খেলাধুলা

শুরুতে ব্যর্থ হলেন ব্যাটাররা। নিগার সুলতানা জ্যোতি, স্বর্ণা আক্তার ছাড়া কেউ পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কেও।

তাদের এনে দেওয়া অল্প রানের পুঁজি ভারতের কাছে তেমন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
শুক্রবার ডাম্বুলায় নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। শুরুতে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান করে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য ৯ ওভার হাতে রেখেই তাড়া করে ভারত।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে একদমই ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। দুই ওপেনারের কেউই দুই অঙ্ক ছুতে পারেননি। ৪ বলে ৬ রান করে দিলারা আক্তার ও ৯ বলে ৪ রান করে মুর্শিদা খাতুন আউট হন রেনুকা সিংয়ের বলে। দুজনেই হয়েছেন ক্যাচ আউট।

মুর্শিদার আগেই আউট হন তিনে খেলতে নামা ইশমা তানজিম। ১০ বলে ৮ রান করেছিলেন তিনি। ২১ রানে তিন উইকেট হারানো দলকে আরও বিপদে ফেলে দেন রুমানা আহমেদ ও রাবেয়া খান। দুজনই ১ রানের বেশি করতে পারেননি।

এমন উইকেট হারানোর মিছিলে অনেকটা একাই দাঁড়িয়ে থাকেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার ব্যাটে ভর করেই দলীয় রান পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়।

এরপর তার সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে তোলেন স্বর্ণা আক্তার। ইনিংসের শেষ ওভারে গিয়ে জ্যোতি আউট হলে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙে। ৫১ বলে দুটি চার হাঁকিয়ে ৩২ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তার বিদায়ের পর শেষ ওভারটি মেডেন করেন রাধা যাদব। ১৮ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা। ভারতের পক্ষে চার ওভারে ১০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রেনুকা সিং।

রান তাড়ায় নামা ভারতকে কোনো রকম ধাক্কাই দিতে পারেনি বাংলাদেশ। স্মৃতি মান্ধানার হাফ সেঞ্চুরিতে সহজ জয় পায় তারা। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন স্মৃতি। ২৮ বলে ২৬ রান আসে শেফালি ভার্মার ব্যাট থেকে।

খেলাধুলা

সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ১৭ বছর পর ফের শিরোপা জিতল ভারত। দেশকে বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দিয়ে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা, সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও তারকা অলরাউন্ডার রবিন্দ্র জাদেজা।

রোহিত-কোহলি-জাদেজার মতো তারকা অবসরে। চোটে দলের বাইরে তারকা পেসার মোহাম্মদ শামি। বিশ্বকাপ শেষে বিশ্রামে জসপ্রিত বুমরাহ। এই তারকা ক্রিকেটারদের ছাড়াই শ্রীলংকা সফরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল।

আগামী শনিবার থেকে শ্রীলংকার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামবে ভারত। এই সুযোগ ভারতীয় দলকে হারাতে চায় শ্রীলংকা। এমনটি জানিয়ে শ্রীলংকান কোচ জনাথ জয়সুরিয়া।

তিনি বলেন, রোহিত এবং কোহলি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। তাদের প্রতিভা এবং তারা যে ধরণের ক্রিকেট খেলেছে তা দেখে আমরা সবাই জানি জাদেজাসহ তারা কোথায় রয়েছে। তাদের অনুপস্থিতি ভারতীয় দলের জন্য বিশাল ক্ষতি এবং এক্ষেত্রে আমাদের সেখান থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হবে।

লংকান এই কিংবদন্তি আরও বলেন, রোহিত-কোহলি ও জাদেজার অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হবে শ্রীলংকাকে। ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সূর্যকুমার যাদব। তার ডেপুটি হিসেবে কাজ করবেন শুভমান গিল।

তিনি আরও বলেন, লংকান প্রিমিয়ার লিগ শেষ হওয়ার পর আমরা মাত্র মৌসুম শুরু করেছি। বেশিরভাগ খেলোয়াড় এলপিএলে খেলেছে। এজন্য তারা ক্রিকেট নিয়েই ব্যস্ত ছিল। আমরা চাই তারা যত বেশি সম্ভব ক্রিকেট খেলুক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নতুন কৌশল, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন শট শেখা গুরুত্বপূর্ণ।

খেলাধুলা

জাতীয় দাবায় পঞ্চম হয়ে বাংলাদেশ থেকে দাবা অলিম্পিয়াডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন প্রয়াত গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানের ছেলে ফিদেমাস্টার তাহসিন তাজওয়ার জিয়া। দুই রাউন্ডের প্লে-অফে অনত চৌধুরীকে হারিয়ে বাবার স্বপ্নপূরণ করলেন তাহসিন।

গতকাল (বুধবার) জাতীয় দাবার শেষ রাউন্ড ছিল। ১৩ রাউন্ড শেষে মনন রেজা নীড় ১০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন। আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ ও গ্র্যান্ডমাস্টার রাজীব ৯ পয়েন্ট নিয়ে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে। দুই গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ ও জিয়ার সমান ৮ পয়েন্ট। জিয়া আর নেই, তাই সাত পয়েন্ট নিয়ে যুগ্মভাবে ফিদে মাস্টার তাহসিন ও অনত চৌধুরি পঞ্চম স্থানে ছিলেন।

জাতীয় দাবায় পঞ্চম স্থানধারী অলিম্পিয়াডে খেলেন, তাই আজ (বৃহস্পতিবার) প্লে-অফে পঞ্চম স্থানের নিষ্পত্তি হয়েছে। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া প্লে-অফের প্রথম পর্বে তাহসিন কালো ঘুটি নিয়ে অনতকে পরাজিত করেন। কিছুক্ষণ পর সাদা নিয়ে আরেক রাউন্ডে ড্র করলে তাহসিনের অলিম্পিয়াড নিশ্চিত হয়ে যায়।

জিয়া খুব করে চেয়েছিলেন এবার ছেলে তাহসিন যেন অলিম্পিয়াডে যেতে পারেন। ছেলে বাবার সেই ইচ্ছেপূরণ করতে পেরে খানিকটা তৃপ্ত, ‘আবারও অলিম্পিয়াডে খেলব, ভালো লাগছে। কিন্তু বাবা নেই, সেই শূন্যতাও বিরাজ করছে। ’

২০২২ সালে বাবা-ছেলে দুজনই অলিম্পিয়াডে খেলেছেন। এবার বাবা নেই, তাই তাহসিনকে একাই যেতে হবে। এটা এখনও মানতে পারছে না ১৮ বছরের এই দাবাড়ু, ‘বাবা আমাদের মাঝে নেই, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। ’ তাহসিনের পাশে বসা জিয়ার স্ত্রী তাসমিন সুলতানা লাবণ্যও একই কথা বললেন, ‘জিয়া, আমি ও তাহসিন আমরা তিনজন সব সময় একসঙ্গে ছিলাম। জিয়া আমাদের মাঝে নেই। এটা মানতে পারছি না। এখনও মনে হয় জিয়া বাইরে আছে, এসে পড়বে। ’

তাহসিনের পাশাপাশি মনন রেজা নীড়, নিয়াজ মোরশেদ, এনামুল হোসেন রাজিব ও ফাহাদ রহমানও যাচ্ছেন দাবা অলিম্পিয়াডে।

খেলাধুলা

ইউরো শুরুর আগে এমবাপ্পে জানিয়েছিলেন তার অপূর্ণ ইচ্ছের কথা। বলেছিলেন ইউরো জিততে কতটা মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। তবে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে সেমিফাইনালে এসে। স্পেনের বিপক্ষে দলকে জেতাতে পারেননি এমবাপ্পে। তার দল ফাইনালে উঠার ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে হেরে বসেছে ২-১ গোলে। অথচ, এদিন ম্যাচের প্রথম গোলটা ফ্রান্সকে পাইয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন এমবাপ্পেই।

ফাইনালে উঠার ম্যাচে এদিন ম্যাচের ৯ মিনিটেই ম্যাচে লিড নেয় ফ্রান্স। এমবাপ্পের বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন কালো মুয়ানি। তবে সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি স্পেন। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পেনের বিস্ময় বালক লামিলে ইয়ামাল গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। সেই গোলের রেশ না কাটতেই ফের গোল হজম করে বসে ফ্রান্স। এ দফায় স্পেনকে এগিয়ে নেন দানি ওলমো। ওখানেই শেষ ফ্রান্সের ইউরোর ফাইনালে উঠার স্বপ্ন।

এরপর প্রথমার্ধে আর ম্যাচে ফেরা হয়ে উঠেনি ফ্রান্সের। চেষ্টার কমতি ছিল না দ্বিতীয়ার্ধেও। তবে তাদের সব চেষ্টা এদিন দক্ষতার সঙ্গেই রুখে দিয়েছে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ। রক্ষণ সামলে ফরাসিদের রক্ষণে ঢুকে কঠিন পরীক্ষাও নিয়েছে স্পেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার চেয়ে ফ্রান্সকে আটকানোতেই তাদের মনোযোগ ছিল বেশি। যার প্রমাণ মেলে দু’দলের আক্রমণের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও। ম্যাচে যেখানে ৪টি আক্রমণ শানিয়েছে স্পেন। সেখানে ৮টি আক্রমণ ছিল ফ্রান্সের। তবে দিনশেষে গোলটাই পায়নি তারা।

দলীয় প্রচেষ্টা ছাড়াও এমবাপ্পে একক নৈপুণ্যেও বেশ কয়েকবার আক্রমণ শানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কিছুতেই কিছু হয়নি। পাল্টা আক্রমণে এসে ৮১ মিনিটে শট নেয় ইয়ামাল। তবে তার সেই শট বার ঘেঁসে বাইরে চলে যায়। নয়তো ম্যাচটা তখনই শেষ হয়ে যেতে পারত। এরপর যদিও ৮৬ মিনিটে ম্যাচে সমতা টানার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। দারুণ এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও সেটি নষ্ট করেন এমবাপ্পে। সেই সঙ্গে শেষ হয় ফ্রান্সের ইউরো যাত্রা।

স্পেনের ফাইনালের টিকিট কাটার ম্যাচে ইয়ামাল গড়েছেন এক রেকর্ড। ইউরোতে এখন ১৬ বছর বয়সে গোল করা একমাত্র ফুটবলার তিনি। পাশাপাশি এই গোলে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন ইয়ামাল। এদিন তার বয়স চিল ১৬ বর ৩৬২দিন। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৩৯ দিনে গোল করেছিলে ফুটবল সম্রাট পেলে।

আগামীকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে জয়ী দল স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী ১৪ জুলাই রাত ১ টায়।

খেলাধুলা

চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বার্ষিক সম্মেলন। ১৯ থেকে ২২ জুলাই শ্রীলংকার কলম্বোতে হবে আইসিসির বার্ষিক সম্মেলন।

বার্ষিক সম্মেলনে আইসিসির সহযোগী-সদস্য দেশের ডিরেক্টরদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসির পরিচালনা পর্ষদে তিনটি পদের জন্য ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের প্রত্যেকের মেয়াদ দুই বছর।

বর্তমান পরিচালকরা হলেন- ওমানের পঙ্কজ খিমজি, সিঙ্গাপুরের ইমরান খোয়াজা এবং বারমুডার নিল স্পেইট। এই তিনজন ছাড়াও আরও আটজন প্রতিযোগী রয়েছেন।

তারা হলেন- স্যাম আর্থার (কোস্টা রিকা), ড. রুডি ভ্যান ভুরেন (নামিবিয়া), শঙ্কর রেঙ্গানাথন (সিয়েরা লিওন), মুবাশির উসমানি (আরব আমিরাত), গুরুমূর্তি পালানি (ফ্রান্স), মাহিন্দা ভালিপুরম (মালয়েশিয়া), স্টিফেন মুসেল (রুয়ান্ডা) এবং মাহমুদ গজনভি (রুয়ান্ডা)। এর মধ্যে প্রধান নির্বাহী কমিটির (সিইসি) সদস্য উসমানি শক্তিশালী প্রার্থী।

গত চার বছর ধরে আইসিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন নিউজিল্যান্ডের গ্রেগ বার্কলে। বার্ষিক সম্মেলনে আইসিসি চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন এজেন্ডায় নেই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব জয় শাহকে সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন আইসিসির সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান।

তবে আগামী নভেম্বরে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

খেলাধুলা

স্পেনের বিরুদ্ধে সমান তালে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ¯ জার্মানিকে। স্বাগতিকদের এই বিদায় সত্ত্বেও অবসরে যাওয়া তারকা মিডফিল্ডার টনি ক্রুস জার্মানির ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী।

ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপ শুরুর আগেই আসর শেষে সব ধরনের ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষনা দিয়েছিলেন ক্রুস। বড় কোন আসরে প্রায় এক দশকেরও বেশী সময় ধরে নিজেদের মেলে ধরতে না পারা জার্মানির ইউরোর সার্বিক পারফরমেন্স নিয়ে বিদায় বেলায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। প্রথমার্ধ গোলশুন্য ড্র থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ১৬ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালের পাসে ডানি ওলমো গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। ৮৯ মিনিটে ফ্লোরিয়ান রিটজের গোলে দারুনভাবে ম্যাচে ফিরে আসে জার্মানি। ১১৯৯ মিনিটে মিকেল মেরিনোর হেডে স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়।

কোয়ার্টার ফাইনালের জমাট লড়াই শেষে ক্রুস বলেছেন, ‘আমাদের পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব সেটাই আমরা আজ করেছি। যদিও একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই ধরনের পরাজয় কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না। অবসরের থেকে ইউরো থেকে বিদায় নেয়াটা এখন মূল গুরুত্ব দিচ্ছি। কারন এই ম্যাচে আমরা যেসব গোল করতে পারিনি সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় আমাদের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা দারুন ফুটবল খেলেছি। কিন্তু তারপরও এভাবে বিদায় সত্যিই হতাশার।’

৩৪ বছর বয়সী ক্রুস বলেছেন জার্মান ফুটবলের ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল। এই দলটি সমর্থকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। এ সম্পর্কে ক্রুস বলেন, ‘আমরা যা করে দেখিয়েছি তাতে সবারই গর্ব হবার কথা। আমি নিজেও দারুন খুশী। আমি মনে করি আমরা আবারো জার্মান ফুটবলকে আশাবাদী করে তুলেছি। একসাথে এগিয়ে যেতে পারলেও ভবিষ্যতে অবশ্যই ভাল কিছু অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু সত্যি বলতে কি এই আসরে আমাদের আরো কিছুটা সময় থাকা উচিৎ ছিল।’

ইউরোর আগেই অবশ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন ক্রুস। কিন্তু ঘরের মাঠে ইউরোতে অবসর ভেঙ্গে খেলার জন্য ক্রুসকে রাজী করান জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগলসম্যান। অভিজ্ঞ এই তারকা বিদায়ের পর ৩৬ বছর বয়সী নাগলসম্যান বলেছেন, ‘টনির ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু বলাটা সত্যিই অসম্ভব। সে জার্মানির একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, জার্মানির অন্যতম বড় খেলোয়াড়। সবাই তার সাফল্য সম্পর্কে জানে। কিন্তু তার চরিত্র সম্পর্কে অনেকেই জানেনা। অনেক কঠিন মুহূর্তে তিনি যেভাবে দলকে একতাবদ্ধ করে রেখেছিলেন তা অনুকরণীয়।’

নাগালসম্যান জানিয়েছেন পরাজয়ের পর ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে ক্রুস বলেছেন তিনি সবসময়ই এই দলটির একটি অংশ হয়ে থাকবেন।

খেলাধুলা

উগান্ডার বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হাতছাড়া করে জিম্বাবুয়ে। অথচ সেই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে হেরে গেলে সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ভারত।

শুধু হেরে যাওয়াই নয়! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লজ্জার রেকর্ড গড়েছে শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। ১২০ বলে ১১৬ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেটে ২৮ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লের ওভারে ভারতের এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের নজির।

এর আগে ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেটে ২৪ রান করেছিল ভারত। ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান করেছিল টিম ইন্ডিয়া। ২০২১ সালে কলোম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেটে ২৯ রান করেছিল ভারত।

আজ শনিবার জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে স্বাগতিকদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে রবি বিষ্ণুর লেগ স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে টেন্ডাই চাতারা ও সিকান্দার রাজার তোপের মুখে পড়ে মাত্র ২২ রানে প্রথম সারির ৪ ব্যাটসম্যানের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া ভারত শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয়।

১৩ রানের ঐতিহাসিক জয়ের জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও পেস বোলার টেন্ডাই চাতারা ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।

খেলাধুলা

২০২৫ সালে ঘরের মাঠে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপ, সূচি ও ভেন্যুর একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে পাঠিয়েছে আয়োজক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

প্রস্তাবিত খসড়ায় ‘এ’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের সাথে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্য গ্রুপে আছে- অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত আয়োজনের সিদ্বান্ত নিয়েছে পিসিবি। ফাইনালের জন্য ১০ মার্চ রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খসড়া সূচি নিয়ে আইসিসি বোর্ডের এক সদস্য জানান, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ১৫ ম্যাচের খসড়া সূচি জমা দিয়েছে পিসিবি। লাহোরে ৭টি, করাচিতে ৩টি এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ৫টি ম্যাচ রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বোধনী ম্যাচ ও একটি সেমিফাইনাল হবে করাচিতে। অন্য সেমিফাইনালের ভেন্যু রাওয়ালপিন্ডি। ভারতের সব ম্যাচসহ হবে লাহোরে। ভারত যদি সেমিফাইনালে উঠে, সেই ম্যাচও লাহোরে অনুষ্ঠিত হবে।’

সংবাদ সংস্থা পিটিআই একটি প্রতিবেদনে বলেছে, আইসিসি বোর্ডের একজন সিনিয়র সদস্য জানিয়েছেন খসড়া সূচির বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অনুমোদন এখনও পায়নি পিসিবি।

২০২৩ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো এশিয়া কাপ। পাকিস্তানের মাটিতে ভারত খেলতে যেতে রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। ঐ এশিয়া কাপের ভারতের বেশিরভাগ ম্যাচই শ্রীলংকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তান সফরে ভারত যাবে কিনা, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। পাকিস্তান সফর নিয়ে বিসিসিআই সবসময়ই বলে এসেছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া পাকিস্তান সফর সম্ভব নয়।

আইসিসি বোর্ডের ঐ সদস্য পিটিআইকে বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী দেশের সব বোর্ড প্রধানরা (বিসিসিআই বাদে) টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে নিজ দেশের সরকারের সাথে আলোচনার পর আইসিসিকে আপডেট জানানোর কথা বলেছে বিসিসিআই।’

২০১৭ সালে অনুষ্ঠিতম সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিলো পাকিস্তান। ওভালের ঐ ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপার স্বাদ নেয় পাকরা।

খেলাধুলা

মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর বসবে বাংলাদেশে। এই টুর্নামেন্টের আগে গত মার্চ-এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করে গেছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা।

তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন এলিসা পেরিরা।

এই সফর নিয়ে সন্তুষ্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী নিক হকলি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে মাত্রই আমাদের দল দারুণ একটি বাংলাদেশ সফর করে এল। নারী দল যে অসাধারণ আতিথেয়তা পেয়েছে তাতে আমরা বেশ সন্তুষ্ট। ‘

এরপর আলোচনায় উঠে আসে বাংলাদেশের ছেলেদের অস্ট্রেলিয়া সফর। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়া সফরে যায়নি টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল ২০০৩ সালের জুলাই মাসে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ওয়ানডে খেলেছিল সর্বশেষ ২০০৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে।

এবার নিজেদের ঘরে নাজমুল হোসেন, তাসকিন আহমেদদের আতিথেয়তায় দিতে প্রস্তুত সিএ। এ নিয়ে হকলি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের এফটিপির পরবর্তী চক্রের অংশে আছে এবং আমরা বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে মুখিয়ে আছি। ‘

আইসিসির এফটিপি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা আছে। পরের বছর অস্ট্রেলিয়ায় ২টি টেস্ট খেলার কথা টাইগারদের।

খেলাধুলা

বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে আফগানিস্তান

দারুণ বোলিংয়ে ছোট পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশকে হারাল আফগানিস্তান। ভারতের সঙ্গী হয়ে ‘১’ নং গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেল তারা।

সেন্ট ভিনসেন্টে আগে ব্যাট করে ১১৫ রান করে আফগানরা। কয়েক দফার বৃষ্টিতে ১৯ ওভারে ১১৪ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। ৭ বল বাকি থাকতেই ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা। ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে ৮ রানে জেতে আফগানিস্তান।

বাংলাদেশের জয়ের ওপর নির্ভর করছিল অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য। ১২.১ ওভারে জয় পেলে বাংলাদেশই চলে যেত সেমি-ফাইনালে। আর এরপর জিতলে সেমির টিকেট পেত অস্ট্রেলিয়া। কোনোটিই হতে দেয়নি আফগানরা। নিজেরাই জিতে প্রথমবারের মতো চলে গেছে সেমিতে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে রাশিদ খানের দল।

রান তাড়ায় একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৯ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন লিটন কুমার দাস। আর কেউ ১৫ রানও করতে পারেননি।

অষ্টাদশ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানকে এলবিডব্লিউ করে আফগানিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন নাভিন উল হাক। ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নাভিনই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১১৫/৫ (গুরবাজ ৪৩, জাদরান ১৮, ওমারজাই ১০, নাইব ৪, নাবি ১, জানাত ৭*, রাশিদ ১৯*; তানজিম ৪-০-৩৬-০, তাসকিন ৪-১-১২-১, সাকিব ৪-০-১৯-০, মুস্তাফিজ ৪-০-১৭-১, রিশাদ ৪-০-২৬-৩)

বাংলাদেশ: (লক্ষ্য ১৯ ওভারে ১১৪) ১৭.৫ ওভারে ১০৫ (লিটন ৫৪*, তানজিদ ০, শান্ত ৫, সাকিব ০, সৌম্য ১০, হৃদয় ১৪, মাহমুদউল্লাহ ৬, রিশাদ ০, তানজিম ৩, তাসকিন ২, মুস্তাফিজ ০; নাভিন ৪-০-, ফারুকি ৩.৫-০-২৬-৪, নাবি ২-০-১৫-০, রাশিদ ৪-০-২৩-৪, নুর ৪-০-১৩-০, নাইব ২-০-৫-১)

ফল: ডাকওয়ার্থ লুইস স্টার্ন পদ্ধতিতে আফগানিস্তান ৮ রানে জয়ী


তাসকিনকে ফেরালেন নাভিন

নাভিন উল হাকের স্লোয়ার ডেলিভারি পিচে পড়ার পর নিচু হয়ে গেল বেশ। অনসাইডে খেলার চেষ্টায় তাসকিন আহমেদের ব্যাটে লেগে বল আঘাত করল স্টাম্পে। নবম উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

১৭.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ১০৫ রান। আফগানিস্তানের প্রয়োজন ১ উইকেট। বাংলাদেশকে করতে হবে ৮ বলে ৯ রান।

শেষ ব্যাটসম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ক্রিজে। ৪৯ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত লিটন কুমার দাস।


লিটনের ফিফটি

বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি করলেন লিটন কুমার দাস। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ক্যারিয়ারের একাদশ পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৭ ইনিংস পর তার পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস এটি।

১৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৯৮ রান। নুর আহমেদের করা ওই ওভারের শেষ বলে আম্পায়ার্স কলের সৌজন্যে এলবিডব্লিউর হাত থেকে বেঁচে যান লিটন।

ফিরলেন তানজিদ, শান্ত ও সাকিব

পরপর দুই বলে শান্ত-সাকিবের বিদায়

নাজমুল হোসেন শান্তকে উইকেটে টিকতে দিলেন না নাভিন উল হাক। স্লোয়ার ডেলিভারি ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়লেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১ চারে ৫ বলে ৫ রান করলেন শান্ত।

বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে পরের বলেই ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন সাকিব আল হাসান। লেগ স্টাম্পের ডেলিভারি ব্যাটের সামনের কানায় লেগে ফিরতি ক্যাচ দিলেন তিনি। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তালুবন্দী করলেন নাভিন।

৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৪ রান। লিটন কুমার দাস ৮ বলে ১৩ রানে অপরাজিত। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

আফগানিস্তানের ব্যর্থ রিভিউ

সেমি-ফাইনালের সমীকরণ

আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে থামিয়ে প্রাথমিক কাজটা সেরেছেন বোলাররা। সেমি-ফাইনালের টিকেটের জন্য এবার দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের। ১২.১ ওভারের মধ্যে ১১৬ রান করতে পারলে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেরা চারে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ।

 এছাড়া ১১৫ রান করে ছক্কা মারতে পারলে ১২.৫ ওভার পর্যন্ত সুযোগ থাকছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। আর স্কোর সমান করে বাউন্ডারি মারলে সুযোগ থাকছে ১২.৩ ওভার পর্যন্ত।

বাংলাদেশের জিততে এর বেশি ওভার লেগে গেলে সেমিতে পৌঁছে যাবে অস্ট্রেলিয়া।

আর ম্যাচ জিতলে কিংবা বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও সেরা চারের টিকেট পাবে আফগানিস্তান।

 আপাতত বৃষ্টির কারণে শুরু হয়নি দ্বিতীয় ইনিংস। মাঠ শুকানোর কাজ করছেন মাঠকর্মীরা

আফগানিস্তানকে ১১৫ রানে থামাল বাংলাদেশ

১৯তম ওভারে কাটার-স্লোয়ারের মিশেলে অসাধারণ বোলিংয়ে মাত্র ১ রান দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শেষ ওভারে রাশিদ খানের কাছে জোড়া ছক্কা হজম করলেন তানজিম হাসান। ২০ ওভারে ১১৫ রানে পৌঁছে গেল আফগানিস্তান।

সেমি-ফাইনালের টিকেট পেতে ১২.১ ওভারের মধ্যে এই লক্ষ্য তাড়া করতে হবে বাংলাদেশের।

করিম জানাতের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৪ বলে ২২ রান যোগ করেন রাশিদ। আফগান অধিনায়ক ৩ ছক্কায় করেন ১০ বলে ১৯ রান। তার এই ক্যামিওতেই মূলত একশ পেরোয় আফগানিস্তান।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৮ রান যোগ করেন আফগানরা। মন্থর ব্যাটিংয়ে ১৮ রান করতে ২৯ বল খেলেন ইব্রাহিম জাদরান। আরেক ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ৫৫ বলে খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস।

দারুণ বোলিংয়ে এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, একশর আগেই আফগানিস্তানকে আটকাতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু রাশিদের শেষের ঝড়ে লড়াই করার পুঁজি পেয়ে যায় আফগানরা।

এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে এক মেইডেনসহ মাত্র ১২ রানে নেন ১ উইকেট। রিশাদ হোসেনের ৩ উইকেটের জন্য খরচ ২৬ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১১৫/৫ (গুরবাজ ৪৩, জাদরান ১৮, ওমারজাই ১০, নাইব ৪, নাবি ১, জানাত ৭*, রাশিদ ১৯*; তানজিম ৪-০-৩৬-০, তাসকিন ৪-১-১২-১, সাকিব ৪-০-১৯-০, মুস্তাফিজ ৪-০-১৭-১, রিশাদ ৪-০-২৬-৩)

নাবিকে ফেরালেন তাসকিন

প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করলেও সাফল্য পাননি তাসকিন আহমেদ। ডেথে নিজের শেষ ওভার করতে এসে প্রথম উইকেট পেলেন এই ম্যাচ দিয়ে একাদশে ফেরা ফাস্ট বোলার।

রিশাদের জোড়া আঘাত

নিজের শেষ ওভারে দুই উইকেট নিলেন রিশাদ হোসেন। দীর্ঘসময় ধরে খেলতে থাকা রহমানউল্লাহ গুরবাজের পর চার নম্বরে নামা গুলবাদিন নাইবকেও ফেরালেন তরুণ লেগ স্পিনার।

ওভারের প্রথম বল ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে ডিপ কভারে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেন ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৫ বলে ৪৩ রান করা গুরবাজ। তার স্ট্রাইক রেট ৭৮.১৮! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত ৪০ রানের সবচেয়ে মন্থর ইনিংস এটি।

দুই বল পর স্লগ করতে গিয়ে হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন নাইব। এবার ডিপ কভার সীমানা থেকে অনেকটা পথ দৌড়ে সামনে লাফিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন সৌম্য। ১২ বলে ১০ রান করে ফেরেন নাইব।

১৭ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯৩ রান। ক্রিজে দুই ব্যাটসম্যান করিম জানাত ও মোহাম্মদ নাবি।

৪ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিলেন রিশাদ।

টিকতে পারলেন না ওমারজাই

রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরের বলেই আজমতউল্লাহ ওমারজাইকে কট বিহাইন্ড করলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

জাদরানকে ফেরালেন রিশাদ

রিশাদ হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি ইনসাইড আউট শট খেললেন ইব্রাহিম জাদরান। ঠিকঠাক টাইমিং পেলেন না। লং অফ থেকে বাঁ দিকে অনেকটা দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন তানজিম হাসান।

৫৯ রানে ভাঙল আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। ১ চারে ২৯ বলে ১৮ রান করে ফিরলেন জাদরান। ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান আজমতউল্লাহ ওমারজাই।

১১ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৯ রান। ৩৫ বলে ২৮ রানে খেলছেন গুরবাজ।

জুটিরপঞ্চাশে জাদরান-গুরবাজের রেকর্ড

আরও একবার উদ্বোধনী জুটিতে পঞ্চাশ রান যোগ করলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। চলতি বিশ্বকাপে এ নিয়ে চার ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়লেন আফগানিস্তানের দুই ওপেনার।

টুর্নামেন্টের এক আসরে উদ্বোধনী জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটির রেকর্ড। এর আগে ভিন্ন পাঁচটি জুটি তিনবার করে পঞ্চাশ বা তার বেশি রানের জুটি গড়েছিল।

এক বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেটে জুটি বেধে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও গড়েছেন গুরবাজ ও জাদরান। চলতি আসরে সাত ম্যাচে এখন পর্যন্ত তাদের জুটির সংগ্রহ ৪৩৭ রান। ২০২১ সালে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান জুটি বেধে করেছিলেন ৪১১ রান।

৯ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান। গুরবাজ ৩০ বলে ২৫ ও জাদরান ২৪ বলে ১৬ রানে অপরাজিত।

পাওয়ার প্লেতে আফগানিস্তানের ২৭

প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট নিতে পারল না বাংলাদেশ। অবশ্য আফগানিস্তানও তেমন সুবিধা করতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতে তাদের সংগ্রহ কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৭ রান।

রহমানউল্লাহ গুরবাজ ২১ বলে ১২ ও ইব্রাহিম জাদরান ১৫ বলে ১০ রানে অপরাজিত।

সেন্ট ভিনসেন্টের চ্যালেঞ্জিং উইকেটে শুরু থেকেই দেখা মিলেছে অসম বাউন্সের। কিছু ডেলিভারি অতিরিক্ত লাফিয়েছে। কয়েকটি আবার একদম নিচু হয়ে গেছে স্টাম্প ঘেঁষে। তবে কোনোভাবে উইকেট বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছে আফগান ওপেনাররা।

বাংলাদেশের ব্যর্থতার দায়ও অবশ্য আছে। পঞ্চম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে ৯ রানে থাকা ইব্রাহিমের ক্যাচ নিতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়।

জাদরানের ক্যাচ ছাড়লেন হৃদয়

পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে সুযোগ তৈরি করলেন সাকিব আল হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল সজোরে মারলেন ইব্রাহিম জাদরান। শর্ট কভারে মাথার ওপরের ক্যাচ নিতে পারলেন না তাওহিদ হৃদয়। ৯ রানে বেঁচে গেলেন জাদরান।

ব্যবহৃত পিচে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা

পিচ রিপোর্টে লিসা স্থালেকার ও পমি এমবাঙওয়া বলেছেন, ‘২৪ কিমি. প্রতি ঘণ্টায় বাতাস বইছে। এটি একটি বড় বিষয় হতে পারে। দুই পাশে ৬৭ ও ৭০ মিটার বাউন্ডারি। সোজা বাউন্ডারি ৮০ মিটার। আফগানিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচও এই উইকেটে খেলা হয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা দেখেছি এখানে উইকেটে বাউন্স অসম। তাই দ্রুত রান করা কঠিন। সময় নিয়ে ইনিংস লম্বা করার পথে হাঁটতে হবে। স্পিনারদের জন্য ঠিক আছে, পেসারদের জন্য ঠিক আছে তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য খুব কঠিন। বড় রানের ম্যাচ হয়তো দেখা যাবে না।

 আফগানিস্তানের অপরিবর্তিত একাদশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের ম্যাচের একাদশে কোনো পরিবর্তন করেনি আফগানিস্তান। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান ছাড়া তাদের বাকি ৯ জনই বোলিং করতে পারেন।

পেস বিভাগে নাভিন উল হক, ফাজালহাক ফারুকির সঙ্গে গুলবাদিন নাইব, আজমতউল্লাহ ওমারজাই, করিম জানাত।। আর স্পিনে রাশিদ খানের নেতৃত্বে হাত ঘোরাতে পারেন মোহাম্মদ নাবি, নানগেলিয়া খারোটে, নুর আহমেদরা।

 আফগানিস্তান একাদশ: রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, গুলবাদিন নাইব, আজমতউল্লাহ ওমারজাই, মোহাম্মদ নাবি, করিম জানাত, রাশিদ খান, নানগেলিয়া খারোটে, নুর আহমেদ, নাভিন উল হক, ফাজালহাক ফারুকি।

একাদশে ফিরলেন তাসকিন-সৌম্য

সুপার এইটে শেষ ম্যাচের একাদশে জোড়া পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ। শেখ মেহেদি হাসান ও জাকের আলির জায়গায় দলে ফিরলেন তাসকিন আহমেদ ও সৌম্য সরকার।

তাসকিনের অন্তর্ভুক্তিতে পেস বিভাগে শক্তি বাড়ল বাংলাদেশের। মিডিয়াম পেস বোলিং করতে দেখা যেতে পারে সৌম্যকেও। স্পিনে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে থাকছেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ।

আগের ছয় ম্যাচের মতো আরও একবার বেঞ্চেই থাকতে হলো বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান।

 টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

আরও একবার টস হারল বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন আফগানিস্তান অধিনায়ক রাশিদ খান। জটিল সমীকরণ মেলানোর ম্যাচে রান তাড়া করতে হবে বাংলাদেশকে।

নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, টস জিতলে তিনি আগে বোলিংই নিতেন। তাই চাওয়ামতো পেয়ে সেমি-ফাইনালে যাওয়ার সুযোগটা নিতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

 সেমি-ফাইনালের ক্ষীণ আশা নিয়ে আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ

সুপার এইটে প্রথম দুই ম্যাচ হারের পরও শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের সেমি-ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জটিল সমীকরণ মেলাতে পারলেই ইতিহাস গড়ে সেরা চারে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় শুরু হবে খেলা। ম্যাচটি জিতলে অথবা এক পয়েন্ট পেলেও আর কোনো সমীকরণ ছাড়াই সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যাবে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের সামনে জয়ের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে ১৬০ রান করে এবং ৬২ রানে জিততে পারে; তাহলে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের পয়েন্ট হবে সমান ২। তখন অন্য দুই দলের চেয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ যাবে সেমি-ফাইনালে।

আফগানিস্তান আগে ব্যাট করে যদি ১৬০ রানের স্কোর দাঁড় করায়, তাহলে ১২.৫ ওভারের মধ্যে তাড়া করতে পারলে নেট রান রেটে এগিয়ে সেরা চারের টিকেট পাবে বাংলাদেশ।

এই দুই ব্যবধানের কমে বাংলাদেশ জিতলে সেমিতে উঠে যাবে অস্ট্রেলিয়া। ন্যুনতম ব্যবধানে হারলেও সেমির স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে আফগানিস্তানের।

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান অবশ্য আফগানিস্তানের পক্ষে। ১১ ম্যাচের ৬টি জিতেছে তারা। বাংলাদেশের ৫ জয়ের একটি আবার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে। টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরে ওই একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল।

 

ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া হারায় এখনও সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের। অন্যদিকে সেমিতে যেতে জিততেই হবে আফগানদের। এমন সমীকরণ সামনে রেখে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটি পরিণত হয়েছে অলিখিত এক ফাইনালে। যেখানে টসে জিতে বাংলাদেশকে ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছে আফগানরা।

সবশেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ২৪ রানে হেরে যাওয়ায় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচটা ফিরে পেয়েছে প্রাণ। সমীকরণ বলছে সুপার এইটে কোনো জয় না পেলেও এখনও সেমিতে যেতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে আফগানদের হারিয়ে দিতে হবে নূন্যতম ৬২ রানের ব্যবধানে নতুবা রান তাড়া করতে হবে ১২.৫ ওভারের মধ্যেই। কাজটা আপাতত দৃষ্টিতে কঠিনই বটে। এরপরও একটা সুযোগ কিন্তু পাচ্ছে বাংলাদেশ। আফগানদের সমীকরণটা অবশ্য সহজ। সেমিতে যেতে জিততে হবে তাদের, আর হারলে বাদ।

এই সমীকরণ মেলানো বাংলাদেশের জন্য কঠিনই বটে। কেননা, সুপার এইটে বাংলাদেশ কোনো জয় না পেলেও আফগানরা তাদের সবশেষ ম্যাচে হারিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। যা তাদের করেছে আরও আত্মবিশ্বাসী। এমন আত্মবিশ্বাসী দলের সামনে বাংলাদেশের ম্যাচ জেতাটা তাই কঠিনই বটে।

তবে বাংলাদেশকে আফগানরা আশাবাদী করছে তাদের বিপক্ষে খেলা সবশেষ দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়। তাছাড়া এই ফরম্যাটে আফগানদের সাথে বরাবরই বেশে ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও তাই সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেতে পারে বাংলাদেশ।