আন্তর্জাতিক

বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে তার পেছনে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছে বিএনপি। আর প্রায় একই সময় থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত জনসংযোগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৮ লাখ ডলার দিয়েছে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার।

‘বিএনপি-জামায়াত বিদেশি লবিস্ট নিয়োগে ৮টি চুক্তি করেছে। এর মধ্যে তিনটি চুক্তি করেছে বিএনপি। এই তিন চুক্তিতে বিএনপি ৩.৭৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। বিএনপি অফিসের ঠিকানাও চুক্তির কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জামায়াতের চুক্তির কপিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা দেওয়া নেই। তবে চুক্তির কপিতে তাদের নাম রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের সঙ্গে তারা চুক্তি করেছে।’

মঙ্গলবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম।

আন্তর্জাতিক লবি ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে অভিযোগ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতটুকু জানা গেছে তার মধ্যে বিএনপি-জামায়াত ৮টি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করে। বিএনপির ৩টি চুক্তি পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে বিএনপি পায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছে। এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের (বিচার বিভাগের) ওয়েবসাইটে পরিষ্কারভাবে দেওয়া আছে।’

তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এর বাইরেও লবিস্ট নিয়োগে বিএনপি-জামায়াতের আরও অর্থ খরচের ধারণা করছেন।

লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হয়েছে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংলাপ, সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও মানবাধিকার সংলাপ করতে লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। আরেক জায়গায় রয়েছে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানো। আর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে বিল আনানো নিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়, এগুলো ছিল জামায়াতে ইসলামীর চুক্তির অংশ। ‍২০১৯ সালে বিএনপির মহাসচিব অনেকগুলো চিঠি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশকে মার্কিন সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ করার মতো কথা বলা হয়েছে।’

২০১৫ সালে বিজিআর গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স এলএলসি নামের একটি মার্কিন লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওই চুক্তি লবিস্ট নিয়োগ নয় বলে দাবি করেছেন শাহরিয়ার আলম। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘পিআর বা জনসংযোগের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হলে তার প্রতিবাদ অথবা তার বিরুদ্ধে আরেকটি লেখা যায়, তার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানটি নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা, এসডিজি অর্জন, মধ্যম আয়ের দেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্য অর্জনগুলো নিয়ে লেখা ছাপাতে ওই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানকে বিএনপির মিডিয়া লবিস্ট বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন মেয়াদে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি।’

বিজিআর কি তাহলে লবিস্ট প্রতিষ্ঠান নয়- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার বলেন, ‘বিজিআর তদবির ও জনসংযোগসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। আমরা তাদের সঙ্গে শুধু জনসংযোগের জন্য চুক্তি করেছি। তাদের সঙ্গে তদবির সেবার জন্য কোনো চুক্তি হয়নি।’

২০১৫ সালের শেষ নাগাদ থেকে ২০২২ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার চুক্তি হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

বিদেশে লবিস্ট রাজনীতিতে বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ হেরে গেল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রীর জবাব, ‘নিরীহ কূটনীতি, কালো টাকার লবিস্টের কাছে হেরে যাওয়া বলে মনে করি না। ’

‘এখানে অনেক ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছি।’ এ সময় র‌্যাব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো লবিস্ট নিয়োগ না করে সরাসরি যুক্ত হয়ে ফলাফল আনার কথা জানান শাহরিয়ার।

আন্তর্জাতিক

গত এক বছরে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ‘দ্বিগুণ বেড়েছে’ বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

মঙ্গলবার মতিঝিল ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রথম বারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

“দুই দেশের এই বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিতে আগ্রহী ভারত। এজন্য দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই’র সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছি।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্য বাণিজ্য বেড়েছে ২৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভারত পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি ২৯ লাখ ডলার। সে বছর ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ভারতে। দেশটি থেকে এসেছে ৮৫৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য। অর্থাৎ ওই বছর ভারতের সঙ্গে ৭৩১ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে।

২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দুটি দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৮৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। ভারতে ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি হয় ৫৭৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পণ্য। সেবছর বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৪৬৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার।

এফবিসিসিআই’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত লজিস্টিকস, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, অটো মোবাইল ও পোশাকখাতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চায় বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাই কমিশনার।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন এফবিসিসিআইর প্রধান লক্ষ্য। এখাতের উন্নয়নে সরকারকে ১২ বছরব্যাপী পরিকল্পনা জমা দিতে কাজ করছে এফবিসিসিআই।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এলডিসি পরবর্তী সময়ে পোশাক শিল্পে সুতা ও তুলার বড় যোগানদাতা হতে পারে ভারত।

“বাংলাদেশে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ভালো করছে। তাই বাংলাদেশে অন্যান্য ভারতীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগও লাভজনক হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ গত নভেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অনুমোদন পায়। উত্তরণের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর প্রস্তুতির সময় পাবে বাংলাদেশ।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে স্থলবন্দরগুলোর ভারতীয় অংশের অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শ দেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, “ভারতীয় বন্দরের সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেক পণ্য রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তাতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল দ্রুত ও সহজ করতে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দরে শিগগির আরেকটি নতুন গেট চালু করা হবে বলে জানান ভারতীয় হাই কমিশনার।

বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, তার সরকার দুই দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে আগ্রহী। এজন্য আগামী ফেব্রুয়ারিতে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের সমস্যা দূর করতে ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ফোরাম সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান ভারতীয় হাই কমিশনার।

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের প্রধান সতর্ক করে দিয়েছে বলেছেন, লাখ লাখ আফগান নাগরিক ‘মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে’।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের ৫ বিলিয়ন ডলারের মানবিক তহবিলের জন্য অর্থায়ন, আফগানিস্তানের আটকে দেওয়া সম্পদ মুক্ত করা এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পতন এড়াতে তার ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০ বছর পর মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যদের বিশৃঙ্খল প্রস্থানের মধ্যে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে। ফলে দেশটির সহায়তানির্ভর অর্থনীতি ইতিমধ্যে বিপর্যস্ত অবস্থায় চলে গেছে।

তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন দেশ আফগানিস্তানের সম্পদ ফ্রিজ করে দেয়, অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করে দেয় এবং তালেবানের সঙ্গে কাজ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

জাতিসংঘ বলেছে, প্রায় ৯০ লাখ আফগান অনাহারের দ্বারপ্রান্তে। আফগান অর্থনীতিতে দ্রুত তারল্য প্রবেশ করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারণ বিশ্বের বেশিরভাগ আর্থিক ব্যবস্থা ডলারে কাজ করে। আমেরিকা আফগান বৈদেশিক মজুদের ৭ বিলিয়ন ডলার ফ্রিজ করে দিয়েছে।

জাতিসংঘ প্রধান বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে চিকিৎসক, স্যানিটেশন কর্মী, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রদানের পাশাপাশি আফগান প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানে সহায়তা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে যৌন নিপীড়নের মামলায় বিচারের মুখে পড়া ব্রিটিশ রানির ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার সামরিক ও রাজকীয় খেতাব হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ জানিয়েছে, “রানির অনুমোদন ও সম্মতিতে ডিউক অব ইয়র্কের সামরিক সংযুক্তি ও রাজকীয় সম্মান ফেরত নেওয়া হয়েছে।”

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডিউক অব ইয়র্ক অ্যান্ড্রুকে (৬১) এখন থেকে আর আনুষ্ঠানিক কেতায় ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ বলা হবে না।

যৌন হয়রানির মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হল।

নিউ ইয়র্কে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগটি আনেন ভার্জিনিয়া জোফ্রে নামের এক নারী। ওই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু।

তার ঘনিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, অভিযোগ থেকে তিনি নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ওই সূত্রর যুক্তি, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মাত্র, সেটি বাদীর অভিযোগের সারবত্তা নিয়ে কোনো রায় নয়।

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে করা মামলায় ভার্জিনিয়া জোফ্রে দাবি করেছেন, ২০০১ সালে তাকে যৌনকর্মে বাধ্য করেছিলেন ডিউক অব ইয়র্ক।

বিবৃতিতে বাকিংহাম প্রাসাদ জানিয়েছে, ডিউক অব ইয়র্ক কোনো ধরনের রাজকীয় দায়িত্বে থাকতে পারবেন না এবং এই মামলা তাকে একজন সাধারণ নাগরিকের মতই লড়তে হবে।

অ্যান্ড্রু রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপের তৃতীয় সন্তান এবং দুই ছেলের মধ্যে কনিষ্ঠ। ব্রিটিশ রাজমুকুটের উত্তারিধীকারীদের তালিকার নয় নম্বরে তার অবস্থান।

বিবিসি লিখেছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু যেসব রাজকীয় দায়িত্বের অধিকারী ছিলেন, সেসব রানীর অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। সেসব দায়িত্ব রাজ পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে।

প্রিন্সেস ডায়ানার ছেলে হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগানের মতই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামের আগে ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ ব্যবহার করতে পারবেন, তবে আগের মত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বহন করবে না বলে জানিয়েছে রাজপ্রাসাদ।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ডিউকের সামরিক খেতাব রানীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। এটা রাজপ্রাসাদের নিজস্ব বিষয়।

বৃহস্পতিবার রাজতন্ত্র-বিরোধী গোষ্ঠী ‘রিপাবলিক’ একটি চিঠি প্রকাশ করে। রাজকীয় নৌ, বিমান ও সেনা বাহিনীর ১৫০ জন সাবেক সৈনিক ওই চিঠিতে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আটটি সামরিক খেতাব ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য রানির কাছে আহ্বান জানান।

প্রথম রয়্যাল ট্যাংক রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করা সাবেক লেফটেন্যান্ট স্টুয়ার্ট হান্ট, যিনি ওই চিঠিতে সই করেছেন, প্রিন্সের সামরিক খেতাব ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন যে বিষয়টি আরও আগেই মীমাংসা করা দরকার ছিল।

ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ বাহিনীতে ২২ বছর নিয়োজিত ছিলেন অ্যান্ড্রু, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড যুদ্ধে একজন পাইলট হিসেবে হেলিকপ্টার নিয়ে তিনি অংশ নেন।

বাকিংহাম প্রাসাদের সবশেষ ঘোষণার অর্থ হল, প্রিন্স তার প্রায় সবগুলো সামরিক খেতাব হারিয়েছেন, যার মধ্যে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ পদাতিক রেজিমেন্ট গ্রেনাডিয়ার গার্ডসের কর্নেল খেতাবও রয়েছে।

এছাড়া কানাডা, নিউ জিল্যান্ডসহ প্রবাসে ডিউক যেসব সম্মানসূচক খেতাব ব্যবহার করে আসছিলেন, সেগুলোও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সামরিক পদবী ভাইস-অ্যাডমিরাল অক্ষুণ্ন থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে রাজপ্রাসাদ।

২০১৫ সালে ৫৫-তম জন্মবার্ষিকীতে তার সমসাময়িক যেসব সামরিক কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যান্ড্রুকেও নৌ বাহিনীর ভাইস-অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়।

বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি সংগঠনও প্রিন্সের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অবশ্য এরপরেও বিভিন্ন নামী গলফ ক্লাব, বিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক ট্রাস্টসহ ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানে তার রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকের পদ বহাল আছে।

ভার্জিনিয়া জোফ্রের আইনজীবী ডেভিড বোয়িস বিবিসিকে বলেছিলেন, শুধু আর্থিক সমঝোতা তার মক্কেলের জন্য যথেষ্ট নয়- তিনি ন্যয়বিচার চান।

প্রিন্সের আইনজীবীরা এই মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন, যেহেতু ২০০৯ সালে বাদী যৌন নিপীড়নের মামলায় দোষী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রে সই করেছিলেন।

তবে ৪৬-পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক লুইস এ কাপলান প্রিন্স অ্যান্ড্রুর পক্ষে দেওয়া যুক্তি খারিজ করেছেন, যেখানে আসামি পক্ষ দাবি করেছে যে অ্যন্ড্রুর বিরুদ্ধে এই মামলাটি ‘আইনিভাবে যথাযথ নয়’ এবং ভবিষ্যৎ শুনানির জন্য এগিয়ে নেওয়া যায় না।

২০২১ সালের অগাস্টে ভার্জিনিয়া জোফ্রে (৩৮) নিউ ইয়র্কে ওই রাজ্যের চাইল্ড ভিকটিম অ্যাক্টের অধীনে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই আইনে শৈশবে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন এমন ব্যক্তিদের বিচার চাওয়ার সুযোগ দেওয়া আছে।

জোফ্রের অভিযোগ, দুই দশকের বেশি সময় আগে এপস্টিনের বান্ধবী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের লন্ডনের বাড়িতে অ্যান্ড্রু তাকে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছিলেন। এপস্টিনের মালিকানাধীন দুটি জায়গায় ব্রিটিশ প্রিন্স তার ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, অ্যান্ড্রু যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মোট তিনবার নিপীড়ন করেন জোফ্রেকে, তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর – যুক্তরাষ্ট্রের আইনে তিনি তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

২০১৯ সালে বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে রানির ছেলে অ্যান্ড্রু বলেছিলেন ভার্জিনিয়া জোফ্রের সঙ্গে কখনো দেখা হওয়ার কোনো ‘স্মৃতি তার নেই’, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তার সঙ্গে যৌনকর্মের ‘কোনো ঘটনাই কখনো ঘটেনি’।

কিশোরীদের যৌননিগ্রহে সহায়তায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত মাসে এপস্টিনের বান্ধবী ম্যাক্সওয়েলকেও দোষী সাব্যস্ত করে আদালত।

আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের দ্রুত বিস্তারে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

বিপুল সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় অথবা স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে থাকায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে, এর মধ্যে ওমিক্রনের ঢেউ এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রভাবশালী ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার তুলনায় ওমিক্রনে রোগ গুরুতর আকার ধারণা করা বা হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কম, প্রাথমিক গবেষণাগুলোতে এমন ধারণা পাওয়া গেলেও স্পেন, ব্রিটেন, ইতালি এবং অন্যান্য স্থানগুলো স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কগুলো ক্রমেই নিজেদের হতাশাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে দেখছে।

শুক্রবার ব্রিটেন হাসপাতালগুলোতে অভিজ্ঞ কর্মীর শূন্যতা পূরণে ও রেকর্ড কোভিড-১৯ রোগীর কারণে সৃষ্ট প্রবল চাপ সামলাতে সহায়তা করতে সেখানে সামরিক সদস্যদের মোতায়েন করা শুরু করেছে।

এক বিবৃতিতে দেশটির ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) মেডিকেল ডিরেক্টর প্রফেসর স্টিভেন পওয়েস বলেছেন, “ওমিক্রনের মানে চিকিৎসার জন্য বেশি রোগী আর তাদের চিকিৎসার জন্য কম কর্মী।”

যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলো অতি জরুরি নয় এমন অস্ত্রোপচার বন্ধ রেখে শয্যা খালি ও কর্মীদের মুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। স্পেনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক এত চাপে পড়েছে যে ২০২১ সালের শেষ দিনটিতে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আরাগনের কর্তৃপক্ষ অবসরে যাওয়া কর্মী ও নার্সদের ফের কাজে ফেরানোর অনুমোদন দিয়েছে।

এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, “রোগীর বৃদ্ধি দ্রুত থেকে আরও দ্রুততর হতে থাকার অর্থ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা তাদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও টিকাদান কর্মসূচীর দায়িত্ব এবং সাধারণ কার্যক্রমের কোনোটিই ঠিকমতো পালন করতে পারবে না।”

স্পেনের নার্সিং ইউনিয়ন এসএটিএসই জানিয়েছে, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টদের মতো সামনের সারির কর্মীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে আন্দালুশিয়ার ৩০ শতাংশেরও বেশি কর্মী কোভিডজনিত ছুটিতে গেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে

শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের দৈনিক ডে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্মী বিশেষভাবে নার্স ও নার্সদের সহযোগীদের মধ্যে সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। দেশটির আটটি প্রধান হাসপাতালে জরিপ চালানোর পর এ খবর দিয়েছে তারা।

আমর্স্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের পরীক্ষায় ২৫ শতাংশ কর্মীর এখন কোভিড পজিটিভ এসেছে, এক সপ্তাহ আগেও এ হার ৫ শতাংশ ছিল।

উপসর্গবিহীন আক্রান্ত কর্মীরা যেন কাজে ফিরতে পারেন তার জন্য নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালগুলো তাদের কোয়ারেন্টিনের নিয়মগুলো পরিবর্তন করার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে ডে টেলিগ্রাফ। ১৯ ডিসেম্বর থেকে কঠোর লকডাউনে থাকলেও দেশটিতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা আগের রেকর্ড ভেঙে ফেলছে।

গত সপ্তাহে সংগ্রহ করা তথ্যে দেখা গেছে, ইতালিতে ১২ লাখ ৮০০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্য কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যেসব চিকিৎসক, নার্স ও প্রশাসনিক কর্মী টিকা নেননি তাদের সাসপেন্ড করে রাখা। দেশটির মোট কর্মীদের ৪ শতাংশেরও বেশি এখনও টিকা নেননি।

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে আইএসের একটি ডেরায় হানা দিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে আইএসের ৬ সদস্য নিহত হয়েছে।

তবে পাক বাহিনীর অভিযানের সময় ডেরা থেকে আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ ঘোষিত এই জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই পালিয়ে যাওয়া সদস্যরা এখন দৌড়ের ওপর রয়েছে।

পাকিস্তান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ পশ্চিম কোয়েটা শহরে আইএসের একটি গোপন আস্তানায় তারা অভিযান চালান। শনিবার এই অভিযানে আইএসের ৬ সদস্য নিহত হয়।

ডেরায় নিহতদের মধ্যে ইসলামিক স্টেট খোরাসান শাখা যেটা আইএস-কে নামে পরিচিত তার আঞ্চলিক জুনিয়র কমান্ডার আসগর সুমালানি রয়েছেন। পাকিস্তান তাকে ধরতে ২০ লাখ রুপি পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল।

তবে এই অভিযানের সময় আইএসের চার-পাঁচজন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, পুলিশের একাধিক টিম পালিয়ে যাওয়া আইএস সদস্যদের গ্রেফতারে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বরাবরই দেশটিতে আইএসের উপস্থিতির বিষয়টিকে হালকা করে দেখেছে। যদিও গ্রুপটি (আইএস) পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের ১১ জনকে হত্যাসহ একাধিক আক্রমণের দায় স্বীকার করেছে।

আফগানিস্তানের কয়েকটি প্রদেশে আইএস খোরাসান শাখার শক্ত ভিত্তি রয়েছে। গত আগস্টে এই জঙ্গিরা কাবুল বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা করে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হন।

গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে আইএসের হুমকি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তান আইএসপিআরের পরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেছিলেন, পাকিস্তানে আইএস সদস্যরা সক্রিয় নয়।

আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূল থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ইংরেজি নববর্ষের দিনে তার ভাষণে ‘অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির’ মোকাবিলায় নিজ দেশের সামরিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। এর অংশ হিসেবে এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর জাপান টাইমসের।

বুধবার সকালে জাপানি কোস্টগার্ড জানায়, উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং এটি সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, গত বছর থেকে উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফও জানিয়েছেন, পরমাণু শক্তিধর উত্তর কোরিয়া দেশটির একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করেছে এবং এসব কর্মসূচি কেন্দ্র করে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আন্তর্জাতিক

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নাইট উপাধি কেড়ে নেওয়ার জন্য দেশটির রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছে প্রায় ৬ লাখ মানুষ আবেদন করেছেন।

গত সপ্তাহে রানি এলিজাবেথ সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে এ উপাধিতে ভূষিত করেন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

তার এই নাইট উপাধি কেড়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে যেসব মানুষ আবেদনে সই করেছেন,তারা বলছেন—২০০৩ সালে ইরাকে যে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তার জন্য টনি ব্লেয়ারের বিচার হওয়া উচিত।

আবেদনকারীরা আরও বলেন, অবৈধভাবে ইরাকে আগ্রাসন চালানো হয়েছে এবং তার জন্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের পাশাপাশি টনি ব্লেয়ারও সমানভাবে দায়ী। আবেদনকারীরা টনি ব্লেয়ারকে যুদ্ধাপরাধী বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথ সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত খেতাব নাইট উপাধিতে ভূষিত করলেও আবেদনকারীরা বলছেন— টনি ব্লেয়ার হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে অপছন্দনীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।

ব্রিটিশ সমাজে এ ঘোষণায় গভীর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং তা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে।

ইরাক থেকে যুদ্ধফেরত ব্রিটিশ সেনারা বলছেন, নাইট উপাধি দেওয়ার আগে এই ব্যবস্থা নিয়ে আরও অনেক বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার।

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল সামান্যতম ভুল করলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তেহরানের জুমার নামাজের খতিব আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আহমাদ খাতামি।

শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত জুমার নামাজের খুতবায় এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির চালানো সামরিক মহড়ার বিষয়ে ইসরায়েল যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, এ বিষয়ে আয়াতুল্লাহ খাতামি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষানীতি আত্মরক্ষামূলক এবং সাম্প্রতিক মহড়ার উদ্দেশ্যও ছিল দেশ রক্ষা করা। কিন্তু ইসরায়েল যদি ইরানে আগ্রাসন চালানোর কথা ভাবে, তাহলে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে তেল আবিবের দিনগুলোকে রাতের ঘোর অন্ধকার বানিয়ে দেওয়া হবে।

