আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন এবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। রুশ সেনার হাতে বন্দি বহু ইউক্রেনীয় নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের ‘ফার্স্টলেডি’ ওলেনা জেলেনস্কা দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় নারীদের ধর্ষণ করতে রুশ সেনাদের স্ত্রীরাই উৎসাহিত করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির স্ত্রী ওলেনা জেলেনস্কা। ওই সেমিনারে আলোচ্য বিষয় ছিল ‘যুদ্ধের হাতিয়ার ধর্ষণ’।

আলোচনায় ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রসঙ্গ টেনে ৪৪ বছরের ওলেনা বলেন, কারও ওপর ক্ষমতা প্রদর্শনের সবচেয়ে বর্বর ও খারাপ পন্থা হচ্ছে ধর্ষণ। যুদ্ধের সময় যারা এ ধরনের হামলার শিকার হন, তারা নিরাপত্তার খাতিরেই মুখ খোলেন না।

রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় মেয়েদের ধর্ষণ করতে বলছেন তাদের স্ত্রীরাই। যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ধর্ষণকে ব্যবহার করছে তারা। আর এ নিয়ে কোনো রাখঢাকও করছেন না রাশিয়ার সেনারা।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাস দুয়েক পরেই একটি অডিও ক্লিপ শেয়ার করেছিল ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী। শিরোনাম ছিল— ‘সিকিউরিটি সার্ভিসে ধরা পড়ল: ইউক্রেনীয় নারীদের ধর্ষণের জন্য তাদের স্বামীদের ছাড়পত্র দিয়েছে রাশিয়ান আক্রমণকারীদের স্ত্রীরা।’ যদিও ৩০ সেকেন্ডের ওই বিস্ফোরক অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ১২ এপ্রিল ওই অডিও ক্লিপটি প্রকাশ্যে আনে রেডিও লিবার্টি নামের এক সংস্থা।

প্রসঙ্গত, বুচা শহরের গণহত্যা নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দায় সরব হয়েছে গোটা বিশ্ব। ইউক্রেনের তরফে জানানো হয়েছিল, বহু মহিলাকেই বুচা বেসমেন্টে আটক করে রেখেছিল রুশ বাহিনী। তাদের মধ্যে অনেকেই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী কিয়েভের দখল নিতে না পেরেই নির্বিচারে পাশের শহরগুলোতে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে রুশ সেনা।

আন্তর্জাতিক

১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় ‘সামরিক ব্যর্থতা’ ছিল বলে পাল্টা দাবি করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সভাপতি।

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) হাতছাড়া হওয়ার কারণ সামরিক নয় বরং তা ‘রাজনৈতিক ব্যর্থতা’ ছিল বলে উল্লেখ করার ঠিক এক সপ্তাহ পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারি ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয় ‘সামরিক ব্যর্থতা’ ছিল বলে পাল্টা দাবি করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এ সভাপতি।

দেশব্যাপী পিপিপির ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বুধবার করাচির নিশতার পার্কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিলওয়াল তার এ মতামত তুলে ধরেন, খবর পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন ডটকমের।

১৯৭১ সালের পরাজয় ওই সময় জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পিপিপির জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছিল এবং ভুট্টো ‘সফলভাবে’ সেগুলোর মোকাবেলা করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে দেওয়া ভাষণে পিপিপির সভাপতি তার দলের ইতিহাস ও এর প্রতিষ্ঠাতা ভুট্টোর কৃতিত্ব তুলে ধরেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে ওই বিপর্যয়ের পর তার দাদা ভুট্টো নেতৃত্ব গ্রহণ করে ‘সংহতি নষ্ট হওয়া’ পাকিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘হারানো গৌরব’ ফিরিয়ে আনেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, “যখন জুলফিকার আলী ভুট্টো সরকারের দায়িত্ব নেন ওই সময় জনগণ সব আশা হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছিল, কিন্তু তিনি জাতিকে পুনর্গঠিত করেন এবং জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত আমাদের ৯০ হাজার সেনা দেশে ফিরে আসে যারা ‘সামরিক ব্যর্থতার’ কারণে যুদ্ধবন্দি হয়েছিল।

“ওই ৯০ হাজার সেনা তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত হয়। আর এর সবই সম্ভব হয় আশার রাজনীতি, ঐক্যের রাজনীতি ও অর্ন্তভুক্তিমূলক রাজনীতির কারণে।”

গত ২৩ নভেম্বর জেনারেল (অব.) বাজওয়া পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, “আমি রেকর্ড সংশোধন করতে চাই। প্রথম কথা হচ্ছে, পূর্ব পাকিস্তানের পতন কোনো সামরিক না, রাজনৈতিক ব্যর্থতা ছিল। সেখানে যুদ্ধরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না বরং মাত্র ৩৪ হাজার ছিল, বাকিরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মী ছিলেন।

“এই ৩৪ হাজার সেনা ভারতের আড়াই লাখ সেনা এবং মুক্তি বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই লাখ যোদ্ধার সঙ্গে লড়াই করেছে। এত বেশি প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমাদের সেনারা সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক ত্যাগ স্বীকার করেছে।”

