রাজনীতি

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে থাকবে কি না কিংবা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না- সেটি এখন অন্যতম চর্চিত বিষয়। এ নিয়ে আছে নানা মহলের নানাবিধ চেষ্টা-প্রচেষ্টা, বিতর্ক-সমালোচনা। আওয়ামী লীগ নিজেরাই এখন ছন্নছাড়া অবস্থায়। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ নামে দলটির পুনর্বাসন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ কি এভাবে মাঠে থাকতে চায়? জবাবে দলটির নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইনের দায়িত্ব যারা নিয়েছেন, তারা কি আওয়ামী লীগ করেন? না করলে তারা কীভাবে আওয়ামী লীগকে রিফাইন করবেন? অতীতে এমন উদ্যোগ অনেকে নিয়েছে, সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ। অন্য কারও নেতৃত্ব মানবে না।

বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন জলঘোলা কম হয়নি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের আলোচনা ছিল ‘টপ অব দ্য কান্ট্রি’। গত ২১ মার্চ ‘১১ই মার্চ, সময় দুপুর ২:৩০’ ক্যান্টনমেন্টের এক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে লেখেন, ‘কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমিসহ আরও দুজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ দুপুর ২:৩০ এ। আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়- ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে- তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধীদল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধীদল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুদিন মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।’

তিনি লেখেন, ‘আমাদের আরও বলা হয়- রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে। আমাদের এ প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।’

এরকমভাবে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ করতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং জিয়াউর রহমানও চেষ্টা করেছেন। আসলে যেটা থাকার সেটাই থেকে গেছে। আওয়ামী লীগকে কেউ রিফাইন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড করতে হলে আওয়ামী লীগই করবে, কাউন্সিলের মাধ্যমে।- আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

এ স্ট্যাটাসের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। পরে এ বিষয়ে সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজকে প্রতিক্রিয়া জানায় সেনাবাহিনী সদরদপ্তর। সেনাসদর নিশ্চিত করে, সেনাপ্রধানের সঙ্গেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল। তবে ওই বৈঠক ছাত্রনেতাদের আগ্রহেই হয়।

সেনাসদপ্তর জানায়, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলম দীর্ঘদিন যাবৎ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। পরবর্তীসময়ে সারজিস আলম ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজরকে ফোন দিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিলিটারি অ্যাডভাইজার তাদের সেনাসদরে আসার জন্য বলেন।’

‘অতঃপর ১১ মার্চ দুপুরে সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ সেনাসদরে না এসে সরাসরি সেনাভবনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। পরবর্তীসময়ে সেনাপ্রধান অফিস কার্যক্রম শেষ করে সেনা ভবনে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।’

আরও জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠিত সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রধান সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের যুগ্ম সংগঠকদের ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে বা চাপ প্রয়োগ করছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার বলে প্রতীয়মান হয়।’

আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন সবকিছু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ। কোনো ধরনের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো টার্মে আওয়ামী লীগকে খণ্ডিত করার সব ষড়যন্ত্র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করবে।- আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

সেনাসদরের বক্তব্যে বলা হয়, এই দুই ছাত্র সমন্বয়ককে সেনাবাহিনী প্রধান ‘অত্যন্ত স্নেহের দৃষ্টিতে ছেলের মতো’ দেখতেন। তিনি স্নেহবৎসল পরিবেশে তাদের সঙ্গে নানা আলাপচারিতা করেন। প্রাসঙ্গিকভাবে তাদের নতুন দল গঠনের শুভকামনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলার বিষয়ে নানা প্রসঙ্গে আলাপ করেন।’

এ নিয়ে এনসিপি নেতা সার্জিস আলমও স্ট্যাটাস দেন তার ফেসবুক পেজে। তিনি আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনার জন্য হাসনাতের সঙ্গে কিছু দ্বিমত পোষণ করেন।

‘সায়’ নেই আওয়ামী লীগের
রিফাইন্ড প্রক্রিয়ায় সায় নেই খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের। তারা বলছেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সামনে আন্দোলন ও নির্বাচন যাই হবে, সবই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এরকমভাবে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ করতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং জিয়াউর রহমানও চেষ্টা করেছেন। আসলে যেটা থাকার সেটাই থেকে গেছে। আওয়ামী লীগকে কেউ রিফাইন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড করতে হলে আওয়ামী লীগই করবে, কাউন্সিলের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগকে কেউ ঠেকাতেও পারবে না। এখন হয়তো তাদের হাতে শক্তি আছে, চাইলে যা কিছু করে দেওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে তো কেউ মানবে না। এগোতেও পারবে না। আওয়ামী লীগের কেউ গ্রহণ করেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্য আছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ তো কচু পাতার পানি না, বাতাস দিলেই তো টলে পড়বে না। আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি হয়? এখনো তো প্রতিদিনই তারা আওয়ামী লীগের কথা বলে। আওয়ামী লীগ এখনো বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষবিন্দুতে আছে। আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারবে না। বরং, ওরাই মুছে যাবে। দেশের মানুষ দেখবে কার সময় ভালো ছিলাম, শান্তিতে ছিলাম!’

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এগুলো ভুয়া খবর। ওয়েট অ্যান্ড সি।’

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারা। এ দল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা যারা বলছে, আমি মনে করি তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন সবকিছু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ। কোনো ধরনের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো টার্মে আওয়ামী লীগকে খণ্ডিত করার সব ষড়যন্ত্র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করবে।’

রাজনীতি

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এর সংশোধনী পাশসহ উপদেষ্টা পরিষদে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এর সংশোধনী পাশ হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ পার্সেন্টের কম হলে টেন্ডার প্রস্তাব বাতিলের যে বিধান তা বাতিল করা হয়েছে।

পূর্বের কাজের মূল্যায়নের জন্য যে ম্যাট্রিক্স ছিল, যেটা থাকার কারণে একই প্রতিষ্ঠান বার বার কাজ পেতো, তা বদলে নতুন সক্ষমতা ম্যাট্রিক্স করা হবে। এতে করে সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে। বর্তমানে ৬৫ শতাংশ কাজের দরপত্র বা টেন্ডার অনলাইনে হচ্ছে। এটিতে শতভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দপ্রাপ্তরা পূর্বে নিজ নামে নামজারি করতে পারতেন না। সেই অসুবিধা দূর করতে আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।

জনসাধারণের সুবিধার্থে ৩ এপ্রিল একদিন ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তিতে নির্বাহী আদেশে তিন পার্বত্য জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি সাঁওতাল, গারো, খাসিয়া, জৈন্তাসহ সমতলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও এই ছুটির আওতায় থাকবে।

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরবেন। বুধবার (১৯ মার্চ) যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক এ কথা জানান।

এদিন লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এম এ মালেক জানান, তারা খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন ঈদের পর দেশে ফিরতে। বিএনপি চেয়ারপারসন অনুরোধ রেখেছেন। তিনি এখন ঈদের পর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরবেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি জানান, চিকিৎসকরা সেই অনুপাতে প্রস্তুতি নিয়ে খালেদা জিয়াকে সেভাবেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে ফ্লাইটেরও একটি বিষয় আছে। ফ্লাইট যদি নির্ধারিত সময়ে না পাওয়া যায়, তাহলে দুই এক দিন এদিক সেদিক হতে পারে। তবে খালেদা জিয়া দেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ মালেক স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের লিডারের দেশে যাওয়ার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত বলতে পারছি না। ম্যাডাম খালেদা জিয়া যাওয়ার কিছু দিন পরে হয় তো তিনি দেশে ফিরবেন। এক সঙ্গে দুইজন অবশ্যই যাবেন না- এটা আমি বিশ্বাস করি। ’

