল্ক তালিকা অনুসারে, ৫০টিরও বেশি দেশের ওপর শুল্ক কমিয়েছে ট্রাম্প। এতে রয়েছে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান (১৯ শতাংশ), ভিয়েতনাম (২০ শতাংশ) এবং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো আসিয়ান দেশগুলোতে ১৯ শতাংশ। তবে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিকে ঘিরে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে শ্রমনির্ভর খাত যেমন টেক্সটাইল ও উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য, আর সেখানে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এখন আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত শিগগিরই আরো সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি না করে, তাহলে রপ্তানিকারকরা মার্কেটে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাবে।

আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল।

সেই থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৩৪ ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে।

গাজার হামাসশাসিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমনটি জানিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৪৫ হাজার ৮৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৩ জন নিহত ও ৬৩৭ জন আহত হওয়ার পর নতুন এই তথ্য জানানো হলো। খবর বিবিসির।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় এখনও অনেক হতাহত আটকে আছেন, যাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা আজ (মঙ্গলবার) সকালে সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় বর্তমানে দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বাস্তব হয়ে উঠছে।

ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশনের (আইপিসি) ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার বেশিরভাগ অঞ্চলে খাদ্য মানদণ্ডে এবং গাজা সিটিতে তীব্র অপুষ্টির মানদণ্ডে এরইমধ্যে দুর্ভিক্ষের মাত্রা অতিক্রম করেছে।

এদিকে অবরুদ্ধ গাজা থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা বলেন, আমরা বারবার শুনি যে ত্রাণ ঢুকছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই চোখে পড়ে না।

কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সশস্ত্র দলগুলো ত্রাণবাহী ট্রাক লুট করে এবং উচ্চ দামে কালোবাজারে বিক্রি করছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা যে আমরা ত্রাণ আটকে দিচ্ছি।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের ব্যস্ত এলাকা মিডটাউনে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামসহ চারজন। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় পার্ক অ্যাভিনিউর ৪৪ তলা একটি অফিস ভবনে এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। হামলাকারী শেষে নিজেও আত্মহত্যা করেন।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এ ঘটনাকে ‘ঘৃন্য’ এবং ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভবনটিতে বন্দুকধারী হামলা চালানোর পর সেটিতে লকডাউন আরোপ করা হয়। ওই ঘটনার সময় ব্যস্ত নিউইয়র্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রক্তক্ষয়ী এ ঘটনা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে। ওই সময় একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পার্ক অ্যাভিনিউতে থামে।

বন্দুকধারী এক ব্যক্তি ওই গাড়ি থেকে একটি এম-৪ রাইফেল নিয়ে নামেন। এরপর তিনি ‘৩৪৫ পার্ক অ্যাভ’ নামে ৪৪ তলা ভবনটিতে প্রবেশ করেন। ভবনটির লবিতে ঢুকেই ডান দিকে ঘুরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন।

এরপর বন্দুকধারী এক নারীকে গুলি করেন। তিনি একটি পিলারের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নারীকে গুলি করে লবি দিয়ে ‘গুলি করতে করতে’ হেঁটে যেতে থাকেন হামলাকারী। এরপর সিকিউরিটি ডেস্কে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করেন হামলাকারী। তখন তিনি লিফটের বোতামে চাপ দেন। একই সময় লবিতে আরেক ব্যক্তিকে গুলি করেন বন্দুকধারী।

হামলাকারী লিফট থেকে এক নারীকে নেমে যেতে দেন। তার কোনো ক্ষতি করেননি। এরপর লিফটে করে ৩৩ তলায় যান হত্যাকারী। সেখানে গিয়ে আরেক নারীকে গুলি করে তারপর নিজের বুকে গুলি চালান তিনি।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস. টিশ জানিয়েছেন, ৩৩ তলায় রুডিন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অফিস অবস্থিত। যেটি ভবনটি পরিচালনা করত।

বন্দুকধারী কেন ওই ভবনে হত্যাযজ্ঞ চালালেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুলের বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। তিনি বাংলাদেশি ইমিগ্রেন্ট ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছিলেন তিনি। হামলার দিন তার ডিউটি ছিল ব্রঙ্কসের ৪৭ প্রিসেঙ্কটে। কিন্তু হামলার সময় তিনি ৩৪৫ পার্ক অ্যাভ ভবনে কাজ করছিলেন।

দিদারুলের দুই সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী গর্ভবতী। তিনি তৃতীয় সন্তানের বাবা হতেন।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার দিদারুল সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমরা তাকে যে কাজ করতে বলেছিলাম তিনি সেই কাজই করছিলেন। তিনি নিজেকে ঝুঁকির পথে রাখেন। তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়েছে। তিনি হিরো হিসেবে বেঁচে ছিলেন, মারাও গেছেন হিরো হিসেবে।’

ওই বন্দুকধারীর পরিচয় জানতে পেরেছে পুলিশ। তার নাম শেন তামুরা। ২৭ বছর বয়সী এই হত্যাকারী লাস ভেগাসের বাসিন্দা। নেভাডা রাজ্যে তার অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া তার মানসিক সমস্যার রেকর্ডও রয়েছে। তবে মানসিক সমস্যার কারণে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়। ন্যক্কারজনক এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্স সময় রাত সাড়ে ৯টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় যুদ্ধ থামানো এখন সবচেয়ে জরুরি। বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে হবে। শান্তি সম্ভব।

তিনি হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজাবাসীর জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ম্যাক্রোঁর ভাষ্য, এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র অপরিহার্য, যা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরই ফ্রান্স এই সিদ্ধান্তে এসেছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি তাকে চিঠি দিয়ে আমার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছি। আমাদের দরকার আস্থা, স্বচ্ছতা ও প্রতিশ্রুতি। আমরা শান্তি অর্জন করব।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ফরাসিরা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চায়। আমাদের—ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইউরোপীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের—এখন একসঙ্গে প্রমাণ করতে হবে, শান্তি সম্ভব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সের স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে চাপ আরও বাড়তে পারে।

তারা মনে করছেন, পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশই এই ঘোষণার পর নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য হবে।

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্স তাদের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কম্বোডিয়ার যে মানচিত্র এঁকেছিল, মূলত সেটাকে কেন্দ্র করেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

সীমান্ত নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার দীর্ঘ দিনের যে বিরোধ, তা বৃহস্পতিবার নাটকীয়ভাবে তীব্র আকার ধারণ করে।

এদিন কম্বোডিয়ার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় থাইল্যান্ড। সঙ্গে অভিযোগ তোলে, কম্বোডিয়া তাদের লক্ষ্য করে রকেট ও গোলা ছুড়েছে।

কম্বোডিয়ার হামলায় আট বছরের শিশুসহ থাইল্যান্ডের ১১ বেসামরিক ব্যক্তি ও এক থাই সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কম্বোডিয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া— দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রথমে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।

কী নিয়ে বিরোধ

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার এ বিরোধের সূত্রপাত এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে, যখন ফ্রান্স প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত নির্ধারণ করে দেয়।

এরপর থেকেই নিজেদের মধ্যকার প্রায় ৮১৭ কিলোমিটারের বিস্তৃত সীমান্ত নিয়ে দুই দেশ বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে। আর প্রতিবারই এ সংঘাত উসকে দিয়েছে জাতীয়বাদী মনোভাব।

বিরোধের সাম্প্রতিক যে পর্ব চলছে, সেটার সূত্রপাত গেল মে মাসে, যখন বিরোধপূর্ণ সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয় এবং এক কম্বোডিয়ান সেনার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিতে থাকে। থাইল্যান্ড সরকার কম্বোডিয়া সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে ফল ও সবজি আমদানি বন্ধ করে দেয় কম্বোডিয়া। তারা থাই সিনেমার সম্প্রচার বন্ধের পাশাপাশি থাইল্যান্ড থেকে আসা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথও বিচ্ছিন্ন করে।

