খেলাধুলা

ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছেন তামিল নাড়ুর সাবেক ব্যাটসম্যান রাজাগোপাল সতিশ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো বানি আনান্দ নামের একজনের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।

খেলাধুলা

তিনশ ছাড়ানো রান তাড়ায় ৬৩ রানে নেই ৪ উইকেট। চাপের মধ্যে দুর্দান্ত এক ইনিংসে আশা জাগালেন দাসুন শানাকা। কিন্তু যথেষ্ট হলো না শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের প্রচেষ্টা। ব্যাটসম্যানদের এনে দেওয়া বড় পুঁজির পর বোলারদের নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ে পেল দারুণ জয়।

খেলাধুলা

কোভিড মহামারিকালের প্রথম বিপিএলে থাকছে না ডিআরএস (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়াতেই ডিআরএস রাখা যাচ্ছে না বলে দাবি বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের। ধারাভাষ্যকারদের ক্ষেত্রেও বেশি ‘ফোকাস’ রাখা হচ্ছে স্থানীয়দের দিকেই।

আগামী শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিপিএলের অষ্টম আসর। ২০১৯ সালের আসরে ডিআরএস থাকলেও শুরুতে ছিল না আল্ট্রাএজ প্রযুক্তি। প্রবল সমালোচনার পরে তা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার গোটা ডিআরএসই নেই। বিশ্বের শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এই চিত্র অকল্পনীয়।

বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বললেন, পরিস্থিতির কাছে তারা অসহায়।

“কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা রাখতে পারছি না ডিআরএস। এখন ওরা (টেকনিশিয়ানরা) কেউ ফ্লাই করতে পারছে না। ওদের দুইটা টিম এখন দুই দেশে আছে, সেখান থেকে এই অবস্থায় বাংলাদেশে আসতে পারবে না।”

“ডিআরএসের সোর্স সারাবিশ্বে একটাই (হক-আই কোম্পানি)। ওরাই দেয় সব জায়গায়। ওমিক্রনের কারণে কেউ আসতে চাচ্ছে না। বিপিএলের পর আফগানিস্তান সিরিজ। সেটিতেও রাখতে পারব কিনা, সেটাও কথা বলতে হচ্ছে।”

শেষ নয় এখানেই, বিসিবির এই পরিচালক শোনালেন আরেকটি বড় আশঙ্কার কথাও।

“আমাদের বিদেশি আম্পায়ার ঠিক করা ছিল ইংল্যান্ডের, সেও জানিয়ে দিয়েছে যে আসতে পারবে না। এখন আমরা আবার বিকল্প খুঁজছি। হয়তো শ্রীলঙ্কা বা ভারত থেকে দুইজনকে নেব।”

ডিআরএস না থাকা মানে নিশ্চিতভাবেই বিতর্কের অবকাশ রেখে দেওয়া। বিদেশি আম্পায়ার কিংবা মানসম্পন্ন বিদেশি আম্পায়ার না পাওয়া গেলে সেই পরিস্থিতি আরও নাজুক হবে, সংশয় নেই। বিপিএলের মতো আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর খরচ প্রচুর। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দলকে ভুগতে হলে তা মেনে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ডিআরএস ও ভালো বিদেশি আম্পায়ার না থাকা মানে তাই বিতর্ককেই ডেকে আনা।

ইসমাইল হায়দার মল্লিক তবু চেষ্টা করলেন ক্রিকেটীয় বাস্তবতার কথা তুলে ধরতে।

“ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে তো আসলে আলোচনার কিছু নেই। ডিআরএস পাইনি, তাদেরকে জানিয়ে দেব। আর শুধু বিপিএলে তো নয়, আন্তর্জাতিক সিরিজেও ভুল সিদ্ধান্ত হয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও আম্পায়াররা আমাদের ৪-৫টা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটা গোটা বিশ্বেই হয়। সবাইকে তা বুঝতে হবে।”

“একপাশে বিদেশি আম্পায়ার থাকবে, আরেকপাশে দেশি। আমার মনে হয় না, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকবে।”

বিপিএল নিয়ে আরেকটি বড় অভিযোগের জায়গা বরাবরই থাকে নিম্নমানের টিভি সম্প্রচার ও ভালো মানের ধারাভাষ্যকার দল না রাখা। প্রতিবারই সম্প্রচারের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া বিখ্যাত ধারাভাষ্যকারদেরও আনা হয়নি এই টুর্নামেন্টে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব বললেন, ডিআরএস ছাড়া সস্প্রচারের বাকি সবকিছু মানসম্পন্নই থাকবে।

“প্রোডাকশন ভালো করার চেষ্টা করা হবে। প্রতিবারই ২৬-২৭টি ক্যামেরা থাকে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চেয়ে বেশি থাকে, এবারও থাকবে। অতীতে গ্রাফিক্স নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এবার সতর্ক থাকার চেষ্টা করা হবে।”

“ওভারঅল প্রোডাকশন লেভেল ভালো হবে আশা করি। ডিআরএস না থাকলে তো বড় ঘাটতি থাকেই। তবে অন্যান্য সব প্রযুক্তি, ড্রোন বা যা থাকে, সব থাকবে।”

ধারাভাষ্যকার নিয়ে ইসমাইল হায়দার মল্লিকের দাবি, তারা ইচ্ছে করেই দেশের ধারাভাষ্যকারদের ওপর জোর দেন। বিদেশিদের ক্ষেত্রে যথারীতি বললেন কোভিড পরিস্থিতির কথা।

“আমরা তো স্থানীয়দের ওপর ফোকাস বেশি করতে চাই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তো বটেই, বিপিএলেও। এখন আমরা স্থানীয় তরুণ কিছু ধারাভাষ্যকারকে প্রমোট করার চেষ্টা করছি। অন্তত ৫০ ভাগ ধারাভাষ্যকার আমরা স্থানীয় রাখতে চাই। এটা আমাদের চাওয়া, পুরোটাই বিদেশি ভালো ধারাভাষ্যকার রাখার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা চাই স্থানীয়দের স্লট যেন অর্ধেক থাকে।”

“কোভিড পরিস্থিতিতে লোক (ধারাভাষ্যকার) পাওয়াই কঠিন। তারপরও খারাপ থাকার কথা নয়। মোটামুটি ভালো মানেরই আসার কথা। তবে ওমিক্রন পরিস্থিতির কারণে অনেক কিছু সম্ভব হচ্ছে না।”

মজার ব্যাপার হলো, বিপিএলের এক সপ্তাহ পর শুরু হবে যে টুর্নামেন্ট, সেই পাকিস্তান সুপার লিগে প্রযুক্তি পুরোপুরি সব থাকছে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ধারাভাষ্যকার হিসেবে ড্যানি মরিসন, ম্যাথু হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথ, অ্যালান উইলকিন্স, কেপলার ওয়েসেলস, জন্টি রোডসরা থাকবেন বলে জানা গেছে। বিপিএল পিছিয়ে পড়েছে অনেক পরে সবকিছুর প্রক্রিয়া শুরু করাতেই।

ইসমাইল হায়দার মল্লিক সেই অভিযোগ কিছুটা মেনে নিলেন। সঙ্গে আবারও বললেন মহামারির কথা।

“আমাদের তো যোগাযোগ একটু পরেই করতে হয়েছে। কারণ সময়টা তো আমরা আগে ঠিক করতে পারিনি যে কখন হবে টুর্নামেন্ট। দেরিতেই সবকিছু শুরু করতে হয়েছে। এটা একটা কারণ তো অবশ্যই। তবে ওমিক্রন না থাকলে তো ঝামেলা হতো না।”

“ডিআরএস না থাকলে টুর্নামেন্ট অবশ্যই আবেদন হারায়। কিন্তু কিছু করার নেই। দর্শকের ক্ষেত্রেও যেমন, আমরা চেয়েছিলাম এবার পূর্ণ গ্যালারি রাখতে। সরকার থেকে অনুমতিও পেয়েছিলাম। কিন্তু সব বদলে গেল ওমিক্রনের কারণে।”

খেলাধুলা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিল ভারত। কিন্তু সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে হেরেছে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছে।

আজ শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হারার পরই ভারতের সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলতে আসেন টেস্ট অধিনায় বিরাট কোহলি। সিরিজ হারার জন্য তিনি নিজ দলের ব্যাটসম্যানদেরই দোষ দেন তিনি।

ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, আমাদের সিরিজ হারার কারণ হলো ব্যাটিং। আমাদের ব্যাটিংয়ের দিকে মনযোগ দিতে হবে। এটি হালকাভাবে নেয়ার কোনো উপায় নেই। সব সময় ব্যাটিংয়ে ধস নামা, ভালো বিষয় নয়। আমাদের বিশ্লেষণ করে সমস্যা বের করতে হবে। সমস্যা ঠিক করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

খেলাধুলা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ রেকর্ড গড়লেও দ্বিতীয় টেস্টে হচ্ছে তার উল্টো। দারুণ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও দুর্দান্ত নিউজিল্যান্ড গড়েছে কয়েকটি রেকর্ড।

ব্যক্তিগতভাবে ব্যাট হাত ল্যাথামের রেকর্ডের পর এবার বল হাতে ৩০০ উইকেটের কীর্তি গড়েছেন দেশটির পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছালেন বোল্ট। ২৯৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচ শুরু করেন বোল্ট এদিন সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজকে আউট করে ক্যারিয়ারের তিন’শ উইকেট পূর্ণ করেন।

বোল্টের আগে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় দেশটির কেবল তিনজন বোলার রয়েছেন। ৪৩১ উইকেট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। ৩৬১ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছেন সাবেক স্পিনার ড্যানিয়েল ভেটোরি। টিম সাউদি ৩২৮ উইকেট নিয়ে আছেন তিনে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়া বোল্ট ৩০০ উইকেট নিয়ে অবস্থান করছেন তালিকার চারে।

৩০০ উইকেট শিকার করতে বোল্টের লাগল ৭৫টি টেস্ট। নিউজিল্যান্ডের হয়ে যেটি দ্বিতীয় দ্রুততম। প্রথমে থাকা সাউদির লেগেছিল ৭৬ টেস্ট।

খেলাধুলা

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ভিসাখাপত্নামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুইদিনব্যাপী পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ।

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আট সদস্যের কারাতে দল ৮ এবং ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়।

বাংলাদেশ দল বিভিন্ন ইভেন্ট চারটি স্বর্ণ, দু’টি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টিম পরিচালক কারাতে ফেডারেশন এবং আন্তর্জাতিক কারাতে কোচ এস ইসলাম শুভ।

প্রতিযোগিতায় পদক বিজয়ীরা হলেন- মিন্টু দে (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ৮৪ কেজিতে স্বর্ণ পদক, দীপা রানী  (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ৬৮ কেজিতে স্বর্ণ পদক, সায়মা জামান (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ৫০ কেজিতে স্বর্ণ পদক, জুনায়েদ আল হাবিব (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ৫৫ কেজিতে স্বর্ণ পদক, মামুন খান (বাংলাদেশ সেনাবাহিনী) ৬৭ কেজিতে রৌপ্য পদক, মো. আরমান হোসাইন (কিক ফাইটার কারাতে স্কুল, চট্টগ্রাম) ৭৫ কেজিতে রৌপ্য পদক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মো. আশিকুর রহমান ৬০ কেজিতে ব্রোঞ্জ পদক।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন ইভেন্টে ৯৫০ জন খেলোয়াড় অংশ নেন। এ জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ড. মোজাম্মেল হক খান, সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু, বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কৈ শা হ্লা, কুমিল্লা ড্রাগন কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, কুমিল্লা ড্রাগন কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলামসহ অনেকে।

খেলাধুলা

অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের দেশ নিউ জিল্যান্ড। অপূর্ব সব লেক, সাগরে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো নীল জলরাশি, মাইলের পর মাইল জুড়ে সবুজ প্রান্তর আর ছোট-বড় পাহাড় মিলিয়ে প্রকৃতি যেন খুব যত্ন করে সাজিয়েছে দেশটি। সৌন্দর্যের সেই লীলাভূমিতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট পেল ইতিহাসের সুন্দরতম দিন।

খেলাধুলা

বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে হারিয়ে লংগার ভার্সনে নতুন ইতিহাস রচনা করলোর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মোমিনুলের দল। কেবল তাই নয়, এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কোন ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। দ্বিতীয় বিশ^ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয় দেখলো বাংলাদেশ।

চতুর্থ দিন শেষেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন বাংলাদেশের হাতে মুঠোয় ছিলো। ডান-হাতি পেসার এবাদত হোসেনের বোলিং তোপে দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান তুলেছিলো নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে মাত্র ১৭ রানে এগিয়েছিলো কিউইরা। এবাদত ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। রস টেইলর ৩৭ ও রাচিন রবীন্দ্র ৬ রানে দিন শেষ করেছিলেন।
ক্রিজে অভিজ্ঞ টেইলর থাকায়, পঞ্চম ও শেষ দিন নিউজিল্যান্ডের স্কোর বড় হবার দারুন সম্ভাবনা ছিলো। বাংলাদেশের জয়ের পথে টেইলর যে, কাটা হয়ে দাঁড়াবেন তেমন আশঙ্কাও ছিলো বাংলাদেশ শিবিরে।

কিন্তু দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে চিন্তামুক্ত করে দেন দুর্দান্ত বল করা এবাদত। দিনের অষ্টম বলেই টেইলরকে দারুন এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এবাদত। ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশের কোন পেসার এই প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করলেন। ১১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এই প্রথম পাঁচ উইকেট নিলেন এবাদত। ১০৪ বল খেলে ২টি চারে ৪০ রান করেন বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলতে নামা টেইলর।

টেইলেরর বিদায়ের পর কাইল জেমিসনকেও তুলে নেন এবাদত। ৮ বল খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি জেমিসন। এবাদতের তোপে যখন কাঁপছে নিউজিল্যান্ড, তখন বল হাতে প্রতিপক্ষের টেল-এন্ডার গুড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। রবীন্দ্রকে ১৬ ও টিম সাউদিকে শুন্য হাতে আউট করেন তাসকিন।

২টি চারে ট্রেন্ট বোল্ট দলকে ৮ রান উপহার দিয়েছিলেন। আর সেখানেই বোল্টকে থামান স্পিনার মিরাজ। এতে ১৬৯ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।

তাই ম্যাচ জিততে বাংলাদেশ টার্গেট পায় ৪০ রানের। কারন প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ৩২৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিলো ৪৫৮ রান। এতে প্রথম ইনিংস থেকে ১৩০ রানের লিড পেয়েছিলো টাইগাররা।

আজ ২২ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এবাদত ২১ ওভার বল করে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নেন। এটিই তার সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে টেস্টে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। তাসকিন ১৪ ওভারে ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন। বাকী ১টি উইকেট নিয়েছেন স্পিনার মিরাজ।

৪০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে ইনিংস শুরু করেন সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ফিল্ডিংয়ে আঙ্গুলে চোট পাওয়ায় এই ইনিংসে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি প্রথম ইনিংসের ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।

দ্বিতীয় ওভারেই সাদমানকে বিদায় করেন নিউজিল্যান্ডের সাউদি। ৩ রান করেন তিনি। এরপর শান্তকে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মোমিনুল। জয়ের পথটা সহজ করতেই সর্তকতার সাথে খেলে ৭৫ বল খরচ করেছেন তারা। সমস্যায় না পড়তেই রান তুলতে তাড়াহুড়া করেননি শান্ত ও মোমিনুল।

জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে থামেন শান্ত। ৩টি চারে ৪১ বলে ১৭ রান তুলেন শান্ত শিকার হন জেমিসনের। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন মোমিনুল।

