আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মঙ্গলবার মালয়েশিয়া ও ফিনল্যান্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা মুসলমান ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের ব্যাপ্তি, পদ্ধতি, কাঠামো এবং সংগঠন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

এতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অ্যাম্বাসাডর মো. সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উন্মুক্ত বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এবং রাশিয়ার প্রস্তাবিত কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ না করার প্রেক্ষাপটে একটি ভোটের অনুরোধ জানান।

ভোটের ফলাফল:

১৪১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়;
কোনো দেশ বিরোধিতা করেনি; এবং
১০টি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সাফল্য

এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়া ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

ঢাকা ইতোমধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি বিশেষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতার প্রতিফলন এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

খেলাধুলা

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ভারতের অবস্থান ১২৬, বাংলাদেশের ১৮৫। শক্তিমত্তায় পার্থক্য স্পষ্ট। তারপর আবার খেলাটা ভারতেরই মাটিতে। তবে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচেও দারুণ লড়াই করলো বাংলাদেশ। কখনও কখনও ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকা দল মনে হয়েছে অতিথিদের।

তবে গোলমুখ খুলতে পারেননি হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ। ভারতকে রুখে দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। শিলংয়ে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি গোলশূন্য (০-০) ড্র হয়েছে।

ম্যাচের বয়স ৩০ সেকেন্ড না হতেই ভারতের শিবিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের গোলরক্ষক বিশাল বায়েতের ভুলে বল পেয়েছিলেন মজিবুর রহমান জনি। তিনি কাটব্যাক করতে পারলে প্রথম আক্রমণেই এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। পারেননি জনি। ভারত বেঁচে যায় প্রথম মিনিটেই।

১০ মিনিট পর আবার ভুল করে বসেন ভারতীয় গোলরক্ষক বিশাল। এবার সেই ভুলে বল পান মোহাম্মদ হৃদয়। বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারেনি দ্বিতীয় সুযোগও।

১২ মিনিটের মধ্যে দুইবার গোল খাওয়া থেকে বেঁচে গেলে ভারত যেন খেই হারিয়ে ফেলেন। সেই সুযোগ হামজা চৌধুরীকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশ চড়াও হতে খেলতে শুরু করে। মোরসালিনের ক্রমে ইমনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হায় বাংলাদেশের।

১৯ মিনিটের মধ্যে ৩ বার ভারতের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েও হ্যাভিয়ের ক্যাবরোর দল লিড নিতে পারেনি। শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা ১৬ হাজার ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে তখন নেমে আসে পিনপতন নিরবতা।

শুরুর দিকের বিধ্বস্ত অবস্থা কাটিয়ে ভারত ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ২২ মিনিটে বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসে এ ম্যাচের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা তপু বর্মনের ইনজুরি।

ব্যথা পেয়ে তপু স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন রহমত মিয়া। তপুর মাঠ ছাড়ার পর ভারত আস্তে আস্তে বাংলাদেশের সীমানা চিনতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ২৮ মিনিটে লিস্টন কোলাসো বক্স থেকে নেন দুর্বল শট। বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিতুল মারমার সেই শট ঠেকাতে কোনো বেগই পেতে হয়নি।

প্রথমার্ধে ভারত সবচেয়ে সহজ সুযোগ পায় ৩০ মিনিটে। পাল্টা আক্রমণ থেকেই সেই সুযোগটি এসেছিল ভারতের সামনে। উদান্তা সিংয়ের শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের তরুণ ডিফেন্ডার শাকিল আহমেদ তপু। ফিরতে বলে বক্স থেকে শট নিয়েছিলেন ফারুক হাজি। তবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সেই বল নিজের আয়ত্বে নিয়ে দলকে বাঁচান বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিতুল মারমা।

ভারতের বিপক্ষে লিড নিয়ে সুযোগ বাংলাদেশ পেয়েছিল ৪২ মিনিটে। ডান দিক দিয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণে ভারতীয় গোলরক্ষকে একা পেয়েছিলেন মজিবুর রহমান জনি।

