আন্তর্জাতিক

চীনে টাইফুন আঘাত হেনেছে। টাইফুনের প্রভাবে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে ব্যাপক ঝড় ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে জনবহুল গুয়াংডং প্রদেশসহ ওই অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং দুর্যোগের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির আবহাওয়াবিদরা।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার দিকে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে যাওয়া এই টাইফুনের নাম হিবিস্কাস ফুলের থাই নাম অনুযায়ী ‘চাবা’ রাখা হয়েছে।

শনিবার সকালের দিকে গুয়াংডং প্রদেশের মাওমিং শহরে চাবার লেজ আঘাত হানে বলে চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

শনিবার উত্তাল দক্ষিণ চীন সাগরে ৩০ জন আরোহীবাহী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং জাহাজ ভেঙে দুই টুকরা হয়ে গেছে। টাইফুন চাবার প্রভাবে ভেঙে যাওয়া এই জাহাজের দুই ডজনের বেশি আরোহী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

হংকং কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা উদ্ধারকাজের নাটকীয় ফুটেজে দেখা গেছে, একজন ক্রুকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সময় প্রায় আধা-নিমজ্জিত জাহাজের ডেকের ওপর সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ে।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথম হেলিকপ্টার সেখানে পৌঁছার আগেই অন্য ক্রু সদস্যরা ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেছেন।

আবহাওয়া কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা গাও শুয়ানঝু বলেছেন, তীব্রতা মাঝারি মাত্রার হলেও সময়ের সাথে সাথে চাবা শক্তি হারিয়ে ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এই টাইফুনের প্রভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এমনকি ক্রমবর্ধমান বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রচুর মৌসুমী জলীয় বাষ্প থেকে তীব্র বর্ষণ হতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিমিটার (২৪ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাষ রয়েছে।

চীনে টাইফুন সাধারণত স্থায়ী হয় গুয়াংডংয়ের পশ্চিমাঞ্চলে। এই এলাকা এবং গুয়াংজির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের পূর্বে ও দ্বীপ প্রদেশ হাইনানে বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ের কারণে ভূমিধস, শহরে জলাবদ্ধতা এবং বন্যা হয় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তা গাও।

তিনি বলেছেন, হাইনান প্রদেশে শনিবার জরুরি মোকাবিলার স্তর দুইয়ে উন্নীত করা হয়েছে। এই দ্বীপজুড়ে ট্রেন চলাচল স্থগিত এবং হাইকু ও সানইয়া শহরের মধ্যে চলাচলকারী ৪ শতাধিক বিমানের ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বাতিল করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, চাবার প্রভাবে ঝড় এবং বৃষ্টিপাতের কারণে ম্যাকাও দ্বীপপুঞ্জে একজন আহত হয়েছেন।

হংকং থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নিখোঁজ ক্রুদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে ইতোমধ্যে তিনজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। হংকংয়ে সরকারি পরিবহন সংস্থা বলেছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ওই তিন ক্রুকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং চিকিৎসার জন্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার চেচনিয়া প্রদেশের নেতা রমজান কাদিরভ শনিবার দাবি করেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী মিলিশিয়া এবং রুশ সেনারা ইউক্রেনের লিসিচানস্ক শহর অবরুদ্ধ করেছে।

এর আগে রুশপন্থি একজন কর্মকর্তাও লিসিচান্সক ঘিরে ফেলার দাবি করেন।

তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এটি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

রুসলান মুজায়াতচুক নামে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডের একজন মুখপাত্র টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, লিসিচানস্কে হামলা বেড়েছে। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে শহরটি ঘিরে ফেলা হয়নি এবং লিসিচানস্ক ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে।

তবে রমজান কাদিরভ দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, লিসিচানস্ক ঘিরে ফেলা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে বড় অভিযান শুরু করা হবে।

এ ব্যাপারে টেলিগ্রামে কাদিরভ বলেছেন, ফাঁদ বন্ধ হয়ে গেছে। মিত্র সেনারা লিসিচানস্ককে পুরোপুরি ঘিরে ফেলেছে। বলা যায় শহরটিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বড় ধরনের অভিযান শুরু হবে। শত্রুদের (ইউক্রেনীয় সেনাদের) এখন যাওয়ার কোনো জায়গা নেই কারণ শহরের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সব পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে বলা হয়েছিল লিসিচানস্কে ইউক্রেনের আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২ হাজার সদস্য আছে, যারা বিদেশী ভাড়াটে যোদ্ধাদের রক্ষা করছিল।

শুক্রবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় লুহানেস্ক পিপলস রিপাবলিকের সেনা এবং রুশ সেনার লিসিচানস্কের তেল শোধনাগার, মাত্রোস্কায়া খনি এবং জেলটিন প্ল্যান্টটি দখল করেছে।

আন্তর্জাতিক

অধিকৃত ইউক্রেইন অঞ্চল থেকে বৃহস্পতিবার শস্যের চালান পাঠাতে শুরু করেছে রাশিয়া। ৭ হাজার টন সিরিয়ালের চালান নিয়ে একটি জাহাজ ইউক্রেইনের রুশ অধিকৃত বারদিয়ানস্ক নগরীর বন্দর থেকে যাত্রা করেছে।

রুশপন্থি এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা একথা জানান বলে জানিয়েছে বিবিসি।

কিইভ কয়েক সপ্তাহ ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, রাশিয়া ও এর মিত্ররা দক্ষিণ ইউক্রেইন থেকে শস্য চুরি করছে এবং ইউক্রেইনের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সড়কপথেই শস্যের চালান পরিবহন করা হয়ে এসেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বারদিয়ানস্ক বন্দর থেকে শস্য চালান শুরু হওয়ার মানে হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেইন থেকে তৃতীয় কোনও দেশে গম রপ্তানির জন্য সাগরপথ উন্মুক্ত হল।

রুশপন্থি প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তা টেলিগ্রামে বলেছেন, “বেশ কয়েকমাসের বিলম্বের পর এই প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজ বারদিয়ানস্কের বাণিজ্যিক বন্দর ছেড়ে গেল। বন্ধু দেশগুলোতে ৭ হাজার টন শস্য পাঠানো হচ্ছে।”

এই কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগরের জাহাজগুলো এই যাত্রায় “নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করছে”। তবে কার্গো জাহাজটি কোন গন্তব্যে যাবে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।

আজভ সাগরের উত্তর উপকূলীয় নগরী বারদিয়ানস্ক। এটি ইউক্রেইনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেপোরোজিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহেই দক্ষিণের খারসন এবং জেপোরোজিয়ার বেশিরভাগই চলে যায় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

আন্তর্জাতিক

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে আরোপ করা বিধি-নিষেধ শিথিলের পর দুই বছর পর ফের পবিত্র নগরী মক্কা হাজিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার সাদা পোশাক পরে, রোদ থেকে বাঁচতে হাতে ছাতা নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ কাবা প্রদক্ষিণ করেন। এর মাধ্যমে হজের প্রথম আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন তারা।

করোনার কারণে আরোপ করা বিধি-নিষেধের কারণে গত দুই বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ মানুষ হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও শুধুমাত্র সৌদি আরবের জনগণ এ সুযোগ পেয়েছিলেন। এবার প্রায় প্রায় ১০ লাখ মুসলিম পবিত্র হজ পালন করবেন।

দুই বছর করোনার কারণে কোনো বিদেশি নাগরিককে হজ পালন করার সুযোগ দিতে পারেনি সৌদি আরব।

কিন্তু এবারই বিদেশিদের পবিত্র নগরী দেখার সুযোগ ও হজ করার সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার।

তবে সৌদি আরব জানিয়েছে এবার শুধুমাত্র ১০ লাখ মানুষ হজ পালন করতে পারবেন। সাধারণ সময়ের তুলনায় যা অর্ধেকেরও কম।

তাছাড়া ১৮-৬৫ বছর বয়সী সুস্থ ব্যক্তিরাই শুধু হজ পালন করার অনুমতি পেয়েছেন এবার, যাদের সবাই করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