১৭তম ওভারে জেমিসনের পঞ্চম ডেলিভারিতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মুশফিক। ৩টি চারে ৪৪ বলে মোমিনুল অপরাজিত ১৩ ও মুশফিক ৭ বলে অপরাজিত ৫ রান করেন। দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের এবাদত।

আগামী ৯ জানুয়ারি ক্রাইস্টচার্চে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

স্কোর কার্ড : (টস-বাংলাদেশ)

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস : ৩২৮/১০, ১০৮.১ ওভার (কনওয়ে ১২২, নিকোলস ৭৫, শরিফুল ৩/৬৯।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪৫৮/১০, ১৭৬.২ ওভার, মোমিনুল ৮৮, লিটন ৮৬, বোল্ট ৪/৮৫) :

নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস : (আগের দিন, ১৪৭/৫, ৬৩ ওভার, ইয়ং ৬৯, টেইলর ৩৭*, রবীন্দ্র ৬*) :

টম লাথাম বোল্ড ব তাসকিন  ১৪

উইল ইয়ং বোল্ড ব এবাদত  ৬৯

ডেভন কনওয়ে ক সাদমান ব এবাদত  ১৩

রস টেইলর বোল্ড ব এবাদত  ৪০

হেনরি নিকোলস বোল্ড ব এবাদত  00

টম ব্লানডেল এলবিডব্লু ব এবাদত  00

রাচিন রবীন্দ্র ক লিটন ব তাসকিন   ১৬

কাইল জেমিসন ক শরিফুল ব এবাদত  00

টিম সাউদি বোল্ড ব তাসকিন  00

নিল ওয়াগনার অপরাজিত   00

ট্রেন্ট বোল্ট ক অতি (তাইজুল) ব মিরাজ   ৮

অতিরিক্ত (বা-২, লে বা-৫, নো-১, ও-১)  ৯

মোট (অলআউট, ৭৩.৪ ওভার)  ১৬৯

উইকেট পতন : ১/২৯ (লাথাম), ২/৬৩ (কনওয়ে), ৩/১৩৬ (ইয়ং), ৪/১৩৬ (নিকোলস), ৫/১৩৬ (ব্লানডেল), ৬/১৫৪ (টেইলর), ৭/১৬০ (জেমিসন), ৮/১৬০ (রবীন্দ্র), ৯/১৬১ (সাউদি), ১০/১৬৯ (বোল্ট)।

বাংলাদেশ বোলিং :

তাসকিন : ১৪-৩-৩৬-৩ (ও-১) (নো-১),

শরিফুল : ১২-২-৩০-০,

মিরাজ : ২২.৪-৫-৪৩-১,

এবাদত : ২১-৬-৪৬-৬,

মোমিনুল : ৪-০-৭-০।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস :

সাদমান ইসলাম ক ব্লানডেল ব সাউদি  ৩

নাজমুল হোসেন শান্ত ক টেইলর ব জেমিসন  ১৭

মোমিনুল হক অপরাজিত  ১৩

মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৫

অতিরিক্ত (লে বা-১, নো-১, ও-২) ৪

মোট (২ উইকেট ১৬.৫ ওভার) ৪২

উইকেট পতন : ১/৩ (সাদমান), ২/৩৪ (শান্ত)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং :

সাউদি : ৫-৩-৪-০,

বোল্ট : ৫-২-২১-১,

জেমিসন : ৩.৫-১-১২-১ (ও-২),

নিল ওয়াগনার : ৩-১-৪-০ (নো-১)।

ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : এবাদত হোসেন (বাংলাদেশ)।

সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

খেলাধুলা

বিদায়ী বছরটা বাংলাদেশের (পুরুষ) ক্রিকেটের জন্য খুব বাজে গেছে। মাঠের বাজে পারফরম্যান্স ছাড়াও দল এবং বোর্ডের কোন্দল মিলিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা।

তবে পুরনো সব কিছু ভুলে নতুন বছরে সুন্দর শুরুর আশা দেখালেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল হক।
২০২২ সালের প্রথম দিন সকালেই সাদা পোশাকে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট।

