জাতীয়

বাংলাদেশে পাঁচ মাস পরে আবার সর্বোচ্চ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের অগাস্ট মাসের মাঝামাঝিতে সর্বশেষ একদিনে এতো বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে ৮ হাজার ৪০৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৩.৯৮ শতাংশ রোগী কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশে শুধুমাত্র রাজবাড়ী জেলা ছাড়া বাকি ৬৩টি জেলাতেই কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এই সময়ে করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৭৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ অগাস্টের ১৩ তারিখে বাংলাদেশে ৮ হাজার ৪৬৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছিল।

এই বছরের চৌঠা জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৫ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৬৪ জনের।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সিকোয়েন্সিং রিসার্চ প্রজেক্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমানে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশ অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। তবে হাসপাতালে যারা ভর্তি হচ্ছেন, তাদের সবাই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।

বাংলাদেশে গত দুই বছর এপ্রিল থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাস থেকেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

সোমবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে সার্বিক অবস্থা জানাতে যেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেশে ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আইডিসিআরের যে তথ্য আছে তাতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরে অমিক্রণের হার বেশি। অন্য শহরে কম। এখন পর্যন্ত সামগ্রিক বিচারে ডেল্টা ভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা ৮০ শতাংশের উপরে।”

সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়াকে “একটা অশুভ ইঙ্গিত” বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মি. আলম বলেন, অমিক্রনের সংক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সংক্রমণ হচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে বেশি। ঢাকার বাইরে অমিক্রনের প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। তবে ঢাকায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি প্রাধান্য বিস্তার করছে।

সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে তেরই জানুয়ারি থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশের সরকার।

জাতীয়

বস্তাবন্দি লাশের সঙ্গে পাওয়া প্লাস্টিকের সুতার সূত্র ধরে অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গ্রেফতার করা হয় শিমুর স্বামী শাখাওয়াত আলীম নোবেল (৪৮) ও তার বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭)।

পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শিমুকে হত্যা করেন নোবেল। অথচ আগের দিনই কলাবাগান থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, লাশ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে এবং অভিনেত্রী শিমুর বাসায় গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এ সময়ই একটি প্লাস্টিকের সুতার সূত্র ধরে উদঘাটিত হয় হত্যার মূল রহস্য।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, লাশ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতারই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়িটি ধোয়া ছিল এবং দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা হেফাজতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।

( শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ )

যেভাবে হত্যা করা হয় শিমুকে

শিমুর স্বামী নোবেলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে হত্যা করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন।

পরে ফরহাদ ও নোবেল পরিকল্পনা করে বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান।

লাশ নিয়ে আবার বাসায় ফিরেন নোবেল
প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ মিরপুরের দিকে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে লাশ গুমের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফেরেন। রোববার সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জের দিকে যান। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় মডেল থানার হযরতপুর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর লাশটি ফেলে চলে যান তারা।

অভিনেত্রী শিমু সপরিবারে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন গ্রিন রোড এলাকায় থাকতেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার হযরতপুর ইউনিয়নের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশে ঝোপের ভেতর থেকে শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার জানান, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের কারণে চিত্রনায়িকা ও মডেল রাইমা ইসলাম শিমুকে (৩৫) হত্যা করেছেন তার স্বামী শাখাওয়াত আলী নোবেল। এরপর শিমুর লাশ টুকরো করে বস্তায় ভরে গুম করতে সহায়তা করেছেন নোবেলের বন্ধু ফরহাদ। ঘটনাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মডেল শিমুর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেফতার দুজনই মাদকাসক্ত ও বেকার বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নোবেল ও ফরহাদকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

জাতীয়

গাজীপুরের কাশেমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের হাউজিং প্রকল্পের ভেতর নিজের বাড়ির কাজ দেখতে পাশেই একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা খালেক। বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতে গিয়ে ‘রাজমিস্ত্রির হাতে’ প্রাণ গেছে তার।

প্রতিদিন সকালে অধ্যাপক সাইদা খালেক তার একটি বিদেশি কুকুর সঙ্গে নিয়ে হাউজিংয়ে ভেতরে গিয়ে নিজের বাড়ির কাজ দেখাশোনা করতেন এবং নির্মাণ শ্রমিকদের টাকা দিয়ে সন্ধ্যার দিকে আবার ভাড়া বাসায় আসতেন।