কোনো ঝামেলা ছাড়াই হজের মৌসুম শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি। এ কারণে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন যুক্তরাজ্যকে বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১ লাখ রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢাকার ওপর থেকে অন্যায্য বোঝা কমাতে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের বিশ্বনেতা ব্রিটেনকে এ প্রস্তাব দেন তিনি।

আজ প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪-২৫ জুন কিগালিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রুসের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোমেন এ প্রস্তাব করেন।

একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা নাগরিকদের অবিলম্বে প্রর্ত্যাবাসনের জন্যে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্যে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কারণ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গার ভার বাংলাদেশ আর বইতে পারছে না।

মোমেন ট্রুসের কাছে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার না থাকায় সেদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি ৭০ ও ৯০-এর দশকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এবং পরবর্তীকালে ঢাকার সাথে সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃক তাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ওই সময়ে পশ্চিমাদের অবরোধের শিকার হয়ে মিয়ানমার এ পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু, বর্তমানে তা ঘটছে না। বরং আইসিজেতে বিচারের রায় এবং রোহিঙ্গাদের ওপর তাদের নিপীড়নের জীবন্ত প্রমাণ সত্ত্বেও ব্রিটেন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ মিয়ানমারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

মোমেন বলেন, যুক্তরাজ্য গত তিন বছরে মিয়ানমারে আড়াইশো কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং ৫০ কোটিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করেছে, তাদের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করা প্রয়োজন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদার আতিথেয়তার জন্যে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, যুক্তরাজ্য বিষয়টি দেখতে পারে, কিন্তু, এটির সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন।

মিয়ানমারে বর্তমানের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্রিটিশ সরকারের উদ্বেগের কথা তুলে ধরে ট্রুস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়া, ব্রিটিশ এই মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, আসিয়ান ও জি ৭ দেশগুলোকে সাথে নিয়ে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াবে।

উভয়ের এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বৈঠকে উভয়মন্ত্রী বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দু’দেশের ঐতিহাসিক ও মূল্যবোধ ভিত্তিক সম্পর্কের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করেন।

তারা ভারত মহাসাগরে অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এগিয়ে নেয়া, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার এবং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানোসহ উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের মাধ্যমে একটি উচ্চাভিলাষী এবং নিরন্তর সম্প্রসারিত বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কৌশলগত অংশীদারিত্বের সারণী ধরে বেক্স্রিট পরবর্তী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী যৌথভাবে উদযাপনে সম্মত হয়।

মোমেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভিসা কম দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে ব্রিটিশ মন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার্থীর কম সংখ্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবছর অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার উচ্চশিক্ষার্থী যাতে যুক্তরাজ্যে যেতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভিসা সুবিধা ঢাকাকে ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান।

ব্রিটেন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উভয়মন্ত্রী দুদেশের রাজধানীতে যৌথভাবে গ্লোবাল গার্লস এডুকেশন সামিট, ক্লাইমেট লিডার্স ডায়ালগ এবং রোহিঙ্গা সম্মেলন আয়োজনে দুদেশের পররাষ্ট্রদপ্তরের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

উভয়ে বর্তমান ইউক্রেন পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বিশ্বখাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহসহ আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে নিবিড়ভাবে কাজ করতে সম্মত হন।

মোমেন বলেন, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাংলাদেশ গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

যুক্তরাজ্যের সাথে বেক্সিটোত্তর বাণিজ্যিক সম্পর্কে বাংলাদেশ বৃহত্তম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। মোমেন বর্তমান জীবন যাত্রার ব্যয়, ব্রিটেনের খুচরা ব্যবসায়ীদের মূল্য পরিশোধ না করা এবং মহামারির পর বাতিলকরণের কারণে পোশাক শিল্পের ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত শূন্য শুল্কের যে বিশেষ জিসএসপি সুবিধা দিয়েছে তা আরো বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

