জাতীয়

নির্বাচন বিলম্বিত করার সব ষড়যন্ত্র বানচাল করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ব্যাপারে সরকার একনিষ্ঠভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানানো হয়।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি এটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার।

নির্বাচন নিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আমাদের গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে। জনগণের ইচ্ছা জয়ী হবে, কোনো অশুভ শক্তিকে গণতন্ত্রের পথে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এই সংকটকালীন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। আমাদের সংগ্রামের অর্জন রক্ষা করতে, জনবিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে এবং গণতন্ত্রে আমাদের সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।

বিবৃতিতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার এ হামলাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপর আঘাত মনে করছে বলেও জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, কেবল নুরুল হক নুরের ওপরই নয়, এই ধরনের সহিংসতা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ঐতিহাসিক সংগ্রামে জাতিকে একত্রিত করা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্পিরিটের ওপরও আঘাত বলে মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণকে আশ্বস্ত করছে যে, এই নৃশংস ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সম্পন্ন করা হবে। প্রভাব বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, জড়িত কোনো ব্যক্তি জবাবদিহিতা থেকে রেহাই পাবে না। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে এর বিচার সম্পন্ন করা হবে।

নুরুল হক নুরের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজনে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতি।

জাতীয়
জাতীয়

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ১০টি লোহার সিন্দুক ও ৩টি ট্রাঙ্কের দানবাক্স খোলা হয়েছে। গণনা শেষে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২০৩ টাকা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন রূপালী ব্যাংক ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

এর আগে ৪ মাস ১৮দিন পর শনিবার সকাল ৭টায় দানবাক্সগুলো খুলে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দুপুর আড়াইটা বিরতির সময় পর্যন্ত ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা গণনা করা হয়।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ চার শতাধিক মানুষের একটি দল টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন। তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলার কথা থাকলেও মাদ্রাসা-কলেজের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাজনিত কারণে এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর দানবাক্স গুলো খোলা হয়। এ কারণে এবার নতুন করে বসানো হয়েছে আরও ৩টি দানবাক্স।

এর আগেও অনিবার্য কারণে ৪ মাস ১২দিন পর চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পাগলা মসজিদের দানবাক্সগুলো খুলে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়াও পাওয়া গিয়েছিল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এরশাদুল আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, আমরা দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত টাকায় পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানার এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি নির্বাহের পাশাপাশি অন্য মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এমনকি দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত লোকজনকে সহায়তা করে থাকি।

তবে, পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের সর্বাধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স তৈরির মাস্টারপ্ল্যানও হাতে নিয়েছি। এজন্য পাগলা মসজিদের তহবিলে ইতোমধ্যেই ৯১ কোটি টাকা জমা আছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের মাঝপথ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী সংলগ্ন হারুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় দু’শ বছরের অধিক সময়ের পুরোনো এ পাগলা মসজিদ। শহরের হয়রত নগর জমিদার বাড়ির পূর্ব পুরুষ আধ্যাত্মিক সাধক-পাগল হিসাবে পরিচিত জিল কদর খান এক সময় নরসুন্দা নদীর মাঝপথে জেগে ওঠা উঁচু টিলাতে তার আস্তানা গড়ে তুলেন। তার দেহাবসানের পর আস্তানাটি মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মসজিদটি এ কারণে সারা দেশের মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। এখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবিদেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের শেষ ঠাঁই হিসেবে বিবেচিত হয়ে উঠেছে এ মসজিদ।

জাতীয়

১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে নগদ অর্থবিহীন (ক্যাশলেস) বাংলাদেশ সম্ভব। শুধু নগদ অর্থের মাধ্যমেই দেশের সব মানুষকে ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের আওতায় আনা যাবে তা নয়, নগদ অর্থবিহীন লেনদেনের মাধ্যমেও এটি সম্ভব। এটি হলে সরকারের অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে। সেই সঙ্গে নোট জালকারীদের তৎপরতা কমে যাবে।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ব্যাংকার্স মিট ২০২৫’ অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত ফিনটেক বিশেষজ্ঞ ব্রেট কিং এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ব্রেট কিং বলেন, মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল পরিচয়ভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই নগদ অর্থনির্ভরতা কাটিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের উচ্চমাত্রায় খেলাপি ঋণ ও প্রশাসনিক নানা সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

দেশে প্রথমবার ব্যাংকার্স মিট অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ফিলপস লিমিটেড। এতে সহযোগিতা করে সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।

ব্যাংকার্স মিটে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতারাসহ জ্যেষ্ঠ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল ব্যাংকিং নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্রেট কিং বলেন, চীন ২০১২ সালে বাংলাদেশের মতোই ছিল নগদ অর্থনির্ভর অর্থনীতির দেশ। এখন দেশটিতে খুচরা লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার ১ শতাংশের কম। বাংলাদেশও চাইলে একই পরিবর্তন ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে সম্ভব। তবে এজন্য ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন, কম দামে স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেন, বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর সংখ্যা হাতে গোনা, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

সমাপনী বক্তব্যে ফিলপসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) বিশ্বাস ধাকাল বলেন, ফিলপস উদীয়মান বাজারে বছরের পর বছর সফলতার মাধ্যমে অর্জিত প্রযুক্তি ও পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তারা দীর্ঘ মেয়াদে এখানে থাকতে চান। ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শিল্পের অংশীদারদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিতে চান।

জাতীয়

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সংস্কার সংস্কার করে কালক্ষেপণ করলে ভয়ংকর বিপদ নেমে আসবে, মহাবিপদ ডেকে আনবে। ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের সংস্কার আমরা দেখেছি। সে সংস্কারের পর শেখ হাসিনার দানব সরকার এসেছিল। জাতি পেয়েছিল ভয়ংকর দুঃশাসন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, আমরা ১/১১ সরকারের সংস্কারের জিকির ভুলে যাইনি। তৎকালীন সিইসি শামসুল হুদা বিএনপির গঠনতন্ত্র ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। সে ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকার সংস্কার করে এমন সরকার ক্ষমতায় এনেছিল যে সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, জাকির, সুমনসহ অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করে, খুন করে, ভয়াবহ দুঃশাসন কায়েম করেছিল। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতাকে কেড়ে নিয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। আমরা এমন সংস্কার চাই না। দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে যে প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বিএনপি সেটির বিরোধিতা করে না। তাই সামনে অনেক সময় রয়েছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে আগামী ফেব্র“য়ারিতে নির্বাচনের যে সময় ঘোষণা করা হয়েছে সেই ঘোষিত সময়েই নির্বাচন দাবি করেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হলেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তার দেখানো পথ ধরেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। এসময় ইয়াসিন আলী, ডা. জাহিদুল কবিরসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এখানে কোনো শক্তি নেই নির্বাচনকে দেরি করবে। চিফ অ্যাডভাইজার বলেছেন। এরপর ইলেকশন কমিশনও বলেছে। আমাদের পুরো জাতি এটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি এবং আল আমিনের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব বলেন, আমাদের সরকারের যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, ইলেকশন নিয়ে যারা কাজ করে সবাই পুরো দমে কাজ করছে। ইলেকশন ফেব্রুয়ারিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যারা সন্দেহের বীজ রোপণ করছেন তাদের বলব- আপনারা থামেন। রোজা শুরু হওয়ার আগেই ইলেকশন হবে।

তিনি বলেন, জাতি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। বর্ষাটা শেষ হলে দেখবেন পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনের আমেজ নেমে আসবে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দুয়ারে দুয়ারে যাবেন ভোটের জন্য। পাড়ায় পাড়ায় নির্বাচনি অফিস হচ্ছে। এটার আমেজ সব জায়গাতে আসবে। আমেজ শুরু হলে কারো মনে যদি সন্দেহে থাকে সেই সন্দেহটুকু চলে যাবে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, মাগুরায় মোট ১০ জন শহীদ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ যুবলীগের খুনি বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছেন ছাত্রদল নেতা রাব্বি। এছাড়া ঢাকায় ছোট ব্যবসা করতেন আল আমিন। তাকেও গুলি করে মারা হয়েছে। ছুটি পেয়েছি, এসেছি। এই দুজনের কবরে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়েছি। বাকি ৮ জনের প্রত্যেকের কবরেও যাব। তাদের আত্মত্যাগে নতুন একটি দেশ পেয়েছি। সবাই মুখ ফুটে কথা বলতে পারছি। সামনে একটা সুন্দর নির্বাচন হবে। তাদের কারণেই আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই তাদের সম্মান জানাতে এসেছিলাম।

 

জাতীয়

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা অল্প সময় আছি। আরও সময় পেলে আরও কাজ করতে পারতাম। আমরা দ্রুতই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিজের ঠিকানায় ফিরে যাব।

শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শ্রী অদ্বৈত আচার্য প্রভুর জন্মধাম রাজারগাঁও মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ পরিদর্শনকালে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সুষ্ঠু সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি সব বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর পর শ্রী অদ্বৈত আচার্য মন্দির প্রাঙ্গণে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা।