এ উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় বুধবার। সেদিন সীমান্তে টহল দেওয়ার সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণে থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর পাঁচ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনার পর থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। তারা কম্বোডিয়া থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় এবং কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে।

অন্যদিকে স্থলমাইন বসানোর অভিযোগ অস্বীকার করে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটি থাইল্যান্ড দূতাবাস থেকে নিজেদের সব কর্মীকে প্রত্যাহারও করে নেয়।

বিরোধের প্রভাব অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও

কম্বোডিয়ার শাসনব্যবস্থা কার্যত একদলীয়। ২০২৩ সালে ছেলে হুন মানেতের হাতে ক্ষমতা ছাড়ার আগে প্রায় চার দশক ধরে দেশটি শাসন করেন কর্তৃত্ববাদী নেতা হুন সেন।

হুন সেন বর্তমানে সেনেটের প্রেসিডেন্ট এবং এখনও তিনি দেশটির অত্যন্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

চলমান বিরোধের মধ্যে তিনি জাতীয়বাদী মনোভাবকে উসকে দিয়ে ছেলের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করা চেষ্টা চালাতে পারেন বলে মনে করেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ গবেষক ম্যাট হুইলার।

তিনি বলেন, “হুন মানেত তার বাবার ছায়ায় থেকে দেশ পরিচালনা করছেন এবং তার নিজের ক্ষমতার ভিত জোরালো নয়।”

কেউ কেউ বলছেন, এই বিরোধ নানা ধরনের অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মানুষের নজর ভিন্ন দিকে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

দুটি দেশই ১ অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

এরমধ্যে থাইল্যান্ড দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েও যাচ্ছে।

সীমান্ত বিরোধ সামলানোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিতে পারার অভিযোগে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে।

থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পায়েতংতার্ন তোপের মুখে পড়েন মূলত একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর।

ফোনালাপটি ছিল কম্বোডিয়ার হুন সেনের সঙ্গে। ওই কথোপকথনে হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ সম্বোধন করেন পায়েতংতার্ন। সঙ্গে বলেন, তার যদি কোনো চাওয়া থাকে, তাহলে তিনি ‘সেটা দেখবেন’।

পায়েতংতার্ন দেশটির সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন।

থাইল্যান্ডে সামরিক বাহিনী খুবই প্রভাবশালী এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তারা প্রতিনিয়ত হস্তক্ষেপ করে থাকে।

সব কিছু মিলিয়ে পায়েতংতার্নের রাজনৈতিক দল— ফ্যু থাই পার্টি একটা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইএসইএএস-ইউসফ ইশাক ইনস্টিটিউটের’ সহযোগী গবেষক তিতা সাংলি।

তিনি বলেন, “সামরিক বাহিনীর কথার বাইরে যাওয়ার খুব বেশি বিকল্প দলটির হাতে নেই।”

থাই সরকার হয়ত ভাবছে, কম্বোডিয়া ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিলে তারা জনসমর্থন ফিরে পেতে পারে।

সমাধান কোন পথে

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসকে (আইসিজে) সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে দিতে বলেছিল কম্বোডিয়া। যদিও এতে কোনো সমাধান মেলার সুযোগ নেই। কারণ আইসিজের আদেশ থাইল্যান্ড মানতে বাধ্য নয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট— আসিয়ানের চেয়ারম্যান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশকেই ‘সংযত’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছেন।

কিন্তু কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলা আসিয়ানের পক্ষে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সাংলি।

তিনি বলেন, “একমাত্র চীনই এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ দুটি দেশের ওপরেই দেশটির প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।”

কিন্তু চীনের মধ্যস্থতা করা নিয়েও জটিলতা আছে। দুই দেশের সঙ্গে জোরালো অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও চীনকে অনেকেই ‘কম্বোডিয়া-ঘেঁষা’ হিসেবে দেখেন। ফলে তাদের মধ্যস্থতা নিয়ে থাইল্যান্ডের অনেকেই আপত্তি তুলতে পারেন।

সাংলি মনে করেন, চীনের হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে আশপাশের দেশগুলোও, যারা ওই অঞ্চলের বেইজিংয়ের আধিপত্য নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন।