তবে তিনি ঠিকঠাকমতো শট নেওয়ার আগে দৌড়ে এসে বাধা দেন ভারতের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষ রক্ষা হয় ভারতের। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দুই দেশের প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধে ভারত তুলনামূলক ভালো খেলেছে। তবে স্বাগতিকদের চড়াও হতে দেয়নি হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ। শেষ ৫ মিনিটে বাংলাদেশ দুইবার ভারতের জালে বল পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিল। ৮৯ মিনিটে রহমতের লম্বা থ্রো থেকে ফিরতি বলে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাহিম। ভারতের গোলরক্ষক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে রক্ষা করেন।

তার আগে ভারত গোটা তিনেক সুযোগ পেয়েছিল। শুভাসিসের হেড, সুনিলের শট ঠিকঠাকমত লক্ষ্যে না থাকায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ
মিতুল মারমা, তপু বর্মন (অধিনায়ক) (রহমত মিয়া), তারিক কাজী, শাকিল আহমেদ তপু, হামজা চৌধুরী, মোহাম্মদ হৃদয় (সোহেল রানা), মোরসালিন (সোহেল রানা-২), রাকিব হোসেন, সাদ উদ্দিন, মজিবর রহমান জনি (ফাহিম), শাহরিয়ার ইমন (চন্দন)।

বিনোদন

মার্চ মাসেই মুক্তিযুদ্ধে নেমেছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ। এসেছিল বিজয়। সেই যুদ্ধ ও জয়ের গল্পে অনেক সিনেমাই তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের যুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জন নিয়েও তৈরি হয়েছে সিনেমা। তার মধ্যে কিছু চলচ্চিত্র নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সেসব সিনেমা নিয়েই এই ফিচার-

‘দ্য হরনেটস নেস্ট’

বিদেশি সিনেমার মধ্যে ‘দ্য হরনেটস নেস্ট’ সিনেমাটি ২০১৩ সালে মুক্তি পায়। বেশ চমৎকার গল্পের সিনেমা এটি। আফগান যুদ্ধের প্রেক্ষাপাটে নির্মিত ছবি এটি। এতে সরাসরি যুদ্ধের আবহাওয়াটা অনেক বেশি উপস্থিত। দুজন সাংবাদিককে নিয়ে গল্পটা। যুদ্ধে তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে গল্প। বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে। ছবিটি যৌথভাকে নির্মাণ করেছেন ডেভিড সালজবার্গ এবং ক্রিশ্চিয়ান তুরেউড।

রোম, ওপেন সিটি

১৯৪৫ সালের সিনেমা এটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রবার্ট রোসেলিনির মাস্টারপিস ‘রোম ওপেন সিটি’ ছবিতে। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর রোম দখল, ইতালিয়ানদের সাহসী প্রতিরোধ নিখুঁতভাবে দেখিয়েছেন পরিচালক। ছবিটিতে যুদ্ধকালীন নির্মমতাও সফলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন রোসেলিনি।

দ্য ক্রেনস আর ফ্লাইং

রাশিয়ান নির্মাতা মিখাইল কালাতোজোভের একটা মাস্টারপিস এই ছবি। জীবন এবং জীবনের যে উদযাপন তা এখানে আছে। বেঁচে থাকার আকুতি, বিয়োগের ব্যথা- সব মিলিয়েই অসাধারণ চলচ্চিত্র। একবার দেখলে বারবার দেখার ইচ্ছে হয়। ছবিটি ১৯৫৭ সালে মুক্তি পায়। বিশ্ব চলচ্চিত্রে অনন্য এক সংযোজন ‘দ্য ক্রেনস আর ফ্লাইং’।

দ্য ব্যটেল অব আলজিয়ার্স

ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য আলজেরিয়ার সাধারণ মানুষদের লড়াইয়ে নামার কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই ছবিটি। ১৯৬৬ সালে এটি মুক্তি পায়। গেরিলা লড়াইয়ের এক অনবদ্য উপস্থাপনা বলা চলে ছবিটিকে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে পেন্টাগনে এই ছবিটি দেখেছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।

প্লাটুন

১৯৮৬ মুক্তি পাওয়া ‘প্লাটুন’ ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে উপভোগ্য একটি ছবি। যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি পরিচালক অলিভার স্টোন নৈতিকতা ও মানবিকতাকেও দারুণভাবে তুলে ধরেছেন ছবিটিতে।

‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’

ইতালিয়ান ছবি ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। ১৯৯৭ সালে এটি মুক্তি পায়। রবার্তো বেনিনির ছবি হিসেবেও এটি সমাদৃত। ভীষণ মানবিক গল্পের ছবি, প্রেম ও যুদ্ধের গল্প। যুদ্ধকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপনের জন্য ছবিটার আবেদন কখনো ফুরাবে না। ছবিটা ট্রাজেডিতে ভরপুর। কষ্ট আর দুঃখ পেয়েও যে মানুষ বিনোদিত হয়, এই ছবি তার প্রমাণ।

শিন্ডলারস লিস্ট

স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সত্য কাহিনী অবলম্বনে শিন্ডলারস লিস্ট ছবিটি নির্মিত হয়েছে। অস্কার শিন্ডলার জার্মানির এক ব্যবসায়ী, যিনি হিটলার বাহিনীর গণহত্যা থেকে কমপক্ষে এক হাজার পোলিশ ইহুদিকে রক্ষা করেছেন তার ফ্যাক্টরিতে কাজ দিয়ে। যুদ্ধ বা মুক্তিকামী মানুষের গল্পের সিনেমার আলোচনা হলে সর্বকালের অন্যতম সেরা ছবি ধরা হয় ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটিকে।

ব্রেভ হার্ট

১৩ শতকের স্কটিশ যোদ্ধা উইলিয়াম ওয়ালেস ইংল্যান্ডের রাজার কাছ থেকে স্কটদের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। ছবিটিতে সেই কাহিনী উঠে এসেছে। সেরা ছবি, সেরা পরিচালকসহ (মেল গিবসন) অস্কারে ছবিটি পাঁচটি পুরস্কার পায় ১৯৯৫ সালের সিনেমাটি।

দ্য কিলিং ফিল্ডস

নিউইয়র্ক টাইমসের আমেরিকান সাংবাদিক সিডনি স্ক্যানবার্গ ও কম্বোডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক ডিথ প্রানের অভিজ্ঞতার আলোকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ১৯৮৪ সালের এই ছবিতে। কম্বোডিয়ায় ভিয়েতনামের খামাররুজ বাহিনীর আক্রমণে প্রায় ১০ লাখ কম্বোডিয়ান নিহত হন। দ্য কিলিং ফিল্ডস ছবিতে সেই বর্বরোচিত দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক রোল্যান্ড জোয়েফ।

টার্টলস ক্যান ফ্লাই

ইরাকি ছবি ‘টার্টলস ক্যান ফ্লাই’ ২০০৪ সালে মুক্তি পায়। এখানেও সম্মুখযুদ্ধ নয়, যুদ্ধের ইমপ্যাক্ট দেখানো হয়েছে। অপূর্ব মেকিং। যুদ্ধময় ইরাকের পটভূমিকে ঘিরে। ইরাকের মানুষ তখন যুদ্ধের খবরের জন্য পাগল। এমন ছোট্ট এক গ্রামে খবরের একমাত্র ভরসা ১৪ বছরের এক কিশোর। তার নাম ‘স্যাটেলাইট’। গ্রামের শিশু-কিশোরদের নিয়ে খোলা মাঠে পুঁতে রাখা মাইন অপসারণের কাজও করে সে। এই মাইন বিক্রি করে পয়সাও উপার্জন করে কিশোরটি। ছবিটি যে কারো মনে দাগ কাটবে। সবগুলো চরিত্র গল্পের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে আছে। যুদ্ধ কতটা অমানবিক তা দৃশ্যে দৃশ্যে অনুভব করাবে।

এছাড়াও যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত বিখ্যাত ছবিগুলো হলো- দাস বুট (১৯৮১), দ্য ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই (১৯৫৭), অ্যাপোকেলিপস নাউ (১৯৭৯), সেভিং প্রাইভেট রায়ান (১৯৯৮), দ্য পিয়ানিস্ট (২০০২), গ্রেভ অব দ্য ফায়ার ফ্লাইস (১৯৯৮), ফিউরি (২০১৪), ডাউনফল (২০০৪), দ্য ইমিটেশন গেম (২০১৪), অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (১৯৩০), ডানকার্ক (২০১৭), ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস (২০০৯), দ্য গ্রেট এসকেপ (১৯৬৩), ডার্কেস্ট আওয়ার (২০১৭), দ্য থিন রেড লাইন (১৯৯৮) ইত্যাদি।

রাজনীতি

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠে থাকবে কি না কিংবা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না- সেটি এখন অন্যতম চর্চিত বিষয়। এ নিয়ে আছে নানা মহলের নানাবিধ চেষ্টা-প্রচেষ্টা, বিতর্ক-সমালোচনা। আওয়ামী লীগ নিজেরাই এখন ছন্নছাড়া অবস্থায়। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ নামে দলটির পুনর্বাসন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ কি এভাবে মাঠে থাকতে চায়? জবাবে দলটির নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইনের দায়িত্ব যারা নিয়েছেন, তারা কি আওয়ামী লীগ করেন? না করলে তারা কীভাবে আওয়ামী লীগকে রিফাইন করবেন? অতীতে এমন উদ্যোগ অনেকে নিয়েছে, সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধ। অন্য কারও নেতৃত্ব মানবে না।

বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন জলঘোলা কম হয়নি। সেনাপ্রধানের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের আলোচনা ছিল ‘টপ অব দ্য কান্ট্রি’। গত ২১ মার্চ ‘১১ই মার্চ, সময় দুপুর ২:৩০’ ক্যান্টনমেন্টের এক বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে লেখেন, ‘কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আমিসহ আরও দুজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ দুপুর ২:৩০ এ। আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়- ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে- তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধীদল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধীদল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুদিন মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।’

তিনি লেখেন, ‘আমাদের আরও বলা হয়- রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে। আমাদের এ প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।’

এরকমভাবে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ করতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং জিয়াউর রহমানও চেষ্টা করেছেন। আসলে যেটা থাকার সেটাই থেকে গেছে। আওয়ামী লীগকে কেউ রিফাইন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড করতে হলে আওয়ামী লীগই করবে, কাউন্সিলের মাধ্যমে।- আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

এ স্ট্যাটাসের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক অঙ্গন। পরে এ বিষয়ে সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজকে প্রতিক্রিয়া জানায় সেনাবাহিনী সদরদপ্তর। সেনাসদর নিশ্চিত করে, সেনাপ্রধানের সঙ্গেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল। তবে ওই বৈঠক ছাত্রনেতাদের আগ্রহেই হয়।

সেনাসদপ্তর জানায়, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলম দীর্ঘদিন যাবৎ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। পরবর্তীসময়ে সারজিস আলম ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে সেনাপ্রধানের মিলিটারি অ্যাডভাইজরকে ফোন দিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিলিটারি অ্যাডভাইজার তাদের সেনাসদরে আসার জন্য বলেন।’

‘অতঃপর ১১ মার্চ দুপুরে সারজিস আলম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহ সেনাসদরে না এসে সরাসরি সেনাভবনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করেন। পরবর্তীসময়ে সেনাপ্রধান অফিস কার্যক্রম শেষ করে সেনা ভবনে এসে তাদের সঙ্গে দেখা করেন।’

আরও জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠিত সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রধান সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের যুগ্ম সংগঠকদের ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে বা চাপ প্রয়োগ করছে, যা অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার বলে প্রতীয়মান হয়।’

আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন সবকিছু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ। কোনো ধরনের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো টার্মে আওয়ামী লীগকে খণ্ডিত করার সব ষড়যন্ত্র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করবে।- আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া

সেনাসদরের বক্তব্যে বলা হয়, এই দুই ছাত্র সমন্বয়ককে সেনাবাহিনী প্রধান ‘অত্যন্ত স্নেহের দৃষ্টিতে ছেলের মতো’ দেখতেন। তিনি স্নেহবৎসল পরিবেশে তাদের সঙ্গে নানা আলাপচারিতা করেন। প্রাসঙ্গিকভাবে তাদের নতুন দল গঠনের শুভকামনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক পথচলার বিষয়ে নানা প্রসঙ্গে আলাপ করেন।’

এ নিয়ে এনসিপি নেতা সার্জিস আলমও স্ট্যাটাস দেন তার ফেসবুক পেজে। তিনি আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনার জন্য হাসনাতের সঙ্গে কিছু দ্বিমত পোষণ করেন।

‘সায়’ নেই আওয়ামী লীগের
রিফাইন্ড প্রক্রিয়ায় সায় নেই খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের। তারা বলছেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। সামনে আন্দোলন ও নির্বাচন যাই হবে, সবই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এরকমভাবে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ করতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এবং জিয়াউর রহমানও চেষ্টা করেছেন। আসলে যেটা থাকার সেটাই থেকে গেছে। আওয়ামী লীগকে কেউ রিফাইন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ রিফাইন্ড করতে হলে আওয়ামী লীগই করবে, কাউন্সিলের মাধ্যমে। আওয়ামী লীগকে কেউ ঠেকাতেও পারবে না। এখন হয়তো তাদের হাতে শক্তি আছে, চাইলে যা কিছু করে দেওয়া যাবে, কিন্তু বাস্তবে তো কেউ মানবে না। এগোতেও পারবে না। আওয়ামী লীগের কেউ গ্রহণ করেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্য আছে। আওয়ামী লীগের আদর্শিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ তো কচু পাতার পানি না, বাতাস দিলেই তো টলে পড়বে না। আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি হয়? এখনো তো প্রতিদিনই তারা আওয়ামী লীগের কথা বলে। আওয়ামী লীগ এখনো বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষবিন্দুতে আছে। আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলতে পারবে না। বরং, ওরাই মুছে যাবে। দেশের মানুষ দেখবে কার সময় ভালো ছিলাম, শান্তিতে ছিলাম!’

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী জাগো নিউজকে বলেন, ‘এগুলো ভুয়া খবর। ওয়েট অ্যান্ড সি।’

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারা। এ দল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা যারা বলছে, আমি মনে করি তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচন সবকিছু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করবে আওয়ামী লীগ। কোনো ধরনের রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো টার্মে আওয়ামী লীগকে খণ্ডিত করার সব ষড়যন্ত্র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মোকাবিলা করবে।’

আন্তর্জাতিক

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া ৪টার দিকে তিনি হাইনান পৌঁছান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে, চীনে নিয়োজিত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম ও হাইনান প্রদেশের ভাইস-গভর্নর বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস।

২৭ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) অ্যানুয়াল কনফারেন্সের উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে যোগদান করবেন ও ভাষণ দেবেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা চীনের স্টেট কাউন্সিলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. ইউনূস ২৯ মার্চ সকালে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং রাতে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা করবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত ১৬ মার্চ জানান, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হবে। এছাড়া তিনি চীনের হাইটেক পার্ক পরিদর্শন করবেন।

তিনি আরও জানান, এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার।

শফিকুল আলম বলেন, এ সরকার বাংলাদেশকে একটা বৈশ্বিক ম্যানুফেকচারিং হাব (উৎপাদন কেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সে লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার সফরে চীনের কারখানাগুলোকে কীভাবে বাংলাদেশে স্থানান্তর করা যায়, সে বিষয়টি আলোচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রেস সচিব বলেন, বিএফএকে বলা হয় প্রাচ্যের দাভোস। এ সম্মেলনে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা যোগ দেবেন। আমরা আশা করছি, বিএফএ সম্মেলনের সাইডলাইনে চীনসহ অন্যান্য দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক হবে প্রধান উপদেষ্টার।

তিনি জানান, এ সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে মূল ফোকাস থাকবে চীনের কোম্পানিগুলো যেন তাদের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করে। গত বছর জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীনের দুটি কোম্পানি ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অফিস স্থাপন এবং সোলার এনার্জিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, চীনের সোলার কোম্পানি ট্রেড প্রোটেকশনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিনিয়োগে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে তারা কোনো বাধার সম্মুখীন হবেন না।

প্রেস সচিব বলেন, আশা করছি এই সফরের পর আরও চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে আসবে। চীনের হাসপাতাল চেইন যেন বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগ করে—সে বিষয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০ মার্চ প্রেস সচিব বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক সফর হবে। একটা বিষয় হচ্ছে যে চীন আমাদের এখান থেকে তিনটা পণ্য বড় আকারে আমদানি করতে চায় বলে চীনা রাষ্ট্রদূত আমাদের জানিয়েছেন। এগুলো হলো আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা।

তিনি বলেন, সেজন্য আমরা আশা করছি যে চীনের সঙ্গে আমাদের একটা নতুন এক্সপোর্টের দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশি আম চীনারা পছন্দ করে এবং তারা কাঁঠালও খুব পছন্দ করেন। কাঁঠালটা খুব বৃহৎ আকারে আমরা এক্সপোর্ট করতে পারব।

২৩ মার্চ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরে কোনো চুক্তি সই হবে না। তবে, বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

জাতীয়

শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড সরাইল নামে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে পোস্টটি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পরে। এ ঘটনার মধ্যে এসিল্যান্ড সরাইল অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর সেখানে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পরেন এসিল্যান্ড সিরাজুম মুনিরা কায়ছান।

এরপর তিনি মাঠ থেকে দ্রুত অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তা মুছে ফেলা হয়। পরে অপর একটি পোস্ট থেকে ফেসবুক হ্যাক করে করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ ঘটনাকে সরাইল উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এটি নাটক বলে দাবি করে এসিল্যান্ডকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

এর পরই কায়ছানকে তার দায়িত্ব থেকে প্রাথমিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম। তিনি বলেন, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানতে পেরে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে এ বিসয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করায় তিনি জানিয়েছেন, এ আইডির পাসওয়ার্ড অনেকের কাছে ছিল। তিনি এ পোস্টটি করেননি বলে দাবি করেছেন। পোস্টটি দেখে মুছে দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টটিতে যা লেখা ছিল

‘পৃথিবীর বুকে বাংলার নাম আজ উজ্জ্বল, লড়াইয়ের ইতিহাসে লেখা হলো অনন্য মহিমা, সেখানে বীরত্বের গান বাজে নিঃশব্দে, শাসকগোষ্ঠীর শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির সীমানা। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্মম গণহত্যা চালায়। সেদিন রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন- বাংলাদেশ স্বাধীন! এরপর শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, কিন্তু এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ২৬শে মার্চেই। তাই এই দিনটি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক, সংগ্রামের চেতনা এবং আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল।’

‘আমাদের স্বপ্ন- একটি দুর্নীতিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর, উন্নত বাংলাদেশ। যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে, শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে, অর্থনীতি হবে স্বনির্ভর এবং সর্বোপরি-গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার থাকবে সুসংহত। অর্জিত স্বাধীনতা কেবল একটি ঘটনা নয়, জীবনধারার প্রাত্যহিকতায় মুক্তির আবেশ দায়িত্ব এ দেশের প্রতিটি সন্তানের কাঁধে, আগামী দিনে গড়তে হবে সোনার বাংলাদেশ। মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা…’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্কর তপু জানান, সরাইলের এসিল্যান্ড ফ্যাসিবাদের দোসর। তার ফেসবুক হ্যাক হয়েছে এ নাটক কাজ হবে না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুম মুনিরা কায়ছানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারফ হোসেন জানান, এসিল্যান্ড দাবি করেছেন লেখাটি তিনি লিখেননি। এ আইডির পাসওয়ার্ড অনেকের কাছে ছিল। জেলা প্রশাসক মহোদয় বলেছেন তাকে আপাতত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্যে। আপাদত তাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আন্তর্জাতিক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে এ বৈঠক হতে পারে। দুই নেতা ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে ২ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ড সফর করবেন।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে দুই নেতার বৈঠক করার জন্য অ্যাপ্রোচ করেছি’। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মোদির সঙ্গে বৈঠক হলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চীন ও ভারত উভয় দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

নিউইয়র্কে গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনেও মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক করার জন্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়েছিল। তখন দুই নেতার সফরের সময় ও কর্মসূচি আলাদা হওয়ার কারণে বৈঠক হয়নি। তবে ওমানে ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো ওয়ার্কিং রিলেশন বজায় রাখার ব্যাপারে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

জাতীয়

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য রনজিত কুমার রায়, তার স্ত্রী নিয়তি রানী রায়, দুই ছেলে রাজীব কুমার রায় এবং সজিব কুমার রায়ের চারটি ফ্ল্যাট, দুটি বাড়ি, ৬০টি দোকানসহ ৭৯ দশমিক ৬২ বিঘা জমি জব্দ ও ১৩৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭২ টাকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. সাজিদ-উর-রোমান এসব স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, রনজিত কুমার রায়, নিয়তি রায়, তাদের সন্তান রাজীব কুমার রায় ও সজিব কুমার রায়ের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সম্পৃক্ত ধারায় অপরাধ করাসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগসংশ্লিষ্টদের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। তাদের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোক করা না হলে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াফত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাবেক এমপি হাবিবের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ : দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় বগুড়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য মো. হাবিবর রহমানের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৭টি হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে ৯৪ লাখ ৮ হাজার ৫৮২ টাকা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

রাজনীতি

নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এর সংশোধনী পাশসহ উপদেষ্টা পরিষদে বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এর সংশোধনী পাশ হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ পার্সেন্টের কম হলে টেন্ডার প্রস্তাব বাতিলের যে বিধান তা বাতিল করা হয়েছে।

পূর্বের কাজের মূল্যায়নের জন্য যে ম্যাট্রিক্স ছিল, যেটা থাকার কারণে একই প্রতিষ্ঠান বার বার কাজ পেতো, তা বদলে নতুন সক্ষমতা ম্যাট্রিক্স করা হবে। এতে করে সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হবে। বর্তমানে ৬৫ শতাংশ কাজের দরপত্র বা টেন্ডার অনলাইনে হচ্ছে। এটিতে শতভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

পরিত্যক্ত বাড়ি বরাদ্দপ্রাপ্তরা পূর্বে নিজ নামে নামজারি করতে পারতেন না। সেই অসুবিধা দূর করতে আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে।

জনসাধারণের সুবিধার্থে ৩ এপ্রিল একদিন ঈদের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তিতে নির্বাহী আদেশে তিন পার্বত্য জেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি সাঁওতাল, গারো, খাসিয়া, জৈন্তাসহ সমতলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও এই ছুটির আওতায় থাকবে।

রাজনীতি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরবেন। বুধবার (১৯ মার্চ) যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক এ কথা জানান।

এদিন লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরাম ইউকে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এম এ মালেক জানান, তারা খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন ঈদের পর দেশে ফিরতে। বিএনপি চেয়ারপারসন অনুরোধ রেখেছেন। তিনি এখন ঈদের পর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরবেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি জানান, চিকিৎসকরা সেই অনুপাতে প্রস্তুতি নিয়ে খালেদা জিয়াকে সেভাবেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে ফ্লাইটেরও একটি বিষয় আছে। ফ্লাইট যদি নির্ধারিত সময়ে না পাওয়া যায়, তাহলে দুই এক দিন এদিক সেদিক হতে পারে। তবে খালেদা জিয়া দেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে এম এ মালেক স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের লিডারের দেশে যাওয়ার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত বলতে পারছি না। ম্যাডাম খালেদা জিয়া যাওয়ার কিছু দিন পরে হয় তো তিনি দেশে ফিরবেন। এক সঙ্গে দুইজন অবশ্যই যাবেন না- এটা আমি বিশ্বাস করি। ’