এ সময় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক, শ্রী অদ্বৈত মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন তিনি বিসিআইসির তাহিরপুর ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প জামে মসজিদ উন্নয়ন সংস্কার কাজে পাঁচ লাখ টাকা সরকারি অনুদান প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন।

জাতীয়

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে এখনো বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের জুন থেকে গত জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ সোয়া ৪ বছর ধরে বাংলাদেশ লাল তালিকায় অবস্থান করছে।

আলোচ্য সময়ে প্রতি মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের উপরে। একই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পণ্যভেদে দাম আরও বেশি বেড়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে ৫ শতাংশের নিচে নামলেই লাল বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বের হতে পারবে বাংলাদেশ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের কম বেড়েছিল অর্থাৎ ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এরপর থেকে এ হার ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ গত সোয়া ৪ বছরের বেশি সময় ধরে এই লাল বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অবস্থান করছে। গত রোজার সময় থেকে জুন পর্যন্ত অনেক পণ্যের দাম কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য চাল, সবজি, ডিম, মুরগিরর দাম বাড়ছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে লাল তালিকা থেকে সহসা বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেসব দেশ খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে লাল ও পিঙ্গেল বর্ণের (কালচে লাল বা তামাটে রং) তালিকায় থাকবে ওইসব দেশের মুদ্রার মান স্থিতিশীল নয় বলে ধরে নেওয়া হয়। ফলে ওইসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ক্ষেত্রে ডলারের প্রবাহ, দাম ও মূল্যস্ফীতির হার সবার আগে পর্যালোচনা করে।

বিশ্বব্যাংক খাদ্য মূল্যস্ফীতির সূচক তৈরির ক্ষেত্রে কিছু ধাপ অনুসরণ করে। এর মধ্যে যেসব দেশের খাদ্যপণ্যের দাম প্রতি মাসে গড়ে ২ শতাংশের কম বাড়ে ওইসব দেশকে সবুজ তালিকায় রাখে। অর্থাৎ কোনো ঝুঁকি নেই। যেসব দেশের খাদ্যপণ্যের দাম প্রতি মাসে ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে বাড়ে ওইসব দেশকে হলুদ তালিকায় রাখে। অর্থাৎ দেশটি ঝুঁকির দিকে চলে যাচ্ছে। এখনই খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যেসব দেশের খাদ্যপণ্যের দাম প্রতি মাসে ৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পায় তাদের রাখে লাল তালিকায়। ওইসব দেশ খাদ্য মূল্যস্ফীতির দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে গেছে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেমন সবুজ তালিকায় ছিল, তেমনি হলুদ তালিকায়ও ছিল। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে সবুজ তালিকায় স্থান পেয়েছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে হলুদ তালিকায় ছিল। অন্য সময়গুলোতে ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে লাল তালিকায় ওঠেছে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, অনেক দেশ বৈশ্বিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে লাল তালিকা থেকে বেরিয়ে যেতে পারলেও বাংলাদেশ এখনো পারেনি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও ২০২২ সালে শুরু বৈশ্বিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি খুবই ধীর। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে মূল্যস্ফীতির হার যেমন খুবই ধীর গতিতে কমছে, একই গতিতে কমছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে। এদিকে এখনো দেশে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্য বাড়ছে ৫ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

সর্বশেষ যেসব দেশে খাদ্যপণ্যের দাম প্রতি মাসে গড়ে ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ওইসব দেশকে পিঙ্গল বর্ণের তালিকায় ফেলা হয়েছে। ওই তালিকাকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি নিরূপণের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশকে পিঙ্গল বর্ণ দিয়ে শনাক্ত করা হয়। এক সময় বাংলাদেশও মানি লন্ডারিংয়ের ক্ষেত্রে পিঙ্গল বর্ণ অর্থাৎ অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় ছিল। পরে ওই তালিকা থেকে বাংলাদেশ বের হয়ে এসেছে। বাংলাদেশ এখন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ঝুঁকিমুক্ত দেশের তালিকায় আছে। যে দেশ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকবে ওই দেশকে বৈদেশিক বাণিজ্য করতে গেলে বাড়তি কমিশন দিতে হয়, বৈদেশিক ঋণ নিতে গেলেও বাড়তি গ্যারান্টি ফি দিতে হয়। এতে ব্যবসা খরচ বৃদ্ধি পায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১৪ দশমকি ১০ শতাংশে ওঠেছিল। পরের ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ হার কমে সর্বনিম্ন দশমিক ২৫ শতাংশে নামে। এরপরের দুই ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ডাবল ডিজিট অতিক্রম করে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশে গড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবার কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক ৫৭ শতাংশে। এরপরের তিন অর্থবছরে এ হার ৫ শতাংশের উপরে ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা আবার ৫ শতাংশের নিচে অর্থাৎ ৪ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমেছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। এরপর ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ শতাংশের ঘরেই ছিল খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ হার আবার বেড়ে সাড়ে ৬ শতাংশে ওঠে। ওই সময়ে করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকা ব্যাপক হারে বাজারে ছাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছিল। পরের ২০২০-২১ অর্থবছরে আবার তা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে। ওই অর্থবছরের মে মাসে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির হার কমে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়ায়। যদিও বছরের হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের উপরে ছিল। এরপর থেকে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়।

করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকলে তখন মূল্যস্ফীতির হারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ হার বেড়ে ৬ দশমিক ২২ শতাংশে ওঠে। এর আগে এ হার গড়ে ৫ শতাংশের ঘরেই ছিল। ওই মাসের শেষ দিকে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমন করলে বৈশ্বিকভাবে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। দেখা দেয় বৈশ্বিক মন্দা। এর নেতিবাচক প্রভাব অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পড়ে। ফলে বাড়তে থাকে মূল্যস্ফীতির হার। মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩০ শতাংশে ওঠে। এরপর থেকে এ হার বাড়তেই থাকে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এ হার বেড়ে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশে ওঠে। যা ছিল ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির সমান। এরপর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টাকা ছাপানো বন্ধ করে। ডলারের দাম স্থিতিশীল করে। পণ্যমূল্য কমাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। ফলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও কমতে থাকে।

জাতীয়

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নামে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেসব প্রোফাইল থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সেনাবাহিনী প্রধানের নিজস্ব কোনো ফেসবুক প্রোফাইল বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নেই এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেই।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নামে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া প্রোফাইল খোলা হয়েছে এবং সে সকল প্রোফাইল থেকে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমতাবস্থায়, জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকে এ ধরনের ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হলো।

এ ধরনের বিভ্রান্তমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয়

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় দু’দিনে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিএনপির ১৪ ইউনিয়নের সম্মেলন হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার দিনব্যাপী এসব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ঢালুয়া ইউনিয়নের ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেসাখাল ইউনিয়নের দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাঙ্গড্ডা ফাজিল মাদরাসা।

মঙ্গলবার বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভোলাইন বাজার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভোলাইন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বটতলী ইউনিয়নের বটতলী এম এ মতিন উচ্চ বিদ্যালয় ও বটতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের বক্সগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, বক্সগঞ্জ আলিম মাদরাসা ও বক্সগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোড্ডা পূর্ব ইউনিয়নের জোড্ডা বাজার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, জোড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জোড্ডা বাজার সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসা, এবং জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের দুয়ারিয়া জামিউল উলূম কওমী মাদরাসা।

পূর্বঘোষণা ছাড়াই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে স্কুলে এসে মাঠে সম্মেলনের মঞ্চ ও শত শত নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখে হতবাক হয়। পরে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। কিছু প্রতিষ্ঠানে মাইকের উচ্চ শব্দ উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টা পাঠদান চললেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি নাঙ্গলকোটের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪ ইউনিয়নের সম্মেলন ১২ ও ১৩ আগস্ট করার ঘোষণা দেয়।

ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম দিন ৭ ইউনিয়ন এবং পরদিন ৭ ইউনিয়নের সম্মেলন হয়। এর মধ্যে দৌলখাঁড়, আদ্রা উত্তর, রায়কোট দক্ষিণ ও পেরিয়া ইউনিয়নের সম্মেলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠের বাইরে অনুষ্ঠিত হয়। মৌকরা ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের সম্মেলন জেলা বিএনপি স্থগিত করে। বাকি ১০ ইউনিয়নের সম্মেলন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হওয়ায় মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ব্যাহত হয়।

বাঙ্গড্ডা ফাজিল মাদরাসার আলিম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শুরুর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে স্লোগান শুরু করেন। পরে শিক্ষকরা ছুটি দেন। পড়াশোনার সময় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চাইলে খালি মাঠ বা ছুটির পর অনুষ্ঠান করতে পারতো।

জোড্ডা বাজার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেফায়েত উল্লাহ বলেন, মাইকের শব্দ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, এভাবে সম্মেলন আয়োজন দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম করার বিধান নেই। যারা এ কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানাব।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল আমিন সরকার বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।