খেলাধুলা

একের পর এক সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ কেবল বাড়ছিলই। তাই ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছিল ম্যাচ।\

কিন্তু ইনজুরি সময়ে এসে বাজিমাত করলেন সাগরিকা। তার গোলে ভর করেই সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পা রাখল বাংলাদেশের মেয়েরা।কমলাপুর স্টেডিয়ামে আজ ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ১-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয় ফাইনাল। এর আগে প্রথম ম্যাচ নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে উড়িয়ে দেয় ৩-১ গোলে। ভুটান অনূর্ধ্ব-১৯ লের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন কেবলই নিয়মরক্ষার।

ভারতের বিপক্ষে শুরু থেকেই পাল্লা দিয়ে লড়াই করে বাংলাদেশ। প্রথম সুযোগটা পায় স্বাগতিকরাই। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকারের ফ্রি কিক যদিও জাল খুঁজে পায়নি। ধারা বিপরীতে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণ চিড় ধরায় ভারত।  তবে গোলরক্ষক স্বপ্না রানীর কল্যাণে এ যাত্রায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে স্বাগতিকরা। বিশেষ করে মুনকি দাস ভারতীয় গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি সময় যোগ করা হলে ধরেই নেওয়া হয়েছিল এ ম্যাচ ড্র হবে।

কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আফঈদার দূরপাল্লার ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ এক গোল করেন সাগরিকা। একক প্রচেষ্টায় ভারতীয় গোলরক্ষককে বোকা বানান এই ফরোয়ার্ড। সেই গোলই বাংলাদেশকে এনে দেয় আনন্দের উপলক্ষ। দুই দিন আগে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচেও জোড়া গোল করেন সাগরিকা।

আগামী মঙ্গলবার নিয়মরক্ষার ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। একইদিন অলিখিত সেমিফাইনালে লড়বে ভারত-নেপাল। এই ম্যাচে জয়ী দল ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে বাংলাদেশের। এদিকে দিনের অপর ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখে নেপাল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১০ গোল দেয় ভারত। তাই দুই দলের পয়েন্টই এখন সমান। তবে ম্যাচ ড্র হলে গোলগড়ে এগিয়ে থাকার কারণে বৃহস্পতিবার ফাইনাল খেলবে ভারত।

খেলাধুলা

থাইল্যান্ডে চমক দেখিয়েছেন বাংলাদেশের পেশাদার বক্সার সুরো কৃষ্ণ চাকমা। ব্যাংককে পেশাদার বক্সিংয়ে থাইল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় বক্সারদের একজন সর্নরামকে সোপাকুলকে রিংয়ে ঠিকমতো দাঁড়াতেই দেননি তিনি।

দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে ধরাশায়ী করে টানা সপ্তম ম্যাচ জিতে চমক দেখিয়েছেন সুরো কৃষ্ণ। প্রথম রাউন্ডে অবশ্য বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে এক মিনিট ৫০ সেকেন্ডেই শেষ হয়েছে ম্যাচ! সুরো কৃষ্ণের এক পাঞ্চেই নকআউট হয়ে যান থাই বক্সার। আর খেলার মতো অবস্থাই ছিল না।

সুরো কৃষ্ণের পরের ম্যাচ রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। ঢাকার রিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছেন ভারতের এক বক্সার। সেখানেও আশাবাদী রাঙামাটি থেকে উঠে আসা বক্সার।

খেলাধুলা

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেল বাংলাদেশ যুব দল। ২৩৬ রানের টার্গেট তাড়ায় ১৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় পায় টাইগার যুবারা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার শঙ্কায় পড়ে যায় বাংলাদেশ।

আজ আইরিশদের হারিয়ে জয়ে ফিরল বাংলাদেশ। আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে টাইগার যুবারা।

সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লুমফন্টেইনের মানগাউং ওভালে কঠিন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে আয়ারল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৩৫ রান করে আইরিশ যুবারা। দলের হয়ে ১১৩ বলে সর্বোচ্চ ৯০ রান করেন কিয়ান হিল্টন।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে ৯০ রান করে ফেরেন আদিল বিন সিদ্দিক। তিনি ৬৩ বল মোকাবেলা করে ৩ বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৬ রান করে ফেরেন।

