রাজনীতি

সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন সাংবিধানিক সংস্কারে যে সাতটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে সুপারিশ করেছে,

১) দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিশ্রুত উদ্দেশ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আলোকে বৈষম্যহীন জনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

২) ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুথানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।

৩) রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের ব্যবস্থা।

৪) ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার উত্থান রোধ। ৫) রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ-নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়ন।

৬) রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকেন্দ্রীকরণ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন।

৭) রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা

এই উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণে কমিশন ১০ এপ্রিল ১৯৭১-এ জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অর্থাৎ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা অর্থাৎ একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

পাশাপাশি কমিশন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধকে বাংলাদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করেছে। এই সব আকাঙ্ক্ষা এবং সংগ্রামের মর্মবস্তুকে সাংবিধানিক-প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই সংবিধানের সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে কমিশন।

ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোসহ সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।

অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের সংস্কারের সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দেন। সুপারিশের সারসংক্ষেপ পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সংবিধানের মূলনীতি ও সংসদের কাঠামোতে পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানো, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলসহ সংবিধানের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ অক্টোবর অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

রাজনীতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিন বলেন, ‘আমাদের ভিন্ন-ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও একটি মানবিক বাংলাদেশ পড়ে তোলার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐকমত্য।’

তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার বিকেলে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে লন্ডন থেকে ‘ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

গুলশান শুটিং ক্লাবে রাজনীতিবিদ ও নাগরিকদের সম্মানে এনডিএম এ ইফতার পার্টির আয়োজন করে।

‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে না পারলে দেশের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে’ উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই মুহূর্তে পত্রিকা খুললে, টেলিভিশনের পর্দায় আমরা দেখি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে কি পরিমাণ দুঃখ-কষ্টে আছে এদেশের অধিকাংশ মানুষ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ডিবেট করছি না যে, জনগণের রায় আমার পক্ষে এলে আমরা কীভাবে এই ব্যবস্থাটিকে পরিচালনা করব কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখব, বাজার ব্যবস্থা সাজাব, উৎপাদন আরও বাড়াব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি তার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে মনে করে এই সব বিষয়গুলো অবশ্যই আমাদের জাতির সামনে তুলে ধরা উচিত। শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, সাংবিধানিক ব্যবস্থা, ভোটের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিত মানুষের সমস্যা সমাধান কোন দল কি করবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন জনগণের সমস্যাগুলোর বিষয়ে আমরা চিন্তা করি, কথা বলি। এই ব্যাপারেও আমাদের কি কি সংস্কার আছে সেগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই একে অন্যের বাস্তবধর্মী সমালোচনা করব। কিন্তু সমালোচনা করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতিতে যেন সামনে এসে না দাঁড়াই, যেখানে দেশের জনগণের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে আমরা ভুলে যাই। এমন হলে আগামী দিনে দেশ গঠনের সকল সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং সমালোচনার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। কৃষি উৎপাদন কীভাবে বৃদ্ধি করব? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র খাল খননের মাধ্যমে কৃষি জমিতে উৎপাদন বাড়িয়েছিলেন। যে জমিতে এক ফসল হতো সেখানে দুই-তিন ফসল হয়েছে সঠিক সময়ে পানি সরবরহ করার মাধ্যমে। খাল খননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিলো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘২০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশের মানুষের একটি প্রাইমারি প্রয়োজন হচ্ছে ন্যূনতম চিকিৎসা ব্যবস্থা। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে আমাদের দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব সে বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক কার্যক্রম কেনো তুলে ধরছি না। সেটি কি সংস্কার নয়? আমি যে বাজার ব্যবস্থা ও উৎপাদন ব্যবস্থার কথা বলেছি সেটি কি সংস্কার নয় ?’

‘শুধু একজন ব্যক্তি দুই বারের বেশি প্রধান মন্ত্রী হবেন না’ এটি কী সংস্কার ? এমন প্রশ্ন রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের সমস্যাগুলো সমাধান করার বিষয়গুলোকে নিয়ে সংস্কার হতে পারে না? আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মনে করি এগুলো সংস্কারের প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার আরও হতে পারে। প্রত্যেকটি দলের কী ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে তা জনগণকে জানানো উচিত। উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কারণ, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা যদি সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি তাহলে আমাদের পক্ষে এ দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা সম্ভব না।’

পরিবেশ দূষণ রোধে সংস্কার প্রস্তাব জরুরি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ অত্যন্ত তীব্র মাত্রায় হচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে সমগ্র বাংলাদেশে পরিবেশ হুমকির সম্মুখীন। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো জাতির সামনে পরিবেশের ব্যাপারে সংস্কার উপস্থাপন করতে পারি, কীভাাবে আমরা আমাদের পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পারি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা পরিবেশ দূষণ কমাতে উদ্যোগ নিতে পারি। এক্ষেত্রে পরিবেশ বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ শব্দ, বায়ুসহ বিভিন্ন দূষণের কারণে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ, শিশু অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে শারীরিকভাবে। এই দূষণ থেকে রাজধানীসহ গোটা দেশকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি এ ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা জাতির সামনে সকল রাজনৈতিক দলের উপস্থাপন করা উচিত।’

শিল্পায়নের পরিবেশ সৃষ্টি, মানুষের খাবার পানি, মানুষের ব্যবহার্য পানি, পরিবেশ-জ্বালানি প্রভৃতি ইস্যুতে করণীয় সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর চিহ্নিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এনডিএম’র চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপি’র মাহাদী আমিন, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সারসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ইফতারপূর্ব এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক

অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের দুই সন্তান টিউলিপ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে থাকা জমিসহ বাড়ি ও ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী এসব সম্পদের বাজারমূল্য আট কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৩২০ টাকা।

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার দুদকের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম এসব এসব সম্পদ জব্দের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও টিউলিপ সিদ্দিক তাদের স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এসব স্থাবর জব্দ করা হোক।

শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

যেসব সম্পদ জব্দ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে— টিউলিপ সিদ্দিকের নামে থাকা গুলশানের ফ্ল্যাট, বাজারমূল্য ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৯২০ টাকা। জয় ও পুতুলের নামে ধানমন্ডিতে থাকা ১৬ কাঠা জমিসহ বাড়ি ‘সুধা সদন’, বাজারমূল্য তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা।

শেখ রেহানার নামে থাকা গাজীপুরে আট লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা দামের সাড়ে আট কাঠা জমি, গাজীপুরে আরেক জায়গায় তিন লাখ টাকা দামের এক দশমিক ৫৫ শতাংশ জমি এবং সেগুনবাগিচায় ১৮ লাখ টাকার ফ্ল্যাট।

রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে গুলশানে থাকা ছয়টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ হয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য চার কোটি ৮২ লাখ ১০ হাজার টাকা।

আন্তর্জাতিক

সম্প্রতি পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে স্বল্পপাল্লার একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। পাক-ভারত সীমান্তের নিয়ন্ত্রণরেখায় (লাইন অব কন্ট্রোল বা এলওসি) সেই অস্ত্র মোতায়েন করেছেন ইসলামাবাদ। তবে এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে রাশিয়ার তৈরি ‘এস-৪০০’-এর ওপর মূলত ভরসা রেখেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। বর্তমানে এর তিনটি ইউনিট মোতায়েন রয়েছে পাকিস্তান ও চীন সীমান্তে।

দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রথম পরীক্ষা চালান পাকিস্তানের সেনাকর্মকর্তারা। গত বছরের মে মাসে সৈনিকদের এ অস্ত্রটি চালানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

ইসলামাবাদের দাবি, বর্তমান সময়ের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর ‘অ্যান্টিডট’ হিসেবে এ অস্ত্রটিকে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ চোখের নিমেষে ‘এস-৪০০’ র কবচ ভেদ করে ভারতীয় সীমান্তবর্তী সেনা ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ হানতে পারবে ‘ফতেহ টু’।

এ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানা গেছে। যুদ্ধের সময়ে এর সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতু, সেনাছাউনি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কমান্ড এবং কন্ট্রোল সেন্টার, এমনকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ওড়ানো যাবে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

‘এস-৪০০’কে ধ্বংস করার কথা মাথায় রেখেই নাকি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘ফতেহ টু’ নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছে পাক সেনাসদর দপ্তর।

চলতি বছরের ৩ মার্চ ‘ফতেহ টু’ নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলওসির কাছে মোতায়েনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামাবাদ। এর সাহায্যে পাক সেনারা যে ভারতের মজবুত প্রতিরক্ষার বেড়াজাল ভাঙতে চাইছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শাহবাজ শরিফ সরকারের এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় উপমহাদেশে অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় হাওয়া দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা।

