অর্থনীতি

বহু ব্যাংকে জমা রাখা গচ্ছিত অর্থ তুলতে পারছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংক কার্যত নামেমাত্র টিকে আছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের উদাসীনতার ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একসময় বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে আর্থিক সহায়তা দিলেও এখন সেই সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মতো একাধিক ব্যাংক কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছেছে।

এই ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা এখন চরম দুর্ভোগে। কেউ কয়েক হাজার টাকার বেশি তুলতে পারছেন না, আবার অনেকে কোনো টাকা তুলতেই পারছেন না। রাজধানীর মতিঝিল, হাটখোলা, বনানী ও মিরপুরের বিভিন্ন শাখায় প্রতিদিনই গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু টাকা না পেয়ে তারা ক্ষোভ, হতাশা আর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

মতিঝিলের গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের একজন গ্রাহক আবেগে ভেঙে পড়ে বলেন, ছেলের স্কুল ফি দিতে এসেছিলাম, কিন্তু টাকা পেলাম না। ব্যাংকের লোকজন শুধু কাল-পরশুর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ইউনিয়ন ব্যাংকের হাটখোলা শাখায় দেখা গেছে, গ্রাহকদের ভিড় থাকলেও কর্মকর্তারা অসহায়ভাবে জানাচ্ছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তা বন্ধ করায় এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা কোনো অর্থ ফেরত দিতে পারছেন না। অনেক কর্মকর্তা এমনকি নিজেদের বেতনও পাচ্ছেন না।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতের এই সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর রাজনৈতিক প্রভাব, খেলাপি ঋণ, কাগুজে ব্যবসায়ীকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং বড় ধরনের দুর্নীতির কারণে এখন এই দশা।

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য বলছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ধাপে ধাপে মার্জার ও সংস্কারের আওতায় আনা হবে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। কিন্তু তাতে সাধারণ গ্রাহকের দুর্ভোগ কমছে না। প্রতিদিন তারা ব্যাংকে গিয়ে আশাহত হয়ে ফিরছেন, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে না পেরে অনেকেই ধারদেনায় ডুবে যাচ্ছেন।

অর্থনীতি

শিল্পে গ্যাসের নতুন সংযোগ না পাওয়ায় শত শত কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। ব্যাংক লোন নিয়ে কারখানা তৈরি করলেও উৎপাদনে যেতে না পারায় নানামুখী সমস্যায় পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

ফলে অনেকে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগের জন্য অসংখ্য আবেদন গ্যাস কোম্পানিগুলোতে জমা পড়ে আছে। শিল্পের মালিকরা টাকাও জমা দিয়েছেন, কিন্তু সংযোগ পাচ্ছেন না। শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদনে যেতে পারছে না অনেক কারখানা। গ্যাসের বদলে বিদ্যুৎ দিয়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ বেশি ব্যয়ে কারখানার উৎপাদন ধরে রাখতে হচ্ছে।

আবার খরচ কমাতে অনেক কারখানা প্রয়োজনের তুলনায় কম শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে। এতে কর্মসংস্থানও কম হচ্ছে। নতুন গ্যাস সংযোগের জন্য অনেক কারখানা মালিক টাকা জমা দিয়েছেন। পেয়েছেন ডিমান্ড নোটও (চাহিদাপত্র)। এর মধ্যে কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তাঁরা সংযোগ পাননি। বিদ্যুৎ দিয়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচে কেউ কেউ হয়ে পড়ছেন ঋণগ্রস্ত। কেউ কেউ উৎপাদন লসে (বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদনের জন্য লোডশেডিংয়ের কারণে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়)। সব মিলে শিল্পে গ্যাসের নতুন সংযোগ না পাওয়ায় এখন ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।

শিল্পমালিকরা বলেন, অনেক শিল্পমালিক বছরের পর বছর ডিমান্ড নোট পেয়েও এখনো সংযোগ পাচ্ছেন না। ভারী শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রয়োজন, যা গ্যাস ছাড়া সম্ভব নয়। সংযোগ না থাকায় নতুন করে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। নতুনদের ক্ষেত্রে যারা অবকাঠামো গড়ে তুলে সংযোগ পাচ্ছেন না তাদের অবস্থা ক্রমেই রুগ্ণ হচ্ছে।

নতুন করে কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। আবার অনেক পণ্য দেশের বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। এতে দেশের টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে। শিল্পে নতুন সংযোগের জন্য দেশের গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুধু তিতাসের কাছেই নতুন-পুরান মিলে গ্যাস সংযোগ এবং লোড বৃদ্ধির আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ১০০টি। এর মধ্যে ৪০০-এর বেশি গ্রাহক সব প্রক্রিয়া শেষ করে প্রতিশ্রুত সংযোগের অপেক্ষায় আছেন। এ গ্রাহকরা গ্যাস সংযোগের জন্য টাকাও জমা দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে কেউ নতুন কারখানায় সংযোগের আবেদনের পাশাপাশি কেউ কারখানা সম্প্রসারণ আর কেউ লোড বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছেন।

সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩ এপ্রিল নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। শিল্পমালিকদের আপত্তির পরও গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানো হবে বলা হয়। কিন্তু এ সময়ে নতুন কোনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। জানুয়ারি থেকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ আছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রতিশ্রুত সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকারে আছে। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁরা ডিমান্ড নোট পেয়েছেন তাঁদের প্রতিশ্রুত গ্রাহকের তালিকায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে শিল্পে যাচ্ছে ১২০ কোটি ঘনফুট। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কর্মকর্তারা জানান, শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে তিন ক্যাটাগরিতে। এর একটি হচ্ছে যেসব শিল্পকারখানায় তিন দিনের মধ্যেই গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব। দ্বিতীয়ত যেখানে তিন মাসের মধ্যে সংযোগ দেওয়া যাবে আর তৃতীয়ত আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, ‘শিল্পে গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন করে একটি ধারা যোগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নতুন সংযোগ দেওয়া বা লোড বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিতরণকারী কোম্পানিকে অবশ্যই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিল্পে গ্যাসের দাম বেশি। শিল্পে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে আমাদেরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এদের মধ্যে যেসব কারখানায় এখনই অর্থাৎ তিন দিনের মধ্যেই সংযোগ দেওয়া যাবে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা মিলে একটি কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি সশরীরে গিয়ে এসব কারখানা পরিদর্শন করছে। এর মধ্যে জালালাবাদ, কর্ণফুলী ও বাখরাবাদে গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকদের জন্য এ পরিদর্শন শেষ হয়েছে। তিতাসের ক্ষেত্রেও এ পরিদর্শন শিগগিরই শেষ হবে। আর এটি শেষ হলেই এ পর্যায়ে আমাদের সংযোগ দেওয়া হবে। সশরীরে গিয়ে কারখানাগুলো পরিদর্শন করার কারণে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। ’

অর্থনীতি

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, এখন চালের মান অনেক ভালো। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা খোঁজ নিয়েছি, যে চাল বাজারে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়- তা ওএমএসে ৩০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে, আবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সেই চাল ১৫ টাকায় পাওয়া যাবে।

বুধবার বিকালে সাড়ে ফেনী সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, খারাপ মানের জিনিস কিন্তু দেওয়া হয় না। এক সময় রেশনের চাল রান্না করলে অনেক গন্ধ বের হতো। আগে চালের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধপত্র দেওয়া হতো, এখন সেদিন চলে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ২২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি রয়েছে চাল। আমন ফসল ভালো হলে আমদানিও খুব বেশি করতে হবে না।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ১৭ আগস্ট খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। গত বছর পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে পাঁচ মাস ৫০ লাখ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার এটি সম্প্রসারিত করে ৫৫ লাখ পরিবার ও ছয়মাস করা হয়েছে। তার মধ্যে আগস্ট থেকে নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে চাল দেওয়া হবে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সাধারণত আমন ফসল আসে, সেজন্য মাঝে এ দুমাস বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ কর্মসূচি সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও সচেষ্ট রয়েছেন।

অর্থনীতি

বিদায়ি অর্থবছরের শেষ বা চতুর্থ প্রান্তিকে আগের বা তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১১ দশমকি ৯২ শতাংশ। যদিও সার্বিকভাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে। ওই প্রান্তিকে রপ্তানি আয় কমার নেপথ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মীদের কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি। এতে রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত জুন পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থাৎ এপ্রিল-জুনে দেশ থেকে ৯১১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ রপ্তানি তার আগের প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চের তুলনায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তৈরি পোশাক খাত বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে ছিল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন। যা ওই প্রান্তিকের রপ্তানি দক্ষতাকে দুর্বল করে দেয়। নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ (পরে কমে হয়েছে ২০ শতাংশ) অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ। তখন পর্যন্ত সেটি কার্যকর না হলেও বিদেশি ক্রেতারা রপ্তানির আদেশ স্থগিত করায় অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসন গত ৩১ জুলাই অন্য অনেক দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যের অতিরিক্ত শুল্কের হার সংশোধন করে। এবারে বাংলাদেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক কমে ২০ শতাংশ হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। কারণ, এ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী ভিয়েতনামের অতিরিক্ত শুল্ক ২০ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতের ওপর পালটা শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। আর চীনের শুল্ক এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনবিআরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধর্মঘটের কারণে শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় দেরি হয়, যা পণ্যের চালান প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। সময়মতো পণ্য পাঠানোকে উল্লে­খযোগ্যভাবে ব্যাহত করে। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রতিকূল পরিস্থিতি, দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ব্যয় ও রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্যহীনতার কারণেও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়।

এতে আরও বলা হয়, বিদায়ি অর্থবছরের এপ্রিল-জুন সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন কিছুটা কমেছে। এই প্রান্তিকে দেশ থেকে মোট ৯১১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৩৯৪ কোটি ডলারের কাঁচামাল আমদানি হয়। মূল্য সংযোজন দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে মূল্য সংযোজন ছিল ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

অর্থনীতি

জাপানের মানুষেরা সাধারণত দীর্ঘায়ু হন। সেই দীর্ঘায়ু মানুষের এক অনন্য প্রতিনিধি এহেন শিগোকো কাগাওয়া, যার বয়স এখন ১১৪ বছর। এ শতায়ু ২০২১ সালে মশাল দৌড়েও অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি জানালেন, দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্যের কথা। তিনি ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখনো দৈনিক সংবাদপত্র পড়েন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে।

বর্তমানে শিগোকো কাগাওয়া দেশের সবচেয়ে বেশি আয়ুসম্পন্ন মানুষ। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল— কী করে দীর্ঘায়ু হলেন তিনি? এর উত্তরে শিগোকো বলেন, আমি যখন চিকিৎসক ছিলাম, তখন তো এত গাড়ি-টাড়ি ছিল না, হেঁটেই এখান থেকে ওখান যেতে হতো। আর এ কারণেই হয়তো এত শক্তিশালী ও সুস্থ থাকতে পেরেছি। তিনি বলেন, আমার এনার্জি আমার সবচেয়ে বড় অ্যাসেট। আমি যেখানে খুশি যেতাম, যা খুশি খেয়েছি, যা খুশি করেছি, স্বাধীন থেকেছি আগাগোড়া।

তবে তার জীবনযাপনের একটা রুটিন ছিল বলে জানান শিগোকো। দিনে তিনবার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে খাবার খেয়েছেন। ঠিক সময়ে শুতে গেছেন, উঠেও পড়েছেন ঘড়ি ধরে। ফলে যা খুশি করে বেড়ালেও এক ছন্দোবদ্ধ জীবন ছিল তার। আর সে কারণেই হয়তো তিনি দীর্ঘায়ু হতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে জাপানে সবচেয়ে বেশি দিন বাঁচার রেকর্ড ছিল মিয়োকো হিরোয়াসুর। মৃত্যুর আগে তিনিও জানিয়েছিলেন— স্বতঃস্ফূর্ত জীবনযাপন করে যাওয়াটাই তাকে দীর্ঘ জীবন দিয়েছে। মৃত্যু পর্যন্ত তিনিও কাগজ পড়েছেন, ছবি এঁকেছেন এবং তাস খেলেছেন। অর্থাৎ জীবনকে বেঁচে নিয়েছেন প্রাণভরে। আর এভাবে বেঁচে থাকাটাই হয়তো দীর্ঘ জীবন দিয়েছে তাকে। যেমন দিয়েছে শিগোকোকেও।

অর্থনীতি

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দাঁড়িয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী হিসেব করলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমান ২৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অর্থনীতি

দেশে গড়ে ২৪ দশমিক ০৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। প্রায় ৩৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় চার কোটি (তিন কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার) মানুষ এই দারিদ্র্যের শিকার।

এই দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে এবং সবচেয়ে কম ঝিনাইদহে। তবে অনেক পুরোনো উপাত্তের ভিত্তিতে এই দারিদ্র্য হিসাব করা হয়েছে। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় এই গবেষণা প্রতিবেদনটির উপযোগিতা কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এ সূচকে ব্যক্তির আয়-রোজগারের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয় না, বরং বিভিন্ন সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণ করা হয়।

মোট ১১টি সূচকের সমন্বয়ে এই দারিদ্র্য হিসাব করা হয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এটি প্রকাশ করা হয়।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আখতার এবং বাংলাদেশের ইউএনডিপির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস। আলোচক ছিলেন পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. একে এনামুল হক।

সেমিনারে জানানো হয়, ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (হেইস) এবং ২০১৯ সালের বহু সূচকবিশিষ্ট গুচ্ছ জরিপের (মিকস) ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যে ১১টি সূচকের ওপর ভিত্তি করে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয়েছে সেগুলো হলো, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, পানির প্রাপ্যতা, আবাসনের মান, রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা, সম্পদের প্রাপ্যতা, ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার, শিশুদের শিক্ষাকালের ব্যাপ্তি, পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে ২৪ শতাংশ মানুষ গড়ে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এই দারিদ্র্য হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে। বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য হার বেশি।

শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে এ হার ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এমপিআই হার ২১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এদিকে জেলাভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বহুমাত্রিকতার বিচারে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার বান্দরবানে। সেখানে এ হার ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে থাকা কক্সবাজারে এ হার ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে আরও আছে যথাক্রমে সুনামগঞ্জে ৪৭ দশমিক ৩৬, রাঙামাটিতে ৪৫ দশমিক ৮৯, ভোলায় ৪৫ দশমিক ১২, নেত্রকোনায় ৩৮ দশমিক ২১, হবিগঞ্জে ৩৭ দশমিক ৪৮, খাগড়াছড়িতে ৩৬ দশমিক ৯১, কিশোরগঞ্জে ৩৬ দশমিক ১১ এবং কুড়িগ্রামে ৩৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।

সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে হার ঝিনাইদহ জেলায়। জেলার ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। এর পরের কম দিক থেকে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে যথাক্রমে ঢাকায় ৯ দশমিক ১৯, গাজীপুরে ৯ দশমিক ৬৩, যশোরে ১০ দশমিক ৫৮, মেহেরপুরে ১১ দশমিক ০৮, কুষ্টিয়ায় ১২ দশমিক ২২, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ দশমিক ৫১, মানিকগঞ্জে ১৪ দশমিক ০৭, ফেনীতে ১৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ১৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, এই পদ্ধতিতে দারিদ্র্য নিরূপণ পদ্ধতি একটি সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী কৌশল। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দারিদ্র্য দূরীকরণের কাজ করা সহজ হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কিছু জেলায় কেন বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার বেশি সেটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন তিনি।

অর্থনীতি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ।

গত তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। এক বছরে এই ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ১৯ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। গত মার্চে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।

গত বছরের জুনে ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৫০ দশমিক ৯১ শতাংশ।এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালেও ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা বা ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে বড় ঋণগ্রহীতারা নীতিগত ছাড়ের সুযোগ নিয়ে পুরোনো ঋণ ‘নিয়মিত’ দেখিয়ে আবার নতুন নামে ঋণ নিতেন। এতে প্রকৃত ঋণ চিত্র আড়াল থাকত। তবে সরকার পরিবর্তনের পর মার্চ থেকে নতুন নিয়মে নির্ধারিত সময় পেরোলেই ঋণকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খেলাপি চিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা, শিল্প খাতের দুরবস্থা, উদ্যোক্তাদের দেশত্যাগ কিংবা কারাবরণ এবং ব্যাংকের দুর্বল ঋণ আদায় ব্যবস্থাই ঋণ প্রবৃদ্ধি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ে প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। প্রতিবেদনের কাজ চলছে। বের হতে সময় লাগবে। তাই খেলাপি ঋণ প্রকৃত তথ্য এখন বলা সম্ভব না

অর্থনীতি

আমদানি-রপ্তানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্তঃমন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এম শাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়ে প্রচারণা (প্রোপাগান্ডা) চালানোর কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে, তবে আমদানি-রপ্তানিতে খরচ বাড়বে ব্যবসায়ীদের।’

নৌ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায়। এ বন্দরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে যেতে হলে বিদেশি অপারেটরকে পরিচালনার ভার দিতে হবে। এ নিয়ে প্রোপাগান্ডা না ছড়াতে সবাইকে পরামর্শ দেন তিনি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদেশিদের হাতে বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে। গত ৭ জুলাই সাইপ পাওয়ার টেক থেকে নিয়ে বন্দরের এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নৌবাহিনীকে দেওয়া হয়।’

এরপর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ২০০ একক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।

১৬ বছর পর চলতি বছরে ৭ জুলাই থেকে এনসিটিতে পরিচালনা করছে নতুন অপারেটর চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড।

মূলত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বন্দরের অত্যাধুনিক নিউমুরিং টার্মিনালটি সুপার স্ট্রাকচার সমৃদ্ধ একটি আন্তর্জাতিকমানের এ টার্মিনালে এসেছে ব্যাপক অগ্রগতি।

তবে আগে যে প্রতিষ্ঠান এনসিটি পরিচালনা করেছে তারাও ভালোভাবে কাজ করেছে বলে জানান নৌ পরিবহন উপদেষ্টা।

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এনসিটিতে জাহাজে কন্টেইনার উঠা নামা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং এর অগ্রগতি বিষয়ে অবগত হন।

অর্থনীতি

মাত্র একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ানো হলো সোনার দাম। এবারের দর সংশোধনে ধাতুটির দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনা কিনতে লাগবে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকা।

বুধবার (২৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দর সংশোধনের এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সভায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ জুলাই থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে লাগবে ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০২ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি পড়বে ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৩ টাকা।

তবে এদিন রুপার দাম বাড়ানো বা কমানোর ঘোষণা আসেনি। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৭২৬ টাকাই রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনা ও রুপার বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ গত ২২ জুলাই সোনার দর সংশোধন করে সংস্থাটি। ওই সময়ও মূল্যবান এই ধাতুটির দাম বেড়েছিল। তবে ওইদিনও রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকে।