খেলাধুলা

ভারতের মাটিতে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তামিম ইকবালকে নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। অধিনায়কত্ব ছাড়া থেকে শুরু করে জাতীয় দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনা আলোচনায় ছিল লম্বা সময়। ঘটনা গড়িয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত। সেসব নাটকীয় ঘটনায় চাউর হওয়া নানা কথার কিছুই জানেন না বাংলাদেশ দলের কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে।

ইএসপিএনক্রিকইনফোতে সাক্ষাৎকারে তামিম প্রসঙ্গে পরিষ্কার করে কিছু বলতে চান কিনা এমন প্রশ্ন ছিল হাথুরুর দিকে। লঙ্কান কোচ উল্টো প্রশ্ন ছোঁড়েন, ‘কোন ঘটনা? আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করছি, বলুন তো শুনি। আমি আগে কিছু শুনিনি। সত্যি বলতে আমি আজ অবধি জানি না কেনো অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।’

সেই ঘটনার পর তামিমের সঙ্গে কথাও হয়নি হাথুরুসিংহের। দুজনের মধ্যে কথা বলানোর চেষ্টাও করায়নি বিসিবি। ৫৫ বর্ষী কোচ বলেছেন, ‘সে অবসর নিয়েছে এবং সেটি এমন একটি পর্যায় যেখানে আমরা কিছুই করতে পারি না। তবে আমার পুরো মনোযোগ অবশ্য দলের দিকে। জানেন, সবসময় এই কথা বলেছি, দলের চেয়ে কোনো ব্যক্তিই বড় নয়।’

বর্তমানে বিপিএলে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক ৩৪ বর্ষী তামিম। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তাকে দেখা গেলেও লাল-সবুজের জার্সিতে বাঁহাতি ওপেনারের ভবিষ্যৎ এখনও অজানা।

বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে বিশ্বমানের হচ্ছে কি না, এই প্রশ্নে হাথুরুসিংহে বলেছেন, ‘আমাদের যথাযথ কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নেই। এটা শুনতে অদ্ভুত লাগবে। তবে বিপিএল যখন দেখি, মাঝেমধ্যে টিভি বন্ধ করে দিই। কিছু খেলোয়াড় তো কোনো মানেরই নয়। এই চলমান পদ্ধতি নিয়ে আমার অনেক প্রশ্ন আছে।’

বিপিএলে বড় কোনো বিদেশি ক্রিকেটার পুরো মৌসুম খেলছেন না। এই যেমন বাবর আজম, তিনি রংপুরের হয়ে এবারের বিপিএল খেলেছেন। তবে পিএসএল খেলতে ৭ ফেব্রুয়ারিতেই বিপিএল ছেড়েছেন। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে আজ বিপিএলে আসছেন ডেভিড মিলার। এমন অনেকেই বিপিএলে আছেন আসা-যাওয়ার মধ্যে। হাথুরুসিংহের কাছে এটা একটা সার্কাসের মতো।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আইসিসির এখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত। অবশ্যই কিছু নিয়ম থাকতে হবে। একজন খেলোয়াড় একটা টুর্নামেন্ট খেলছে, পরে আরেকটা খেলছে। এটা সার্কাস। খেলোয়াড়েরা তাদের সুযোগের কথা বলবে, কিন্তু এটা ঠিক নয়। মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, আমি আগ্রহ হারিয়েছি।’

খেলাধুলা

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে অলরাউন্ডার তালিকায় শীর্ষে থাকার রাজত্ব শেষ হলো বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের।

পাল্লেকেলেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সাকিবকে সরিয়ে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবি।

২০১৯ সালের ৭ মে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন  সাকিব। এরপর ১৭৩৯ দিন শীর্ষস্থান ধরে রাখেন তিনি। যা ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে এই ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি সময় শীর্ষে থাকার নজির। সব মিলিয়ে রেকর্ড ৪,২৭৬ দিন শীর্ষে ছিলেন সাকিব। যা সাড়ে ১১ বছরেরও বেশি সময়ের মত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩,৮১৬ দিন শীর্ষে ছিলেন কপিল দেব। এরমধ্যে ১,৩৭৬ এবং ১,৩৭৫ দিন করে দু’বার শীর্ষে ছিলেন তিনি।

বাঁ-চোখে রেটিনার সমস্যা ও ইনজুরির কারনে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি কিছু সিরিজ মিস করেন সাকিব। এতে তার র‌্যাংকিংয়ে সেই প্রভাব পড়ে। খুব শীঘ্রই শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারের কোন সুযোগ নেই সাকিবের। কারণ আগামী মাসে ঘরের মাঠে শুরু হতে যাওয়া শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলছেন না তিনি।

এরআগে টি-টোয়েন্টির এক নম্বর অলরাউন্ডার ছিলেন নবি। ১৩৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে অলরাউন্ডার টেবিলের শীর্ষে জায়গা করে নিলেন ৩৯ বছর এক মাস বয়সী নবি। এক্ষেত্রে আগের রেকর্ডটি ছিলো শ্রীলংকার তিলকরতেœ দিলশানের। ২০১৫ সালের জুনে ৩৮ বছর আট মাস বয়সে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন দিলশান।

আফগানিস্তাানের অন্য খেলোয়াড় হিসেবে এর আগে  র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান দখল করেছেন  রশিদ খান (ওয়ানডে বোলার ও অলরাউন্ডার, টি-টোয়েন্টি বোলার) এবং মুজিব উর রহমান (টি-টোয়েন্টি বোলার)।

খেলাধুলা

ভারতের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার। জীবনের পথচলায় তাকে থামতে হয়েছে ৯৫ বছর বয়সে।

দত্তজিরাও গায়কোয়াড়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটে। তার মৃত্যুর পর দেশটির জীবিত সবচেয়ে বয়স্ক টেস্ট ক্রিকেটার এখন চিংলেপুট গোপিনাথ, যার বয়স ৯৩ বছর ৩৪৯ দিন।

বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন গায়কোয়াড়।  ১৯৫২ সালে অভিষেক হওয়ার পর ৯ বছরে ১১টি টেস্ট খেলেন তিনি। ১৯৫৯ সালে ইংল্যান্ড  সফরে চারটি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন ভারতকে। ১১ ম্যাচে ৩৫০ রান করেন এই ব্যাটার। এছাড়াও ১১০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৫ হাজার ৭৮৮ রান করেছেন তিনি। ১৭টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২৩টি ফিফটিও আছে তার। খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর কোচিংই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান।

গায়কোয়াড়ের পরের দুই প্রজন্মও নাম লিখিয়েছেন ক্রিকেটে। তার ছেলে অংশুমান গায়কোয়াড় ভারতের হয়ে ৪০টি টেস্ট খেলেন। নাতি শত্রুঞ্জয় গায়কোয়াড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেললেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৩ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে।

গায়কোয়াড়ের মৃত্যুতে ভারতের সাবেক পেসার ইরফান পাঠান লেখেন, ‘মোতিবাগ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নীল রঙের মারুতি গাড়ি থেকে বেরিয়ে বট গাছের তলায় তিনি একাধিক ক্রিকেটারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। আজ গায়কোয়াড় স্যারের জন্যই বরোদা ক্রিকেট সহ গোটা ভারতীয় ক্রিকেট একাধিক তারকা পেয়েছে। উনি ভবিষ্যৎ তৈরি করে দিয়ে গিয়েছেন। ওনার প্রয়াণ আমাদের সকলকেই কষ্ট দিয়েছে। একটা বড় ক্ষতি হলো ক্রিকেট জগতের। ‘

খেলাধুলা

একের পর এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ কেবল বাড়ছিলই। তাই ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছিল ম্যাচ।\

কিন্তু ইনজুরি সময়ে এসে বাজিমাত করলেন সাগরিকা। তার গোলে ভর করেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পা রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা।কমলাপুর স্টেডিয়ামে আজ ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ১-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয় ফাইনাল। এর আগে প্রথম ম্যাচ নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে উড়িয়ে দেয় ৩-১ গোলে। ভুটান অনূর্ধ্ব-১৯ লের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন কেবলই নিয়মরক্ষার।

ভারতের বিপক্ষে শুরু থেকেই পাল্লা দিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশ। প্রথম সুযোগটা পায় স্বাগতিকরাই। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের ফ্রি কিক যদিও জাল খুঁজে পায়নি। ধারা বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণ চিড় ধরায় ভারত।  তবে গোলরক্ষক স্বপ্না রানীর কল্যাণে এ যাত্রায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। বিশেষ করে মুনকি দাস ভারতীয় গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময় যোগ করা হলে ধরেই নেওয়া হয়েছিল এ ম্যাচ ড্র হবে।

কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আফঈদার দূরপাল্লার ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক গোল করেন সাগরিকা। একক প্রচেষ্টায় ভারতীয় গোলরক্ষককে বোকা বানান এই ফরোয়ার্ড। সেই গোলই বাংলাদেশকে এনে দেয় আনন্দের উপলক্ষ। দুই দিন আগে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও জোড়া গোল করেন সাগরিকা।

আগামী মঙ্গলবার নিয়মরক্ষার ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একইদিন অলিখিত সেমিফাইনালে লড়বে ভারত-নেপাল। এই ম্যাচে জয়ী দল ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশের। এদিকে দিনের অপর ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখে নেপাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১০ গোল দেয় ভারত। তাই দুই দলের পয়েন্টই এখন সমান। তবে ম্যাচ ড্র হলে গোলগড়ে এগিয়ে থাকার কারণে বৃহস্পতিবার ফাইনাল খেলবে ভারত।

খেলাধুলা

থাইল্যান্ডে চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেশাদার বক্সার সুরো কৃষ্ণ চাকমা। ব্যাংককে পেশাদার বক্সিংয়ে থাইল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় বক্সারদের একজন সর্নরামকে সোপাকুলকে রিংয়ে ঠিকমতো দাঁড়াতেই দেননি তিনি।

দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে টানা সপ্তম ম্যাচ জিতে চমক দেখিয়েছেন সুরো কৃষ্ণ। প্রথম রাউন্ডে অবশ্য বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে এক মিনিট ৫০ সেকেন্ডেই শেষ হয়েছে ম্যাচ! সুরো কৃষ্ণের এক পাঞ্চেই নকআউট হয়ে যান থাই বক্সার। আর খেলার মতো অবস্থাই ছিল না।

সুরো কৃষ্ণের পরের ম্যাচ রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। ঢাকার রিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন ভারতের এক বক্সার। সেখানেও আশাবাদী রাঙামাটি থেকে উঠে আসা বক্সার।

খেলাধুলা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেল বাংলাদেশ যুব দল। ২৩৬ রানের টার্গেট তাড়ায় ১৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় টাইগার যুবারা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ।

আজ আইরিশদের হারিয়ে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ। আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে টাইগার যুবারা।

সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনের মানগাউং ওভালে কঠিন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান করে আইরিশ যুবারা। দলের হয়ে ১১৩ বলে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেন কিয়ান হিল্টন।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৯০ রান করে ফেরেন আদিল বিন সিদ্দিক। তিনি ৬৩ বল মোকাবেলা করে ৩ বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৬ রান করে ফেরেন।

দলীয় ১০৭ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি। তিনি ৬০ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৪৪ রান করে ফেরেন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন আরিফুল ইসলাম। ২৯ বলে এক বাউন্ডারিতে ২১ রান করে ফেরেন মিজান চৌধুরী।

১৩০ রানে ৪ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন আহরার আমিন ও মোহাম্মদ শিহাব জেমস। তারা ১০৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ যুব দল।

দলের জয়ে ৫৫ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ শিহাব। ৬৩ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আহরার আমিন।

খেলাধুলা

বিপিএলের এবারের আসরে তারকায় ঠাসা ফরচুন বরিশাল। দলটির নেতৃত্বে আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

চোটের কারণে দীর্ঘদিন খেলার বাইরে ছিলেন তামিম। জাতীয় দলে আদৌ ফিরবেন কি না আছে সেই প্রশ্নও! তবে বিপিএলে তাকে যাবে ক্রিকেট মাঠে। কঠোর অনুশীলনে তৈরি করেছেন নিজেকে। তাইতো খান সাহেবের উপরই আস্থা রাখছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

অভিজ্ঞদের মিশেলে তৈরি করা হয়েছে বরিশাল শিবির। ড্রাফট থেকে প্রথম ডাকেই আরেক অভিজ্ঞ উইকেট-কিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দলে আছে অভিজ্ঞ মাহমুদউল­াহ রিয়াদ। গতবারও রিয়াদ খেলেছেন এই বরিশালের হয়েই। সাথে আছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও।

অভিজ্ঞদের সাথে এই দলে খেলবেন সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, কামরুল ইসলামের মতো চেনা মুখ। শুধু স্থানীয় খেলোয়াড়দের উপরই ভরসা রাখছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভালো বিকল্পও আছে বরিশালে। তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার প্রীতম কুমার আছেন ফর্মে। উইকেট কিপার হিসেবে একাদশে মুশফিকের বিকল্প হতে পারেন তিনি।

দলে আছেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল ইসলাম। গত মৌসুমে রংপুরের হয়ে ১১ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার তাইজুল ও রকিবুলের মধ্যে কে খেলবে একাদশে সেটা নিয়ে একটু আলাদাভাবে ভাবতেই হতে পারে দলটির কোচ মিজানুর রহমান বাবলুকে।

একঝাঁক বিদেশিও আছে বরিশাল শিবিরে। গতবারের দল থেকে রাখা হয়েছে আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে। এছাড়াও দলের শক্তি বাড়াবেন ফখর জামান, শোয়েব মালিক, পল স্টার্লিংয়ের মতো ক্রিকেটাররা। শ্রীলঙ্কার তরুণ অলরাউন্ডার দুনিত ওয়েলালাগেও আছেন বরিশালে। পাকিস্তানের তরুণ ফাস্ট বোলার আব্বাস আফ্রিদিকেও দেখা যেতে পারে দলটির মূল পেসার হিসেবে।

তবে কপালে ভাঁজ পড়েছে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে নিয়ে। পুরো বিপিএলে সার্ভিস দিতে পারবেন না পাক তারকারা। কারণ ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত সময় পার করবেন মালিক-ফখররা। তাইতো পরিকল্পনা করতে হচ্ছে বিকল্প প্লেয়ারের।

এছাড়াও এবারের আসরে বরিশালের সবচেয়ে বড় চমক দক্ষিণ আফ্রিকার মারকুটে ব্যাটার ডেভিড মিলার। আইপিএলে নিয়মিত হলেও প্রথমবারের মতো বিপিএলে মাঠ মাতাবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য কিলার মিলার হিসেবেই পরিচিত সবার কাছে। বরিশালের তুরুপের তাস হতে পারেন তিনি।

গত আসরের বরিশালের কান্ডারি সাকিবের রংপুর রাইর্ডাসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের মিশন শুরু করবে তামিমের ফরচুন বরিশাল।

খেলাধুলা

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া বাংলাদেশের প্রথম সংসদ-সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। যিনি দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। এরপর ২০১৮ সালে জাতীয় দলের ক্রিকেটার থাকতেই সংসদ-সদস্য হয়েছেন মাশরাফি মুর্তজা।

‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর পর এবার সব ফরম্যাটের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সংসদ-সদস্য হওয়ার জন্য নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাগুরা-১ আসন থেকে।

রাজনীতির ময়দানে নতুন সাকিবের জন্য নড়াইলের সংসদ-সদস্য প্রার্থী মাশরাফি মুর্তজা ভোট চেয়েছেন। জাতীয় দলে তার সতীর্থ সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার, আবু  হায়দার রনি, নাসুম আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেনসহ আরও অনেক ক্রিকেটার মাগুরার রাস্তায় প্রচারণা চালিয়েছেন।

টানা দুবারের সংসদ-সদস্য নাঈমুর এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান কিশোরগঞ্জ থেকে আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

বিসিবির আরেক পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী সিলেট থেকে এবং সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

ভোটের ময়দানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সাকিবকে নিয়ে। তাকে রাজনীতির মাঠে দেখে ভক্ত-সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তার প্রথম লক্ষ্য সংসদ-সদস্য হওয়া। আরও উপরে যাওয়ার ইচ্ছা সাকিবের। ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে দুটি সিরিজে খেলতে না পারলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়ে তাকে আবারও মাঠে দেখা যাবে।

খেলাধুলা

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়টি জিতলে তাতে যুক্ত হতো নতুন অধ্যায়।

কিন্তু বৃষ্টি বাধায় আপাতত সেই অধ্যায় রচনার সুযোগ পিছিয়ে গেল। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা অবশ্য শেষ হয়ে যায়নি। হাতে আছে আরও এক ম্যাচ।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটির প্রথম ইনিংসও বৃষ্টি বাধায় শেষ হতে পারেনি। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার আগে ১১ ওভার ব্যাটিং করে ২ উইকেটে ৭২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেল ২৪ বলে ১৮ এবং গ্লেন ফিলিপস ১৪ বলে ৯ অপরাজিত ছিলেন।

টস হেরে আজ নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকদের ওপেনার ফিন অ্যালেনকে দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় করেন শরিফুল ইসলাম। ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট শুরু করেন আগ্রাসী ব্যাটিং।

ফিফটির দিকে এগোতে থাকা সেইফার্টকেকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। তার বলে বড় শটের চেষ্টায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন সেইফার্ট। মিডঅফ থেকে বাম দিকে অনেকটা পথ দৌড়ে তালুবন্দি করেন শান্ত। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৩ রান করে বিদায় নেন কিউই ব্যাটার। কিন্তু ১১তম ওভার চলা অবস্থায় শুরু হয় বৃষ্টি।

এদিন মাঠে নামার পর থেকেই অবশ্য গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির দেখা মিলেছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। তবে মাত্রা কম থাকায় আম্পায়াররা খেলা চালিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীর্তে মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় খেলা। কাভার দিয়ে ঢেকে ফেলা হয় উইকেট। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩.২৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু করার সুযোগ ছিল। তবে পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আধা-ঘণ্টা আগে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বে ওভালেই হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

খেলাধুলা

বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। আজ তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

বাংলােেদশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৪ রানে আটকে যআয় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম ৩টি, মাহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ষষ্ঠ উইকেটে ২৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ দেন ওপেনার লিটন দাস ও মাহেদি। লিটন ৪২ ও মাহেদি ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টির আগে এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিতে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৫০ ওভারের ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছিলো টাইগাররা।

নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরতেই অফ স্পিনার মাহেদি হাসানের হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক।

প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন প্রায় ১৬ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহেদি। রানের খাতা খোলার আগেই নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টিম সেইফার্ট শিকার হন মাহেদির।

দ্বিতীয় ওভারে নিউজিল্যান্ড শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লিপে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফিরেন ওপেনার ফিন অ্যালেন।

অ্যালেনের বিদায়ের উইকেটে এসে মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই লেগ বিফোর আউট হন গ্লেন ফিলিপস। নন-স্ট্রাইকের আম্পায়ার আউট না দিলে, রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সেইফার্টের মত খালি হাতে ফিরেন ফিলিপসও।

পরপর দুই বলে অ্যালেন ও ফিলিপসকে শিকার করে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন শরিফুল। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারকে হ্যাট্টিকের স্বাদ নিতে দেননি মার্ক চাপম্যান।

দ্বিতীয় ওভারে ১ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে এত কম রানে ৩ উইকেট হারানোর প্রথম ঘটনা কিউইদের।

শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন চাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল।

জুটিতে ১৯ বলে ১৯ রান যোগ হবার পর বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মাহেদি। ২টি চারে ১৪ রান করা মিচেলকে বোল্ড করেন মাহেদি। এতে পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে ২৮ বলে ৩০ রানের জুটিতে দলের স্কোর ৫০এ নেন চাপম্যান ও জেমস নিশাম। ১০ম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসেই জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার রিশাদ হোসেন।

অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিম হাসানকে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দেন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৯ বলে ১৯ রান করা চাপম্যান।

৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বোলারদের উপর আগ্রাসী হন নিশাম ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ১১ ও ১২তম ওভারে ৯ রান করে নেওয়ার পর তানজিমের করা ১৪তম ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ রান তুলেন তারা।

১৫তম ওভারে তৃতীয়বারের মত আক্রমনে এসে বাংলাদেশকে আবারো উইকেট উপহার দেন শরিফুল। সৌম্যর দারুন ক্যাচে বিদায় ঘটে ২টি চারে ২২ বলে ২৩ রান করা স্যান্টনারের। নিশাম-স্যান্টনার ৩১ বলে ৪১ রান যোগ করেন ।

স্যান্টনার ফেরার পর ১৬তম ওভারে রিশাদের বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১১ রান তুলে দলের স্কোর ১শতে নেন নিশাম। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ছক্কা মারার পরের বলে সাজঘরে ফিরেন নিশাম। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন নিশাম।

দলীয় ১১০ রানে নিশাম ফেরার পর শেষ দিকে এডাম মিলনের ২টি ছক্কায় ১২ বলে অপরাজিত ১৬ ও টিম সাউদির ৮ রানের উপর ভর করে লড়াকু সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৪ রান করে কিউইরা। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে এটিই সর্বনি¤œ রান নিউজিল্যান্ডের।

বাংলাদেশের শরিফুল ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩টি, ৪ ওভার করে বল করে মাহেদি ১৪ রানে ও মুস্তাফিজ ১৫ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট শিকার করেন তানজিম-রিশাদ।

১৩৫ রানের টার্গেট দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ছক্কা মেরে রানের খোলা ওপেনার রনি তালুকদারকে শিকার করেন পেসার এডাম মিলনে। ৭ বলে ১০ রান করে আউট হন রনি।

উইকেটে এসেই নিউজিল্যান্ডর বোলারদের উপর চড়াও হয়ে ৪টি চার আদায় করে নেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু পঞ্চম ওভারে নিশামের বলে স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়ে ১৪ বলে ১৯ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেন শান্ত। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৪২ রান পায় বাংলাদেশ।

স্পিনার ইশ সোধির করা সপ্তম ওভারে চার নম্বরে নামা সৌম্যর ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ রান ায় বাংলাদেশ। তবে দারুন শুরু করে বড় ইনিংস ইনিংস খেলতে পারেননি সৌম্য। নবম ওভারে পেসার বেন সিয়ার্সের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ২২ রান করেন সৌম্য। শান্তর সাথে ২৫ রানের পর সৌম্যর সাথে ২৯ রান যোগ করেন ওপেনার লিটন দাস।
চতুর্থ উইকেটেও তাওহিদ হৃদয়ের সাথে ২৯ রান তুলে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন লিটন। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলে ১৮ বলে ১৯ রান করে স্যান্টনারের শিকার হন হৃদয়।

হৃদয়ের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন নতুন ব্যাটার আফিফ হোসেন। ৬ বলে ১ রান করে আফিফ আউট হলে ৯৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ঐ অবস্থায় ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ বলে ৩৮ রান দরকার পড়ে টাইগারদের।

১৫তম ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোর আউট হলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন ২২ রানে থাকা লিটন। এরপর শেষ ৩ ওভারে ২৪ রানের দরকার পড়ে বাংলাদেশের। সিয়ার্সের করা ১৮তম ওভারে লিটনের ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ রান উঠে। শেষ ২ ওভারে জিততে ১০ রানের সমীকরণ পায় টাইগাররা।

মিলনের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন মাহেদি। পরের বলে ২ ও তৃতীয় ডেলিভারিতে ৪ মেরে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন মাহেদি। জুটিতে ২৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রান তুলেন লিটন-মাহেদি।

এক প্রান্তে আগলে দলের জয়ে অবদান রাখা লিটন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। ১টি করে চার-ছক্কায় ১৬ বলে অপরাজিত ১৯ রান এবং ১৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন মাহেদি।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সিরিজে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

স্কোর কার্ড : (টস-বাংলাদেশ)

নিউজিল্যান্ড ইনিংস :

অ্যালেন ক সৌম্য ব শরিফুল ১
সেইফার্ট ব মাহেদি ০
মিচেল ব মাহেদি ১৪
ফিলিপস এলবিডব্লু ব শরিফুল ০
চাপম্যান ক তানজিম ব রিশাদ ১৯
নিশাম ক আফিফ ব মুস্তাফিজ ৪৮
স্যান্টনার ক সৌম্য ব শরিফুল ২৩
মিলনে অপরাজিত ১৬
সাউদি ক আফিফ ব মুস্তাফিজ ৮
সোধি ক লিটন ্ তানজিম ২
সিয়ার্স অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (লে বা-১, ও-১) ২
মোট (৯ উইকেট, ২০ ওভার) ১৩৪
উইকেট পতন : ১-১ (সেফার্ট), ২-১ (অ্যালেন), ৩-১ (ফিলিপস), ৪-২০ (মিচেল), ৫-৫০ (চ্যাপম্যান), ৬-৯১ (স্যান্টনার), ৭-১১০ (নিশাম), ৮-১২৪ (সাউদি), ৯-১২৭ (সোধি)।

বাংলাদেশ বোলিং :

মাহেদি : ৪-০-১৪-২,
শরিফুল : ৪-০-২৬-৩,
তানজিম : ৪-০-৪৫-১ (ও-১),
মুস্তাফিজ : ৪-০-১৫-২,
রিশাদ : ৩-০-২৪-১,
আফিফ : ১-০-৯-০।

বাংলাদেশ ইনিংস :

লিটন অপরাজিত ৪২
রনি ক সাউদি ব মিলনে ১০
শান্ত ক স্যান্টনার ব নিশাম ১৯
সৌম্য ব সিয়ার্স ২২
হৃদয় ক সাউদি ব স্যান্টনার ১৯
আফিফ ক নিশাম ব সাউদি ১
মাহেদি অপরাজিত ১৯
অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-২) ৫
মোট (৫ উইকেট, ১৮.৪) ১৩৭
উইকেট পতন : ১-১৩ (রনি), ২-৩৮ (শান্ত), ৩-৬৭ (সৌম্য), ৪-৯৬ (হৃদয়), ৫-৯৭ (আফিফ)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং :

সাউদি : ৪-০-১৬-১,
মিলনে : ৩.৪-০-৩৯-১ (ও-১),
নিশাম : ১-০-৭-১,
সিয়ার্স : ৪-০-৩৬-১,
সোধি : ২-০-২০-০ (ও-১),
স্যান্টনার : ৪-০-১৬-১।

ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।