জাতীয়

রমজানুল মোবারক বান্দার জন্য আল্লাহতায়ালার অনেক বড় নেয়ামত। এ মাসের দিবস-রজনিকে আল্লাহতায়ালা খায়ের ও বরকত দিয়ে পূর্ণ করে রেখেছেন। তাকওয়া অর্জনের অনুশীলনে এবং ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সব আমলের জন্য ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। এ মাস শুধু একটি মাসই নয়; বরং গোটা বছরের জন্য এটা তাপকেন্দ্র। এ মাস থেকেই মুমিন গোটা বছরের তাকওয়া-তাহারাতের সঞ্চয় গ্রহণ করে। গোটা বছরের ইমানি প্রস্তুতি এ মাস থেকেই গ্রহণ করে। হাদিস শরিফের ভাষায়- ‘আল্লাহতায়ালার কসম! মুসলমানদের জন্য এরচেয়ে উত্তম মাস আর নেই এবং মুনাফিকদের জন্য এর চেয়ে ক্ষতির মাসও আর নেই। মুসলমান এ মাসে (গোটা বছরের জন্য) ইবাদতের শক্তি ও পাথেয় সঞ্চয় করে।’ আরও বলেছেন, এ মাস মুমিনের জন্য গনিমত এবং মুনাফিকের জন্য ক্ষতির কারণ। (মুসনাদে আহমদ ২/৩৩০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৪০)।

আল্লাহতায়ালা যেমন রমজানকে খায়ের ও বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের মৌসুম বানিয়েছেন তেমনই গোটা বছরের ইমানি কুওয়ত হাসিলের কেন্দ্র বানিয়েছেন। এরই সঙ্গে আরও অনুগ্রহ করেছেন যে, এ মাসে সৃষ্টিজগতে এমন অনেক অবস্থা ও পরিবর্তনের সূচনা করেন, যা গোটা পরিবেশকেই খায়ের ও বরকত দিয়ে ভরপুর করে দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, এ মাসে আল্লাহর হুকুমে জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বড় বড় জিন ও শয়তানকে বন্দি করা হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করতে থাকেন-‘হে কল্যাণ-অন্বেষী, অগ্রসর হও, হে অকল্যাণের পথিক, থেমে যাও।’

এসবের প্রভাবে রমজান মাসে চেতনে বা অবচেতনে বান্দা ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সৌভাগ্যশালী ওইসব ব্যক্তি, যারা এ আসমানি প্রেরণাকে মূল্য দেয় এবং হিম্মতের সঙ্গে কর্মের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মনে রাখা উচিত, প্রকৃতপক্ষে রমজান হলো, আখিরাতের তিজারতের মৌসুম। এ মাসের সময়গুলো খুব বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করা উচিত। অন্তত ফরজ রোজা এবং সুন্নতে মুয়াক্কাদা তারাবি, সেহরির সময় তাহাজ্জুদ, কিছু পরিমাণে হলেও জিকির ও তেলাওয়াত প্রত্যেকেরই করা উচিত। বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে এতখানি মগ্ন হওয়া উচিত নয় যে, ফরজ নামাজের জামাত ও তারাবি ছুটে যায়। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা এবং সুদ ও জুয়াসহ অন্য সব হারাম কার্যকলাপ থেকে তো সারা বছরই বেঁচে থাকা ফরজ, রমজান মাসে এর অপরিহার্যতা আরও বেড়ে যায়। কেননা, বরকতপূর্ণ সময়ের গুনাহও অত্যন্ত কঠিন ও ধ্বংসাত্মক হয়ে থাকে।

মুফতি আব্দুল মালেক
লেখক : খতিব, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম

জাতীয়

চারটি স্থলবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। এই স্থলবন্দরগুলো হলো নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ, রাঙামাটির তেগামুখ ও হবিগঞ্জের বাল্লা। এর মধ্যে চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখে কোনো অবকাঠামো নেই বলে তা বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। আর হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ হলেও ভারতীয় অংশ অবকাঠামো ও সড়ক না থাকায় এই স্থলবন্দরের পরিচালনা কার্যক্রম স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়।

এ কমিটি আরও চারটি স্থলবন্দরকে শর্ত সাপেক্ষে চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের দুটি স্থানের পরিবর্তে একটি স্থানে স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু রাখার সুপারিশ করেছে ওই কমিটি। শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আয়-ব্যয় বিবেচনা করে এর কার্যক্রম গতিশীল করার কথা বলা হয়েছে। জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিনিয়োগ বিবেচনায় ন্যূনতম জনবল দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম চালু রাখা যেতে পারে। দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দরে বিদ্যমান ব্যবস্থায় রেলপথে আমদানি-রপ্তানি চালু রাখা যেতে পারে।

বর্তমানে দেশের সীমান্তে ২৪টি স্থলবন্দর রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ভারত ও একটি মিয়ানমারের সঙ্গে রয়েছে। ১৬টি স্থলবন্দর সচল ও বাকি ৮টি স্থলবন্দর এখনো সচল হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেকগুলো স্থলবন্দর নির্মাণ করা হয়।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা বিগত সরকারের আমলে নির্মিত দেশের অলাভজনক ও কার্যক্রমহীন বিভিন্ন স্থলবন্দর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে অর্থ বিভাগ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সম্প্রতি এ কমিটি নৌপরিবহণ উপদেষ্টার কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে নৌ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জাতীয়

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রোজার প্রথম দিনই ইফতারসামগ্রীর বাজার জমে উঠেছে। রোববার দুপুর থেকেই এই বাজারে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। নানারকম ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। অনেক দূর থেকেও এসব খাবারের সুভাস নাকে আসে। মুখরোচক এসব ইফতার কিনতে ভিড় করেন বহু ক্রেতা। এরই মধ্যে বিক্রেতারা হাঁকতে থাকেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙায় ভইরা লইয়া যায়, ধনী-গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়।’

বাজারটি রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার সার্কুলার রোডে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো এ ইফতার বাজার। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসেন চকের ইফতারির স্বাদ নিতে। এখানকার ইফতারসামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লম, বটিকাবাব, টিকাকাবাব, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, শামিকাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, হালুয়া, হালিম, দইবড়া, সৌদি পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি শরবত, ইরানি শরবতসহ প্রায় ১০০ ধরনের খাবার।

তবে এখানে বেশির ভাগ বিক্রয়কর্মীর মাথায় ক্যাপ বা হাতে গ্লাভসের বালাই নেই। অধিকাংশ খাদ্যসামগ্রীই খোলা। তবে দোকানিরা জানান, ইফতারের প্রায় সব আইটেমই টাটকা-গরম। ফলে এসব খোলামেলা না রেখে উপায় থাকে না। গরম থাকায় ঢেকে রাখা সম্ভব হয় না। তাছাড়া প্রায় প্রতিটি দোকানের পাশেই ইফতার তৈরি করা হচ্ছে। খাবারগুলো চুলা থেকে তোলার একটু পরই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই ঢেকে রাখার প্রয়োজন হয় না।

সরেজমিনে ভিনদেশিদেরও ইফতার ক্রয় করতে দেখা গেছে। ইরান থেকে আসা জাকারিয়া বিনতে ইফতি নামে তরুণী বলেন, এ বাজারের কথা শুনেছিলাম। তাই সরাসরি দেখতে এসেছি। শত শত মানুষ একসঙ্গে ইফতার কিনছে। আমরাও কিনেছি। এ যেন এক হৃদয়ের বাজার।

বিক্রেতা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’ ইফতারটি তার দাদা ফটিক চাঁন বিক্রি করতেন ব্রিটিশ আমলে। তারপর তার বাবা আব্দুল রশিদ বিক্রি করেছেন পাকিস্তান আমলে। এখন তার বয়স প্রায় ৭৭ বছর। তিনি বিক্রি করছেন প্রায় ৫০ বছর ধরে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ ইফতারটিকে বলা হতো ‘শেখ চূড়ার ভর্তা’। দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর পর থেকে নামকরণ হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়!’

মোহাম্মদ হোসেন বলেন, তার ছেলেরাও এ ব্যবসা করছেন। অন্য ব্যবসা থাকলেও দাদা ও বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইফতার বিক্রি করছেন, ভবিষতেও ইফতার বিক্রি করবেন। এটা পারিবারিক ঐতিহ্য। ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান আমলে যে ধরনের উপকরণ দিয়ে এ ইফতারটি তৈরি করা হতো, এখনো ওইভাবেই তৈরি করা হচ্ছে। ইফতারটি সব ধর্মের সব ধরনের লোকজন খেতে পারে। এখানে গরুর মাংস দেওয়া হয় না। মুরগি, কবুতর, খাসির মাংসসহ এগুলোর কলিজা দেওয়া হয়। তাছাড়া খাঁটি ঘিসহ প্রায় ১৭ প্রকার মসলা দেওয়া হয়।

পুরান ঢাকার বাহান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির বাসিন্দা শেখ ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, এখানকার খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছে-এমন অভিযোগ পাওয়া যায় না। কারণ, বিক্রেতারা খুব আপন করে ইফতার তৈরি করেন। ওটা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। ইফতারকে তারা সম্মান করেন।

দেড়শ বছর ধরে সুতিকাবাব বিক্রি করছেন হাজি রুস্তম সাহেবের পরিবারের সদস্যরা। রুস্তম সাহেবের ছেলে হাজি মাহবুব জানান, তার বাবা, দাদা, দাদার বাবারা এ সুতিকাবাব বিক্রি করতেন। তিনি বিক্রি করছেন ৬০ বছর ধরে। তিনি গরু-খাসির সুতিকাবাব বিক্রি করেন।

বিক্রেতারা জানান, সুতিকাবাব ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টেংরি কাবাব ১০০ টাকা, শিক কাবাব ১২০-১৫০ টাকা, কাঠি কাবাব ৮০-১০০ টাকা। শাহি জিলাপি ৩৫০ টাকা কেজি, রসমালাই ও দই প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা, দুধসর ও পানতুয়া যথাক্রমে ৪৫০ ও ৫৫০ টাকা, ঘিয়ে ভাজা জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

প্রথম রমজানে চকবাজারের ইফতারির বাজার পরিদর্শন করে ভেজাল ও বাসি খাবার বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্যনামক একটি বেসরকারি সংগঠনের সদস্যরা। প্ল্যাকার্ড নিয়ে বেশ কয়েকজন সদস্য ক্রেতা-বিক্রেতাদের সচেতন করছিলেন। সংগঠনটির সদস্য মো. ফয়সাল জানান, এখানে প্রচণ্ড ভিড়। অধিকাংশ খাবার খোলা বিক্রি হচ্ছে। তবে খাদ্যসামগ্রীগুলো খুব দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। চুলা থেকে ওঠানোর মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তবু আমরা অনুরোধ করে যাচ্ছি খাবার ঢেকে বিক্রি করতে।

এদিকে পুরান ঢাকার বংশালের আল রাজ্জাক রেস্টুরেন্ট, আল-নাসের, রায়সাহেব বাজারের ক্যাফে ইউসুফ, আল-ইসলাস, মতিঝিল ঘরোয়া স্টারও তাদের ইফতারির সম্ভার সাজিয়েছে। এসব দোকানেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিপ্তরের কর্মকর্তা মো. আব্দুল জাব্বার মন্ডল বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ১০টি টিম মাঠে কাজ করছি। চকবাজার ইফতার বাজারে দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমরা চাই-শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যেন এখানকার খাবারের মান ভালো হয় এবং যথাযথ মূল্যে ইফতারি বিক্রি করা হয়।

জাতীয়

বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলম ও এস আলম সুপার এডিবল ওয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোরশেদুল আলমকেও তলব করা হয়েছে। তাদের আগামী ৫ মার্চ দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

Advertisement

এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এস আলমের ছেলে ও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমকে আসামি করে তিনটি মামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস এবং অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাইফুল আলম ও মোরশেদুল আলমকে এস আলম সুপার এডিবল ওয়েল লিমিটেডের অনুকূলে ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

এর আগে এই অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ইসলামী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। এছাড়া একই অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ২৭ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ কর্মকর্তাকে আগামী ৬, ৯, ১০ ও ১১ মার্চ দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

৬ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন— সাবেক এসভিপি ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখার প্রধান মোহাম্মদ কাইসার আলী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন খান, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মো. সোহরাব হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোহন মিয়া, সাবেক ইভিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।