এভাবেই অধ্যাপক সাইদা খালেকের প্রতিদিনের রুটিন কাজ চলছিল বলে জানিয়েছেন হাউজিংটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন।

শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুরের কাশেমপুর থানার পানিশাইল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাউজিং প্রকল্পে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

সিকিউরিটি ইনচার্জ জয়নাল আবেদীন বাংলানিউজকে বলেন, বাড়ির কাজ দেখার জন্য পাশেই ‘ভাই ভাই ভিলা’ নামের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। অধ্যাপক সাইদা খালেক একটি বিদেশি কুকুর নিয়ে প্রতিদিন সকালে এসে বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতেন। তার সঙ্গে এখানে কেউ থাকতেন না। প্রায় সময় তার নাতি আসত, এছাড়া আর কেউ না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই হাউজিংয়ে প্রায় পাঁচটি বাড়ি আছে। আমরা ৯ জন সিকিউরিটি এই হাউজিংয়ের দেখাশোনা করি। একেক সিফটে তিনজন করে ডিউটি করি। সেদিনের কিছু আমি বলতে পারব না। তবে আজ সকালে পুলিশ আসে অধ্যাপক সাইদা খালেকের বাড়ি দেখতে। পরে হাউজিংয়ের ভেতরে একটি রাস্তার পাশে তার মরদেহ দেখতে পায়। তার গলায় একটা ওড়না পেঁচানো ছিল। পরে পুলিশ তার মরদেহ নিয়ে যায়।

হাউজিংটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে তাকে মেরে ফেলে রাখা হয়। সেই স্থানে পুলিশ চিহ্ন করে রেখেছে। তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন বাড়িটির সীমানা প্রাচীরের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ‘ভাই ভাই ভিলা’ বাড়ির মালিক মোশারফ হোসেন মৃধা বাংলানিউজকে বলেন, অধ্যাপক সাইদা খালেকের এক ছেলে ও তিন মেয়ে। তিন মেয়ের দুজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন ঢাকায় থাকেন। একমাত্র ছেলে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি করেন। আট-নয় মাস আগে আমার বাসায় তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন তার ছেলের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে। আমি আজ শুনি তিনি মারা গেছেন। তার সব কিছু এখানেই আছে।

কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর রয় শুক্রবার গাইবান্ধা থেকে ওই বাড়ির নির্মাণশ্রমিক (রাজমিস্ত্রি) আনোয়ারুল ইসলামকে আটক করেছে।

দীপঙ্কর রয় বাংলানিউজকে বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) কাশেমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। জিডি সূত্র ধরে আনোয়ারুলকে গাইবান্ধা গিয়ে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাসে তিনি মরদেহের তথ্য দেন। সেই তথ্যে আমাদের অন্য দল সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। আটক আনোয়ারুলকে নিয়ে তিনি ঢাকায় আসছেন।

টাকার জন্য অধ্যাপক সাইদা খালেককে হত্যা করা হয় বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কাশেমপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহবুব এ খোদা বাংলানিউজকে বলেন, এ ঘটনায় আনোয়ারুল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে আনা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো মামলা হয়নি। আসামিকে নিয়ে আসার পর মামলা রুজু করা হবে।

জাতীয়

কোভিডে আক্রান্ত হলে মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে তোলে এমন একটি জিন খুঁজে পেয়েছেন পোল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, তা আগে থেকে বুঝতে এই গবেষণা নতুন পথ দেখাবে বলে তারা আশা করছেন।

মধ্য ও পূর্ব এশিয়ায় কোভিডে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারের একটি কারণ হল টিকা নিতে অনিহা বা দ্বিধা। গবেষকরা আশা করছেন, যাদের শরীরে ওই জিন থাকবে, তাদের ঝুঁকির বিষয়টি বুঝিয়ে হয়ত টিকা নিতে উৎসাহ যোগানো যাবে। তাছাড়া আক্রান্ত হলে তাদের আরও নিবিড় চিকিৎসা দেওয়াও সম্ভব হবে।

পোল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডাম নিডজিয়েলস্কি বলেছেন, “দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর (করোনাভাইরাসে) গুরুতর অসুস্থ হওয়ার জন্য দায়ী একটি জিন চিহ্নিত করা গেছে।

“এর ফলে কোভিডে মারাত্মকভাবে ভোগার প্রবণতা যাদের রয়েছে, ভবিষ্যতে তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পারব।”

‘মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব বিয়ালস্টক’ এর গবেষকরা জানিয়েছেন, কোভিডে একজন মানুষ কতোটা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগবেন তা নির্ধারণে বয়স, ওজন এবং লিঙ্গের পর চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এই জিন।

গবেষণা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মার্সিন মনিউসকো বলেন, পোল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের মধ্যে এই জিন রয়েছে,যা পুরো ইউরোপে ৮ থেকে ৯ শতাংশ এবং ভারতে রয়েছে ২৭ শতাংশের মধ্যে।

কোভিড-১৯ কতোটা গুরুতর হয়ে উঠবে তা বুঝে ওঠার জন্য অন্যান্য গবেষণাতেও জিনগত নিয়ামকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত নভেম্বরে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর জানিয়েছেন, কোভিড- ১৯ আক্রান্তদের ফুসফুসকে অকার্যকর করার ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে জিনের এমন একটি সংস্করণকে তারা চিহ্নিত করেছেন।

জাতীয়

কুমিল্লায় বেলুনে গ্যাস ভরার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ‘অনেকের শরীরে হাজারের বেশি লোহার টুকরো’ প্রবেশ করেছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম জানান, বিস্ফোরণে সিলিন্ডারের অনেকাংশ ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ায়’ তাদের এই পরিণতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোকরা ইউনিয়নের বিরলী গ্রামে এই বিস্ফোরণ হয়। এতে শিশুসহ অন্তত ৪১ জন আহত হন। শরীরে লোহার টুকরো বিদ্ধ হওয়া ছাড়াও পাঁচ-ছয়জন অগ্নিদগ্ধ হন। আর হাত-পা ভেঙে গেছে কয়েকজনের।

আহতদের প্রথমে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে অনেককে কুমিল্লা এবং পাঁচজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল বলেন, “বিস্ফোরণে সিলিন্ডারটির অনেকাংশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। অনেকের শরীরে এক হাজারের বেশি স্প্লিন্টার প্রবেশ করেছে। ”

আহত ৪১ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবদাস দেব জানোন।

তিনি আহতদের চিকিৎসা বিষয়ে বলেন, আহতদের পাঁচ-ছয়জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হয়েছে স্প্লিন্টার ইনজুরি। এছাড়া অনেকে ব্লাস্ট ইনজুরিতে আহত হয়েছে। অনেকের হাত-পা ভেঙে গেছে। অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

পরে অনেকে হাসপাতাল থেকে ফিরে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে তিনি জানন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মহিউদ্দিন বলেন, এখন তাদের হাসপাতালে গুরুতর আহত ১৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠিয়েছেন তারা। তাছাড়া আরও দুইজনকে তাদের স্বজনরা নিজ দায়িত্বে ওই ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেছেন।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঁচজন ও নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং সবার চিকিৎসা ভালোভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন।

ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন কারণ জানতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল হক, নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুল ইসলাম ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। তাদের আগামী কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, তারা ঘটনা তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। তবে তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।

এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মোঘরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবছর পয়লা মাঘ শীতকালীন মেলা হয়। শনিবার সেই মেলা হওয়ার কথা। মেলায় বিক্রির জন্য বিরলী গ্রামের আনোয়ার হোসেন বেলুনে গ্যাস ভরছিলেন। আর তা দেখার জন্য ভিড় করেছিল এলাকার শিশুরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন বয়স্করাও অনেকে। হঠাৎ সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়ে উড়ে যায়। এতে পাশে ভিড় জমানো অন্তত ৪১ জন আহত হন। আহতদের বেশির ভাগই শিশু।

দুর্ঘটনায় আহত আলাউদ্দিন বলেন, “প্রায় ২০০ বছর ধরে মেলাটি হচ্ছে বলে শুনেছি। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে। আমি আনোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে বেলুন নিয়ে মেলায় বিক্রি করি। ওই দিন বিকেলে গিয়েছিলাম কিছু বেলুন আনতে। এরই মধ্যে হঠাৎ বিস্ফোরণটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাড়ি রক্তে লাল হয়ে যায়।”

বিস্ফোরণে বেলুন বিক্রেতা আনোয়ার ও তার মেয়েসহ পরিবারের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তার বোন ফারজানা আক্তার জানিয়েছেন।

ফারজানা বলেন, “আমার ভাই বেশ কয়েক বছর ধরে মেলার জন্য পাইকারি বেলুন বেচে থাকে। খুচরাও বেচে।

“ভাই আর তার ছয় বছরের মেয়ে মরিয়ম আক্তারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।”

বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দেশে মাঝে মাঝেই হতাহত হয় অনেকে। হাইড্রোজেন গ্যাসের এমন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি উঠলেও তাতে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ করোনা আক্রান্ত তিনজন মারা গেছেন।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৩১ জন। সংক্রমনের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গতকাল এই হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আজ তা বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১০৫ জনে। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘন্টায় ২৬ হাজার ১৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২৩১ জন। গতকাল ২১ হাজার ৯৮০ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৯১ জন।

দেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় মোট শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩১ জন।
এদিকে ঢাকা জেলায় (মহানগরসহ) গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ হাজার ৯৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৭১ জন। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আজ এই জেলায় একজন মারা গেছেন।

আজ ঢাকা বিভাগে ২ জন ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে আজ করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২০৮ জন। দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫১ হাজার ১১৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ১৯ শতাংশ।

জাতীয়

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা পালন করতে ভাড়া বাড়াতে চাইছেন পরিবহন মালিকরা।

মহামারীর মধ্যে গত বছর এবং তার আগের বছর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলার সময় ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

এবারও তেমনটি চান বাস ও লঞ্চ মালিকরা; যদিও ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর গত বছরের শেষ ভাগে বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ এবং লঞ্চের ভাড়া ৩৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাবের পর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার নতুন করে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেওয়া যাবে। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে করোনাভাইরাসের টিকার সনদধারী হতে হবে।

আগামী ১৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া অবধি এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলতে হলে ভাড়াও বাড়াতে হবে, বলেছেন বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদল।

তিনি বলেন, “অতীতে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ছাড়তে হয়েছে, কিন্তু ব্যবসার বারোটা বেজেছে তখন। ৬০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়া হয়েছে, কিন্তু যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে। আর অনেক গরিব যাত্রী লঞ্চে উঠে বলেছে, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, “অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চললে তেলের পয়সাও হবে না। এর আগে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার সিদ্ধান্ত আসার পর ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল।”

বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষও বলেন, “গাড়ি চালাতে হলে তেল-মবিল, ড্রাইভারের খরচ দিতে হয়। এর আগে অ্যাসেসমেন্ট করে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

“এবার কী হবে, এখনও জানি না। সরকার কী নির্দেশ দেয়, তার অপেক্ষায় আছি। যদি গাড়ি চালানোর মতো হয়, তাহলে মালিকরা চালাবে। না হলে মালিকরা তো বাড়ি থেকে টাকা এনে গাড়ি চালাবে না।”

বাস মালিকদের নেতা এনায়েত উল্যাহ বলেন, তারা প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি জেনেছেন, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাননি।

“সরকার আমাদের কী নির্দেশনা দেয়, তা জানার পর আমাদের অবস্থান জানাব।”

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি  বলেন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এ নিয়ে একটি নির্দেশনা দেবে।

“এটা যেহেতু ১৩ তারিখ থেকে কার্যকর হবে, সে ক্ষেত্রে আরও দুদিন সময় আছে… মিনিস্ট্রি থেকে যেভাবে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা সেভাবেই কাজ করব।”

জাতীয়

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সহিংসতায় ঝরল ৪ প্রাণ। বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংসতায় মানিকগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা ও বগুড়ায় ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় বুধবার বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা এলাকায় এ সংঘাত হয়।

আনোয়ারা থানার পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত যুবকের নাম অংকুর দত্ত (৩৫)। তিনি সিংহরা দত্তবাড়ি এলাকার নেপাল দত্তের ছেলে। সকালে সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তিনি সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন।

তিনি বলেন, ওই কেন্দ্রের এক কিলোমিটার দূরে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা মারামারিতে জড়ায়। এ সময় ইট ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় অংকুরকে। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ দৃশ্য দেখে এক নারী স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মারা যাওয়া ওই নারীর নাম সুমেলা খাতুন (৫০)। তিনি স্থানীয় চরডালুটিয়া গ্রামের মো. মাহাতাব আলীর স্ত্রী।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর বাচামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলায় দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভোটকেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুমেলা এই দৃশ্য দেখে স্ট্রোক করেন। পরে তাকে বাড়িতে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি সো. জাকারিয়া হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রের পাশে আবু তাহের নামে এক মেম্বার প্রার্থীর সমর্থককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার জুম্মাবাড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জুম্মাবাড়ি আদর্শ কলেজ কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

ভোট চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে টিউবওয়েল প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী আইজল মিয়ার সমর্থক আবু তাহেরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী পাখা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী রাসেল আহমেদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মামুদপুর গ্রামের মো. ওমর আলীর ছেলে আবু তাহেরকে একা পেয়ে রাসেলের কর্মীরা হাসুয়া দিয়ে তার কলা কেটে দেয়। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তাহেরের মৃত্যু হয়।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, জুম্মারবাড়ির একটি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতায় আবু তাহের নিহত হয়েছেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৮৯২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।

এক সপ্তাহে দেশে ৬৩ শতাংশ করোনা সংক্রমণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে নিয়মিত করোনা বিষয়ক ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম এ কথা জানান।তিনি বলেন, গত সাত দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৮৯২ জন। যা গত সপ্তাহের থেকে এক হাজার ৫০৩ জন বেশি। শতকরা হিসেবে গত সপ্তাহের তুলনায় ৬৩ শতাংশের বেশি রোগী এ সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। গত সাত দিনে করোনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত সপ্তাহের থেকে ১৪ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। সামগ্রিকভাবে দেশে করোনার নিন্মমুখী যে প্রবণতা ছিল, তা বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দুরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে টিকা সংক্রান্ত কার্যক্রম একটি বিশেষ উচ্চতায় এসে দাঁড়িয়েছে।

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন প্রসঙ্গে পরিচালক নাজমুল বলেন, ঘরের দরজায় ওমিক্রন যতই কড়া নাড়ুক না কেন, আমরা যদি ব্যক্তিগত সুরক্ষা বিষয়টি গুরুত্ব দেই, সামগ্রিকভাবে আমরা যদি সঠিক নিয়মে মাস্ক পরি, নিয়মিত যদি সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করি, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যদি আমরা দৈনিন্দন কাজ কর্ম করি, তাহলে করোনার নতুন ধরনকে আমরা অংকুরে বিনষ্ট করতে পারি। করোনা প্রতিরোধে আমরা যদি সবাই সম্মিলিতভাবে সক্রিয় কাজে অংশগ্রহণ করি, তাহলে এ করোনা প্রতিরোধ করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

জাতীয়

ভুয়া বিসিএস ক্যাডার সেজে বিভিন্ন সময় জালিয়াতির খবর গণমাধ্যমে আসে। এবার প্রকৃত এক ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অভিনব জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (প্রশিক্ষণরত) বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়েকজন অসহায় শিক্ষার্থীকে সহায়তার নামে তিনি ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের কয়েকশ কর্মকর্তার কাছ থেকে গত দুই বছর যাবত অর্থ সংগ্রহ করেছেন। নিজের বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সংগ্রহকৃত এই অর্থ সহায়তার কাজে ব্যবহার না করে কুক্ষিগত করেছেন।

অভিযুক্তের নাম নিশাত ফারাবী। তিনি ৩৮তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনে সংযুক্ত আছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিএসসি কর্তৃক সুপারিশপ্রাপ্তির পর থেকেই নিশাত ফারাবী বিভিন্ন অজুহাতে প্রথমে ‘অসহায় ছাত্রকে সহায়তা’র নামে তহবিল সংগ্রহ করেন। এছাড়া সরকারি তথ্য ও সেবা নম্বরে (৩৩৩ কোড) দরিদ্র মানুষজন সহায়তা চাচ্ছে উল্লেখ করে তাদের জন্য ফান্ড সংগ্রহ করেন। ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের কাছে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক মেসেঞ্জার আইডি (নিশাত ফারাবী অন্তরা) থেকে সম্বলহীন,গরীবদের জন্য ফান্ড কালেকশন করছেন এমন  মেসেজ পাঠিয়ে তিনি এই অর্থ সংগ্রহ করেন, যার প্রমাণ যুগান্তরের হাতে রয়েছে। যদিও বর্তমান  এই আইডিটি তিনি ডিঅ্যাকটিভেটেড করে রেখেছেন।

অসহায়, গরীবদের কথা বলে তিনি এই ফান্ড সংগ্রহ করেছেন
অসহায়, গরীবদের কথা বলে তিনি এই ফান্ড সংগ্রহ করেছেন

নিশাত ফারাবী মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ছাত্রী ছিলেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকের কাছ থেকেও তিনি একই কায়দায় অর্থ সংগ্রহ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তিনটি বিকাশ নম্বর 01746320…,01772117…,01629920 ও একটি সোনালি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর 0330101015… ব্যবহার করে নিশাত ফারাবী এই অর্থ নিয়েছেন। যে নম্বরগুলো ব্যবহার করে এই অর্থ নিয়েছেন সেগুলো নিশাত ফারাবীর নামে নিবন্ধনকৃত এবং এখনো তিনি এসব নম্বর ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে নিশাত ফারাবী প্রথমে দাবি করেন তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে, তিনি নিজেই প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন। অথচ, তার ওই ফেসবুক আইডিতে (নিশাত ফারাবি অন্তরা) তিনি চলমান বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ছবি আপলোড করেছেন। যে বিকাশ নম্বরে তিনি টাকা নিয়েছেন সেটা জাতীয় তথ্য বাতায়নে নিবন্ধনকৃত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিএস ৩৮তম ব্যাচের কয়েকজন সদস্য জানান, সম্প্রতি নিশাত ফারাবীর এই ঘটনা জানাজানি হয়। ব্যাচের অর্থদাতারা নিশাত ফারাবী এই টাকা কোথায় ব্যয় করেছেন সেটা জানতে চান। কিন্তু তিনি বিভিন্ন অসংলগ্ন জবাব দেন। একপর্যায়ে সহানুভূতি আদায় করার জন্য নিশাত ফারাবী দুইজনকে বাবা-মা সাজিয়ে কথা বলান। কিন্তু পরে জানা যায়, যাদের তিনি বাবা-মা সাজিয়ে কথা বলিয়েছেন তারা তার প্রকৃত বাবা নন। তবে সার্বিক ঘটনার জন্য নিশাত ফারাবী ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলেও জানা গেছে
ঘটনার জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলেও জানা গেছে

এদিকে অভিযুক্ত নিশাত ফারাবীর বিরুদ্ধে ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের পক্ষে রংপুর টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) এস এম আব্রাহাম লিংকন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ভেটেরিনারি সার্জন, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারসহ অন্তত ৩০ জন ভুক্তভোগী স্বাক্ষর করেছেন।

এ বিষয়ে বিসিএস কর্মকর্তা এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমি অভিযোগ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত নিশাত ফারাবীর প্রতারণা সত্য হলে এমন কাজ সিভিল সার্ভিসের মর্যাদাই শুধু নষ্ট করবে না, উপরন্তু সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারের উপর মানুষের বিশ্বাস ও ভালবাসা হ্রাস পাবে। এজন্য তিনি ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নিশাত ফারাবী বলেন, বিষয়টি ডিসি স্যার (ডিসি সিরাজগঞ্জ) হ্যান্ডেল করছেন। আপনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এটা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরে তাকে আবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শুক্রবার রাতে জানতে চাওয়া হয় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. ফারুক আহাম্মদের কাছে। তিনি নিশাত ফারাবীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি ফারুক আহাম্মদ বলেন, তিনি (নিশাত ফারাবী) এখন অন্যত্র ট্রেনিংয়ে আছেন। আগামী মাসে (জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জে যোগদানের কথা রয়েছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আমরা সেটি তদন্ত করব। তদন্তে সত্যতা পেলে অবশ্যই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।

নিশাত ফারাবীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজমের কাছে জানতে জাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি এখনো আমি জানি না। এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।