রাজনীতি

ব্যস্ত সড়কঘেঁষা একটি আলোচিত ভবন। এর অবস্থান ময়মনসিংহ শহরের ফায়ার সার্ভিস রোডে। ভবনটিকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। কারণ, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী ভবনটি। নাম তার ‘সুন্দর মহল’।

ভবনটি নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত সুতিয়াখালি গ্রামের কন্যা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্ত্রী বেগম রওশনের। একসময় সুন্দর মহলের সঙ্গে ছিল জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয়। বর্তমানে কার্যালয়টির অস্তিত্ব নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দর মহলে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যালয় ও কেয়ারটেকার থাকার বাসা ভাঙা। ইটগুলো কোথাও এলোমেলো আবার কোথাও সমানভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেওয়াল ভাঙার ইটগুলোর পলেস্তারা খুলে পরিষ্কার করা হয়েছে। সুন্দর মহল লেখাটি এখনো জ্বলজ্বলে থাকলেও সঙ্গে ‘দালাল মহল’ লিখে সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে ছাত্র-জনতা। ভবনটি ভাঙচুরও করা হয়েছে।

ভবনজুড়ে দেওয়ালে দেওয়ালে কালিতে লেখা রয়েছে ‘দালাল মহল’। টানানো সাইনবোর্ডে রওশন এরশাদের ছবিতে কালি দিয়ে ক্রস চিহ্ন এঁকে দেওয়া হয়েছে। ভবনের সামনে একপাশে রয়েছে বাঁধানো কবর। কবরের নামফলকে লেখা, বেগম বদরুন্নাহার। মৃত্যু ১৯৯১। স্বামীর নাম খান সাহেব উমেদ আলী।

দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দেখা গেলো চারপাশ পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ছাত্র-জনতার ভাঙচুরের দৃশ্য এখনো রয়ে গেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী ভবনটিতে শুধুই সুনসান নীরবতা।

সুন্দর মহলের ক্ষতচিহ্ন জাগো নিউজের এ প্রতিবেদককে ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন কেয়ারটেকার মোখলেছুর রহমান। কথাবার্তার একপর্যায়ে মুখ ফসকে বলে দিলেন ভবনের বর্তমান অবস্থার কথা। তিনি জাগো নিউজকে জানান, এই ভবন থেকে আর জাতীয় পার্টির রাজনীতি পরিচালিত হবে না। এখানে শুধু হবে খানাপিনা। তবে তা বিনামূল্যে নয়। গুনে গুনে টাকা দিয়ে ইচ্ছেমতো যে কেউ খেতে পারবেন। কারণ, এই সুন্দর মহলে তৈরি হচ্ছে রেস্তোরাঁ। এজন্য মালিকপক্ষের পরিকল্পনা মতো ছাত্র-জনতার ভাঙাচোরা শেষে যা অবশিষ্ট ছিল তা পরিষ্কার করা হয়েছে। ভবনের সঙ্গে থাকা ইটের তৈরি জাতীয় পার্টির কার্যালয়সহ পেছনের অংশের একটি ঘরের দেওয়ালগুলো এরইমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। একসময়ের দৃষ্টিনন্দন দোতলা এই বাড়িটির জায়গাজুড়ে হবে রেস্তোরাঁ। যার নাম হবে ‘কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট’।

ভবনের কেয়ারটেকার মোখলেছুর রহমান বলেন, “ভবনটি রওশনের ভাইয়ের কাছ থেকে বজলুর রহমান মিন্টু নামের একজন ভাড়া নিয়েছেন। তার ‘কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামের তিনটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। একটির অবস্থান ঢাকায়, একটি ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়ায় ও জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরে। সুন্দর মহলে এটি তার চতুর্থ শাখা হবে। তাকে ব্যবসায়ী হিসেবেই জানি। রাজনৈতিক কোনো পদবি আছে কি না আমার জানা নেই।”