৯ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন— ব্যাংকটির সাবেক সদস্য আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ আলী, মো. শফিকুর রহমান, মো. নাজিবুর রহমান, মো. শামসুজ্জামান, মো. আব্দুস সাদেক ভূঁইয়া ও রাফি আহমেদ বেগ।

সাবেক সদস্য মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মো. মাহবুব-উল-আলম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাবেক পর্যবেক্ষক জিএম (বাংলাদেশ ব্যাংক) মো. ইস্কান্দার মিয়া, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হুমায়ুন বখতিয়ার ও মো. আব্দুস সালামকে আগামী ১০ মার্চ তলব করা হয়েছে।

তলবের তালিকায় আরও আছেন— ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এ.এইচ.জি মহিউদ্দিন, মো. আবুল হোসেন, ইঞ্জি. মো. ইস্কান্দার আলী খান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর এনআরএম বোরহান, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মুস্তাফা আনোয়ার, সাবেক মেম্বার সেক্রেটারি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক ও সাবেক ডিএমডি মোহাম্মদ আবুল বাশার।

জাতীয়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এদেশের ছাত্র শ্রমিক জনতা জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছে। এখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে এই দেশকে, আর যেন কোনো স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের হার্ডপয়েন্টে ৭ দিনব্যাপী সমাজ উন্নয়নমূলক ক্যাম্প ৭ম জাতীয় কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় একথা বলেন তিনি।

স্কাউট জীবনের স্মৃতিচারণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘৭ম কমডেকায় অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে জনস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকবে। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালনে বাংলাদেশ সরকার সব সময় স্কাউটের পাশে থাকবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ও ৭ম জাতীয় কমডেকা সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, বাংলাদেশ স্কাউটস অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব ও কমডেকা প্রধান মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, সদস্য এবং কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বোর্ডের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে স্কাউটিং এ স্লোগানে শুরু হওয়া ৭ম জাতীয় কমডেকার সমাপনি হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার। এবারের কমডেকায় অংশ নিয়ে ৪ হাজার রোভার স্কাউট সদস্যসহ ৬ হাজার স্কাউটস। কমডেকা আকর্ষণীয় করে রাখতে সেবা সমূহ, মঞ্চায়ন ও স্মৃতির সিঁড়ি, নামে শিক্ষণীয়, বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং কর্মকাণ্ড রাখা হয়েছে।

জাতীয়

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা মায়ের বীর সন্তানেরা মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে ১৯৫২ সালের এই দিনে বুকের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন ঢাকার রাজপথ। পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি হয়েছিল মাতৃভাষার জন্য আত্মদানের অভূতপূর্ব নজির। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রচিত হয়েছিল স্বাধীনতার সোপান। পৃথিবীতে একমাত্র বাঙালি জাতি ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বুকের রক্ত দিয়েছে। কিন্তু ৭৩ বছর পরে এসে প্রশ্ন উঠছে গৌরবমময় সেই ইতিহাস আমরা কতটা সংরক্ষণ করতে পেরেছি। কিংবা এখনো করতে পারছি।

সাত দশকেরও বেশি সময় পার হলেও ভাষাসংগ্রামী বা ভাষাসৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হয়নি। একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ভাষাশহিদদের চ‚ড়ান্ত তালিকা দেখতে পায়নি জাতি। কারা আমাদের গৌরবের এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। সেইসব বীরদের পরিচয় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি দীর্ঘদিনেও। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও স্থাপনাগুলোও হারাতে বসেছে। চিহ্নিত বা সংরক্ষণ করা যায়নি সব ভাষাশহিদের কবর। রাজধানীসহ সারা দেশে এ ধরনের স্মৃতি নিদর্শনগুলোর সংখ্যাও সীমিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাস ও চেতনার অভাব এবং সংরক্ষণে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে চোখের সামনে সেগুলোও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিত পারি’ ভাষা আন্দোলন নিয়ে কালজয়ী এ গানের কথায় রয়েছে একুশ এবং একুশের ইতিহাসকে না ভোলার আকুলতা। সেই আকুলতা আজও জাগ্রত প্রতিটি বাঙালির মনে। আজ প্রভাতফেরি নামবে সারা দেশের পথে পথে। ফুলে ফুলে ভরে উঠবে দেশের সব শহিদ মিনারের বেদি। দিনটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জানা গেছে, বাংলা ভাষার গৌরবের আন্দোলনে সম্পৃক্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশে এক বছর পরে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ১৪ নারীসহ জীবিত ৬৮ জনকে ভাষাসৈনিক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয় ২০১২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সেখানে কিছু নামে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি ওই তালিকার। হাইকোর্টের নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় কমিটি গঠন করে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভাষাসৈনিক আহমদ রফিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির একটি বৈঠক হয়েছিল, যাতে কাজের পদ্ধতির জটিলতা নিয়েই শুধু আলোচনা হয়।

ভাষাশহিদদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে গবেষণাও থমকে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি কতজনকে কবর দেওয়া হয়েছিল সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য নেই কারও কাছে। আজিমপুরে ভাষাশহিদদের কবরগুলোও সারা বছর অযত্ন-অবহেলায় থাকে। ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদ নামের একটি সংগঠন গত কয়েক বছর ধরে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে ১১ দফা দাবি জানিয়ে আসছে। দাবিগুলোর মধ্যে আছেশহিদদের কবর শনাক্ত ও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা। শহিদ ও সংগ্রামীদের নামে চত্বর, তোরণসহ বিভিন্ন স্থাপনা, স্থান, সড়ক নির্মাণ ও নামকরণ করা। আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত রশিদ বিল্ডিং, শহিদ মিনার হয়ে আজিমপুর কবরস্থান পর্যন্ত সড়কটিকে ‘শহিদ সরণি’ বা ‘ভাষা আন্দোলন স্মৃতি সড়ক’ নামকরণ করা এবং নামফলক লাগানো। ১৮ নভেম্বর ভাষাশহিদ আব্দুল সালামের কবর সংরক্ষণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর একটি আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।

জানতে চাইলে ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সভাপতি ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ভাষাশহিদ তো জানা যায় ছয়জন। আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, সালাম, শফিউল, রফিক ও ওলিউল্লাহ। এর বাইরে ছিলেন আওলাদ। কিন্তু তাকে ঠিকমতো চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। তবে আসলে যদি ওই সময়ের হিসাব করা যায়, ২১ তারিখের সংখ্যাটা অনেক ছিল। কিন্তু তখন বেশিরভাগ লাশ গায়েব করে ফেলা হয়। ফলে তাদের শনাক্ত করা যায়নি। ২২ তারিখে নবাবপুরে যে মিছিল হয়েছিল, সেখানে ওলিউল্লাহ মারা গেছেন। সেখানেও নাকি অনেকে শহিদ হয়েছিলেন। সেই লাশগুলোও গায়েব করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এতদিন পর্যন্ত আবুল বরকত, আব্দুল জব্বার, শফিউর রহমানের কবর শনাক্ত করা ছিল। আমরা লাস্ট মোমেন্টে এসে পরিবার ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সহায়তায় সালামের কবর শনাক্ত করেছি। আমরা ধারণা করছি, সালামের কবরের পাশে যে জায়গাটা, আবুল বরকতের মাঝের যে জায়গা রফিকের কবর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর ওলিউল্লাহর কবরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আর যারা তখন শহিদ হয়েছিলেন তাদের নামই পাওয়া যায়নি। ফলে কবরের খোঁজ কিভাবে হবে? ভাষাশহিদ ও সংগ্রামীদের স্মৃতি সংরক্ষণে গবেষণসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এখনো কাজ করার সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে বিভিন্ন কমিটি করে কাজ করলে এই ইতিহাস ও স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। এটা না করলে আগামীতে আরও গোঁজামিল হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বক্তারাও ভাষাশহিদ ও ভাষাসংগ্রামীদের তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা বলেন, আমাদের সবকিছু রক্তের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়েছে। ২০২৪ সালে সংগঠিত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ধরে রাখতে সবকিছু করতে হবে। এই অর্জন করতে যে রক্ত ও ত্যাগ করতে হয়েছে তা আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য যারা রক্ত ও জীবন দিয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুব সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলে; সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। আহত হন অনেকে। সবার রক্তের বিনিময়ে বাংলা এ দেশের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। যার ধারাবাহিকতায় পরে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

এদিকে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, এতে ১৮৮টি দেশ সমর্থন জানালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

৫ বছরে ২৮৫ আইন ও বিধি প্রমিত করেছে বাবাকো : জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষ (বাবাকো) থেকে গত ৫ বছরের ২৮৫টি আইন, বিধিমালা, নীতি ও নীতিমালা প্রমিতকরণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন থেকে এ পর্যন্ত প্রমিতকরণ করা হয়েছে ২০টি আইন ও বিধি। সীমিত জনবল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বসার স্থান বা কক্ষ সংকট রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ অধিশাখায়। নেই পর্যাপ্ত অর্থের বরাদ্দ। মাত্র তিনজন কর্মকর্তা বাংলা প্রমিতকরণের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে একজন ভাষা বিশেষজ্ঞ, একজন সিনিয়র অনুবাদ কর্মকর্তা এবং একজন অনুবাদক কাজ করছেন। এই তিনজনই প্রেষণে কর্মরত। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের প্রেষণে আনা হয়েছে। টাকার অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যাচ্ছে না। এই অধিশাখার জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও গবেষণা অনুবিভাগের নিয়মিত বরাদ্দ থেকে এ শাখার কাজে অর্থ ব্যয় করা হয়।

ওই অধিশাখায় কর্মরত যুগ্ম সচিব খালেদ মোহাম্মদ জাকি যুগান্তরকে বলেন, আগের চেয়ে বাবাকোর কাজ অনেক বেড়েছে। সরকারি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোয় এখন বাংলা ভাষা সম্পর্কিত কোর্স ঢুকানো হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে সত্যিকার অর্থে দাপ্তরিক কাজে প্রমিত বাংলা লেখার চর্চা হচ্ছে কিনা। এ এখতিয়ার আগে ছিল না।

কর্মসূচি :

প্রস্তুত শহিদ মিনার, শ্রদ্ধা নিবেদনে ডিএমপির নির্দেশনা : ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। সাজানো হয়েছে বেদি। রং-তুলির আঁচড়ে শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছেন একুশের আবহ।

এদিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রুট অনুসরণে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রুটগুলো হলো পলাশী ক্রসিং-ভাস্কর্য ক্রসিং-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রবেশ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রমনা ক্রসিং-দোয়েল চত্বর হয়ে প্রস্থান। শাহবাগ ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, চানখাঁরপুল ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং এবং বকশীবাজার ক্রসিংয়ে ডাইভারশন থাকবে।

জাতীয়

উত্তরাঞ্চলের প্রাণ তিস্তা শুকিয়ে কঙ্কালসার ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত পরিবার আজ নিঃস্ব ও ভূমিহীন। বন্যা, খরায় তারা বিপর্যস্ত। রোববার রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতুপারে আয়োজিত ‘তিস্তা নিয়ে করণীয়’ শীর্ষক গণশুনানিতে দুঃখ-দুদর্শার কথা তুলে ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিস্তাপারের মানুষ। তারা বলেন, আমরা দল বুঝি না, নেতা বুঝি না, আমরা পরিকল্পিত তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। গণশুনানিতে পানিসম্পদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত প্রস্তুত করা হবে। চীনের সঙ্গে যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা চুক্তি হয়েছিল তা টেকসই হতো না। তাই পরিকল্পনায় কী থাকবে, কী থাকবে না- এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং তিস্তা পারের মানুষের মতামত নিয়ে আবারও চীনের সঙ্গে এ প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। নদী ভাঙন রোধে মার্চের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) নির্দেশ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, তিস্তা কোনো দেশের একক নদী নয়। তিস্তাকে কোনো দেশের একক নদী ভাবলে তা ভুল হবে। তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু হলে বর্ষাকালে পানি ছাড়ার আগে কেন আমাদের জানান না? অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তিস্তাপারের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু আমাদের কাছে তেমন অর্থ নেই, তবু তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গত সরকার প্রধান বলে গেছেন আমরা যা ভারতকে দিয়েছি-ভারত তা চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু ভারত মনে রাখার মতো এ দেশকে কিছুই দেয়নি। আমরা তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায় করব। তিস্তা যেন এ এলাকার মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়। তিনি আরও বলেন, তিস্তার চরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। ফসলের ন্যায্যমূল্য যাতে কৃষকরা পান সেজন্য কোল্ড স্টোরেজ এ এলাকায় নির্মাণ করা হবে। উত্তরাঞ্চলে কৃষি শিল্পের বিপ্লব ঘটানো হবে। তিস্তা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম তারিকুল আলম, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানি, আলহাজ এমদাদুল ভরসা, একেএম মমিনুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিদুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আতিক মোজাহিদ, আবু সাঈদ লিয়ন, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ।

