রাজনীতি

দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার সংস্থা (এসএএইচআর)-এর একটি প্রতিনিধিদল আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন এসএএইচআর-এর সহ-সভাপতি রশ্মি গোস্বামী, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী সারুপ ইজাজ, শ্রীলঙ্কার দীকশ্য ইলাঙ্গাসিংহে ও অনুশায়া কল্লুরে এবং বাংলাদেশের সাঈদ আহমেদ।

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা সব স্তরে যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। সংস্কার কমিশনে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, নীতি প্রণয়নসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে তাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যারা একসময় হতাশায় ভুগেছিল, তারাই এখন গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রবীণ প্রজন্ম হিসেবে তাদেরকে পথপ্রদর্শন ও সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব। এটি শুধু বাংলাদেশেরই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ।’

রশ্মি গোস্বামী বলেন, ‘এ মুহূর্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই একটি রূপান্তরমূলক সময়। আমরা এখানে সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এই সরকারের প্রতি প্রত্যাশা অনেক বেশি, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং মানবাধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে মসৃণ করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন।

রাজনীতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের জন্য একটি গোষ্ঠী চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বিকালে ময়মনসিংহ টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে একটা চক্রান্ত চলছে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটি গোষ্ঠী চেষ্টা করছে। একটি উগ্রবাদ গোষ্ঠী বিভিন্ন উগ্রবাদের কথা বলে মানুষকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

‘আমাদের সবার দায়িত্ব হবে- একসঙ্গে ঠিক একাত্তর সালে যেমন আমরা লড়াই করেছিলাম আমাদের ভূখণ্ডের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সেইভাবে আমরা আজ আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করব, লড়াই করে যাব’।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ একটা ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পর একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুযোগ পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ তৈরির। আমাদের বিশ্বাস আছে, আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন পর্যন্ত যে কাজ করেছেন, তাতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ও অ্যাডভোকেট ওয়ারেস আলী মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবুল, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়র অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের ভাইস চেয়ারম্যান সুভাস চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ১৫ জন আদিবাসী তরুণীর একটি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করে।

এ সময় প্রধান অতিথি তারেক রহমানকে বিভিন্ন সমতল জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সহধর্মিণীকেও উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে সমতলের নারীদের মাঝে ২৬টি সেলাই মেশিন তুলে দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে ৩৭টি সমতল জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা স্ব-স্ব এলাকার নৃত্য পরিবেশন করে। সমাবেশকে ঘিরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সমাবেশে দেশের সমতল অঞ্চলের ১২টি জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সহ-সভাপতি বিধান কৃষ্ণ বর্মণ, অঞ্জন কুমার চিছাম, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অখিল চন্দ্র কোচ, মৌলভী বাজার জেলা কমিটির সভাপতি পরিক্ষীত দেব বর্মা, সহ-সভাপতি হিরণ কুমার সিংহ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং, আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মণ, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউজিন নকরেক, ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি বিপুল হাজং, খাসিয়া জনগোষ্ঠী ও গবেষক, মানবাধিকার কর্মী হিরামন হেলেনা তারাং, বানাই জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মী রিপন চন্দ্র বানাই, বাংলাদেশ হদি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সিংহ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি সুমেন বেসরা, গাসু ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জানকি চিসিম প্রমুখ।

রাজনীতি

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকালে একদল বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে কাকরাইল মোড় হয়ে জাতীয় পার্টির অফিস পার হওয়ার সময় পুলিশের দিকে ইট-জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পর তারা সড়কে অগ্নিসংযোগ করে। পরে তারা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

এর আগে কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাপা একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গতকালের ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, মশাল মিছিলের নামে শুক্রবার জাতীয় পার্টির অফিসে আগুন দিতে আসেন বেশ কয়েকজন। ওই সময় আগুনে পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে নেতাকর্মীদের রক্ষা করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। দেশের মঙ্গলের জন্য সেনাবাহিনীর আরও দৃশ্যমান হওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মহাসড়ক অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মশাল মিছিল করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।

এরপর বিজয়নগরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা ব্রিফিং করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিপেটা করে বলে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন।