কাউন্সিল না হলে জাতীয় পার্টি হারিয়ে যেত: রওশন

তিনি আরও বলেন, ‘ভবনের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়েছেন বজলুর রহমান মিন্টু। তিনি প্রায় তিন মাস আগে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তিতে আমাকে এখানে কেয়ারটেকার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি ভবনটির সবকিছু দেখভাল করছি।’

মোখলেছুর রহমান জানান, দালাল মহলে (সুন্দর মহল) রেস্তোরাঁ হবে জানতে পেরে একদল লোক এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ বন্ধসহ রেস্তোরাঁ করতে বজলুর রহমান মিন্টুকে নিষেধ করেন। এসময় মিন্টু তাদের বুঝিয়ে বলেন, অহেতুক ভবনটি পড়ে রয়েছে। এখানে রেস্তোরাঁ করে ব্যবসা করা দোষের কিছু নয়। পরে আর বাধা দেওয়া হয়নি।

ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা তুঙ্গে। রেস্তোরাঁ চালু হওয়ার আগ মুহূর্তে আবারও হামলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। ভবনের কেয়ারটেকার মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘জানতে পেরেছি, পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে কয়েক মাসের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন করে ভবনটি ‘কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট’ নামে চালু করা হবে। সুন্দর মহলের পেছনের অংশের কর্নারে একটি তিনতলা ভবন করারও কথা রয়েছে। এটিও একই নামে রেস্তোরাঁ হবে। এরইমধ্যে কর্নারে থাকা দেওয়াল ভেঙে ইটগুলো সরিয়ে ফাঁকা করা হয়েছে। তবে রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে যদি কোনো প্রভাবশালী লোকজন উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাহলে রেস্তোরাঁ নির্মাণ বন্ধও হতে পারে।

আবারও কেন ভাঙলো জাতীয় পার্টি

এদিকে সুন্দর মহলে রেস্তোরাঁ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতারাও। দলটির নেতারা জানান, সুন্দর মহল থেকেই ময়মনসিংহ জাতীয় পার্টির রাজনীতি পরিচালিত হতো। দলের স্বার্থে স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এখানেই হুংকার দিতেন। নেতাকর্মীদের করতেন ঐক্যবদ্ধ। বিভিন্ন স্থান থেকে এই সুন্দর মহলে দলে দলে স্লোগান দিয়ে এসে জড়ো হতেন নেতাকর্মীরা। রওশন এরশাদ এসে থাকতেন এই বাড়িতেই। দলকে চাঙা রাখতে দিতেন নানা দিকনির্দেশনা। কিন্তু দেবর-ভাবির (জি এম কাদের-রওশন এরশাদ) দ্বন্দ্বে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেগম রওশন এরশাদ অংশ নেননি। ফলে নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে যান। নেতাকর্মীরা না আসায় ধীরে ধীরে জৌলুশ হারায় ভবনটি।

স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর সুন্দর মহলটি ‘দালাল মহল’ আখ্যা দিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর ৩১ অক্টোবর রাতে নগরীর টাউন হল মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রওশন এরশাদের বাসভবন সুন্দর মহল ও জাতীয় পার্টির কার্যালয় ঘেরাও করেন বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে সুন্দর মহলের সামনের সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় সুন্দর মহলকে ‘জাতীয় দালাল মহল’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এছাড়া তারা ময়মনসিংহে জাতীয় পার্টি সব কার্যক্রম প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে স্বৈরাচারের সহযোগী অভিযোগ করে জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

তবে একটি সূত্র জাগো নিউজকে বলেছে, রেস্তোরাঁ নামে ভবনটি (সুন্দর মহল) একসময় ধীরে ধীরে দখল হয়ে যেতে পারে। যদিও জাতীয় পার্টির একজন পদধারী নেতা এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম সাক্ষী এই বাড়ি দখলে নেওয়া এত সহজ নয়। কখনো এমনটি হলে, জাতীয় পার্টির নেতারা শক্তি সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তা আগের রূপে ফিরিয়ে আনবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের অনুসারী ও ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান আরজু জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি বেগম রওশন এরশাদের পৈতৃক বাড়ি। এখানে আনুমানিক ৩০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। শুনেছি, রওশনের ভাই সুন্দর মহলটি রেস্তোরাঁ হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। তবে কে বা কারা ভাড়া নিয়েছেন তা আমার জানা নেই।’

বক্তব্য জানতে ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল সেলিম ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু মূসা সরকারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তবে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ময়মনসিংহ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুন্দর মহলে রেস্তোরাঁ হওয়ার বিষয়টি আমিও জেনেছি। শুনেছি, ১০ বছরের জন্য চুক্তি করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। তবে এটি একক মালিকানায় নেওয়া হয়নি। যৌথ মালিকানার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে কে কে মালিকানায় আছেন, তা এখনো জানতে পারিনি।’

জাতীয় পার্টির এই নেতা আরও বলেন, রেস্তোরাঁ দেওয়ার ক্ষেত্রে বজলুর রহমান মিন্টুর সঙ্গে মালিকানায় স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতার কিংবা তার অনুসারীর নাম থাকতে পারে। তবে এ নিয়ে কেউই মুখ খুলছেন না।

ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করলেন জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মী

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘সুন্দর মহল’ ভাড়া নেওয়া বজলুর রহমান মিন্টুর মোবাইল নম্বরে থেমে থেমে টানা দুই সপ্তাহ কল দেওয়া হয়। এরমধ্যে একবার কল রিসিভ করেন তিনি। কবে সুন্দর মহল ভাড়া নিয়েছেন? মালিকানায় কতজন? কবে রেস্তোরাঁ চালু হবে? জাগো নিউজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এমন প্রশ্ন করতেই বলেন, ‘আমি একটা মিটিংয়ে আছি। এ নিয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলা হবে।’

এরপর আরও এক সপ্তাহ বিভিন্ন সময় তার নম্বরে কল দিলেও রিসিভ করেনি তিনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন করা হলেও কোনো কথা বলেননি বজলুর রহমান মিন্টু।

তবে মহলটিতে রেস্তোরাঁ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বজলুর রহমান মিন্টুর ম্যানেজার আল আমিন। তিনি ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়াতে অবস্থিত কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, “ঢাকা, ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়া ও জেলার ফুলবাড়ীয়া পৌর শহরে একটি করে ‘কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট’ ও ‘কুটুমবাড়ি মিষ্টি’ নামের রেস্তোরাঁ রয়েছে। এগুলোর মালিক বজলুর রহমান মিন্টু। আমাদের আরেকটি শাখা বাড়ানো হচ্ছে। সুন্দর মহলে হবে ওই রেস্তোরাঁ। এটির মালিকানাতেও আছেন বজলুর রহমান মিন্টু। কবে রেস্তোরাঁটি চালু হবে, তা আমরা বলতে পারবো না।”

তিনি আরও বলেন, আমাদের জানামতে বজলুর রহমান মিন্টু কোনো দলের রাজনীতি করেন না। ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত তিনি।

ফুলবাড়ীয়ায় ‘কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্ট’ রমজান উপলক্ষে বন্ধ রয়েছে। তবে ‘কুটুমবাড়ি মিষ্টির’ দোকান চালু রয়েছে। এই দোকানের ম্যানেজার এনামুল হক। তিনিও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘সুন্দর মহলে কুটুমবাড়ি নামে রেস্তোরাঁ হবে। কুটুমবাড়ি নামে এটি আমাদের চতুর্থ শাখা। তবে এখনো রেস্তোরাঁর কাজ শুরু হয়নি। কতদিন সময় লাগবে তা আমাদের জানা নেই।

এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে আছি। বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। বিএনপির কোনো নেতার নামে কিংবা বেনামে সুন্দর মহলের রেস্তোরাঁর মালিকায় আসবে বলে আমার মনে হয় না। এছাড়া এই এলাকায় এবং আলোচিত এই বাসায় (সুন্দর মহল) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ দিতে অনুমতি দেবে কিনা, তাও সন্দেহ রয়েছে। দেশে এসে বিষয়টি জানতে চেষ্টা করবো।’

১৯৫৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদে সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রওশন এরশাদ। এরপর স্বামীর রাজনৈতিক সাহচর্যে এসে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর ধ্যে ১৯৯৬, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে, ২০০১ সালে গাইবান্ধা এবং ২০০৮ সালে শ্বশুরবাড়ির এলাকা রংপুর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দেশের এই ফার্স্ট লেডি। বেগম রওশন এরশাদ দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী ছিলেন।

রাজনীতি

সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন সাংবিধানিক সংস্কারে যে সাতটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সুপারিশ করেছে,

১) দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিশ্রুত উদ্দেশ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আলোকে বৈষম্যহীন জনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

২) ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।

৩) রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা।

৪) ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার উত্থান রোধ। ৫) রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ-নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন।

৬) রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকেন্দ্রীকরণ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন।

৭) রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

এই উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণে কমিশন ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অর্থাৎ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা অর্থাৎ একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

পাশাপাশি কমিশন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধকে বাংলাদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করেছে। এই সব আকাঙ্ক্ষা এবং সংগ্রামের মর্মবস্তুকে সাংবিধানিক-প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে কমিশন।

ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোসহ সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের সংস্কারের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেন। সুপারিশের সারসংক্ষেপ পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সংবিধানের মূলনীতি ও সংসদের কাঠামোতে পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানো, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলসহ সংবিধানের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ অক্টোবর অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

রাজনীতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিন বলেন, ‘আমাদের ভিন্ন-ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও একটি মানবিক বাংলাদেশ পড়ে তোলার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐকমত্য।’

তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার বিকেলে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ‘ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

গুলশান শুটিং ক্লাবে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের সম্মানে এনডিএম এ ইফতার পার্টির আয়োজন করে।

‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে না পারলে দেশের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে’ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই মুহূর্তে পত্রিকা খুললে, টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কি পরিমাণ দুঃখ-কষ্টে আছে এদেশের অধিকাংশ মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ডিবেট করছি না যে, জনগণের রায় আমার পক্ষে এলে আমরা কীভাবে এই ব্যবস্থাটিকে পরিচালনা করব কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখব, বাজার ব্যবস্থা সাজাব, উৎপাদন আরও বাড়াব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মনে করে এই সব বিষয়গুলো অবশ্যই আমাদের জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ভোটের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিত মানুষের সমস্যা সমাধান কোন দল কি করবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন জনগণের সমস্যাগুলোর বিষয়ে আমরা চিন্তা করি, কথা বলি। এই ব্যাপারেও আমাদের কি কি সংস্কার আছে সেগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই একে অন্যের বাস্তবধর্মী সমালোচনা করব। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে যেন সামনে এসে না দাঁড়াই, যেখানে দেশের জনগণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে আমরা ভুলে যাই। এমন হলে আগামী দিনে দেশ গঠনের সকল সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং সমালোচনার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষি উৎপাদন কীভাবে বৃদ্ধি করব? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র খাল খননের মাধ্যমে কৃষি জমিতে উৎপাদন বাড়িয়েছিলেন। যে জমিতে এক ফসল হতো সেখানে দুই-তিন ফসল হয়েছে সঠিক সময়ে পানি সরবরহ করার মাধ্যমে। খাল খননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিলো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘২০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশের মানুষের একটি প্রাইমারি প্রয়োজন হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসা ব্যবস্থা। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে আমাদের দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব সে বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক কার্যক্রম কেনো তুলে ধরছি না। সেটি কি সংস্কার নয়? আমি যে বাজার ব্যবস্থা ও উৎপাদন ব্যবস্থার কথা বলেছি সেটি কি সংস্কার নয় ?’

‘শুধু একজন ব্যক্তি দুই বারের বেশি প্রধান মন্ত্রী হবেন না’ এটি কী সংস্কার ? এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সমস্যাগুলো সমাধান করার বিষয়গুলোকে নিয়ে সংস্কার হতে পারে না? আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি এগুলো সংস্কারের প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার আরও হতে পারে। প্রত্যেকটি দলের কী ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে তা জনগণকে জানানো উচিত। উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা যদি সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের পক্ষে এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা সম্ভব না।’

পরিবেশ দূষণ রোধে সংস্কার প্রস্তাব জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ অত্যন্ত তীব্র মাত্রায় হচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে সমগ্র বাংলাদেশে পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো জাতির সামনে পরিবেশের ব্যাপারে সংস্কার উপস্থাপন করতে পারি, কীভাাবে আমরা আমাদের পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পারি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবেশ দূষণ কমাতে উদ্যোগ নিতে পারি। এক্ষেত্রে পরিবেশ বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ শব্দ, বায়ুসহ বিভিন্ন দূষণের কারণে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ, শিশু অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে শারীরিকভাবে। এই দূষণ থেকে রাজধানীসহ গোটা দেশকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি এ ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা জাতির সামনে সকল রাজনৈতিক দলের উপস্থাপন করা উচিত।’

শিল্পায়নের পরিবেশ সৃষ্টি, মানুষের খাবার পানি, মানুষের ব্যবহার্য পানি, পরিবেশ-জ্বালানি প্রভৃতি ইস্যুতে করণীয় সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর চিহ্নিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপি’র মাহাদী আমিন, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সারসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ইফতারপূর্ব এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

রাজনীতি

বিদেশে বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ চলতি বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করব। এই জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করব।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বিদেশ থেকে পাচার হওয়া সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব কিনা- জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার এই বিষয়ে চেষ্টা করছে। তবে সামগ্রিক পরিমাণ বিশাল।

সালেহউদ্দিন বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে রয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু আইনি প্রক্রিয়াও জড়িত। এই বিষয়ে আপনারা আগামী মাসে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি কিছু বলতে পারবে।

এদিকে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন- বিদেশে পাচার করা টাকা দেশের মানুষের টাকা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকা ফেরত আনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

শফিকুল আলম আরও বলেছেন, পাচার করা টাকা উদ্ধারের জন্য প্রতি মাসে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রধান উপদেষ্টা ঈদুল ফিতরের পর আরেকটি সভা আহ্বান করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন- পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং যেকোনো মূল্যে এটি ফেরত আনতে হবে।

রাজনীতি

৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের মামলার বিচার সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

রোববার (৯ মার্চ) আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

আইন উপদেষ্টা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি। এখন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ১৫ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তকাজ শেষ করতে হবে। একইসঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাগুরায় যে ঘটনা ঘটেছে সেটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অন্যান্য সবার মতো আমাদেরও মর্মাহত করেছে। এ ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলার বিচারে ও তদন্তে যাতে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ মাত্রায় সজাগ থাকবো।

আইন উপদেষ্টা বলেন, শুধু এ ঘটনা না, নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রোধকল্পে আমরা কিছু আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করেছি। আজ সকালে মিটিং করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চেষ্টা করবো কয়েকদিনের মধ্যে আইনগত পরিবর্তন আনার জন্য। পরিবর্তন বলতে, আমরা দেখতাম নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, রেপের মতো মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে না পারলে তাকে পরিবর্তন করে আরেকজনকে দেওয়া হতো, সে যদি না পারে তাহলে আরেকজনকে দেওয়া হতো। এ রকম করে অনেকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তিত হতো। এতে মামলা দীর্ঘায়িত হতো ও বিচারকাজ করতে দেরি হতো।

তিনি আরও বলেন, আমরা যে সংশোধনী আনবো সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা যাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাকেই তদন্তকাজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করতে হবে। তদন্তকারী অফিসার পরিবর্তন করা যাবে না। একইসঙ্গে তদন্তের সময় অর্ধেক করা হচ্ছে। আগে ছিল ৩০ দিন এখন সেটা ১৫ দিন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া বিচারের সময়ও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। আগে ছিল ধর্ষণের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার করতে হতো, এখন সেটা অর্ধেক করে ৯০ দিন করা হচ্ছে। ধর্ষণের মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করতে হবে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার নারী নির্যাতন আইন পরিবর্তন করছে। গত কয়েকদিনের যে-সব মব জাস্টিস এবং মরাল পুলিশিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সব ঘটনা সরকারের পর্যবেক্ষণে আছে। আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে কোনও অপরাধী বিচারের বাইরে থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দমনে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত সব ধর্ষণের মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি কল্পে মামলাগুলোকে নিয়মিত পর্যালোচনায় আনছে। রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি বন্ধ করতে পুলিশ দ্রুত আলাদা হটলাইন চালু করবে।

রাজনীতি

দেশের লাখো শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামী ১০ থেকে ২০ মার্চ জেনেভায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৩তম অধিবেশনের আগে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বুধবার (০৫ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন।

প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সবকিছু ইতিবাচকভাবে করতে হবে এবং কাজগুলো সম্পন্ন করতে হবে। এখানে কোনো অজুহাত দেওয়া চলবে না।

বাংলাদেশের শ্রম খাতে কর্মীদের বিমা সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অনলাইনে যোগ দেন। তিনি জেনেভায় আইএলও অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের হয়ে অংশগ্রহণ করবেন। লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে শ্রম খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন, সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের এবং আইএলও বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি তুয়োমো পুশিয়াইনেন উপস্থিত ছিলেন।

জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো. আরিফুল ইসলাম ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন।

রাজনীতি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণবিরোধী কিছু উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টাকে শিক্ষকদের দিকে দৃষ্টি দিতে দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, এই নন এমপিও শিক্ষকরা পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যে দাবি তুলেছে এই দাবির প্রতি ন্যূনতম কোনো কর্ণপাত করেনি সরকার।এটাতো আবু সাঈদের রক্তঝড়া সরকার, মুগ্ধের রক্তঝড়া সরকার, এটাতো আহনাফের রক্তঝড়া সরকার।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত নন এমপিও ঐক্য পরিষদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এমপিওর দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সম্মিলিত নন এমপিও ঐক্য পরিষদের শিক্ষকরা।

রিজভী বলেন, আজকে যারা সমাজের মেরুদণ্ড, সমাজকে যারা নির্মাণ করবেন, ছাত্রদেরকে যারা গড়ে তুলবেন তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের আহারের জন্য, খাদ্যের জন্য, কোনো রকমে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার দাবি করছেন। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নজর নেই।

এ সময় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, শিক্ষকদেরকে ক্ষুধার্ত রেখে, অনাহারে রেখে, এদের সন্তানদেরকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়িয়ে আপনারা কী আনন্দ পাবেন আমি জানি না। কিছু কিছু উপদেষ্টারা এই কাজগুলো করছেন। তাদের (শিক্ষক) দিকে কোনো দৃষ্টি দেওয়াতে দিচ্ছেন না প্রধান উপদেষ্টাকে।

রিজভী বলেন, নন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যারা গত বিশ বছর, পঁচিশ বছর, ত্রিশ বছর ধরে একটি টাকাও পায়নি। এরা বাংলাদেশের লোক নন? এরাতো টাকা না নিয়েই অনেক ছাত্র তৈরি করেছেন যারা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় আছেন। বিভিন্ন সরকারি দ্বায়িত্বও হয়তো পালন করছেন। তো এদের (শিক্ষক) দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন কেন?