দলীয় ১০৭ রানে ফেরেন আরেক ওপেনার আশিকুর রহমান শিবলি। তিনি ৬০ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৪৪ রান করে ফেরেন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন আরিফুল ইসলাম। ২৯ বলে এক বাউন্ডারিতে ২১ রান করে ফেরেন মিজান চৌধুরী।

১৩০ রানে ৪ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন আহরার আমিন ও মোহাম্মদ শিহাব জেমস। তারা ১০৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ যুব দল।

দলের জয়ে ৫৫ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ শিহাব। ৬৩ বলে তিন চার আর এক ছক্কায় ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন আহরার আমিন।

খেলাধুলা

বিপিএলের এবারের আসরে তারকায় ঠাসা ফরচুন বরিশাল। দলটির নেতৃত্বে আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

চোটের কারণে দীর্ঘদিন খেলার বাইরে ছিলেন তামিম। জাতীয় দলে আদৌ ফিরবেন কি না আছে সেই প্রশ্নও! তবে বিপিএলে তাকে যাবে ক্রিকেট মাঠে। কঠোর অনুশীলনে তৈরি করেছেন নিজেকে। তাইতো খান সাহেবের উপরই আস্থা রাখছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

অভিজ্ঞদের মিশেলে তৈরি করা হয়েছে বরিশাল শিবির। ড্রাফট থেকে প্রথম ডাকেই আরেক অভিজ্ঞ উইকেট-কিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিমকে দলে ভিড়িয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দলে আছে অভিজ্ঞ মাহমুদউল­াহ রিয়াদ। গতবারও রিয়াদ খেলেছেন এই বরিশালের হয়েই। সাথে আছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও।

অভিজ্ঞদের সাথে এই দলে খেলবেন সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, কামরুল ইসলামের মতো চেনা মুখ। শুধু স্থানীয় খেলোয়াড়দের উপরই ভরসা রাখছে না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ভালো বিকল্পও আছে বরিশালে। তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার প্রীতম কুমার আছেন ফর্মে। উইকেট কিপার হিসেবে একাদশে মুশফিকের বিকল্প হতে পারেন তিনি।

দলে আছেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল ইসলাম। গত মৌসুমে রংপুরের হয়ে ১১ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার তাইজুল ও রকিবুলের মধ্যে কে খেলবে একাদশে সেটা নিয়ে একটু আলাদাভাবে ভাবতেই হতে পারে দলটির কোচ মিজানুর রহমান বাবলুকে।

একঝাঁক বিদেশিও আছে বরিশাল শিবিরে। গতবারের দল থেকে রাখা হয়েছে আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে। এছাড়াও দলের শক্তি বাড়াবেন ফখর জামান, শোয়েব মালিক, পল স্টার্লিংয়ের মতো ক্রিকেটাররা। শ্রীলঙ্কার তরুণ অলরাউন্ডার দুনিত ওয়েলালাগেও আছেন বরিশালে। পাকিস্তানের তরুণ ফাস্ট বোলার আব্বাস আফ্রিদিকেও দেখা যেতে পারে দলটির মূল পেসার হিসেবে।

তবে কপালে ভাঁজ পড়েছে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে নিয়ে। পুরো বিপিএলে সার্ভিস দিতে পারবেন না পাক তারকারা। কারণ ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত সময় পার করবেন মালিক-ফখররা। তাইতো পরিকল্পনা করতে হচ্ছে বিকল্প প্লেয়ারের।

এছাড়াও এবারের আসরে বরিশালের সবচেয়ে বড় চমক দক্ষিণ আফ্রিকার মারকুটে ব্যাটার ডেভিড মিলার। আইপিএলে নিয়মিত হলেও প্রথমবারের মতো বিপিএলে মাঠ মাতাবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটার। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের জন্য কিলার মিলার হিসেবেই পরিচিত সবার কাছে। বরিশালের তুরুপের তাস হতে পারেন তিনি।

গত আসরের বরিশালের কান্ডারি সাকিবের রংপুর রাইর্ডাসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের মিশন শুরু করবে তামিমের ফরচুন বরিশাল।

খেলাধুলা

ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হওয়া বাংলাদেশের প্রথম সংসদ-সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। যিনি দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক। এরপর ২০১৮ সালে জাতীয় দলের ক্রিকেটার থাকতেই সংসদ-সদস্য হয়েছেন মাশরাফি মুর্তজা।

‘নড়াইল এক্সপ্রেস’-এর পর এবার সব ফরম্যাটের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সংসদ-সদস্য হওয়ার জন্য নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাগুরা-১ আসন থেকে।

রাজনীতির ময়দানে নতুন সাকিবের জন্য নড়াইলের সংসদ-সদস্য প্রার্থী মাশরাফি মুর্তজা ভোট চেয়েছেন। জাতীয় দলে তার সতীর্থ সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার, আবু  হায়দার রনি, নাসুম আহমেদ, এনামুল হক বিজয়, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেনসহ আরও অনেক ক্রিকেটার মাগুরার রাস্তায় প্রচারণা চালিয়েছেন।

টানা দুবারের সংসদ-সদস্য নাঈমুর এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান কিশোরগঞ্জ থেকে আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

বিসিবির আরেক পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী সিলেট থেকে এবং সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ঢাকা-৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।

ভোটের ময়দানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সাকিবকে নিয়ে। তাকে রাজনীতির মাঠে দেখে ভক্ত-সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। তার প্রথম লক্ষ্য সংসদ-সদস্য হওয়া। আরও উপরে যাওয়ার ইচ্ছা সাকিবের। ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে দুটি সিরিজে খেলতে না পারলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) দিয়ে তাকে আবারও মাঠে দেখা যাবে।

খেলাধুলা

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়টি জিতলে তাতে যুক্ত হতো নতুন অধ্যায়।

কিন্তু বৃষ্টি বাধায় আপাতত সেই অধ্যায় রচনার সুযোগ পিছিয়ে গেল। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথমবার সিরিজ জয়ের আশা অবশ্য শেষ হয়ে যায়নি। হাতে আছে আরও এক ম্যাচ।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটির প্রথম ইনিংসও বৃষ্টি বাধায় শেষ হতে পারেনি। বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার আগে ১১ ওভার ব্যাটিং করে ২ উইকেটে ৭২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেল ২৪ বলে ১৮ এবং গ্লেন ফিলিপস ১৪ বলে ৯ অপরাজিত ছিলেন।

টস হেরে আজ নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকদের ওপেনার ফিন অ্যালেনকে দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় করেন শরিফুল ইসলাম। ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট শুরু করেন আগ্রাসী ব্যাটিং।

ফিফটির দিকে এগোতে থাকা সেইফার্টকেকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। তার বলে বড় শটের চেষ্টায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন সেইফার্ট। মিডঅফ থেকে বাম দিকে অনেকটা পথ দৌড়ে তালুবন্দি করেন শান্ত। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৩ রান করে বিদায় নেন কিউই ব্যাটার। কিন্তু ১১তম ওভার চলা অবস্থায় শুরু হয় বৃষ্টি।

এদিন মাঠে নামার পর থেকেই অবশ্য গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির দেখা মিলেছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে। তবে মাত্রা কম থাকায় আম্পায়াররা খেলা চালিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীর্তে মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হয় খেলা। কাভার দিয়ে ঢেকে ফেলা হয় উইকেট। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩.২৮টা পর্যন্ত খেলা শুরু করার সুযোগ ছিল। তবে পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আধা-ঘণ্টা আগে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর বে ওভালেই হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ।

খেলাধুলা

বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। আজ তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

বাংলােেদশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৪ রানে আটকে যআয় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের শরিফুল ইসলাম ৩টি, মাহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। জবাবে ষষ্ঠ উইকেটে ২৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ দেন ওপেনার লিটন দাস ও মাহেদি। লিটন ৪২ ও মাহেদি ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। টি-টোয়েন্টির আগে এই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে জিতে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৫০ ওভারের ম্যাচ জয়ের নজির গড়েছিলো টাইগাররা।

নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরতেই অফ স্পিনার মাহেদি হাসানের হাতে বল তুলে দেন টাইগার অধিনায়ক।

প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন প্রায় ১৬ মাস পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহেদি। রানের খাতা খোলার আগেই নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টিম সেইফার্ট শিকার হন মাহেদির।

দ্বিতীয় ওভারে নিউজিল্যান্ড শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। ওভারের দ্বিতীয় বলে স্লিপে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফিরেন ওপেনার ফিন অ্যালেন।

অ্যালেনের বিদায়ের উইকেটে এসে মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই লেগ বিফোর আউট হন গ্লেন ফিলিপস। নন-স্ট্রাইকের আম্পায়ার আউট না দিলে, রিভিউ নিয়ে সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সেইফার্টের মত খালি হাতে ফিরেন ফিলিপসও।

পরপর দুই বলে অ্যালেন ও ফিলিপসকে শিকার করে হ্যাট্টিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন শরিফুল। কিন্তু বাংলাদেশি বোলারকে হ্যাট্টিকের স্বাদ নিতে দেননি মার্ক চাপম্যান।

দ্বিতীয় ওভারে ১ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। টি-টোয়েন্টিতে এত কম রানে ৩ উইকেট হারানোর প্রথম ঘটনা কিউইদের।

শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন চাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল।

জুটিতে ১৯ বলে ১৯ রান যোগ হবার পর বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন মাহেদি। ২টি চারে ১৪ রান করা মিচেলকে বোল্ড করেন মাহেদি। এতে পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম উইকেটে ২৮ বলে ৩০ রানের জুটিতে দলের স্কোর ৫০এ নেন চাপম্যান ও জেমস নিশাম। ১০ম ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসেই জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার রিশাদ হোসেন।

অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিম হাসানকে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দেন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৯ বলে ১৯ রান করা চাপম্যান।

৫০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বোলারদের উপর আগ্রাসী হন নিশাম ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ১১ ও ১২তম ওভারে ৯ রান করে নেওয়ার পর তানজিমের করা ১৪তম ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ রান তুলেন তারা।

১৫তম ওভারে তৃতীয়বারের মত আক্রমনে এসে বাংলাদেশকে আবারো উইকেট উপহার দেন শরিফুল। সৌম্যর দারুন ক্যাচে বিদায় ঘটে ২টি চারে ২২ বলে ২৩ রান করা স্যান্টনারের। নিশাম-স্যান্টনার ৩১ বলে ৪১ রান যোগ করেন ।

স্যান্টনার ফেরার পর ১৬তম ওভারে রিশাদের বলে ১টি করে চার-ছক্কায় ১১ রান তুলে দলের স্কোর ১শতে নেন নিশাম। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ছক্কা মারার পরের বলে সাজঘরে ফিরেন নিশাম। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন নিশাম।

দলীয় ১১০ রানে নিশাম ফেরার পর শেষ দিকে এডাম মিলনের ২টি ছক্কায় ১২ বলে অপরাজিত ১৬ ও টিম সাউদির ৮ রানের উপর ভর করে লড়াকু সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৪ রান করে কিউইরা। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে এটিই সর্বনি¤œ রান নিউজিল্যান্ডের।

বাংলাদেশের শরিফুল ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩টি, ৪ ওভার করে বল করে মাহেদি ১৪ রানে ও মুস্তাফিজ ১৫ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট শিকার করেন তানজিম-রিশাদ।

১৩৫ রানের টার্গেট দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ছক্কা মেরে রানের খোলা ওপেনার রনি তালুকদারকে শিকার করেন পেসার এডাম মিলনে। ৭ বলে ১০ রান করে আউট হন রনি।

উইকেটে এসেই নিউজিল্যান্ডর বোলারদের উপর চড়াও হয়ে ৪টি চার আদায় করে নেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু পঞ্চম ওভারে নিশামের বলে স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়ে ১৪ বলে ১৯ রান নিয়ে সাজঘরে ফিরেন শান্ত। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৪২ রান পায় বাংলাদেশ।

স্পিনার ইশ সোধির করা সপ্তম ওভারে চার নম্বরে নামা সৌম্যর ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ রান ায় বাংলাদেশ। তবে দারুন শুরু করে বড় ইনিংস ইনিংস খেলতে পারেননি সৌম্য। নবম ওভারে পেসার বেন সিয়ার্সের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ২২ রান করেন সৌম্য। শান্তর সাথে ২৫ রানের পর সৌম্যর সাথে ২৯ রান যোগ করেন ওপেনার লিটন দাস।
চতুর্থ উইকেটেও তাওহিদ হৃদয়ের সাথে ২৯ রান তুলে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে রাখেন লিটন। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলে ১৮ বলে ১৯ রান করে স্যান্টনারের শিকার হন হৃদয়।

হৃদয়ের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরেন নতুন ব্যাটার আফিফ হোসেন। ৬ বলে ১ রান করে আফিফ আউট হলে ৯৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ঐ অবস্থায় ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৩ বলে ৩৮ রান দরকার পড়ে টাইগারদের।

১৫তম ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোর আউট হলেও রিভিউ নিয়ে বাঁচেন ২২ রানে থাকা লিটন। এরপর শেষ ৩ ওভারে ২৪ রানের দরকার পড়ে বাংলাদেশের। সিয়ার্সের করা ১৮তম ওভারে লিটনের ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ রান উঠে। শেষ ২ ওভারে জিততে ১০ রানের সমীকরণ পায় টাইগাররা।

মিলনের করা ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারেন মাহেদি। পরের বলে ২ ও তৃতীয় ডেলিভারিতে ৪ মেরে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেন মাহেদি। জুটিতে ২৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রান তুলেন লিটন-মাহেদি।

এক প্রান্তে আগলে দলের জয়ে অবদান রাখা লিটন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। ১টি করে চার-ছক্কায় ১৬ বলে অপরাজিত ১৯ রান এবং ১৪ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন মাহেদি।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সিরিজে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

স্কোর কার্ড : (টস-বাংলাদেশ)

নিউজিল্যান্ড ইনিংস :

অ্যালেন ক সৌম্য ব শরিফুল ১
সেইফার্ট ব মাহেদি ০
মিচেল ব মাহেদি ১৪
ফিলিপস এলবিডব্লু ব শরিফুল ০
চাপম্যান ক তানজিম ব রিশাদ ১৯
নিশাম ক আফিফ ব মুস্তাফিজ ৪৮
স্যান্টনার ক সৌম্য ব শরিফুল ২৩
মিলনে অপরাজিত ১৬
সাউদি ক আফিফ ব মুস্তাফিজ ৮
সোধি ক লিটন ্ তানজিম ২
সিয়ার্স অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (লে বা-১, ও-১) ২
মোট (৯ উইকেট, ২০ ওভার) ১৩৪
উইকেট পতন : ১-১ (সেফার্ট), ২-১ (অ্যালেন), ৩-১ (ফিলিপস), ৪-২০ (মিচেল), ৫-৫০ (চ্যাপম্যান), ৬-৯১ (স্যান্টনার), ৭-১১০ (নিশাম), ৮-১২৪ (সাউদি), ৯-১২৭ (সোধি)।

বাংলাদেশ বোলিং :

মাহেদি : ৪-০-১৪-২,
শরিফুল : ৪-০-২৬-৩,
তানজিম : ৪-০-৪৫-১ (ও-১),
মুস্তাফিজ : ৪-০-১৫-২,
রিশাদ : ৩-০-২৪-১,
আফিফ : ১-০-৯-০।

বাংলাদেশ ইনিংস :

লিটন অপরাজিত ৪২
রনি ক সাউদি ব মিলনে ১০
শান্ত ক স্যান্টনার ব নিশাম ১৯
সৌম্য ব সিয়ার্স ২২
হৃদয় ক সাউদি ব স্যান্টনার ১৯
আফিফ ক নিশাম ব সাউদি ১
মাহেদি অপরাজিত ১৯
অতিরিক্ত (লে বা-৩, ও-২) ৫
মোট (৫ উইকেট, ১৮.৪) ১৩৭
উইকেট পতন : ১-১৩ (রনি), ২-৩৮ (শান্ত), ৩-৬৭ (সৌম্য), ৪-৯৬ (হৃদয়), ৫-৯৭ (আফিফ)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং :

সাউদি : ৪-০-১৬-১,
মিলনে : ৩.৪-০-৩৯-১ (ও-১),
নিশাম : ১-০-৭-১,
সিয়ার্স : ৪-০-৩৬-১,
সোধি : ২-০-২০-০ (ও-১),
স্যান্টনার : ৪-০-১৬-১।

ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

খেলাধুলা

চার পেসারের আগুন ঝড়ানো বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মত ওয়ানডে ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে হোয়াইটওয়াশের মুখে পড়েছিলো বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই জয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সক্ষম হলো টাইগাররা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারলো শান্ত-লিটনরা।

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আগের ১৮ ম্যাচেই হেরেছিলো বাংলাদেশ। হারের বৃত্ত ভেঙ্গে ১৯তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের নজির গড়লো টাইগাররা। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫তম ওয়ানডেতে ১১তম জয় বাংলাদেশের।

এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নেমে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশের পেসাররা। চার পেসার শরিফুল ইসলাম-তানজিম হাসান সাকিব ও সৌম্য সরকার ৩টি করে এবং মুস্তাফিজুর রহমান ১ উইকেট নেন। জবাবে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০৯ বল বাকী রেখে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত।

হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর মিশনে নেপিয়ারে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্বান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।

চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট উপহার দেন পেসার তানজিম। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৮ রান করা রাচিন রবীন্দ্র। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর সাবধানে খেলতে শুরু করেন আরেক ওপেনার উইল ইয়ং ও তিন নম্বরে নামা হেনরি নিকোলস। এই জুটিকে ২০ বলের বেশি একত্রে এগোতে দেননি তানজিম। পুল করতে গিয়ে মিড অনে শান্তকে ক্যাচ দিয়ে তানজিমের দ্বিতীয় শিকার হন ১ রান করা হেনরি নিকোলস।

২২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন ইয়ং ও অধিনায়ক টম লাথাম। বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে ১৫তম ওভারে দলের রান ৫০ পার করেন তারা।

১৭তম ওভারে আবারো আক্রমনে আসেন প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ১৬ রানে উইকেটশূন্য থাকা শরিফুলকে। ফিরেই টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট শিকার করেন শরিফুল।

৩৪ বলে ২১ রান করা লাথামকে বোল্ড আউটে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন শরিফুল।  ভেঙ্গে যায়র লঅথাম- ইয়ংয়ের ৫৫ বলে ৩৬ রানের জুটি।

লাথামের পর ইয়ংয়ের প্রতিরোধও ভাঙ্গেন শরিফুল। অফ স্টাম্পের বাইরের বল মারতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে মেহেদি হাসান মিরাজকে ক্যাচ দেন ইয়ং। ৩টি চারে ৪৩ বলে ২৬ রান করেন প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ভোগানো ইয়ং। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে- ১০৫ ও ৮৯ রান করেছিলেন তিনি।

ইয়ংকে শিকার করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ১৪তম  বোলার হিসেবে ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল।

ইয়ংয়ের পর নতুন ব্যাটার মার্ক চাপম্যানকে বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে দেননি শরিফুল। দারুন এক ডেলিভারিতে ২ রান করা চাপম্যানকে বোল্ড করেন তিনি। শরিফুল শো’তে ৬৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় স্পেলে ৩ ওভারে ৬ রানে ৩ উইকেট নেন শরিফুল। এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও শরিফুলকে সরিয়ে, প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ৯ রানে দুই উইকেট নেওয়া তানজিমকে আক্রমনে ফিরিয়ে আনেন শান্ত। ২৩তম ওভারে ফিরেই প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেটরক্ষক টম ব্লান্ডেলকে ৪ রানে বিদায় করেন তানজিম।

শরিফুল-তানজিমের আগুন বোলিংয়ে ৭০ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে খাদের মধ্যে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দু’পেসারই সমান ৩টি করে উইকেট নেন।

শরিফুল-তানজিদের সাথে উইকেট শিকারে মেতে উঠেন সৌম্য। প্রথম ৩ ওভারে উইকেট না পেলেও, পরের তিন ওভারে ৩ উইকেট শিকার করেন  সৌম্য। জশ ক্লার্কসনকে ১৬ রানে বোল্ড, ব্যক্তিগত ৪ রানে এডাম মিলনের উইকেট উপড়ে ফেলা এবং আদিত্য অশোককে ১০ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সৌম্য।

সৌম্যর তোপে ৯৭ রানে ৯ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। শেষ ব্যাটার হিসেবে উইলিয়াম ও’রুর্ককে ১ রানে বোল্ড করে কিউইদের ৩১ দশমিক ৪ ওভারে ৯৮ রানে অলআউট করে দেন মুস্তাফিজ। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে  অলআউট করলো বাংলাদেশ। এবারই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১শর নীচে গুটিয়ে গেল কিউইরা। আর দেশের মাটিতে আজকের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে একবারই অলআউট হয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। ২০১৬ সালে নেলসনে ২৫১ রানে সব উইকেট হারিয়েছিলো কিউইরা।

এ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের পতন হওয়া সবগুলো উইকেটই নিয়েছেন চার পেসার। শরিফুল ২২,  তানজিম ১৪ ও সৌম্য ১৮ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। ৩৬ রানে ১ উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষের ১০ উইকেটই নিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর আগে এ বছরের মার্চে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ১০ উইকেট শিকার করেছিলেন হাসান মাহমুদ-তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনরা। ঐ ম্যাচে হাসান ৫টি, তাসকিন ৩টি ও এবাদত ২ উইকেট শিকার করেছিলেন।

৯৯ রানের সহজ টার্গেটে খেলতে নেমে সাবধানী শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও এনামুল হক বিজয় । প্রথম ২৯ বলে ১৫ রান তুলেন তারা। এরপর চোখের সমস্যা নিয়ে মাঠ ছাড়েন আগের ম্যাচে ১৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা সৌম্য। ১৬ বলে ৪ রান করে আহত অবসর হন তিনি।

পঞ্চম ওভারে সৌম্য ফেরার পর মারমুখী ব্যাটিং শুরু  করেন বিজয় ও তিন নম্বরে নামা শান্ত। ষষ্ঠ ও দশম ওভারে ১৪ রান করে, ১১তম ওভারে ১৭ রান নেন তারা। ১৩তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ৮৪ রানে আউট হন ৭টি চারে ৩৩ বলে ৩৭ রান করা বিজয় । দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৬৯ রান যোগ করেন বিজয়-শান্ত।

এরপর লিটন দাসকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ১৫ রান তুলে ২০৯ বল বাকি থাকতে রেখে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন শান্ত । নিজেদের ওয়ানডেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বল বাকি  রেখে ম্যাচ জিতলো টাইগাররা।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ-সেঞ্চুরি করে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত। তার ৪২ বলের ইনিংসে ৮টি চার ছিলো। ১ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। ১৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন বাংলাদেশের তানজিম। ২২০ রান করায় সিরিজ সেরা হন নিউজিল্যান্ডের ইয়ং।

দেশের মাটিতে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এ ম্যাচে খেলতে নেমেছিলো নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচ জিতলে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড টানা ১৮টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ ছিলো কিউইদের। কিন্তু হতে দিলো না বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে সর্বশেষ ২০১৯ সালে ভারতের কাছে ওয়েলিংটনে হেরেছিলো নিউজিল্যান্ড।

নেপিয়ারেই আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

স্কোর কার্ড : (টস-বাংলাদেশ)
নিউজিল্যান্ড ইনিংস :
ইয়ং ক মিরাজ এন্ড ব শরিফুল ২৬
রবীন্দ্র ক মুশফিকুর ব তানজিম ৮
নিকোলস  ক শান্ত ব তানজিম ১
লাথাম ব শরিফুল ২১
ব্লান্ডেল ক মিরাজ ব তানজিম ৪
চ্যাপম্যান ব শরিফুল ২
ক্লার্কসন ব সৌম্য ১৬
মিলনে ব সৌম্য ৪
অশোক ক মুশফিক ব সৌম্য ১০
ডাফি অপরাজিত ১
ও’রউক ব মুস্তাফিজ ১
অতিরিক্ত (বা-১, ও-৩) ৪
মোট (অলআউট, ৩১.৪ ওভার) ৯৮
উইকেট পতন : ১-১৬ (রবীন্দ্র), ২-২২ (নিকোলস), ৩-৫৮ (লাথাম), ৪-৬১ (ইয়ং), ৫-৬৩ (চ্যাপম্যান), ৬-৭০ (ব্লান্ডেল), ৭-৮৫ (ক্লার্কসন), ৮-৮৬ (মিলনে), ৯-৯৭ (অশোক), ১০-৯৮ (ও’রউক)।

বাংলাদেশ বোলিং :

শরিফুল : ৭-০-২২-৩,
তানজিম : ৭-২-১৪-৩,
মুস্তাফিজ : ৭.৪-০-৩৬-১ (ও-২),
সৌম্য : ৬-১-১৮-৩ (ও-১),
মিরাজ : ১-০-৩-০,
রিশাদ : ৩-০-৪-০।
বাংলাদেশ ইনিংস :
সৌম্য আহত অবসর ৪
আনামুল ক ব্লান্ডেল ব ও’রউক ৩৭
শান্ত অপরাাজিত ৫১
লিটন অপরাজিত ১
অতিরিক্ত (নো-২, ও-৪) ৬
মোট (১ উইকেট, ১৫.১) ৯৯

উইকেট পতন : ০-১৫ (সৌম্য, আহত অবসর), ২-৮৪ (আনামুল)।

নিউজিল্যান্ড বোলিং :

মিলনে : ৪-০-১৮-০,
ডাফি : ৫-০-২৭-০ (ও-২) (নো-২),
ক্লার্কসন: ২-০-১৯-০,
ও’রউক : ৪-০-৩৩-১ (ও-২),
অশোক : ০.১-০-২-০।

ফল : বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : তানজিম হাসান সাকিব (বাংলাদেশ)।

সিরিজ সেরা : উইল ইয়ং (নিউজিল্যান্ড)।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতলো নিউজিল্যান্ড।

খেলাধুলা

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টানা ১৮ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া নাজমুল হোসেনরা।

শনিবার ভোরে নেপিয়ারের ম্যাকক্লিন পার্কে হারের খোলস ভেঙে বেরিয়ে আসার মিশনে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি আবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ। প্রথম দুটি হেরেছেন টাইগাররা। এবার শেষ ম্যাচে জয় পেলে অন্তত হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানো যাবে। শেষ ম্যাচটা যেন জিততে পারে দল সে জন্য দোয়া চেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

শান্তর ভাষায়, দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে। তবে জুনিয়রদের পারফরম্যান্সে খুশি তিনি।

শান্ত বলেন, প্রথমত আমার কাছে মনে হয় এই দলটা আগের দল থেকে একটু নতুন। সেই তুলনায় আমি বলব বেশ কিছু ভালো জিনিস ছিল আমাদের। আমি একটু আগেই যেটা বললাম রিশাদের বোলিং, শরিফুল নতুন বলে যে রকম বোলিং করছে। হ্যাঁ, ২০০৭ থেকে এখন পর্যন্ত লম্বা সময় চিন্তা করলে এই জায়গায় আরেকটু কীভাবে একটা দল হিসেবে আমরা খেলতে পারি, এটা ভাবতে হবে।

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত দুই-একটা পারফরম্যান্স হচ্ছে কিন্তু দল হিসেবে ওই পারফরম্যান্সটা আসছে না। দেখা গেল সৌম্য একা ম্যাচটা ক্যারি করল, মাঝখানে ওরকম কেউ রান করেনি। আমার কাছে মনে হয় এই ধরনের কন্ডিশনে বড় জুটি প্রয়োজন। ওই জিনিসটাই করার চেষ্টা করব আগামীকালের ম্যাচে। আর যেটা বললেন আরেকটা হোয়াইটওয়াশের সামনে, দোয়া করেন যেন ওই জিনিসটা না হয়।

নেপিয়ারে নিজের ব্যাটিং নিয়ে শান্ত বলেন, এই কন্ডিশনে আগেও খেলেছি, টেস্ট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আমার মনে হয় পরিকল্পনা আরেকটু বেটার হতে পারত আমার ব্যাটিং নিয়ে। কিন্তু দুটা ইনিংস গেছে, আমি চিন্তা করছি না কারণ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিদিন রান করব এমন না। যেদিন রান করব সেদিন যেন ইনিংসটা ইমপ্যাক্টফুল হয়।

 

খেলাধুলা

গত এশিয়া কাপের সময় একটি ঘটনা আলোচিত হয়েছিল বেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা হাঁকালে সুপার ফোরে যাওয়ার সুযোগ ছিল আফগানিস্তানের।

কিন্তু স্ট্রাইকে থাকা দুই ব্যাটার ফজল হক ফারুকী ও রশিদ খানকে দেখে মনে হয়নি তারা জানতেন বিষয়টি।

এ নিয়ে পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ভিডিও অ্যানালিস্ট মহসিন শেখ। তিনিই এখন বাংলাদেশ দলের নতুন ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে যোগ দিচ্ছেন, অন্তত নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন মহসিন।

তাকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘মহসিন আমাদের সঙ্গে এই দুই সিরিজে কাজ করবে। দলের পক্ষ থেকে একটা চাওয়া ছিল ওর ব্যাপারে। ও তো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। তো এরই মধ্যে নিউজিল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। ’

সবশেষ বিশ্বকাপেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায় শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখরের। এরপর অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করেন নাসির আহমেদ। এবার নেওয়া হচ্ছে মহসিনকে। নিউজিল্যান্ড সিরিজে তার কাজ পছন্দ হলে স্থায়ী করা হবে বলেও জানিয়েছেন জালাল।

বাংলাদেশে এর আগেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিপিএলের দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অ্যানালিস্ট ছিলেন তিনি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে পাকিস্তানের ন্যাশনাল হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে কাজ শুরু করেন মহসিন। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়ে কাজ করেছেন বিগ ব্যাশের কয়েকটি দলে।

আইপিএল ও পিএসএলেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার। সবশেষ আফগানিস্তান জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।