পাকিস্তানের সরকারি সংস্থা ‘গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিফেন্স সলিউশন’-এর (জিআইডিএস) হাত ধরে জন্ম হয়েছে ‘ফতেহ টু’র। এর আগে ‘ফতেহ-১’ নামের একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে এই সংস্থা, যার পাল্লা ছিল মাত্র ১৪০ কিলোমিটার। ওই সময় থেকেই হাতিয়ারটির পাল্লা বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা গবেষকেরা।

নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ‘ফতেহ টুর’ মোতায়েন নিয়ে ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস’ বা আইএসপিআর।

তাদের কথায়, ‘এ ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে অত্যাধুনিক দিক নির্দেশকারী ব্যবস্থা (নেভিগেশন সিস্টেম)। এটিকে কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যে কায়দায় এটি উড়বে, তাতে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষেই একে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।’

উল্লেখ্য, বিশেষ ধরনের একটি গাড়ির ওপরে লঞ্চারে ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে রাখা হয়েছে। ফলে যুদ্ধের সময়ে দ্রুত একে এক জায়গা থেকে অন্যত্র নিয়ে যেতে পারবে পাকিস্তান আর্মি। ওই গাড়ি এবং লঞ্চার ইসলামাবাদকে চীনা প্রতিরক্ষা সংস্থা সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি আইএসপিআর।

ভারতের আকাশকে সুরক্ষিত করতে ২০২১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ‘এস ৪০০’ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে নয়াদিল্লি। দেশটির বিমান বাহিনীর হাতে অস্ত্রটি তুলে দিতে ৫৪০ কোটি ডলার খরচ করতে হয়েছে ভারতকে।

রুশ ‘এস-৪০০’কে দুনিয়ার আধুনিকতম ‘ভূমি থেকে আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম) বলে গণ্য করা হয়। গত তিন বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে বেশ কার্যকর ব্যবহার দেখা গেছে এটির।

বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, মস্কোসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ শহরকে যে ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে কিয়েভ নিশানা করতে পারেনি, তার অন্যতম কারণ হল ‘এস-৪০০’। সেগুলোকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে ক্রেমলিনের এ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বিশ্লেষকদের দাবি, এস-৪০০ ভেদ করার একমাত্র উপায় হল, ‘ফতেহ টুর’ মতো কয়েকশো ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ছুড়ে দেওয়া। পাশাপাশি ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসবে আত্মঘাতী ড্রোন। সেক্ষেত্রে সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশে ধ্বংস করা ‘এস-৪০০’র পক্ষে সম্ভব হবে না। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই গলদ গত দেড় বছর ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে নজরে এসেছে। পাক জেনারেলরা সেটাই ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ‘এস-৪০০’কে সরাসরি নিশানা না করে এর সঙ্গে যুক্ত রাডার এবং কমান্ড-কন্ট্রোল সিস্টেমকে ওড়ানোর ছক কষতে পারে পাকিস্তান বাহিনী। তাতে সাফল্য পেলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি হাতে থাকা সত্ত্বেও সেটিকে ব্যবহার করতে পারবে না বিমান বাহিনী। একেও নয়াদিল্লির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

স্বল্পপাল্লার ‘ফতেহ টু’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের বিমান ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করতে পারে দেশটির সেনারা। গত কয়েক বছরে জম্মু-কাশ্মীরে সিন্ধু নদীর একাধিক শাখা নদীতে বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে নয়াদিল্লি। ‘ফতেহ টু’র নিশানায় সেগুলোও থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। অস্ত্রটি ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

রাজনীতি

বিদেশে বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থের কিছু অংশ চলতি বছরের মধ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করব। এই জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করব।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বিদেশ থেকে পাচার হওয়া সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব কিনা- জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরকার এই বিষয়ে চেষ্টা করছে। তবে সামগ্রিক পরিমাণ বিশাল।

সালেহউদ্দিন বলেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে রয়েছে এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু আইনি প্রক্রিয়াও জড়িত। এই বিষয়ে আপনারা আগামী মাসে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি কিছু বলতে পারবে।

এদিকে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাচারকৃত টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন- বিদেশে পাচার করা টাকা দেশের মানুষের টাকা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকা ফেরত আনার নির্দেশনা দিয়েছেন।

শফিকুল আলম আরও বলেছেন, পাচার করা টাকা উদ্ধারের জন্য প্রতি মাসে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পাচার হওয়া টাকা উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রধান উপদেষ্টা ঈদুল ফিতরের পর আরেকটি সভা আহ্বান করবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন- পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং যেকোনো মূল্যে এটি ফেরত আনতে হবে।

বিনোদন

বর্তমান সময়ে তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রায়শই অভিনয় জগতের সেলিব্রেটিদের নিয়ে গুঞ্জন শোনা যায়। সেই গুঞ্জন যে একেবারেই মিথ্যা নয়; সেটা ইতোপূর্বে বহুবার প্রমাণ হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বলিউড অভিনেত্রীদের জমজমাট রসায়ন বহুকাল আগে থেকেই। মানসুর আলী খান পতৌদি থেকে বর্তমান প্রজন্মের কেএল রাহুল; যারা ক্রিকেটের পর নিজেদের জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন বলিউড সেলিব্রেটিদের বিয়ে করে।

মানসুর আলী খান পতৌদি-শর্মিলা ঠাকুর

ভারতের ক্রিকেটের শুরুর দিকে মানসুর আলী খান প্রেমে পড়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের। তাদের সেই প্রেমে বড় বাধা ছিল ধর্ম। ১৯৬৫ সালে প্রেমের শুরু হলেও বিয়ে নিয়ে কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি। পরে সব কিছুর অবসান ঘটিয়ে মানসুরকে ভালোবেসে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ১৯৬৯ সালে বিয়ে করেন দুজন। নিজের নাম পাল্টে হন আয়েশা সুলতানা। পরবর্তীতে তাদের ঘরে জন্ম নেয় সাবা আলী খান, সোহা আলী খান ও বলিউড তারকা সাইফ আলী খানের।

রবী শাস্ত্রি-অমৃতা সিং

ভারতের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফর্মার রবি শাস্ত্রি। ১৯৮০ দশকে ভারতের অন্যতম তারকা বিয়ে করেন বলিউডের তখনকার রাইজিং স্টার অমৃতা সিংকে। তবে নানা কারণেই তাদের সেই সংসার টিকেনি। পরবর্তীতে দুজনেই আলাদা হয়েছেন।

মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন-সঙ্গীতা বিজলানি

ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে এখনও সবাই মনে রেখেছে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। সেই তিনি ১৯৯৬ সালে তার প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে বলিউড অভিনেত্রী সঙ্গীতাকে বিয়ে করেন। যদিও পরবর্তীতে সেই সংসারও টিকেনি। ২০১০ সালে এসে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেন এই দম্পতি।

জহির খান-সাগরিকা ঘাটগে

চাক দে ইন্ডিয়া দেখে সাগরিকা ঘাটগের প্রেমে পড়েন ভারতের তারকা পেসার জহির খান। এই জুটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যুবরাজ সিংয়ের বিয়ের দিন। এরপর অনেক গুঞ্জনের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন দুজন।

হার্দিক পান্ডিয়া-নাতাশা স্টানকোভিচ

সম্প্রতি এই দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও ২০২০ সালে ভালোবেসে একে অন্যকে বিয়ে করেছিলেন দুজন। তাদের ঘরে এক সন্তানও আছে।

শোয়েব মালিক-সানা জাভেদ

পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার শোয়েব মালিক ভারতের কিংবদন্তি টেনিস তারকাকে বিয়ে করলেও তাদের সেই সংসার টিকেনি। পরবর্তীতে গত বছর পাকিস্তানের তারকা সানা জাভেদকে বিয়ের ঘোষণা দেন তিনি। বর্তমানে বেশ কাটছে এই দম্পতির জীবন।

আথিয়া শেট্টি ও কেএল রাহুল

বলিউড অভিনেত্রী আথিয়া শেট্টিকে ভালোবেসে গত ২০২৩ সালে বিয়ে করেন কেএল রাহুল। সম্প্রতি এই দম্পতি তাদের সন্তান আগমের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিরাট কোহলি-অনুশকা শর্মা

বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী অনুশকা শর্মা। অন্যদিকে কোহলি বিশ্ব ক্রিকেটেই সেরাদের সেরা। এ দুজনের প্রেম নিয়ে কম জল্পনা হয়নি। দীর্ঘদিন লুকিয়ে প্রেম করেছেন। ২০১৩ সালে এক বিজ্ঞাপনে অংশ নিতে গিয়ে আনুশকা-কোহলির পরিচয়। সেই থেকে প্রেমের শুরু। এরপর ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন এই দম্পতি। বর্তমানে এই দম্পতির ঘরে দুই সন্তান রয়েছে।

এর বাইরেও অভিনেত্রীদের বিয়ে করেছেন একঝাঁক ক্রিকেটার। যাদের মধ্যে আছেন যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, যুজবেন্দ্র চাহাল।

খেলাধুলা

শতবর্ষ পূর্তিতে ভিন্ন আয়োজন হয়েছিল। দেড়শ বছর পূর্তিকেও আলাদা করে রাখার পরিকল্পনা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটের পথচলার শুরুর ভেন্যুতেই বসবে ১৫০ বছর পূর্তির ম্যাচ। খেলাটি হবে ডে-নাইট। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড লড়াই চলবে গোলাপি বলে।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৮৭৭ সালে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। ঐতিহাসিক সেই ভেন্যুতে ২০২৭ সালের মার্চেই হবে মাইলফলকের সাদা পোশাকের লড়াই।

টেস্টের একশ বছর পূর্তিতেও বিশেষ টেস্টের আয়োজন হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। মেলবোর্নের সেই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জেতে ৪৫ রানে! টাইমলেস টেস্টের সেই সময় ১৮৭৭ সালেও অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে জিতেছিল।

বিশেষ টেস্টটি মাঠে গড়াবে ১১ থেকে ১৫ মার্চ। যার মধ্য দিয়ে মেলবোর্নের ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ভেন্যুটিতে এবারই প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট হতে যাচ্ছে। খেলা হবে গোলাপি বলে। ২ বছর আগেই সব কিছু আয়োজন করে রাখছে মেলবোর্ন।

আন্তর্জাতিক

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনই পাচ্ছেন মরণোত্তর পুরস্কার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় এ সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করেছে।

এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।

এছাড়া সংস্কৃতিতে ভাস্কর নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খানকে (মরণোত্তর) স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্য শ্রেণিতে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়ে আসছে।

স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

অর্থনীতি

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। এই অর্থ ফিরিয়ে আনতে অনেকেই প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তিনি এসব কথা জানান। নিজের প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব কি না, সাংবাদিকরা এমনটি জানতে চান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, যেসব দেশে টাকা গিয়েছে, সেসব দেশ উপকারভোগী। যেহেতু উপকারভোগী, সেহেতু সহজে তারা ছাড়বে না। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টাকে তারাই অফার করছে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমরা অতি দ্রুত কাজ করছি। আশা করছি আমরা সফল হব।

কারা অফার করেছে, জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, বলা সম্ভব নয়। বললে কাজে সমস্যা হবে। কিছু তো গোপনীয়তা মানতে হবে। যারা টাকা নিয়ে গেছে তারা তো বসে নেই। এজন্যই একটা গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। যতটা বলা সম্ভব, ততটাই বলছি। এর বেশি বললে আমাদের কাজটা বন্ধ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এখানে আইনের ইস্যু আছে, প্রপার আইন করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে মিল রেখে। আপনি ধরলেই তো টাকা ফেরত আনতে পারবেন না। এখানে কতগুলো মাধ্যম আছে। এসব বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাচ্ছি। বিশ্বব্যাংকসহ অনেকেই কাজ করছে।

জাতীয়

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) যুগোপযোগী ও জনপ্রিয় করতে হবে।

মঙ্গলবার বিটিভির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

বিটিভির অনুষ্ঠানের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, বিটিভিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর পাশাপাশি বিটিভির অনুষ্ঠানকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠান সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, বিটিভির পুরাতন অনুষ্ঠান ও সংবাদ অনলাইনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যাটালগ আকারে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে যে কেউ যেকোনো সময় পুরাতন অনুষ্ঠানমালা দেখার সুযোগ পান।

উপদেষ্টা বিটিভির উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বিটিভির সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, উপমহাপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, উপমহাপরিচালক (বার্তা) ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভার আগে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বিটিভির ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, অডিটোরিয়াম, আর্কাইভ ও বিভিন্ন স্টুডিও পরিদর্শন করেন।