এ হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাজনীতি

মালয়েশিয়া আসিয়ান ও জনবহুল দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাধ্যমে ‘বেনিফিশিয়ারি উইন্ডো’ যা সুবিধাভোগী জানালা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নোবেল বিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মালয়েশিয়া সফরকালে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বারনামাকে বলেছেন, মালয়েশিয়া ও আসিয়ানের জন্য ঢাকার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও আশেপাশের এলাকায় জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি, যা একটি বিশাল লাভজনক কনজিউমার মার্কেট। একইসঙ্গে দেশের বিপুল মানবসম্পদ আঞ্চলিক উৎপাদনেরও বড় সুযোগ এনে দিতে পারে।

এ ছাড়া তিনি আঞ্চলিক গুরুত্বের চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আঞ্চলিক বাণিজ্যে এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে, বিশেষ করে স্থলবেষ্টিত ভুটান ও নেপাল এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোর জন্য, যাদের সরাসরি সমুদ্রপথ নেই।

অর্থনৈতিক সুবিধার ক্ষেত্রে সমুদ্র পথের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, ‘অনেক অর্থনৈতিক সুবিধা বাংলাদেশে গড়ে তোলা যেতে পারে কারণ এখান থেকে সমুদ্রে পৌঁছানো সহজ। যেসব দেশের সরাসরি সমুদ্রপথ নেই, আমরা তাদের জন্য বিশ্বের সাথে সংযোগের পথ হয়ে উঠি। এর মানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এক বিস্তৃত দেশের নেটওয়ার্কের সাথে তার অর্থনীতি যুক্ত করতে পারে। ’

গত ১১-১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দুই নেতা মালয়েশিয়া–বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা, পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পারস্পরিক স্বার্থের নানা বিষয়।

নোবেল বিজয়ী ইউনূস এ ছাড়া প্রোটন হোল্ডিংস, সানওয়ে গ্রুপ, আজিয়াটা গ্রুপ বিডি এবং খাজানাহ ন্যাশনাল বিডিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বাংলাদেশের উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভূটান, নেপাল ও ভারতের সঙ্গে সংযোগের অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এমন সহযোগিতা মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ পণ্য ও সেবার পরিবহনে সহায়তা করবে। আমরা এমন সহযোগিতা চাই যেখানে মালয়েশিয়া হবে ‘বেনিফিশিয়ারি উইন্ডো’ সুবিধাভোগী জানালা যা আমরা একেবারেই সেটাই খুঁজছি। ’

আসিয়ান অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বারনামাকে আরও বলেছেন, ‘আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ১৭ কোটির বেশি মানুষের বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে, পাশাপাশি আঞ্চলিক উৎপাদন সহায়তার জন্য প্রস্তুত বিপুল কর্মশক্তিও পাবে। এটা শুধু বাজার নয়—এটিই মানবসম্পদের উৎসও। যে কেউ এখানে (বাংলাদেশে) উৎপাদন করতে চাইলে দক্ষ শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা পর্যায় পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সবকিছু পাবে। ’

তিনি আরও বলেছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে গভীর সমুদ্র, মৎস্য আহরণসহ অনেক অনাবিষ্কৃত আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একই সমুদ্রসীমা ভাগ করে নিচ্ছে, যা যৌথভাবে কাজে লাগানো গেলে আরেকটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সীমান্ত পারের বাণিজ্যকে ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল উভয়খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। আমাদের সামনে বিশাল বঙ্গোপসাগর রয়েছে, কিন্তু আমরা কখনো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু করিনি। যদি মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করি, তাহলে এটা হবে আরেকটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ। ’

তিনি প্রতিবেশীদের গুরুত্ব উল্লেখ করে আরও বলেছেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিবেশী অর্থনীতিগুলোকে বৃহত্তর সরবরাহ চেইনে যুক্ত করতে পারে। এর ফলে শুধু বাণিজ্য বাড়বে না, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সামুদ্রিক শিল্প ও ডিজিটাল পরিষেবার মতো উদীয়মান খাতে যৌথ উদ্যোগের সুযোগও তৈরি হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আসিয়ানের ‘ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন সাউথইস্ট এশিয়া’র (টিএসি) অংশীদার, যা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক কাঠামো।

বারনামা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতির কথা উল্লেখ করে লিখেছে, আসিয়ান ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমোন্নতির পথে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এ ছাড়া বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, যা বিশ্বে সাধারণ মূল্যে ৩৫তম এবং ক্রয় স্বক্ষমতা অনুযায়ী ২৫তম অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য হলো বাংলাদেশ। প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য ও প্রস্তুত পণ্য। ২০২৪ সালে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য ৫ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত যা ডলার হিসাবে ২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

রাজনীতি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, বরকতউল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও খায়রুল কবির খোকনসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সীমা ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সে অনুসারে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হতে পারে নির্বাচন।

তবে প্রধান উপদেষ্টার সম্ভাব্য সময় ঘোষণার আগেই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু এর মধ্যেই আবার কিছু দাবি সামনে এনে নির্বাচনের বিরোধিতায় নেমেছে দলটি। কেন তাদের এমন অবস্থান, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে রাজপথে থাকতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। যে কারণে দল গোছানো এবং জনসংযোগ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে দলটি।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলছিলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। এছাড়া প্রায় দুই কোটি তরুণ ভোটার যারা এখনো ভোট দিতে পারেননি। সবাই ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তবে সেটি অবশ্যই হতে হবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। সে কারণে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেশ কিছু দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করছে। তার মধ্যে পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন অন্যতম দাবি। যদিও এই পদ্ধতির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ খুব একটি পরিচিত নন। তবে ভোট যে পদ্ধতিতেই হোক না কেন জামায়াতের প্রস্তুতি রয়েছে।

বিশ্লষকেরা মনে করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেছে বিএনপি ও জামায়াত। তবে সম্প্রতি নির্বাচন ইস্যুতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে তারা। বিএনপি বলছে, নির্বাচন যত দ্রুত হবে, দেশের জন্য ততই মঙ্গল। আর জামায়াত ইসলামী বলছে, সংস্কার, বিচার এবং পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর কিছুদিনের মাথায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবি নিয়ে জোরালোভাবে রাজপথে নেমেছে জামায়াত। গত বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীতে এই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলও করেছে তারা।

পিআর পদ্ধতিসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অর্ন্তবর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি শক্তির জানান দিতে ঢাকায় ১৯ জুলাই ‘জাতীয় সমাবেশ’ও করে জামায়াতে ইসলামী। সেদিন তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এক কোটিরও বেশি প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থার করা।

একদিকে নির্বাচনের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা, অপরদিকে নির্বাচনের বিরোধিতা করে রাজপথে কেন তারা আন্দোলন করছে, এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা চাউর হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলটি যদি নির্বাচনের বিরোধিতা করে, তাহলে কেনইবা প্রার্থিতা ঘোষণা করা হবে।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সবার আগে প্রস্তুতি নিয়েছে। পিআর পদ্ধতি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে যদি আগামীকালও ভোট হয় তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা সবার আগে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমাদের দাবি আদায় হলে যেকোনো সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ আসনেই জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা কেন নির্বাচন বিলম্বিত করবো? আমরা বলেছি সংস্কার ও বিচার এবং লেভেল প্লেয়িং সম্পন্ন না করার আগে নির্বাচন হলে সে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এখনো প্রশাসনসহ সব সরকারি দপ্তরে ফ্যাসিস্টের সমর্থক ও সহযোগী কর্মকর্তারা বিদ্যমান।

দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা ইলেকশন চাই সিলেকশন চাই না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু তার আগে নির্বাচনের যে বিষয়গুলো প্রয়োজন তা করতে হবে। নির্বাচনের তফসিলকে শুধু একটি দল স্বাগত জানিয়েছে, এতেই বোঝা যায় এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

রাজনীতি

মালয়েশিয়ায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশের দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টা ৯ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মালায়েশিয়ার স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান উপদেষ্টা ঢাকার উদ্দেশ্যে কুয়ালালামপুর ত্যাগ করেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস দেশটি সফর করেন।

এর আগে সোমবার (১১ আগস্ট) তিনি মালয়েশিয়া যান এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি কুয়ালালামপুর পৌঁছান।

রাজনীতি

ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় তিনি চট্টগ্রামে ভাইরাল হওয়া এক চিকিৎসকের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হয়নি দাবি করে বলেন, নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তার ওপর কেউ হামলা করেনি, তিনি নাকে রং লাগিয়ে লাইভে এসে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, সামনে নির্বাচন, ফলে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসব করা হচ্ছে।

রিজভী আরও বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই, মব কালচার চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।

রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুজনকে পিটিয়ে হত্যার নিন্দা জানিয়ে বিএনপির এ নেতা জানান, জনকল্যাণমূলক বিচারের মাধ্যমে যতবড় অপরাধীই হোক, বিচারের আওতায় আনতে হবে। উসকানিমূলক কথায় বেআইনিভাবে যেন কেউ প্রাণ না হারায়, সরকারের এটা নিশ্চিত করতে হবে। এ কালচারে অনেক সুযোগ সন্ধানী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ সময় তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের আমলে লুটপাট করা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ফারমার্স ব্যাংকে রাখা হয়। এখন সেটি পদ্মা ব্যাংক নামে চালু থাকলেও সেই টাকার কোনো হদিস নেই। এসব লুটপাটের টাকা উদ্ধারে সরকারকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পিআর ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ এখনই প্রস্তুত নয় দাবি করে রিজভী বলেন, আমরা উন্নত দেশগুলোর পর্যায়ে এখনো যেতে পারিনি, গরিব অর্থনীতিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সাসটেইনেবল না। এ মুহূর্তে পিআর ব্যবস্থায় যেতে বাংলাদেশ এখনো ততটা প্রস্তুত না। আগে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়াতে হবে। এতে জটিলতা তৈরি করা ছাড়া কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে মনে হয় না। এটায় অন্তর্গত কোনো স্বচ্ছতা নেই।

তিনি আরও জানান, দলের বা অঙ্গ সংগঠনের নামে যারা অপরাধ করছে বলে প্রমাণ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আজীবন বহিষ্কারও করা হচ্ছে।

রাজনীতি

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ যখন জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, আমি তার প্রতিবাদ করেছি।

একইভাবে এখন বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ”
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা শাখার মতবিনিমিয় সভায় এ মন্তব্য করেন জি এম কাদের। মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা মামলা প্রত্যাহারের পর বুধবার দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “আমার এবং আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা মামলায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। ”

তিনি বলেন, “একজন দোষীকে শাস্তি দিতে দশজন নিরাপদ মানুষকে শাস্তি দিচ্ছে। বাড়িঘর ও অফিসে আগুন দিয়ে, মামলা-হামলা করে আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা বর্তমান সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করছি, ঝুঁকি নিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলছি। সরকারের জুলুম নির্যাতনের ভয়ে আমরা থেমে যাব না। ”

সম্প্রতি লাঙ্গল প্রতীক চেয়ে ইসিতে আবেদন করেছে জাতীয় পার্টির আরেক অংশ। সেই প্রসঙ্গ টেনে জি এম কাদের বলেন, “আমাদের লাঙ্গল অন্য কাউকে দিতে চাইলে আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। যারা ভূমিকা রাখতে পারবে তারাই জাতীয় পার্টির প্রকৃত নেতা। ”

রাজনীতি

তৈরি করা নির্বাচনের পাঁয়তারা চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, আমরা ইলেকশন চাই, সিলেকশন চাই না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে যেতে চায়।

কিন্তু তার আগে নির্বাচনের যে বিষয়গুলো প্রয়োজন তা করতে হবে বলেও যোগ করে এ জামায়াত নেতা।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত মিছিল পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের আইনগত ভিত্তি প্রদান এবং এর আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়তের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিতে এতে আরও বক্তব্য রাখেন, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সেলিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, নির্বাচনের তফসিলকে শুধুমাত্র একটি দল স্বাগত জানিয়ে এটাই বোঝা যায় এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

সংস্কার অবশ্যই আগামী নির্বাচনের আগে হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি পরবর্তী সরকার দেবে। তাহলে এ সরকারের তো কোনো আইনগত ভিত্তি থাকে না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে বলছেন আমরা পিআর বুঝি না। তবে গতকালকে একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদনে দেখলাম দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন চায়। তাহলে তারা কীভাবে বুঝলো। তাহলে আপনি বুঝেন না এাট ঠিক, নাকি না বোঝার ভান করেন এটা ঠিক।

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে। আর গণতন্ত্রের মূল বক্তব্য হচ্ছে অধিকাংশ জনগণের মতকে প্রাধান্য দেওয়া। আর দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে। আপনাদের বিরোধিতার কোনো অধিকার নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। আর একটা ওয়ান ইলেভেনের দিকে নিয়ে যাবেন না।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কেন আমাদের কথা বলতে হচ্ছে। আমরা কোথাও কোথাও দেখতে পাচ্ছি আগে কোনো কোনো সরকারি অফিস একটি দলের অফিসে পরিণত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি বলছেন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা। আপনি এখনো সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

তিনি বলেন, আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বুক পেতে দিয়েছে দেশের জনগণ। জনগণের আন্দোলনের দাবি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতেই হবে। জামায়াতের এ দাবি, এটি জনগণের দাবি।