সন্ত্রাসী হামলায় জেনারেল সোলাইমানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি বলেন, ইরান ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি আইন-আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আমেরিকাকে বড় ধরনের চপেটাঘাত করেছে। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিশোধ সেদিনই নেওয়া সম্ভব হবে, যেদিন সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দানকারী ট্রাম্প থেকে শুরু করে ওই নির্দেশ বাস্তবায়নে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির বিচার করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন ইরানের কুদস ফোর্সের তৎকালীন কমান্ডার লে. জেনারেল সোলাইমানি।

আন্তর্জাতিক

২০১৯ সালের শেষদিকে চীনে প্রথম হানা দেয় করোনাভাইরাস তথা কোভিড-১৯। এর মাঝেই ২০২০ ও ২০২১ সালকে বরণ করে নেয় বিশ্ব। আজ ২০২২ সালের প্রথম দিন। এখনও নির্মূল হয়নি ঘাতক করোনা।

এর মধ্যেই বাংলাদেশসহ অনেক দেশ নানা আয়োজনে বরণ করছে বছরের প্রথম দিন। অনেক দেশ আবার করোনার ভয়াবহতার কাছে হার মেনে সীমাবদ্ধ করেছে নিয়মিত আয়োজন।

গ্রিনিচ মান মন্দিরে সবার চেয়ে (১২+) এগিয়ে থাকার কারণে বর্ষবরণের উৎসব প্রথম শুরু হয় নিউজিল্যান্ডে। দেশটির অকল্যান্ড শহরে আয়োজন করা হয় বর্ণিল অনুষ্ঠান। তবে করোনার কারণে সেখানে এবারও ফোটেনি আতশবাজি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহর তাদের পুরানো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। ঘটা করে আতশবাজি ফুটিয়ে বিদায় জানিয়েছে ২০২১ সালকে। যা দেখতে ভিড় জমায় হাজার হাজার মানুষ।

করোনার ভয়াবহতা কমলেও সম্প্রতি ভাইরাসটির নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ভয়ে ইংল্যান্ডের লন্ডন, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিশ্বের অনেক জায়গাতে নতুন বছরকে বরণ করতে আতশবাজির আনন্দ আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গোল্ডেন বল পতনের আয়োজন এবারও আছে। কিন্তু সেই আয়োজনের কাউন্টডাউনে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা এবার অনেক কম থাকছে। শর্তসাপেক্ষে অল্পসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন এই আয়োজনে। তবে হতে হবে ভ্যাকসিনেটেড। মাস্ক পরাও করা হয়েছে বাধ্যতামূলক।

বড়দিনের কারণে করোনার রেকর্ড সংক্রমণ হয়েছে ইংল্যান্ডে। তাই লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ওমিক্রন আতঙ্কে ফ্রান্স প্রশাসন বর্ষবরণে জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। ইতালির কয়েকটি শহরেও আরোপিত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারত। তাই ওমিক্রন নিয়ে হেলাফেলা করতে চায় না মোদি প্রশাসন। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্য কঠোর স্বাস্থ্যবিধি জারি করা হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। রাত্রিকালীন কারফিউও জারি রয়েছে। চীনেও কয়েকটি জায়গায়ও আছে কড়াকড়ি।

তবে ২০২১ সালের শেষদিকে সবচেয়ে বড় সুখবর পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওমিক্রনের ধাক্কা কমে আসায় দেশটিতে হঠাৎ করেই তুলে নেয়া হয়েছে রাত্রিকালীন কারফিউ। দেশটি জানিয়েছে, করোনার ভয়াবহতা তারা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে।

এদিকে কড়া নিরাপত্তায় ঢাকাসহ সারা দেশে উদযাপন করা হয় ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রহর। আতশবাজির সঙ্গে উড়ানো হয় ফানুস। ঢাকার বাসা-বাড়ির ছাদ ও বিভিন্ন ক্লাবে আয়োজন করা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

এদিকে নানা আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হয়েছে। সেখানে সপরিবারে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি কুশল বিনিময় করেন।

শিক্ষার্থীরা আতশবাজি এবং ফানুস উড়ান। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীর পরিবারের সদস্যরাও উদযাপনে যোগ দেন।