দুদেশের মন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আলোচনার মাধ্যমে উভয়দেশের বর্ধিত বাণিজ্য অংশীদারিত্ব ও এবং একটি ভবিষ্যত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অন্বেষণ করার বিষয়ে আবারো একমত হন।

ড. মোমেন বিশেষ করে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক এ বছরে যত দ্রুত সম্ভব ট্রুসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠককালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেইনে যুদ্ধ লাগিয়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া রাশিয়া একশ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্লুমবার্গের বরাতে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, ১০ কোটি ডলারের একটি কিস্তি শোধ করার জন্য রোববার পর্যন্ত সময় ছিল রাশিয়ার হাতে। ওই অর্থ তাদের হাতে ছিল এবং মস্কো তা দিতেও চাইছিল।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের হাতে ওই ডলার পৌঁছানোর কোনো উপায় আপাতত নেই।

বিবিসি লিখেছে, ঋণ খেলাপি হওয়া যে কোনোভাবে এড়াতে চাইছিল ক্রেমলিন, কারণ এটা রাশিয়ার মর্যাদার ওপর বড় ধরনের ধাক্কা। রুশ অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন একটি ‘প্রহসন’ হিসেবে।

রাশিয়া বিদেশি ঋণে শেষবার খেলাপি হয়েছিল ১৯১৮ সালে, বলশেভিক বিপ্লবের সময় কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির লেনিন জারশাসিত রুশ সাম্রাজ্যের ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

আর যে কোনো ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে রাশিয়া শেষবার কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিনের মেয়াদের শেষ দিকে ওই সময়টায় রাশিয়া মারাত্মক রুবল সঙ্কটে ভুগছিল। সে কারণে অভ্যন্তরীণ বন্ডের সুদ দিতে ব্যর্থ হলেও বিদেশি ঋণে খেলাপি হওয়া এড়াতে পেরেছিল মস্কো।

কিন্তু এবার সেটা এড়ানো অসম্ভব হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্রদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে।

বিশ্বের প্রধান আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিষেবা সুইফট থেকেও রাশিয়ার বড় ব্যাংকগুলোকে বাদ দেওয়া হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। ফলে রাশিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে বাঁধাগ্রস্ত হয়, কারণ নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার পণ্য কিনে এখন ডলারে দাম পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না কোনো দেশের পক্ষে।

রাশিয়া সরকার বলেছে, তারা তাদের সব কিস্তিই সময়মত পরিশোধ করতে চায় এবং রোববারের আগ পর্যন্ত তা পরিশোধ করতে তারা সক্ষমও হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত চার মাসে দেশে ও দেশের বাইরে ৪০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তারা ডলার অথবা ইউরোতে শোধ করেছে।

রাশিয়ার কাছে ১৫টি আন্তর্জাতিক বন্ড রয়েছে যেগুলোর অভিহিত মূল্যে দেনার পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি ডলার, যার অর্ধেকই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেনা হিসেবে রয়েছে। এরকমই একটি বন্ডের কিস্তি বাবদ ১০ কোটি ডলার পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে খেলাপি হতে হল মস্কোকে।

ছবি: রয়টার্সছবি: রয়টার্সএই কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ আসলে ছিল ২৭ মে। ইউরোক্লিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ বিনিয়োগকারীদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু সেখানেই সেখানেই টাকাটা আটকে যায়।
স্বার্বভৌম ঋণের কিস্তি নির্ধারিত তারিখে দিতে না পারলে ৩০ দিনের অন্তর্বর্তী সময় পাওয়া যায়। সেই সময়ের মধ্যে কিস্তি গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে পারলে খেলাপি হওয়া এড়ানো যায়। সেই একমাস রোববার শেষ হয়েছে, তার মধ্যে কিস্তি শোধ করার উপায় রাশিয়ার ছিল না।

ইউরোক্লিয়ার বলেছে, তারা রাশিয়ার কিস্তির অর্থ আটকে দেয়নি, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা বাধ্য।

রাশিয়া ঋণ খেলাপি হতে পারে- এ সম্ভাবনা গত ফেব্রুয়ারিতেও কারও মাথায় আসেনি। তাদের লেনদেন চিত্র সবসময় ভালো অবস্থাতেই ছিল।

যেসব দেশ খেলাপি হয়, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে তাদের প্রবেশাধিকার রহিত হয়, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাশিয়া এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তারপরেও, একবার খেলাপি হলে এর পরিণতি আরও অনেক দূর গড়াতে পারে।

এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপস (সিডিএস) নিয়মের দ্বারস্থ হতে পারেন। অর্থাৎ, সেসব বন্ডের বিপরীতে বীমা করা থাকলে বিনিয়োগকারীরা এখন সেখান থেকে টাকা চাইতে পারেন। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক জেপি মরগানের হিসাবে এরকম বীমা দাবির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৬ বিলিয়ন ডলার।

শুধু আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনাকারীরাই রাশিয়ার বৈদেশিক ঋণের সঙ্গে যুক্ত নয়, অনেক রুশ বিনিয়োগকারীও পশ্চিমা ব্যাংকের মাধ্যমে ওই বন্ড কিনেছেন। যেহেতু এই বন্ডগুলো রাশিয়ার ব্যাংকগুলোরও মূলধনের একটি অংশের যোগান দিচ্ছে, তাই ওইসব ব্যাংকও ঝামেলায় পড়তে পারে।

মস্কো খেলাপি হওয়ায় রাশিয়ার করপোরেট মহলও ভুগতে পারে, যেহেতু তারা আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকেই তাদের বিনিয়োগ সংগ্রহ করে থাকেন, যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার।

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চলতি সপ্তাহে তিনি মধ্য এশিয়ার ছোট দুটি দেশ সফর করবেন বলে জানা গেছে।

দেশ দুটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত ছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষের দিকে মস্কোর এই আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়াতেই ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন আক্রমণের আদেশ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন। চলতি সপ্তাহেই তিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত মধ্য এশিয়ার দু’টি দেশ সফর করবেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রসিয়া-১ এর ক্রেমলিন প্রতিনিধি পাভেল জারুবিন বলেছেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট এ সপ্তাহে তাজিকিস্তান ও তুর্কমিনিস্তান সফরে যাবেন। সফর থেকে ফিরে এসে তিনি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডোর সঙ্গে মস্কোতে বৈঠক করবেন। ’

জারুবিন আরও বলেছেন, ‘তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাখমোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পুতিন। ’ ইমোমালি দীর্ঘদিন ধরে তাজিকিস্তান শাসন করছেন এবং তিনি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া পুতিন তুর্কমিনিস্তানের রাজধানী অন্যদিকে আশগাবাতে আজারবাইজান, কাজাখস্তান, ইরান এবং তুর্কমেনিস্তানের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রেসিডেন্ট।

শীতকালীন অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান ক গত ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ বিদেশ সফরে চীন যান পুতিন। ওই অনুষ্ঠানে যোগদানের কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘সীমাহীন’ বন্ধুত্ব চুক্তি করেন পুতিন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

 

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্টমন্ত্রী মাইক পম্পেওর দাবি, ইরানের সরকার কিছু ‘শয়তান ধর্মশাসক’-দের নিয়ে তৈরি। যাদের লক্ষ্য হলো ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করা।

সৌদি আরবের গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার সঙ্গে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন মাইক পম্পেও।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিরও সমালোচনা করেন।

ইরানের শাসকদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত এ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি ইরানের শাসক কে। এগুলো হলো ‘শয়তান ধর্মশাসক’ যাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধ্বংস করা।

ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে হওয়া একটি পারমাণবিক চুক্তি নতুন করে করতে চাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। এই চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে সরে এসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বাইডেন কেন নতুন করে এ চুক্তিটি করতে চাচ্ছেন সেটির সমালোচনা করেছেন পম্পেও। তার দাবি এর মাধ্যমে ইরান ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের পরিধি বাড়ানো থেকে বিরত থাকবে।

তার দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র প্রোগ্রাম থেকে বিরত থাকার কথা দিলেও সেটি তারা মানেনি। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাধ্য হয়ে চুক্তি থেকে সরে এসেছিল।

আন্তর্জাতিক

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, র‍্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের বিস্ময় দেখে আমরাও বিস্মিত। শুক্রবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত এমটকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নির্বাচন, বাণিজ্য এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যেকার সম্পর্কসহ যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে আমরা র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। তারপর অনেকবার শুনেছি যে বাংলাদেশ এতে অনেক অবাক হয়েছে। সম্ভবত আমরাও বিস্মিত তাদের বিস্ময় দেখে। কারণ ২০১৮ সালেই আমরা র‍্যাবকে প্রশিক্ষণ দেওয়া বন্ধ করেছিলাম। কেননা মানবাধিকার নিয়ে আমাদের উদ্বেগ ছিল। প্রতি বছর মানবাধিকার প্রতিবেদনে আমরা উদ্বেগগুলো প্রকাশ করেছি। আমরা বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও বিষয়টি তুলে ধরেছি। ফলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিস্ময় হিসেবে এলেও আমাদের যে উদ্বেগ ছিল সেটি নিয়ে বিস্ময় থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন, অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, এতে করে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। আমি তখন বলি, এতে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। কেননা আমাদের অনেক বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আমরা সহযোগিতা করছি। তবে র‍্যাব ও অন্যান্য ইস্যু সমাধানে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জিএসপি ও ডিএফসি পেতে যা যা করতে হয়, দুর্ভাগ্যজনক বাংলাদেশ এখনো সেসব পূরণ করেনি। কিন্তু তারা ক্রমাগতভাবে জিএসপি বাধা তুলে নিতে বলছে। জিএসপি ও ডিএফসি ফিরে পেতে আমরা উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।

তিনি বলেন, অংশীদারিত্বের বিষয়টিকে বাংলাদেশ যত দ্রুত এগিয়ে নেবে, আমরাও ঠিক ততটা দ্রুত এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু মহলের জল্পনা খন্ডন করে বলেছেন, সামষ্টিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বাংলাদেশ “অত্যন্ত ভালো” করেছে।

কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ মূলত শ্রীলঙ্কা নয়। বাংলাদেশ কার কাছ থেকে এবং কোন শর্তে অর্থ ধার করবে সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে”।

হাস বলেন, চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের ঋণ নেয়ার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। ঢাকা বৈদেশিক অর্থায়নের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং জাপানকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়।

রাষ্ট্রদূতের বিশ্লেষণ অনুসারে বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই যা এখন শ্রীলঙ্কায় প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে।

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ডিসিএবি) এখানে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের সাথে সংলাপের অংশ হিসাবে “ডিসিএবি টক” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হাস আরো বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের তুলানায় এটি মূলত ভিন্ন প্রকৃতির। মার্কিন দূত কিছু সমালোচকের বিশ্লেষণ উল্লেখ করেন যারা শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির পতনের কারণ হিসাবে চীনের “ঋণ-ফাঁদ’ নীতিকে দায়ী করেছেন। তবে, অন্য অনেকের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

বাংলাদেশের সরকারের সমালোচক এবং বিরোধী রাজনীতিকদেরও আশঙ্কা ছিল বাংলাদেশও শ্রীলঙ্কার মতো পতন প্রত্যক্ষ করবে। যদিও নিরপেক্ষ আর্থিক বিশ্লেষকরা দুই দেশের বাস্তবতা ভিন্ন বলে জল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

চীন বিরোধী “ঋণ ফাঁদ কূটনীতি” প্রচারনা সত্ত্বেও, বেইজিং দৃশ্যত উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ছোট ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিশাল মুনাফা লাভের পাশাপাশি একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা অব্যাহত রেখেছে।

চীন বরাবরই এ ধরণের অভিযোগ নাকচ করে বলেছে যে, “ঋণ ফাঁদ” একটি মিথ।