গণশুনানিতে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলাসহ তিস্তা তীরবর্তী গ্রামের মানুষ অংশ নেন। তারা বলেন, আমরা ত্রাণ চাই না, মিথ্যা আশ্বাস শুনতে চাই না। আমরা দল বুঝি না, নেতা বুঝি না, আমরা পরিকল্পিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন চাই। দল যার যার তিস্তা সবার। শুনানিতে অংশ নিয়ে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের রংপুরের সমন্বয়ক ইমদাদুল হক ভরসা বলেন, আমি কৃষকের সন্তান, তাই কৃষকের কষ্ট বুঝি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গঙ্গাচড়া থেকে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে শয়রত আলী আকন্দ (৬৫) বলেন, অতীতের সরকারগুলো তিস্তা নিয়ে কতনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আমাদের বংশধররা সুস্থ জীবন পাবে। এ স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেখে মরলে শান্তি পাব।

জাতীয়

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের গত ১৬ বছরে জনপ্রশাসন থেকে অবসরে যাওয়া সাবেক ৭৬৪ কর্মকর্তাকে ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তারা তাদের বকেয়া পাওনার পাশাপাশি পেনশনের আর্থিক সুবিধাও পাবেন।

রোববার (০৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর মধ্যে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১১৯ জন। গ্রেড-১ (সচিবের সমান বেতন গ্রেড) পদে ৪১ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ জন ও উপ-সচিব পদে চারজনকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন।

পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাসিমুখে দেখা যায় অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে। তারা জনপ্রশাসনের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগে আসেন। তারা বলছিলেন, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়।

অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, চাকরির বয়স থাকলে তিনি এতদিনে সচিব হয়ে যেতেন। কিন্তু বঞ্চনার কারণে তিনি তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

যেসব সুবিধা পাচ্ছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তরা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি পাওয়া সচিব, অতিরিক্ত সচিব, গ্রেড-১, যুগ্ম সচিব এবং উপ-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তারা বর্তমান অর্থবছরে তাদের বকেয়া পাওনাদির ৫০ শতাংশ পাবেন। বাকি ৫০ শতাংশ পরবর্তী অর্থবছরে (২০২৫-২৬) পাবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বয়স ৫৭/৫৯ বছর পূর্তি পর্যন্ত সর্বশেষ পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে বহাল ছিলেন বলে গণ্য হবেন।
তারা অবসরোত্তর ছুটি বা অবসর প্রস্তুতি ছুটি শেষে অবসরের জন্য নির্ধারিত তারিখে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন মর্মে গণ্য হবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী এবং তাদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতাদি পেনশন ইত্যাদি সমন্বয় করে আর্থিক সুবিধাদি পাবেন।

এই সাবেক কর্মকর্তাদের জন্য জারি করা পিআরএল আদেশ বাতিল করা হয়েছে। বেতন নির্ধারণের সময় তাদের অবসরোত্তর ছুটি বা অবসর প্রস্তুতি ছুটি সমন্বয় করতে হবে।

আর অতিরিক্ত সচিব, গ্রেড-১, যুগ্ম সচিব এবং উপ-সচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই সাবেক কর্মকর্তারা এক বা একাধিক পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির তারিখ থেকে বিধি মোতাবেক প্রাপ্যতা অনুযায়ী সব আর্থিক সুবিধাদি পাবেন।

সরকার বদলে ভাগ্যেরও বদল

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তারা তাদের পাওনা মেটানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আবেদন জানান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বঞ্চনা নিরসনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং এ লক্ষ্যে কমিটি গঠন করে দেয়। পরে তাদের কাছে আবেদন আহ্বান করে।

২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাওয়া বঞ্চিত ৭৬৪ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করে বঞ্চনা নিরসন কমিটি গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন দেয়।

রয়েছে অসন্তোষও

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ভূতাপেক্ষভাবে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১১৯ জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জনই ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা।

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন নিজে পদোন্নতি না পেলেও এক ব্যাচ থেকে এত বেশি সংখ্যক কর্মকর্তার সচিব পদে পদোন্নতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন, জনপ্রশাসন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বর্তমান সরকারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় সবাই ১৯৮২ ব্যাচের।

‘এই ১১৯ জন সচিব পদোন্নতির মধ্যে ৪৫ জন ১৯৮২ ব্যাচের (বিশেষ ব্যাচসহ)। আমিও অতিরিক্ত সচিব ছিলাম এবং বিগত সরকার দুর্নীতি দূর করতে চেয়ে অন্যায়ভাবে চারটি শাস্তি দিয়েছিল। প্রায় দেড় বছর ওএসডি অবস্থায় রেখে চাকরি থেকে বিদায় দিয়েছিল। ’

প্রশ্ন রেখে তিনি লেখেন, অতিরিক্ত সচিব যারা পদোন্নতি পেলেন, তারা কীভাবে কোন ক্রাইটেরিয়ায় বঞ্চিত ছিলেন? কীভাবে নিপীড়িত-নির্যাতিত ছিলেন?

তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১১৫ জনের মধ্যে ৪৫ জনই কীভাবে ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা হলেন? এই অতিরিক্ত সচিব, যারা সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন, তাদের বঞ্চিত হওয়ার কাহিনী জানতে চেয়েছেন তিনি।

তা না হলে মাহবুব কবীর মিলনের দাবি, সব অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে ভূতাপেক্ষ সচিব পদোন্নতি দিতে হবে। তিনি লেখেন, আমি মামলা করব হাইকোর্টে, সেখানে অবশ্যই জানতে চাইব এই অতিরিক্ত সচিবদের বঞ্চনার কাহিনী, কীভাবে ১৯৮২ ব্যাচের ৪৫ কর্মকর্তা বঞ্চনার শিকার হলেন।

জাতীয়

বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৪ নাগরিককে একুশে পদক- ২০২৫ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) আজিজুর রহমান (মরণোত্তর), সংগীতে উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা, আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন এবং চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা, গবেষণায় মঈদুল হাসান, ভাষা ও সাহিত্যে শহীদুল জহির (মো. শহীদুল হক) (মরণোত্তর) ও হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর), সংস্কৃতি ও শিক্ষায় ড. শহীদুল আলম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহেদী হাসান খান, সাংবাদিকতায় মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর) এবং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান।

এছাড়া শিক্ষায় পাচ্ছেন ড. নিয়াজ জামান ও সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর)।

এ বছর ক্রীড়ায় একুশে পদক পাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

জাতীয়

এ বছরের শেষদিকে জাতীয় সংসদের নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার জাপানের ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে (এনএইচকে) দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, ‘যখন আমরা ক্ষমতায় এসেছিলাম, ওই সময়ের পরিস্থিতি বললে, আমি মনে করি আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। কারণ এটি (ছিল) একটি বিধ্বস্ত সমাজ, বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারিক ব্যবস্থা।’

নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের সবচেয়ে দ্রুত সময় হতে পারে এ বছরের শেষ দিক। যখন নির্বাচন হবে, যারা নির্বাচিত হবে, তারা কাজ করার জন্য শক্তিশালী একটি ভিত্তি পাবে।’

তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘তরুণরা কী করতে চায়, তারা তাদের সৃজনশীলতার শক্তি প্রদর্শন ও পুরো বিশ্বের সঙ্গে এটি ভাগ করতে চায়। আমাদের মাথায় এই লক্ষ্য আছে, দেখা যাক আমরা কীভাবে আগাই।’

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জাপানের প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন তরুণ বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে।’