বিলওয়াল নিজের ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে পিপিপির ইতিহাস টেনে এনে বলেন, তার দলের দুই জন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নিজেদের ‘প্রাণোৎসর্গ’ করেছেন।

পাকিস্তানের গণতন্ত্রণকে দুর্বল করার ও ‘পুতুল নেতৃত্ব’ শক্তিশালী করার চেষ্টায় এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আজ বলেছেন, বিভিন্ন কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারিত জাপান সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত টোকিওর নয়, এটি ঢাকার সিদ্ধান্ত।

আমরা এটা করেছি (সফর স্থগিত) করেছি, তারা (টোকিও) করেনি। জাপান আমাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত… কিন্তু বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে আমরা মনে করি এ সময়ে সফর করা খুব কঠিন হবে।

তিনি নগরীর এক হোটেলে একটি সেমিনারে অংশ নেয়ার পরে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই শিগগির টোকিও সফর করবেন।

মোমেন বলেন, সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ঢাকা জাপান সরকারে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে জাপানে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনা করেছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এবার জাপানে যেতে চেয়েছিলাম। তারা আমাদের বারবার অনুরোধ করেছে। এটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে সকল বিষয় বিবেচনা করে আমরা সফর স্থগিত করেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দুই বছরেরও বেশি সময় আগে টোকিও থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছিল কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সফরটি হয়নি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জাপান সফরে গেলে জাপান আবারও সফর চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ এখানে নগরীর একটি হোটেলে অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া, বাংলাদেশ আয়োজিত আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

আন্তর্জাতিক

গত বিশ্বকাপে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রাবার কিতরোভিচ। কানাডার সঙ্গে ম্যাচের আগে সেই গ্রাবার কিতরোভিচ কাতার এসে পৌঁছেছেন। দ্য ডাবরনিক টাইমস।

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত গত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছিল। সে সময় রানার্সআপ হয়েছিল তার দল।

ক্রোয়েশিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রাবার কিতরোভিচ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত ফুটপ্রেমীদের পদচারণায় সৌক ওয়াকিফ (কাতারের বিখ্যাত পর্যটন এলাকা)-এ দারুণ পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা মাঠে লড়াই করছি, কিন্তু সবসময় সবার সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব বজায় থাকবে। নিরাপত্তা ও অভ্যর্থনায় আমি (কাতারের প্রতি) দারুণভাবে মুগ্ধ। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে আপনাদের বন্ধুত্ব ও সমর্থন দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।

গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুল মেক্রোর সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট গ্রাবার কিতরোভিচ। ফাইল ছবি: টিএএস
গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুল মেক্রোর সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট গ্রাবার কিতরোভিচ। ফাইল ছবি: টিএএস

রাশিয়ার বিশ্বকাপ মঞ্চে ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট এমানুল মেক্রোর সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট গ্রাবার কিতরোভিচের আচরণকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে বিশ্ববাসী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে নানা হাস্যরসও তৈরি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কিতরোভিচের বিশেষ দৃশ্য আপলোড দিয়ে লুগিও রিবা নামের এক অনলাইন এক্টিভিস্ট লেখেন, ‘আন্টি শান্ত হোন, এখানে কিন্তু ৫ সহস্রাধিক ক্যামেরা আছে।’

এর কারণ ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বিশ্বকাপের রানার্স হওয়া। এর আগে ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে দেশটি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।

কে এই নারী?

১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল ক্রোয়েশিয়ার রিজিকা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন কোলিন্দা গ্রাবার। ওই সময় যুগোস্লাভিয়ার অধীনে ছিল ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৬ সালে তিনি জ্যাকব কিতারভিচ নামের একজনকে বিয়ে করেন। ৫০ বছর বয়সী এ নারী দুই সন্তানের জননী। এক ছেলে ও এক মেয়ের মা কোলিন্দা গ্রাবার- কিতারোভিচ। তাদের বড় মেয়ে ক্যাটরিনার বয়স ১৭ বছর। আর ২০০৩ সালে তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান লোকা। ২০১৫ সালে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন কোলিন্দা গ্রাবার- কিতারোভিচ। ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার মালয়েশিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একটি চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘এই উচ্চ পদে আপনার নির্বাচন একটি স্পষ্ট সাক্ষ্য এবং আপনার দেশের জন্য আপনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা এবং দীর্ঘ সময়ের ত্যাগের প্রতি মালয়েশিয়ার জনগণের আস্থা ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আমি নিশ্চিত যে, আপনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে মালয়েশিয়া আরও সমৃদ্ধির সঙ্গে উন্নতি করতে থাকবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০২২ সাল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বন্ধুত্বের জন্য একটি বিশেষ বছর, কারণ উভয় দেশই কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।’ তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে একটি। তারপর থেকে দুই দেশ তাদের জনগণের ভাগাভাগি সমৃদ্ধির জন্য অভিন্ন বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উপভোগ করছে।

শেখ হাসিনা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উভয় দেশ মানবসম্পদ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও পর্যটন ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক অংশীদারত্বকে আরও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আনোয়ার ইব্রাহিমের গতিশীল নেতৃত্বে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের উপকারের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানান।

এ সময় শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং মালয়েশিয়ার ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের সুখ-শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

আন্তর্জাতিক

তৃতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শি জিনপিং। কর্তৃত্ববাদী এই প্রেসিডেন্টের নজর রয়েছে স্বশাসিত অঞ্চল তাইওয়ানে৷ এছাড়া জিনজিয়াংয়ে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গেও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত রাখছেন তিনি। এর জেরে বিশ্বনেতাদের বিরোধিতার মুখে জিনপিং।

দ্য সিঙ্গাপুর পোস্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার অবকাশ কেন্দ্র বালি দ্বীপে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে বৈশ্বিক অঙ্গনে চীনের প্রভাব জানান দেওয়ার চেষ্টা করেন জিনপিং। কিন্তু এ সময় পশ্চিমা নেতাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি।

সম্মেলনের সাইড লাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ কয়েকটি দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। যেখানে সবাই তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের আগ্রাসী আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করে। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধেও বেইজিংয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নেতারা।

গণতান্ত্রিক উপায়ে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আবারো একত্রীত করতে মুখিয়ে আছে চীন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন, তাইওয়ানকে পুনরায় একত্রিত করতে প্রয়োজনে তারা শক্তির প্রয়োগ করবে।

তবে চীনের এই চোখ রাঙানিতে দমেনি তাইওয়ান। প্রতিবারই চীনের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে তাইপে। উত্তেজনা শুরুর পর থেকেই দ্বীপরাষ্ট্রটি বলে আসছে, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে কখনো আপস করবে না তারা।

জিওপলিটিকা. ইনফো জানিয়েছে, শেষ ফলাফল যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে কমিউনিস্ট পার্টি ও শি জিনপিংয়ের জন্য তাইওয়ান অন্যতম প্রধান সমস্যা। আর তাই তৃতীয় মেয়াদে জিনপিংয়ের পূর্ণ মনোযোগ থাকবে অঞ্চলটির দিকে। আর সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হচ্ছে- স্বাধীনতার বিষয়ে চীনের একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না তাইওয়ান।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে একটি গৃহযুদ্ধে বিভক্ত হয়ে যায় চীন ও তাইওয়ান। সম্প্রতি দ্বীপটিকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত করতে তৎপরতা চালাচ্ছে বেইজিং।

আন্তর্জাতিক

অপেক্ষার পালা শেষ, মালয়েশিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

বৃহস্পতিবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। তিনি হবেন দেশটির ১০তম প্রধানমন্ত্রী। খবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের।

নির্বাচনে সরকার গড়তে ১১২টি সিটে জয়ের প্রয়োজন ছিল। তবে নির্বাচনে কোনো দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। আনোয়ার ইব্রাহিমের দল পাকাতান হারাপান পেয়েছিল ৮২টি আসন। পেরিকেতান নাসিওনাল পেয়েছে ৭৩টি আসন। দুই দলই প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না পাওয়ায় নির্বাচনের পর থেকে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা চলছিল। বিষয়টির সুরাহা হওয়ায় আপাতদৃষ্টিতে তার অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দশকের পর দশক ধরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন আনোয়ার। কিন্তু তাতে বাঁধ সঙ্গে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগ। এসব অভিযোগে কারাগারেও যেতে হয়েছে তাকে। তবে এসব অভিযোগ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে আসছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মুনিরকে বেছে নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মুনির সেনাপ্রধান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জাকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান (সিজেসিএসসি) হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, নিয়োগের সুপারিশ প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

আইন ও সংবিধান মেনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে ‘রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে বিষয়টিকে না দেখারও আহ্বান জানিয়েছেন।

এ নিয়োগগুলো প্রেসিডেন্ট  ‘বিতর্কিত’ করবেন না এবং প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুমোদন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাজা আসিফ।

চলতি মাসের শেষের দিকে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া অবসরে যাচ্ছেন। আরও এক মেয়াদ দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলেও তিনি অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শনিবার মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে ‘অবিলম্বে’ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশকে ঘিরে থাকা ‘অশেষ দুঃস্বপ্ন’ বন্ধ করার এটিই একমাত্র উপায়।

গুতেরেস বলেছেন, ‘আমি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে তাদের জনগণের কথা শুনতে, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার এবং দ্রুত গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। স্থিতিশীলতা ও শান্তির এটাই একমাত্র পথ।’

নমপেনে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন সৌদি আরবের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ আল-দাউদ।

শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সাক্ষাত হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রলায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সৌদি উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমর্থনের জন্য সৌদি বাদশাহ ও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে সৌদির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে অভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবের আগ্রহ সম্পর্কে অবহিত করেন উপমন্ত্রী নাসের বিন আব্দুল আজিজ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে উল্লেখ বলেন, বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

আব্দুল মোমেন উপমন্ত্রীকে আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছে।

দুদিনের সফরে শনিবার বিকালে ঢাকায় পৌঁছান সৌদির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার সফরে দুটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে। অন্যটি সৌদির ‘রোড টু মক্কা’ উদ্যোগ অর্থাৎ হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা ঢাকা থেকেই শেষ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটির আনুষ্ঠানিক চুক্তি।