থাইল্যান্ডের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেছেন, আলোচনার টেবিলে বসার আগে অবশ্যই লড়াই বন্ধ হতে হবে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে হামলার অভিযোগে এনে সংকট নিরসনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন কম্বোডিয়ার নেতা হুন মানেত।

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব নিয়ে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে তুরস্কের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ইয়েনি সাফাক।

কীভাবে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৌশলগতভাবে সংগঠিত করে এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করে। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক সাদিক কায়েমের মুখোমুখি হয় তারা।

কীভাবে একটি ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় জাতীয় বিপ্লবে। এই বিস্তৃত আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন আন্দোলনের সূচনা, পর্দার আড়ালে চলা সমন্বয় প্রচেষ্টা, গুরুত্বপূর্ণ বাঁক ও তার চোখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রূপরেখা- এসব বিষয় নিয়ে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো এই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সাদিক কায়েমের সাক্ষাৎকারটি যুগান্তর পাঠকদের উদ্দেশে হুবহু তুলে ধরা হলো-

ইয়েনি সাফাক: জুলাই আন্দোলনের পেছনের মূল প্রেরণা কী ছিল? কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আপনি ব্যাখ্যা করবেন?

সাদিক কায়েম: জুলাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা নিহিত ছিল বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের অভিজ্ঞতায়। এই সময়ে রাষ্ট্র মদতপুষ্ট বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নির্বাচনী জালিয়াতি, সংগঠিত ইসলামবিদ্বেষ ও মানবাধিকারের প্রতি নির্লজ্জ অবহেলা চালিয়ে গেছে।

২০১৩ সালে এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, যখন আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী প্রায় ২০০ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। একই বছরের ৫ মে, শাপলা চত্বরে আমরা প্রত্যক্ষ করি কীভাবে নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্র ও আলেমদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়।

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর চালানো হয় হিংস্র দমন অভিযান, যার ফলেও বহু তরুণ প্রাণ হারায়।

২০২৪ সালের ৫ জুন শেখ হাসিনা আকস্মিকভাবে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেন—যা সরকার সমর্থকদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে এবং হাসিনার অবৈধ শাসনকে বৈধতা দেওয়ার এক কৌশল হিসেবে দেখেছিল সবাই। এটি ছিল সহ্যের সীমার শেষ বিন্দু। এই ব্যবস্থাটি মেধার প্রতি অবিচার এবং সেই ক্ষোভই বিস্ফোরণে রূপ নেয়, যা ক্রমে একটি সর্বব্যাপী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। জীবনের সকল স্তরের মানুষ তখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।

ইয়েনি সাফাক: বাংলাদেশে যখন গণমাধ্যম কঠোর নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধের মতো পরিস্থিতিতে প্রতিবাদকারীরা সংগঠিত থেকে কীভাবে যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন?

সাদিক কায়েম: সরকার-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম যখন প্রোপাগান্ডার যন্ত্রে পরিণত হয়, তখন সামাজিক মাধ্যমই হয়ে ওঠে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। ৫ জুন, কোটা পুনর্বহালের দিনই আমরা ‘কোটা পুনর্বহাল চলবে না’ নামক ফেসবুক গ্রুপ চালু করি। এটি দ্রুতই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে, যেখান থেকে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়।

আমরা প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন করে মডারেটর নিযুক্ত করি যিনি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসের যাবতীয় তথ্য, কর্মসূচি ও সংবাদ সমন্বয় করতেন।

১৮ জুলাই রাতে যখন পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০ জুলাই দেশজুড়ে কারফিউ জারি হয় আমরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত ছিলাম। আমরা আগে থেকেই অতিরিক্ত সিমকার্ড ও বাটন ফোন সংগ্রহ করতে বলেছিলাম, যাতে অফলাইন যোগাযোগ বজায় রাখা যায়। ফলে প্রতিদিন বিকাল ৩টার মধ্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়—প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদদাতাদের কাছে সরবরাহ করতাম।

আমাদের ৯ দফা দাবি ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ভিডিও প্রমাণ আমরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাঠাই, কারণ স্থানীয় মিডিয়াগুলো তখন গোয়েন্দা সংস্থার দমনচক্রে কার্যত নীরব হয়ে যায়।

১৫ জুলাই নারীদের উপর নির্মম হামলার পর আন্দোলন এক নতুন গতি পায়। নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এরপর ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে কিছুটা মনোবল ভেঙে পড়ে, কিন্তু ১৮ জুলাই থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহুরে মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব নেয়। পরে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররাও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়। শুধু যাত্রাবাড়িতেই একশ’র বেশি মানুষ শহীদ হন।

১৫ জুলাইয়ের নারীদের রক্তাক্ত ছবি সাধারণ মানুষের বিবেক নাড়িয়ে দেয়—এটি ছিল এক মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত, যা বস্তিবাসী ও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে সমানভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে একটি ঐক্য গড়ে ওঠে, যা বাংলাদেশে নজিরবিহীন।

ইয়েনি সাফাক: এই বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো কোনগুলো ছিল? কীভাবে চাপ মোকাবিলা করেছেন?

সাদিক কায়েম: ১৮ জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারফিউ এবং একের পর এক হত্যার ঘটনায় ভয় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো আন্দোলনের সমন্বয় দায়িত্ব এসে পড়ে আমার কাঁধে। আমি প্রতিদিনের কর্মসূচি, বিবৃতি ও নেতাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করি।

নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও মাহফুজ আলম ওই সময়কার মূল কৌশলগত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এস এম ফারহাদ, মোহিউদ্দিন খান, মনজুরুল ইসলাম, সিবগাতুল্লাহ ও রিফাতসহ অনেকেই নিরন্তর কাজ করে যান মাঠে ও আড়ালে। ড. মির্জা গালিব ছিলেন পুরো বিপ্লব জুড়ে কৌশলগত নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মেধাস্রোত।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগে জুলকারনাইন সায়ের (আল-জাজিরা), সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং পিনাকি ভট্টাচার্য অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। দেশীয় মিডিয়া স্তব্ধ থাকলেও তারা তথ্য পৌঁছে দেন প্রবাসী ও বৈদেশিক মহলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সাংবাদিক, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) ও মোবাইল সাংবাদিকেরা মাটির কাছাকাছি থেকে রিপোর্ট করে তথ্যপ্রবাহ জাগিয়ে রাখেন।

চরমতম পরীক্ষাটি ছিল মনোবল ধরে রাখা। প্রতিদিন শতাধিক শহীদ হচ্ছেন, বহু সমন্বয়ক গ্রেফতার ও নির্যাতিত হচ্ছেন। ২৮ জুলাই রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে কিছু নেতাকে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণাও করানো হয়। আমরা তৎক্ষণাৎ তা প্রত্যাখ্যান করি এবং বলি—শেখ হাসিনা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ৪ আগস্ট, যখন ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের ৯ দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা একত্রিত করে চূড়ান্ত দাবি নির্ধারিত হয়—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমি বুঝতে পারি, ৫ আগস্ট শাহবাগে দুপুর ২টায় বিক্ষোভ ডাকলে আওয়ামী লীগ আগে জায়গাটি দখল নিতে পারে। তাই আমি সকাল ১০টায় শুরু করার প্রস্তাব দিই এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তবায়িত হয়।

ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে বিক্ষোভের সিদ্ধান্তই আন্দোলনের গতি নির্ধারণ করে দেয়। পরদিন ৫ আগস্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের যৌথ আক্রমণ চালানো হয় আন্দোলনকারীদের উপর। কিন্তু এই দমনই জনগণের প্রতিরোধ মনোভাব আরও দৃঢ় করে এবং হাসিনার পতনের ভিত্তি তৈরি হয়।

এ সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবদুল কাদের, হান্নান মাসুদ, মাহিন সরকার, রিফাত রাশিদ এগিয়ে আসেন।

আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতৃত্বের কাঠামোকে সংহত ও নির্ভরযোগ্য রেখেছি—চিহ্নিত ছাত্রনেতাদের বাইরে রেখে অভ্যন্তরীণ কৌশলগত নেতৃত্ব গড়ে তুলেছি। তাতেই আমরা সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছি। ক্যাম্পাসের স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্রদের আমরা সাহস জুগিয়েছি, কিন্তু কৌশলগতভাবে নির্দেশনা দিয়েছি পেছন থেকে।

ইয়েনি সাফাক: সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং ভারত ও চীনের মতো বিদেশি শক্তির প্রভাব আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? ভবিষ্যতের কূটনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

সাদিক কায়েম: আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কিছু জুনিয়র কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সহানুভূতির ইঙ্গিত আমরা পেয়েছি। তারা বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। যদিও সিনিয়রদের অনেকেই আগের শাসনের সুবিধাভোগী ছিলেন, কিন্তু নতুন প্রজন্ম রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সেতুবন্ধন রচনায় আগ্রহী।

আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই—যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন—তাদের রাজনীতিতে স্থান নেই যতক্ষণ না তারা বিচারের মুখোমুখি হন।

আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল—জার্মানির চরমপন্থি সংগঠনের মতোই তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

ভারত গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশকে একপ্রকার উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা শুধু হাসিনার শাসন সমর্থনই করেনি, বরং ৫ আগস্টের গণহত্যাকেও নীরব সম্মতি দিয়েছে। তারা ভারতের মুসলমানদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে—এই দিক থেকে তারা দক্ষিণ এশিয়ার ইসরাইলে পরিণত হয়েছে। আমরা তাদের আধিপত্য আর মানতে রাজি নই।

চীনের সঙ্গে আমরা ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই—স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে।

এই বিপ্লব কারও দয়া বা বিদেশি হস্তক্ষেপে আসেনি—এটি এসেছে আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগে। তাই আমাদের কারো কাছে ঋণ নেই, আমরা স্বাধীনভাবে কূটনীতি চালিয়ে যাব—যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ভারত—সবার সঙ্গে সমানভাবে।

ইয়েনি সাফাক: আপনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান? তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী? আর আপনি নিজে কী করবেন?

সাদিক কায়েম: আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও স্বপ্ন রক্ষিত হবে—জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, কিংবা মতাদর্শ নির্বিশেষে।

যেখানে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, থাকবে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, এবং আইনের শাসন—যেখানে আইন হবে সকলের জন্য সমান।

আমরা চাই এমন অর্থনীতি, যেখানে ধনিক শ্রেণির একচেটিয়া ক্ষমতা নয়—গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, নারী ও যুবকের জন্য হবে স্বনির্ভরতা ও সম্ভাবনার পথ।

আমরা চাই এমন শিক্ষা, যা কেবল পরীক্ষায় পাস করানো নয়—চিন্তা, মানবিকতা ও নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।

তরুণদের বলব—এই বিপ্লব প্রমাণ করেছে, তরুণরাই জাতির চালিকাশক্তি। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, পোস্ট, প্রতিবাদ—সবই ইতিহাস গড়েছে। কখনও নিজের কণ্ঠকে তুচ্ছ ভেবো না।

আমি নেতৃত্বকে দেখি দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা নয়। আমি এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর যে ভালোবাসা ও আস্থা পেয়েছি—তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তবে আমি রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখি না। আমি চাই নেতৃত্ব গড়ে উঠুক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ-ভিত্তিক হয়ে—ব্যক্তিনির্ভর নয়।

আমি নিজেকে দেখতে চাই এক সংগঠক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে—যিনি তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে সহায়তা করবেন।

নতুন বাংলাদেশ শুধু সম্ভাবনা নয়—এটি সময়ের দাবি। হয় আমরা এগিয়ে যাব, নয়তো আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাব। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এবার আমরা এগিয়ে যাব—কারণ তরুণরা জেগে উঠেছে, জনগণ আর পেছনে ফিরবে না।