গত বছর ৭ টেস্টে বাংলাদেশের জয় ছিল স্রেফ ১টি। সেটাও আবার জিম্বাবুয়ের মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একটি ম্যাচ ড্রয়ের পাশাপাশি ৫টিতেই হেরেছিল দল। এবার নতুন করে শুরুর আশা করছেন অধিনায়ক মুমিনুল।

আজ শুক্রবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেন, ‘নতুন বছরে আমি খুব রোমাঞ্চিত। আগে কী হয়েছিল, এসব নিয়ে চিন্তা না করে সামনের বছর কিভাবে নতুন করে, সুন্দরভাবে শুরু করা যায়, সেটা নিয়েই ভাবছি। আমি সত্যিই খুব রোমাঞ্চিত। নতুন বছরটা যদি সুন্দর হয়, শুরুটা ভালো হলে তা ধরে রাখা সহজ হয় আর কি। ‘

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক দল হিসেবে খেলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘আমাদের যে ধরন, এখানে দল হিসেবে খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব সময় কথাটা বলি, আমার কাছে মনে হয়, আমরা এখন যেভাবে অনুশীলন করছি ও যেভাবে দেখছি সবাই সবাইকে, আমরা দল হিসেবে যদি খেলতে পারি। ওটার জন্যই রোমাঞ্চ কাজ করছে। আমরা যত টেস্ট ম্যাচ জিতেছি, জিততে পেরেছি দল হিসেবে খেলতে পারায়। এখন কেউ যদি ১০০ করে বা বোলারদের কেউ ৫ উইকেট পায়, কিন্তু আর কেউ ৩-৪ উইকেট না পেলে হবে না। দল হিসেবে খেলতে না পারলে দলীয় ফল আসে না। তখন ব্যক্তিগত অর্জন হবে, দলীয় পারফরম্যান্স হবে না। ‘

নিউজিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৩২ ম্যাচের একটাও জেতেনি বাংলাদেশ। ৯ টেস্টের পাঁচটিতেই জুটেছে ইনিংস পরাজয়। এবার মুমিনুল সেই ইতিহাস বদলানোর স্বপ্ন দেখছেন মুমিনুল। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সেই স্বপ্ন পূরণের পরীক্ষায় নামতে হবে তাদের।

খেলাধুলা

কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিজয়ের মাসে দারুণ এক জয় উপহার দিয়েছেন মারিয়া মান্ডারা। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করেছেন তারা।

ফুটবলের দুর্দিনে মেয়েদের হাত ধরেই এল সফলতা। ছেলেদের ফুটবলে চারদিকেই ছিল হতাশা। একের পর এক টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হচ্ছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রফি জয় দূরে থাক, ফাইনালটাই খেলতে পারছেন না দীর্ঘদিন ধরে। এরই মধ্যে এলো মেয়েদের সফলতা। পুরো জাতি এ নিয়ে উৎসব করেছে। হাজার হাজার দর্শক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এসে মারিয়াদের জয় উদযাপন করেছেন। প্রসংশার বন্যায় ভাসছেন মেয়েরা। এবার দেশের শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ সাফজয়ী মেয়েদের সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় মহাআড়ম্বরে চ্যাম্পিয়নদের বরণ করা হবে। ছেলেদের ফুটবলে ব্যর্থতার মিছিলে মেয়েরা আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে তারা শ্রীলঙ্কার জালে দিয়েছেন ১২ গোল। ৬ গোল দিয়েছেন ভুটানের জালে। ভারতকে গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি হারিয়েছেন ফাইনালে। দুই ম্যাচেই ব্যবধান ছিল ১-০। বিজয়ের মাসে দারুণ এ জয় পুরো জাতিকেই উপহার দিয়েছে দারুণ এক গৌরব। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন শাহেদা আক্তার রিপা।

নারী ফুটবলে সাফল্য নতুন নয়। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। আট শিরোপা জেতার কৃতিত্ব রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবলারদের।