বিনোদন

স্বাধীন বাংলাদেশে জমিদারি প্রথার কোনো ভাত নেই: মাহিয়া মাহি

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে প্রচার-প্রচারণায় মাঠ গরম করে তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। রাজশাহীর এ সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবার তারকা প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মাহিয়া মাহিও।

টানা তিনবারের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী আসনটিতে এবারও নৌকার প্রার্থী। আর তার সঙ্গে বারবার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এ আলোচিত নায়িকা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় মাঠে নামার পর থেকেই উভয়ই উভয়কে উদ্দেশ্য করে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

দৈনন্দিন প্রচার-প্রচারণার বিভিন্ন কর্মসূচিতে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের আওয়ামী লীগের এ প্রভাবশালী প্রার্থীর হুমকিতে ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, মাহিয়া মাহি।

সর্বশেষ সিনেমার স্টাইলেই আওয়ামী লীগের হেভিয়েট প্রার্থীকে নিয়ে বক্তব্য দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলেছেন ঝড়। বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের একটি পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেন, ‘সিনেমাতে দেখেছি- এই চৌধুরী সাহেব (ওমর ফারুক চৌধুরী)। আমরা মেহনতি মানুষ। আমরা আপনার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কারণ মেহনতি মানুষের সঙ্গে সাধারণ জনগণ থাকেন। চৌধুরী সাহেবের হয়তো অনেক টাকা আছে, কিন্তু তার মন নেই, দিল নেই। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে জানেন না। সে আপনাদের সঙ্গে টং দোকানে বসে চা খেতে পারেন না। কারণ তার তো অনেক টাকা। তিনি এসি রুমে বসে থাকবেন। আর মানুষকে শাসন করবেন, ভয় দেখাবেন ও শোষণ করবেন।

এ বক্তব্যের একপর্যায়ে মাহিয়া মাহি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন, আমি এখানে এসেছি কেন? কারণ হচ্ছে আমি এ জমিদারি প্রথার অবসান চাই। এ স্বাধীন বাংলাদেশে জমিদারি প্রথার কোনো ভাত নেই। এ বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন থাকতে চায়। নিজের খেয়ে, নিজের পরে, নিজের মতো করে বাঁচতে চায়। কাউকে ভয় পেয়ে বাঁচতে চায় না।

এ সময় সবাইকে নিজের ট্রাক প্রতীকে সবাইকে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে মাহি বলেন, চৌধুরীকে আগামী ৭ তারিখ কাঁদতে হবে। কেন কাঁদবেন? কারণ তিনি সেদিন বুঝতে পারবেন, তানোর-গোদাগাড়ীর মেহনতি মানুষ, কৃষক-শিক্ষক তাকে ভালোবাসেন না। তিনি শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করান। শিক্ষককে মারেন। তিনি এত বড় জমিদার সাহেব হয়ে গেছেন।

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এও বলেন যে, আমাদের শক্তি বেশি না, জমিদারের শক্তি বেশি? আমরা সবাই যদি একজোট হই, তা হলে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবো। আমরা আগামী ৭ তারিখে এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো।

রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের আরেক স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী গোলাম রাব্বানীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনএমের প্রার্থী শামসুজ্জোহা বাবুও। আর অতিথি প্রার্থী হিসেবে সেখানেই লড়ছেন মাহি। আর বৃহস্পতিবার আপিলে এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আরেক আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার। আপিল ডিভিশনে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান। তাই রাজশাহীর এ আসনটি সব দিক থেকে আলোচিত হচ্ছে বেশি। বিশেষ করে প্রতিদিনই শিরোনাম হচ্ছেন মাহিয়া মাহি।

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির নিজের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালায় তার নানাবাড়ি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মাহি প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু সে আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনি রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিলের পর প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *